WireBD

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ সিরিজ : ৫ টি বেস্ট এন্ড্রয়েড অ্যাপ ! (পর্ব-৪)

পর্ব-৪


অ্যাপস তো আমরা সবাই চিনি এবং প্রত্যেকদিনই ব্যবহার করি। অ্যাপস ছাড়া একটি অপারেটিং সিস্টেম কল্পনাই করা যায়না। টেকনিক্যালি বলতে গেলে অ্যাপসই হচ্ছে একটি অপারেটিং সিস্টেমের প্রাণ। একটি অপারেটিং সিস্টেমে বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন রকম অ্যাপস থাকে। নেট ব্রাউজ করার জন্য ব্রাউজার অ্যাপস, গান শোনার জন্য মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপস, ডকুমেন্ট এডিট করার জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা গুগল ডক, ছবি এডিট করার জন্য ফটো এডিটর অ্যাপস এবং এমন শত শত কাজের জন্য হাজারো অ্যাপস থাকে একটি  অপারেটিং সিস্টেমে। আর অপারেটিং সিস্টেমটি যদি হয় অ্যান্ড্রয়েড, তাহলে তো কথাই নেই, প্লে স্টোরে একই কাজের জন্য কমপক্ষে ১০০ রকমের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস পাবেন। যাইহোক, আর বেশি ভূমিকা না করে কাজের কথায় আসি। আজকে আমাদের বেস্ট অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস সিরিজের চতুর্থ পর্বে আরো ৫ টি এমন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস শেয়ার করবো যেগুলো আপনার বা আমার জন্য প্রয়োজনীয় হতে পারে।


১. MI File Explorer

এটা মূলত শাওমির তৈরি ফাইল এক্সপ্লোরার অ্যাপ তাদের অ্যান্ড্রয়েড স্কিন MIUI এর জন্য। আপনি যদি শাওমি ফোন এবং MIUI ইউজার হয়ে থাকেন, তাহলে এই অ্যাপটি আগে থেকেই আপনার ফোনে আছে ডিফল্ট ফাইল এক্সপ্লোরার অ্যাপ হিসেবে এবং আপনি ব্যবহারও করছেন। তবে কিছুদিন আগে শাওমি তাদের এই ফাইল এক্সপ্লোরার অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোরে রিলিজ করে যাতে অ্যাপটি শুধুমাত্র MIUI ইউজারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং প্রায় সব কম্পিটেবল অ্যান্ড্রয়েড ইউজারই এই ফাইল এক্সপ্লোরারটি ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে যারা স্টক অ্যান্ড্রয়েড ইউজার, তাদের জন্য এই অ্যাপটি বেশি দরকার হতে পারে। কারন, স্টক অ্যান্ড্রয়েডের ডিফল্ট ফাইল এক্সপ্লোরার অ্যাপটি সাধারণত খুব ভালো এবং ফিচারফুল হয়না।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ

তবে শাওমির তৈরি এই ফাইল এক্সপ্লোরার অ্যাপটি আমার মতে, সবথেকে ফিচারফুল এবং সবথেকে স্ট্যাবল ফাইল এক্সপ্লোরার অ্যাপগুলোর মধ্যে অন্যতম। সাধারনত ফোনের সব ফাইল ম্যানেজ এবং ব্রাউজ করা ছাড়াও, ZIP এবং RAR ফাইল এক্সট্রাক্ট করা, ফাইল শেয়ার করার জন্য নিজের সম্পূর্ণ স্টোরেজকে এফটিপি সার্ভার হিসেবে হোস্ট করা, স্টোরেজ ক্লিন করা, ডুপ্লিকেট ফাইল খুঁজে বের করা এবং ডিলিট করা এই ধরনের অনেক প্রয়োজনীয় ফিচারস আছে এই অ্যাপটিতে যা আপনি অধিকাংশ ফোনের ডিফল্ট ফাইল এক্সপ্লোরার অ্যাপে পাবেন না। এছাড়া এই অ্যাপটি যথেষ্ট রেসপনসিভ এবং এটির ইউজার ইন্টারফেসও অনেক মিনিমাল এবং সুন্দর।

ডাউনলোড MI File Explorer

২. CornerFly

আপনি নিশ্চই এখনকার নতুন স্মার্টফোনগুলোর ডিসপ্লে দেখেছেন। এখনকার নতুন স্মার্টফোনগুলোর মেজর ডিস্প্লে ফিচারই হচ্ছে চিকন বেজেল, ১৮ঃ৯ ডিস্প্লে এবং রাউন্ডেড কর্নার। আপনার ফোনটি যদি এই নতুন স্মার্টফোন ট্রেন্ডের মধ্যে না থেকে থাকে, তাহলে হয়তো আপনার কিছুই করার নেই, তবে আপনি চাইলে রাউন্ডেড কর্নারের স্বাদ ঠিকই নিতে পারবেন এই অ্যাপটির সাহায্যে। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে আপনি আপনার ফোনের ডিসপ্লের চারদিকের কোনাগুলো রাউন্ডেড করে দিতে পারবেন যা আপনার ডিস্প্লেকে অনেকটা এই মডার্ন ট্রেন্ডের ডিস্প্লের মতো লুক দিতে সাহায্য করবে।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ

এই অ্যাপটি জাস্ট ইন্সটল করে প্রয়োজনীয় পারমিশন অ্যালাউ করে টগল থেকে অ্যাক্টিভেট করে দিলেই হয়ে যাবে। এই অ্যাপটির ফ্রি ভার্শনে আপনি শুধুমাত্র আপনার ফোনের ডিসপ্লের কোনাগুলোকে রাউন্ড করতে পারবেন। তবে কতটুকু রাউন্ড করতে হবে সেটাও নিজের ইচ্ছামত কাস্টমাইজ করতে পারবেন যদি আপনি অ্যাপটির পেইড ভার্শন পারচেজ করেন। পেইড ভার্শন পারচেজ করলে ইন-অ্যাপ অ্যাডসগুলোর থেকেও মুক্তি পাবেন।

ডাউনলোড CornerFly

৩. Google Tasks

এটি গুগলের একেবারেই নতুন তৈরি একটি অ্যাপ। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন যে এটি টাস্ক রিমাইন্ডার অ্যাপ। এই আপটিতে মুলত আপনি আপনার নিজের ইচ্ছামত টাস্ক অ্যাড করে দিতে পারবেন যেগুলো আপনার মনে রাখা দরকার এবং কোন টাস্কটি কখন কমপ্লিট করতে হবে তাও আপনি এখানে সেট করে রাখতে পারবে যাতে নির্ধারিত সময় এই অ্যাপটি আপনাকে নোটিফিকেশন দিয়ে রিমাইন্ড করে দিতে পারে। কোন টাস্ক কমপ্লিট হয়ে গেলে সেই অ্যাপটি কমপ্লিটেড হিসেবে কেটে দিতে পারবেন। আপনার ডেইলি লাইফেকে অরগানাইজড রাখার জন্য একটি টাস্ক রিমাইন্ডার অ্যাপ ব্যবহার করা অবশ্যই বেটার।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ

এছাড়া এই অ্যাপটি সবসময়ই ক্লাউডে সিংক হতে থাকে। এর ফলে আপনি আপনার একই গুগল অ্যাকাউন্ট লগইন করে আপনার যেকোনো ডিভাইস থেকে আপনার টাস্ক লিস্ট দেখতে পারবেন। আপনি যদি জিমেইলের নতুন ইউআইটি ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি আপনার ব্রাউজারে জিমেইল ওপেন করলেই পাশে ছোট একটি উইন্ডোতেও এই টাস্কগুলো ম্যানেজ করতে পারবেন। আপনি যদি অন্য কোন টাস্ক ম্যানেজার অ্যাপ আগে থেকেই ব্যবহার করেন, তাহলে অন্য একটি অ্যাপে সুইচ করার কোন মানে নেই। তবে যদি ব্যবহার না করেন, তাহলে গুগলের এই নতুন টাস্ক ম্যানেজার অ্যাপটি ব্যবহার করা শুরু করতে পারেন।

ডাউনলোড Google Tasks

৪. MI Drop

নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটিও শাওমির তৈরি একটি অ্যাপ। এটি মূলত শাওমির তৈরি একটি ফাইল শেয়ারিং অ্যাপ যা শাওমি ফোন বা MIUI ইউজারদের জন্য তৈরি। আপনি শাওমির MIUI ইউজার হলে আপনার ফোনে এই অ্যাপটি আগে থেকেই আছে। তবে MI Explorer এর মতো এই অ্যাপটিও শাওমি কিছুদিন আগে গুগল প্লে স্টোরে রিলিজ করেছে অন্যান্য সব অ্যান্ড্রয়েড ইউজারের জন্য। এই অ্যাপটি একেবারেই সবথেকে জনপ্রিয় ফাইল শেয়ারিং অ্যাপ ShareIT এর মতো। অর্থাৎ, আপনি ফাইল নিতে চাইলে সেন্ডারকে Send ক্লিক করতে হবে এবং আপনাকে Receive ক্লিক করতে হবে আর আপনি ফাইল সেন্ড করতে চাইলে বিপরীতটি।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ

এই অ্যাপটির ফাইল শেয়ারিং স্পিড একেবারেই ShareIT এর মতো যেহেতু এটিও ShareIT এর মতো একই Wifi File Sharing টেকনোলজি ব্যবহার করে। তবে ShareIT এর থেকে এই অ্যাপটিকে আমি বেশি পছন্দ করি কারন, এই অ্যাপটি একেবারেই অ্যাডফ্রি যেখানে ShareIT এ অ্যাডস এর পরিমান অনেক বেশি। এছাড়া এই অ্যাপটির অনেক লাইটওয়েট এবং মিনিমাল। এছাড়া এই অ্যাপটি ব্যবহার করে আপনি এফটিপি সার্ভার তৈরি করে হাই স্পিডে আপনার মোবাইল থেকে পিসিতেও ফাইল ট্রান্সফার করতে পারবেন।

ডাউনলোড MI Drop

৫. Screener

আপনি হয়তো এতক্ষন ধরে এখানে যে অ্যাপগুলো নিয়ে কথা বলেছি সেই অ্যাপগুলোর দেওয়া স্ক্রিনশটগুলো দেখেছেন যেখানে স্ক্রিনশটগুলোকে একটি ডিভাসের মকআপের মধ্যে প্লেস করে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই স্ক্রিনশটগুলোকে এইভাবে এডিট করা হয়েছে এই Screener অ্যাপটি ব্যবহার করে। এই অ্যাপটি ব্যবহার করে আপনি নিজের ইচ্ছামত অনেক অনেক ডিভাইসের মকআপ পাবেন এবং মকআপগুলো ব্যবহার করে আপনার স্ক্রিনশটগুলোকে এভাবে সুন্দর করে এডিট করতে পারবেন।

অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ

শুধুমাত্র এমনই করতে হবে তা নয়। আপনি আপনার নিজের ইচ্ছামত কাস্টোমাইজ করতে পারবেন আপনার স্ক্রিনশটগুলো। এই অ্যাপটি মুলত আপনার শেয়ার করা স্ক্রিনশটগুলোতে আরেকটু বেশি প্রোফেশনালিটি এনে দেবে। আমি যেকোনো স্ক্রিনশট শেয়ার করার সময়ই এই অ্যাপটি ব্যবহার করি। যারা ফোনে অনেক বেশি স্ক্রিনশট নেন এবং শেয়ার করেন, তাদের জন্য অন্যতম দরকারি একটি অ্যাপ হতে পারে এটি। আর হ্যা, এই অ্যাপটিতে আপনি প্রায় মডার্ন সব স্মার্টফোনেরই মকআপ পাবেন এবং এই অ্যাপটি সম্পূর্ণ অ্যাড-ফ্রি।

ডাউনলোড Screener


তো এই ছিল আরও পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস যেগুলো আপনার কাছে প্রয়োজনীয় হতে পারে। এই সিরিজের আগামী পর্বে আরও পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ শেয়ার করবো। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটিও আপনাদের ভালো লেগেছে। কোনও ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। আর আপনার জানামতে যদি এমন ভালো আরও কোনও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ থাকে, তাহলেও নিচে কমেন্ট সেকশনে আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। তাহলে আমরা ওই অ্যাপটি নিয়েও পরবর্তী পর্বে আলোচনা করবো।

Image Credit : Pixieme Via Shutterstock

সিয়াম একান্ত

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ এবং প্রযুক্তিকে ভালোবাসি। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। তাই পড়াশুনার পাশাপাশি প্রায় অধিকাংশ সময়ই প্রযুক্তি নিয়ে সময় কাটাই। আশা করি এখানে আপনাদেরকে প্রযুক্তি বিষয়ক ভালো কিছু আর্টিকেল উপহার দিতে পারব।

18 comments

  • এপপ রিভিউ ভালোছিল। আর্টিকেলটি ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।

    • হ্যা, উইন্ডোজ অ্যাপ নিয়েও লিখবো ভাইয়া। তবে উইন্ডোজ অ্যাপেরটা এমন সিরিজ করবোনা। হয়তো মাঝে মাঝে লিখবো। 🙂

  • Screener এপপ্স টাই আমি খুজছিলাম ভাই ????????????
    আমি ফটো শপ দিয়ে মেনুয়াল কাজটি করতাম। ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করার।মতো ভাষা জমা নেই আমার কাছে।
    ????

  • অনেক ভালো হয়েছে ভাইয়া।
    আমার ফোন মাস খানের পরে রিসেট না দিলে স্লো হয়। এটা কি স্বাভাবিক?

    • আপনার ফোনটি যদি তুলনামুলকভাবে লো এন্ড হার্ডওয়্যারের ফোন হয়ে থাকে, তাহলে কিছুদিন পর স্লো হয়ে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। সব লো এন্ড অ্যান্ড্রয়েড ফোনই দ্রুত স্লো হয়ে যায়। আর স্যামসাং এর ফোন মিডরেঞ্জের হলেও কিছুদিন পরেই স্লো হবে হেভি ইউআই আর ব্যাড অপটিমাইজেশনের কারণে। তবে মোটামুটি ভালো হার্ডওয়্যারের ফোন হলে এতো দ্রুত স্লো হওয়ার কথা নয়।

    • আপনি টেকহাবসের হোমপেজে গিয়ে সিরিজ আর্টিকেল সেকশনে গিয়ে “বেস্ট অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ” সিরিজটিতে ঢুকলে সেখানেই বাকি সবগুলো পেয়ে যাবেন। 🙂

সোশ্যাল মিডিয়া

লজ্জা পাবেন না, সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে টেকহাবসের সাথে যুক্ত হয়ে সকল আপডেট গুলো সবার আগে পান!