থার্ড পার্টি ক্যামেরা লেন্স গুলো কেনার কতোটা মূল্য রাখে?

ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা বা ডিএসএলআর ক্যামেরার ক্ষেত্রে এসব ক্যামেরার লেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ন। আপনাদের অনেকের হয়ত ডিএসএলআর ক্যামেরা আছেও তারা হয়ত জানবেন যে এসব ক্যামেরার লেন্স ছবির কোয়ালিটির ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্ববহ। আপনি ডিএসএলআর এর ব্যবহারকারী হিসেবে সাধারনত নিকন না হয় ক্যানোন হয়ত এই দুইটি ব্র্যান্ডের যেকোন একটির ডিএসএলআর ক্যামেরাই ব্যবহার করেন। আর সেক্ষেত্রেও লেন্স কেনার সময় নিকন ক্যামেরার ক্ষেত্রে নিকন এর লেন্স ;আর ক্যানোন ক্যামেরার ক্ষেত্রে ক্যানোন এর লেন্সকেই হয়ত বেশি প্রাধান্য দিবেন। অনেকে বলেন যে, ক্যানোন এর ক্যামেরায় শুধু ক্যানোন এর লেন্সই ব্যবহার করা যাবে আবার নিকন এর ক্যামেরায় কেবল নিকন এর লেন্সই ব্যবহার করা যাবে ; তবে এটি ভুল।

অাপনি অনেক সময় বহু থার্ড পার্টি ক্যামেরা লেন্সও এগুলোতে ব্যবহার করতে পারবেন। আর শিরোনাম দেখে হয়ত বুঝতে পেরেছেন আজকের আর্টিকেলে আমার আলোচ্য বিষয়ও সেটাই। আপনার ডিএসএলআর ক্যামেরায় নিকন এবং ক্যানোন এর অফিসিয়াল লেন্স ব্যাতিত নানারকম থার্ড পার্টি কোম্পানির লেন্স ব্যবহার করা আসলে কতটুকু যুক্তিযুক্ত, সে বিষয়ে। আপনি যখন আপনার ক্যানোন ক্যামেরায় নিকন এর লেন্স ব্যবহার করতে পারছেন না ; তখন চিন্তার কিছু নেই। আপনি অনেক ভালো এবং থার্ড পার্টি বেশ কিছু কোম্পানির ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা লেন্স ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমানে বাজারে বেশ কিছু থার্ড পার্টি ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা লেন্স তৈরিকারক কোম্পানি রয়েছে ; এগুলোর ভেতর সিগমা অনেক বেশি জনপ্রিয়। তাছাড়াও অারো কতগুলো আছে হল: ট্যামরন,টোকিনা,স্যামইয়াং বা রকিনন,অপটেকা,জেইস ইত্যাদি। এসব কোম্পানি ক্যানোন এবং নিকন এর জন্য ক্যামেরা লেন্স তৈরি করে ; তাছাড়াও সনি এবং অন্যান্য ক্যামেরার জন্যেও অল্প পরিমানে তৈরি করে থাকে।

তো একটা বহু জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন আমাদের কাছে আসে, তা হল থার্ড পার্টি লেন্সে কি একটু বেশি সুবিধা পাওয়া যায়? বা থার্ড পার্টি লেন্স কিনে কি আমি লাভবান হতে পারি? এর সহজ উত্তর হল হ্যা, আপনি এসব লেন্স কিনে অনেক সময় লাভবান হতে পারেন, তবে সকল ক্ষেত্রে নয়।

অনেকসময় এসব লেন্সে ফটোগ্রাফাররা এমন সকল ফিচার পেয়ে যান যে তা নিকন বা ক্যানোন লেন্সে পাওয়া যায় না। অনেকক্ষেত্রে এসব থার্ড পার্টি লেন্স কোম্পানিগুলির জনপ্রিয় হওয়ার এটি অন্যতম একটি কারনও বটে। যেমন কিছু ফিচার হল: আরও দীর্ঘ জুম লেন্স,আরও দ্রূত গতিতে এপার্চার এর পরিবর্তন ; অনেকক্ষেত্রে প্রায় একই ফিচার যা নিকন এবং ক্যানোন এর লেন্স থেকে দামেও সস্তা। তবে সর্বক্ষেত্রে বা সবসময় কিন্তু আপনি এইসব লেন্স কিনে নাও জিততে পারেন। পৃথিবীর অন্যসকল ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের মত এখানে অনেক ভালো কোয়ালিটির লেন্স পাবেন, আবারর অনেক চিপ প্রোডাক্টও পাবেন যা অনেকসময় আপনার উপকারে তো নয় বরং আপনার ক্ষতিতে আসবে।

ভালো লেন্সের দাম একটু বেশি হবেই

আপনি সিগমা,ট্যামরন এমনকি ক্যানোন বা নিকন যার থেকেই লেন্স কেনেন না কেন, ভালো লেন্সের দাম একটু বেশি হবেই। লেন্স অনেক সূক্ষ্ম ভাবে গঠিত একটি অপটিক্যাল ডিভাইস। আর একটি ভালো লেন্সের ভেতরের অনেক অপটিক্যাল পার্টস আছে ; আর লেন্স ক্যামেরার এমন একটি যন্ত্রাংশ যাকে মেশিন দিয়ে অন্যসব কম্পোন্যান্ট এর মত অটোমেটিক্যালি তৈরি করা যায় না। ম্যানুফ্যাকচারার কোম্পানিতে একজন দক্ষ অপটিক্যাল লেন্স ইঞ্জিনিয়ার খুবই সতর্কতার সাথে প্রতিটি লেন্সের একেকটি অপটিক্যাল পার্টস সেটাপ করেন। আর এগুলোই লেন্স এর দাম অনেক বাড়িয়ে তোলে ; আর অনেকে বলে ক্যামেরার দাম এত কম লেন্সের দাম এত ক্যান?

আর তাই কোন কোম্পানি কিভাবে, কতজন লোকবল দিয়ে এসব লেন্স তৈরি করছেন,তার ওপর নির্ভর করে এসব লেন্সের দামে অনেক উপর-নিচ লক্ষ্য করা যায়। অনেকে হয়ত জানেন ৭০-২০০ এমএম f/২.৮ জুম লেন্সটি অনেক জনপ্রিয় একটি ডিএসএলআর লেন্স। আর এটি দিয়ে স্পোর্টস থেকে শুরু করে পোর্টেইট সবরকম ফটোগ্রাফি খুবই ভালোভাবে করা যায়। এই একই লেন্স নিকন যেখানে বিক্রয় করছে প্রায় ১লক্ষ ৫৫ হাজার টাকায় ; অন্যদিকে ট্যামরন এবং সিগমা এর কোম্পামি একই দামে তা প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় বিক্রয় করছে। আবার ক্যানোন এই লেন্সটি বিক্রি করছে প্রায় ১লক্ষ ৬৫ হাজার টাকায়। এখন আপনি হয়ত ট্যামরন বা সিগমা এর লেন্স কিনতে চাইবেন।

তবে ট্যামরন বা সিগমা এর লেন্স কিনে যেখানে আপনি হয়ত ভাবছেন আপনি জিতে গেলেন, তবে আমার মতে এটা আপনার জন্য একটি ক্ষতি। আপনি যখন ৭০-২০০ এমএম f/২.৮ এর মত একটি প্রোফেশনাল লেন্স কিনছেন, নিশ্চয়ই আপনি তা শখের বসে বা খেলার জন্য কিনছেন না ; আপনার প্রোফেশনাল ফটোগ্রাফির জন্যই কিনছেন, তাই নয় কি? যদি তাই হয় তবে আপনি কেন এত টাকা খরচ করার পরও এমন লেন্স কিনবেন যা কিনা একই মানের ক্যানোন এবং নিকন লেন্স এর চাইতে একটু কম ইমেজ কোয়ালিটি দিবে? কিছু টাকা বাচানোর জন্য আপনি একটু সামান্য ইমেজ কোয়ালিটি লসকে প্রশ্রয় দিতে পারেন না ; যেখানে আপনি লেন্স কিনছেনই ইমেজ কোয়ালিটি বাড়ানোর জন্য!

তবে সকল ক্ষেত্রে ইমেজ কোয়ালিটি লস এর ব্যাপারটি সেভাবে আসে না। আপনি যখন একটু লোয়ার এন্ড বা সেমি-প্রোফেশনাল, বেসিক লেন্স কিনছেন তখন দেখা যায় যে অরিজিনাল কোম্পানি এবং থার্ড পার্টি কোম্পানির লেন্সে ইমেজ কোয়ালিটি নিয়ে ততটা তফাৎ থাকেনা।

অনেকসময় থার্ড পার্টি লেন্সে বেশি ফিচার পাওয়া যায়

যদিও নিকন,ক্যানোন এর লেন্সগুলো যথেষ্ঠ ভালো ; তবে অনেকক্ষেত্রে আপনি হয়ত কিছু ফিচার চান যা এসব লেন্সে পাননা, আর তখন আপনি হাটেন থার্ড পার্টি লেন্স এর দিকে। কিছুদিন হল ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরার বিপরীতে সনির মিররলেস ক্যামেরাগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এবং মানুষ ব্যাপকহারে ডিজিটাল এসএলআর ক্যামেরা বাদ দিয়ে এগুলোর দিলে ঝুকছেও ; তবে সনি এই ক্যামেরাটি অনেক সুন্দর বানালেও এর জন্য পর্যাপ্ত লেন্স তৈরি করেনি ; আর তাই নানারকম বেশি সুবিধা এবং ফিচারস পাওয়ার জন্য ব্যবহারকারীরা ট্যামরন এবং সিগমার আরও অনেক একই ক্যামেরার জন্য তৈরি লেন্স এর দিকে ঝোঁকে।

উদাহরন হিসেবে ধরুন আপনি অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল ফটোগ্রাফি বা রাতের আকাশ/ মহাকাশের তারার ফটোগ্রাফি করবেন। সেক্ষেত্রে আপনার এমন একটি লেন্স লাগবে যেটি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল এবং ওয়াইড এপার্চার সম্পন্ন; আপনার কিন্তু এখানে অটো ফোকাস এর দরকার হবেনা। সেক্ষেত্রে আপনি রকিনন এর 24mm f/1.4 লেন্স কিনতে পারেন ; যেটি আপনার দাম পড়বে প্রায় ৪৬ হাজার টাকা। অন্যদিকে একই ইমেজ কোয়ালিটি সম্পন্ন ক্যানোন এর আরেকটি লেন্স হল EF 24mm f/1.4L II তবে এই লেন্স এর দাম পড়বে আপনার প্রায় ১ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা! এখানে আপনি ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, ওয়াইড এপার্চার এর সাথে যা পাবেন তা হল অটোফোকাস। আর এই অটোফোকাস এর জন্য এই ক্যামেরাটির এত দাম ; তবে আপনার তো অটোফোকাস এক্ষেত্রে দরকার নেই। আর এরকম ক্ষেত্রে অাপনি অবশ্যই তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড পার্টি লেন্স এর দিকে যাবেন। তবে হয়ত ক্যানোন এর লেন্সটি কিনে আপনি স্ট্রিট ফটোগ্রাফিও করতে পারবেন ; তবে আমি উল্লেখ করেছি আপনি যদি কেবল আকাশের ফটোগ্রাফি করতে চান তবে।

লেন্স সম্পর্কে আলোচনার আরো অনেক কিছু আছে। এই ছোট্ট আর্টিকেলে আমি সব তুলে ধরতে পারলাম না। অনেকক্ষেত্রে আপনি ভালো মানের থার্ড পার্টি ক্যামেরায় অনেক ভাল ফিচার পেয়ে যেতে পারেন যা আপনি নিকন,ক্যানোন এর লেন্সগুলোতে হয়ত দেখতে পাবেননা। তবে ভালো হয় সবসময় কেনার আগে লেন্স সম্পর্কে একটু রিসার্চ করে নেয়া। ইউটিউবে আপনি একই মানের আলাদা আলাদা লেন্স এর সম্পর্কে অনেক ভিডিও খুঁজে পাবেন ; আর এসব দেখে আপনি পার্থক্য খুঁজে নিতে পারেন সহজেই।

সিগমা,ট্যামরন,জেইস এর মত মানসম্মত ব্র্যান্ড এর লেন্স কিনে হয়ত আপনি সমস্যায় পড়বেন না। তবে আরো বেশি সস্তা খুঁজতে গিয়ে অপটেকা,ইউংনুও এর মত ব্র্যান্ড এর লেন্স কিনে কোয়ালিটি নিয়ে একটু হতাশ হলেও হতে পারেন।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image Source: Featured Image by Pixabay.com ,Image by jonas-svidras on Pixabay.com ,Image by Pezibear on Pixabay.com

কোন কিছু জেনে সেটা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই সার্থকতা । আমি মোঃ তৌহিদুর রহমান মাহিন- ভালোবাসি প্রযুক্তিকে , আরও ভালোবাসি প্রযুক্তি সম্পর্কে বেশি বেশি জানতে- জানাতে। নিয়মিত মানসম্মত প্রযুক্তি বিষয়ক আর্টিকেল উপহার দেয়ার প্রত্যয়ে আছি টেকহাবস এর সাথে।

4 Comments

  1. Salam Ratul Reply

    খুবই ভালো লেগেছে আর্টিকেলটি। অনেক হেল্পুল ছিল। ধন্যবাদ ভাইয়া।

  2. Shumon Reply

    Hello brother,
    ami EKta DSLR kinte cai. YouTube suru korbo tai.. kon model valo hobe and keno valo hobe. sathe basic koto taka lagte pare. kon lense lagbe.. plz janaben. .tahole khub upokrito hotam. thanks.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *