হার্ডওয়্যার

ব্যাটারি ক্যালিব্রেশন ল্যাপটপ এর জন্য কতটা প্রয়োজনীয়?

4

আপনি যদি ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকেন বিশেষ করে উইন্ডোজ ; তবে ল্যাপটপ এর ব্যাটারি নিয়ে কোন না কোন অভিযোগ আপনার আছেই এটা নিশ্চিত। আপনি ল্যাপটপ ব্যবহার করছেন এমন সময় হঠাৎ করে দেখলেন আপনার ল্যাপটপ অফ হয়ে গেলো,কোনোরকম ব্যাটারি ওয়ার্নিং ছাড়াই। এমনকি আপনি হয়ত কিছুক্ষন আগেও দেখেছিলেন আপনার ল্যাপটপে ৩০% লাইফ আছে, তবে তাও হঠাৎ করে আপনার ল্যাপটপ বন্ধ হয়ে গেল ; এখানে ব্যাপারটি আসলে কি হল?

এমনকি আপনি হয়ত ব্যাটারি সম্পর্কিত সকল ভুল ধারনাগুলো অগ্রাহ্য করে সঠিকভাবে ব্যাটারি ব্যবহার করছেন ; তাও পরে দেখা যাবে যে ব্যাটারির পাওয়ার ক্যাপাসিটি আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে, ঠিক ঠাক ভাবে ব্যাটারি লাইফ বোঝা যাচ্ছে না। প্রচলিত ল্যাপটপ ব্যাটারির সাথে বিল্টইন ভাবে সার্কিট মিটার থাকে। আর যেখান থেকে অপারেটিং সিস্টেম তথ্য পায় যে আসলে ঠিক কি পরিমান রাসায়নিক শক্তি ব্যাটারিতে সে মুহূর্তে রয়েছে। তবে এখান থেকে ভুল রিপোর্ট আসে, যার ফলে অপারেটিং সিস্টেম এর ব্যাটারি লাইফ মিটার এর সাথে ব্যাটারির সাথে পারফর্মেন্স এর কোনোরকম মিলই পাওয়া যায় না।

আর এরকম সমস্যা হওয়ার ফলেই অনেকসময় ৩০-২৫% ব্যাটারি চার্জ দেখার পরও হয়ত,আপনার ল্যাপটপ আচমকা অফ হয়ে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটে। আর আজকের আর্টিকেলে আমি ল্যাপটপ এর এরকম সমস্যা থেকে কিভাবে বেচে থাকবেন সে বিষয়ে আলোচনা করব। আজকের আর্টিকেল থেকে জানতে পারবেন, কিভাবে ল্যাপটপ এর ব্যাটারি ক্যালিব্রেট করার মধ্য দিয়ে আপনি এরকম সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। পুরাতন ম্যাকবুক থেকে শুরু আধুনিক উইন্ডোজ ৭ এবং ১০ ডিভাইস এমনকি এক্সপি এবং ভিসটা সংস্করনেও এই ট্রিকসটি কাজে দিবে। আর যেহেতু আধুনিক ম্যাকবুক এবং উইন্ডোজ ডিভাইসে এরকম সমস্যা হয় না তাই এগুলোতে ল্যাপটপ এর ব্যাটারি ক্যালিব্রেটিং করার দরকারও পরেনা। আপনি হয়ত আপনার ল্যাপটপ ব্যবহারেরর সময় আপনার ল্যাপটপ এর ব্যাটারি চালাতে চালাতে একদম জিরো বা খুবই লো পাওয়ার ক্যাপাসিটিতে নিয়ে আসেন ; অতঃপর তাকে চার্জারে প্লাগইন করেন। তবে যখন আপনি ল্যাপটপের ব্যাটারি পুরপুরি শেষ হওয়ার অনেক আগেই তাকে চার্জে দিচ্ছেন, তা আপনার ল্যাপটপ এর দীর্ঘ লাইফ নিশ্চিত করার জন্য অনেক সহায়ক হয়।

ব্যাটারি ক্যালিব্রেশন

নিকেল ক্যাডমিয়াম ব্যাটারি হল ১৮৯৯ সালে আবিষ্কৃত সর্বপ্রথম রিচার্জেবল ব্যাটারি। বর্তমানে অনেক ল্যাপটপে এইসব নিকেল ক্যাডমিয়াম বা NiCd ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। আর এসব ব্যাটারির মেমোরি লস নামক একটি খারাপ গুন রয়েছে ; আর এই খারাপ গুনটির জন্যই আমার উপরে উল্লেখিত উক্ত সমস্যাটি হয়। আর এসমস্যা থেকে বাঁচতে কিছুদিন পর পর একে একটি বিশেষ নিয়মে ব্যাটারি ডিসচার্জ এবং রিচার্জ করতে হয় ; যা এর সাথে থাকা ব্যাটারি মিটার সার্কিটকে এর অ্যাকচুয়াল লাইফ সম্পর্কে অবহিত করতে সহায়তা করে। আর মূলত এই ব্যাপারটিই হচ্ছে ব্যাটারি ক্যালিব্রেশন।

কেন ব্যাটারি ক্যালিব্রেট করা জরুরি

ল্যাপটপ এর অনিয়মিত ব্যবহার ব্যাটারি মিটার সার্কিট গুলোর খারাপ হওয়ার অন্যতম কারন। ১০০% চার্জ না থেকে যদি আপনি ৭০-৮০% চার্জ হয়ে থাকা অবস্থায় যদি ল্যাপটপ চালান, তবে তা আপনার ব্যাটারি মিটার সার্কিটগুলোকে একসময় হতভম্ব এর ভেতর ফেলে দেয় ; আর যার ফলে অনেক সময় দেখা যাবে কি, আপনার অপারেটিং সিস্টেম আপনাকে দেখাচ্ছে ৩০% চার্জ রয়েছে ; তবে ব্যাটারিতে বাস্তবিক অর্থে হয়ত ছিল কেবল ১%। আর যার ফলে একটু আগেও আপনি ৩০% ব্যাটারি লাইফ দেখার পরও একটু সময় বাদে আপনার ল্যাপটপটি অফ হয়ে গেল। আর এরকম অনাকাঙ্খিত ঝামেলা থেকে বাচার জন্য আপনাকে অবশ্যই আপনার ল্যাপটপ এর ব্যাটারিকে ক্যালিব্রেট করা উচিত। ব্যাটারি ক্যালিব্রেটিং এর মাধ্যমে যদিও আপনি আরও দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ পাবেননা। তবে এটা আপনার অপারেটিং সিস্টেম এবং ব্যাটারি মিটারকে আরও ভালোভাবে ব্যাটারি লাইফ এস্টিমেট করতে সহায়তা করবে।

ল্যাপটপ বিশেষ করে ল্যাপটপ এর ব্যাটারি ম্যানুফ্যাকচারগন ব্যাটারি লাইফ অ্যাকিউরেসি ঠিক রাখতে প্রতি ২-৩ মাস পরপর ব্যাটারি ক্যালিব্রেট করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বর্তমান সময়ের আধুনিক ল্যাপটপ যেখানে সাধারনত বিল্টইন লিথিয়াম আয়ন এবং লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় এসবে ব্যাটারি ক্যালিব্রেট করার প্রয়োজন পরেনা। এজন্যই অ্যাপেল কেবল তাদের পুরোনো ম্যাকবুক গুলোর ব্যাটারি ক্যালিব্রেট করার পরামর্শ দেয় যেখানে ইউজার-রিমুভেবল ব্যাটারি ছিল।

ব্যাটারি ক্যালিব্রেশন যেভাবে করবেন

এতক্ষন তো বুঝলেন ব্যাটারি ক্যালিব্রেশন জরুরী, তবে এই ব্যাটারি ক্যালিব্রেশনটা করবেন কিভাবে? এটা আহামরি কেনো কঠিন বা কমপ্লেক্স কিছু নয়। ব্যাটারি ক্যালিব্রেশন খুবই সহজ একটি প্রক্রিয়া। প্রথমত ১০০% চার্জ থেকে আপনার ল্যাপটপ চার্জ প্রায় শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত চালাবেন,তারপর আবার ব্যাটরিটিকে ১০০% পর্যন্ত চার্জ দিবেন। এতে করে ব্যাটারির অভ্যন্তরীন সার্কিটটি ব্যাটারির লাইফ সম্পর্কে অনেক ভালো একটি ধারনা পাবে ; আর যা আপনাকে কিছুদিন পর্যন্ত অ্যাকুউরেট ব্যাটারি লাইফ সম্পর্কে জানাতে থাকবে।

কিছু কিছু ল্যাপটপ কোম্পানি আগে থেকে ব্যাটারি ক্যালিব্রেট করার জন্য বিভিন্ন টুলস প্রদান করে। এসব টুলস ব্যাটারির পুরো ক্যাপাসিটি নিশ্চিত করে তারপর পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে বন্ধ করে দিয়ে ব্যাটারি পুরোপুরিভাবে শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে ; যার ফলে ব্যাটারিতে থাকা সার্কিট ব্যাটারির অ্যাকচুয়াল লাইফ সম্পর্কে একটি খুবই ভালো ধারনা লাভ করে।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

ম্যানুয়ালি যেভাবে করবেন:

  1. ব্যাটারি পুরোপুরিভাবে ১০০% চার্জ করে নিন।
  2. ২ ঘন্টার জন্য ল্যাপটপ চালানো বন্ধ রাখুন ; চার্জার কানেক্টেডই রাখুন। এতে করে এটা নিশ্চিত হবে যে চার্জিং প্রোসেসর চলার পরও ব্যাটারিটি ঠান্ডা আছে। তবে আপনি এসময় ল্যাপটপটি চালাতেও পারেন, তবে নিশ্চিত থাকবেন যে ব্যাটারি যেন গরম না হয়।
  3. আপনার পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট সেটিংস এ ঢুকুন সেখান থেকে অটোমেটিক্যালি ৫% চার্জে হাইবারনেট (hibernet) হয়ে যাওয়া সিলেক্ট করুন। বস্তুত হাইবারনেট এবং স্লিপ মোড একই মনে হলেও ; স্লিপ মোডে সব ডাটা র‍্যামে জমা থাকে তাই পাওয়ার খরচ হয় ; তবে হাইবারনেট মোডে ডাটাগুলো হার্ডড্রাইভে সেভ হয় বলে কোনো পাওয়ারই খরচ হয়না, আর তাই একে সাট ডাউন মোড এর সাথেও তুলনা করা হয়।
  4. তাছাড়াও আপনি কন্ট্রোল প্যানেলে Control Panel>Hardware & Sound> Power Options> Change Plan Settings > Change Advanced Power Settings এ গিয়ে Battery বিভাগ থেকে Critical Battery Action থেকে যত কম পার্সেন্টেজে পারা যায় হাইবারনেট সেট করে রাখুন। যেমন আমি বলেছি ৫% এ; আবার কতগুলো ল্যাপটপে দেখা যাচ্ছে যে ৭% ই সর্বনিম্ন সেট করা যায়।
  5. এরপর চার্জিং কেবলটি খুলে ফেলুন এবং যতক্ষন না ল্যাপটপটি ডিসচার্জ হয় ততক্ষন চালাতেই থাকুন।

আপনারও যদি ল্যাপটপ এর ব্যাটারি এর সাথে এরকম কোনরকম সমস্যা থেকে থাকে; তবে আপনিও ব্যাটারি ক্যালিব্রেশন করে দেখতে পারেন। আপনার ল্যাপটপ এর ব্যাটারি এর সাথে যদি এরকম কোন সমস্যা থেকে থাকে তবে নিচে অবশ্যই কমেন্টে জানাতে পারেন। আর আর্টিকেলটি সম্পর্কে আপানার মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলবেননা।

তৌহিদুর রহমান মাহিন
কোন কিছু জেনে সেটা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই সার্থকতা । আমি মোঃ তৌহিদুর রহমান মাহিন- ভালোবাসি প্রযুক্তিকে , আরও ভালোবাসি প্রযুক্তি সম্পর্কে বেশি বেশি জানতে- জানাতে। নিয়মিত মানসম্মত প্রযুক্তি বিষয়ক আর্টিকেল উপহার দেয়ার প্রত্যয়ে আছি টেকহাবস এর সাথে।

বেস্ট ওয়েবসাইট : ৫ টি প্রয়োজনীয় এবং মজার ওয়েবসাইট! [পর্ব-৬]

Previous article

মিইউআই ১০ (MIUI 10) ফিচারস : নতুন যা যা থাকছে!

Next article

You may also like

4 Comments

  1. অসাধারণ ভাইয়া।

  2. Thanks for sharing such a wonderful helpful post. Have nice day.

  3. উপকারী ছিল আর্টিকেলটি। ধন্যবাদ ভাইয়া।

  4. উপকারী ছিল আর্টিকেলটি। ধন্যবাদ ভাইয়া।

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *