বর্তমান তারিখ:22 September, 2019

স্যামসাং ইউএফএস কার্ড | মেমোরি কার্ড থেকে ৫ গুন বেশি ফাস্ট

স্যামসাং ইউএফএস কার্ড

বন্ধুরা আপনারা কি দুনিয়ার সবচাইতে ফাস্ট মেমোরি কার্ড সম্পর্কে জানতে চান? আজ আমি আলোচনা করতে চলেছি স্যামসাং ইউএফএস কার্ড নিয়ে, যা এই মুহূর্তে দুনিয়ার সবচাইতে ফাস্ট মেমোরি কার্ড। যদি আপনার কাছে এমন কোন গ্যাজেট থাকে যা এক্সটারনাল মেমোরি কার্ড সমর্থন করে তবে আপনাকে অবশ্যই মেমোরি কার্ড কেনার আগে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে হবে। কিন্তু সবচাইতে বড় সমস্যা হলো আপনার প্রয়োজন অনুসারে দ্রুতগতির মেমোরি কার্ড খুঁজে পাওয়া মুশকিল। হয়তো এটাই বদলানোর ছিল। তাই স্যামসাং সম্প্রতি একটি হাই ক্যাপাসিটি মেমোরি উন্মুক্ত করেছে যা নতুন ইউনিভার্সাল ফ্ল্যাশ স্টোরেজ (ইউএফএস | UFS) স্ট্যান্ডার্ডের উপর কাজ করে। স্যামসাং প্রতিজ্ঞা করেছে যে তাদের এই নতুন মেমোরি কার্ডটি আজকের দিনের যেকোনো হাই এন্ড মেমোরি কার্ড থেকে ৫ গুন বেশি দ্রুতগামী। মজার ব্যাপার না? কিন্তু প্রশ্ন হলো কীভাবে এটি এতো দ্রুতগামী হতে পারে? চলুন সবকিছু জেনে নেওয়া যাক।

ইউএফএস আসলে কি?


ইউএফএস হলো কনজিউমার ইলেক্ট্রনিক্সে ব্যাবহারের জন্য একটি নতুন ফ্ল্যাশ স্টোরেজ স্ট্যান্ডার্ড। বন্ধুরা এটি অত্যন্ত আধুনিক এক প্রযুক্তি যা ইএমএমসি (eMMC | ইএমএমসি স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেটের মতো ডিভাইজ গুলোর অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে) এবং এসডি কার্ড (SD Card | এটি স্মার্টফোন, ডিএসএলআর ইত্যাদি ডিভাইজ গুলোর বাহিরের স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়) প্রযুক্তি প্রতিস্থাপন করার জন্য বানানো হয়েছে।

এই নতুন স্ট্যান্ডার্ডটি সকল মেজর প্রযুক্তি কোম্পানি গুলো যেমন স্যামসাং, তোসিবা, মাইক্রোন সমর্থন করতে চলেছে। আপনি বর্তমানে যদি কোন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ব্যবহার করে থাকেন তবে আপনার ফোনে রয়েছে ইউএফএস ২.০ নির্ভর স্টোরেজ। এই স্ট্যান্ডার্ড আপনাকে দিতে পারবে ৮৫০ মেগাবাইটস/সেকেন্ড রীড স্পীড —  যেখানে একটি ভালোমানের এসএসডি দিতে পারে ৫৫০ মেগাবাইটস/সেকেন্ড রীড স্পীড। বন্ধুরা ভাবতে পারছেন এটি কতটা ফাস্ট?

তাছাড়া ইউএফএস স্টোরেজ ইএমএমসি স্টোরেজের তুলনায় অনেক কম পাওয়ার ক্ষয় করে। এই প্রযুক্তিতে সাধারন স্টোরেজের তুলনায় প্রায় ১০% কম পাওয়ারের প্রয়োজন পরে। স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৬, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ ইত্যাদিতে ইউএফএস নির্ভর অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ ব্যবহার করতে দেখা যায়। এবং এবার স্যামসাং ইউএফএস কার্ড বাজারে সবার আগে নিয়ে এসে এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

স্যামসাং ইউএফএস কার্ড এর সুবিধা

স্যামসাং ইউএফএস কার্ড এর সুবিধা

স্যামসাং ইউএফএস কার্ড নির্ভর করে পুরাতন প্রযুক্তি ইউএফএস ১.০ এর উপর। কিন্তু তারপরেও এই ইউএফএস মেমোরি কার্ড আপনাকে দিতে পারে বহুত সুবিধা যা আপনি কখনোয় সাধারণ এসডি কার্ড থেকে পাবেন না। স্যামসাং শুরুতেই নিয়ে এসেছে বড় ক্যাপাসিটির মেমোরি কার্ড। স্যামসাং এর এই ইউএফএস কার্ড ৩২ জিবি থেকে শুরু করে বাড়তে বাড়তে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত রয়েছে — যেখানে এসডি কার্ড সর্বোউচ্চ ১২৮ জিবি পর্যন্ত পাওয়া যায়।

তাছাড়াও এই নতুন ইউএফএস কার্ডের সবচাইতে বড় সুবিধা হলো এর দ্রুতগামী হওয়া। ২৫৬ জিবি ইউএফএস কার্ড ৫৩০ মেগাবাইটস প্রতি সেকেন্ডে রীড স্পীড এবং ১৭০ মেগাবাইটস প্রতি সেকেন্ডে রাইট স্পীড দিতে সক্ষম — যা আজকের দিনে পাওয়া হাই এন্ড এসডি কার্ড থেকে প্রায় ৫ গুন বেশি দ্রুতগামী। এর এই অসাধারন রাইট স্পীড সেখানে কাজে আসতে পারে যেখানে কম সময়ের মধ্যে অনেক বেশি পরিমানের ডাটা রেকর্ড করার প্রয়োজন পড়ে — যেমন ৪কে রেকর্ডিং করার সময়, ৩৬০ ডিগ্রি ভিডিও রেকর্ডিং করার সময়, অথবা একসাথে ডিএসএলআরে অনেক র‍্যো ইমেজ তোলার সময়। তাছাড়া এই কার্ডটি ছোট সাইজের হওয়াতে আপনার মোবাইল ফোন, ড্রোন এবং অ্যাকশান ক্যামেরাতে সহজেই ভীরে যেতে পারে।

এই কার্ডটির এতো ফাস্ট রীড স্পীড হওয়ার কারণে মুহূর্তের মধ্যে যেকোনো সাইজের ফাইল আপনার কম্পিউটারে কপি করা সম্ভব হবে (৫ জিবি ফাইল কপি করতে সময় লাগবে ১০ সেকেন্ড!)। তাছাড়া যেকোনো মিডিয়া প্লে এবং থ্যাম্বনেইল প্রিভিউ হবে অনেক দ্রুত।

স্যামসাং ইউএফএস কার্ড এর সুবিধা

তাছাড়া এই কার্ডটি মোবাইল ফোনের জন্য বয়ে নিয়ে আসতে চলেছে অনেক সুবিধা। এক্সটারনাল মেমোরি কার্ড দ্রুতগামী না হওয়ার কারণে আপনারা দেখে থাকবেন যে আইফোন এবং নেক্সাস ফোন গুলোতে কখনোই এক্সটারনাল মেমোরি কার্ড ব্যবহার করার সুবিধা থাকে না। আর ধিরগতির এক্সটারনাল মেমোরি কার্ড কখনোয় অ্যাপ ধারণ করে রাখার জন্য ফিট নয়। তাছাড়া আপনার ফোনের পারফর্মেন্সকেও একদম বাজে বানিয়ে দিতে পারে। কিন্তু স্যামসাং ইউএফএস কার্ড এ রয়েছে ইন্টারনাল স্টোরেজ সমতুল্য ক্ষমতা — সাথে আরো কম পাওয়ার ক্ষয় করার অভিজ্ঞতা — এবং যার জন্য এখন থেকে অ্যাপ গুলো এক্সটারনাল স্টোরেজে ইন্সটল করে রাখলেও কোন পারফর্মেন্স সমস্যা লক্ষ্য করা যাবে না।

যেহেতু এই প্রযুক্তিটি এখনো ল্যাব পর্যায়ে রয়েছে তাই এখনি আরো স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না যে, তারা তাদের প্রোমিস কতটা রাখতে চলেছে। তবে যদি স্যামসাং এস৬, এস৭ ডিভাইজ গুলোর কথা চিন্তা করা যায় তবে সহজেই স্যামসাং ইউএফএস কার্ড সম্পর্কে ধারণা করা যায়। কেনোনা বড় সাইজের ফাইল রীড এবং রাইট করার জন্য এই প্রযুক্তির চেয়ে ভালো বর্তমানে আর কিছু নেই। স্যামসাং তাদের ডিভাইজে ইউএফএস স্টোরেজ ব্যবহার করে ইএমএমসি স্টোরেজ ব্যাবহারের ধারণা বদলাতে সক্ষম হয়েছে। তবে আশা করা যায় তাদের এই মেমোরি কার্ডটি আরেকটি নতুন অভিজ্ঞতা দিতে চলেছে।

ইউএফএস মেমোরি কার্ডের অসুবিধা

ইউএফএস মেমোরি কার্ডের অসুবিধা

ইউএফএস মেমোরি কার্ড কবে বাজারে আসবে তার জন্য আপনাকে ধৈর্য ধরে বসে থাকতে হবে — এবং এই মুহূর্তে সবচাইতে বড় অসুবিধাটি হলো বর্তমানে কোন ডিভাইজই ইউএফএস মেমোরি কার্ড সমর্থন করে না। তাছাড়া স্যামসাং যদি তাদের সামনের নতুন ডিভাইজ নোট ৭ স্মার্টফোনে এই কার্ড সমর্থন করানোর কথা ভাবেন তারপরেও এটি স্মার্টফোন জগতে তেমন উল্লেখ্য যোগ্য পার্থক্য বয়ে আনতে সক্ষম হবে না। এই ইউএফএস মেমোরি কার্ড সমর্থনে অবশ্যই আরো অনেক কোম্পানিকে এগিয়ে আসতে হবে।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

আরেকটি সমস্যা হলো এই মেমোরি কার্ডটি এক আলাদা পিন কনফিগারেশনে তৈরি — যার জন্য আপনার স্মার্টফোনে থাকতে হবে এক সম্পূর্ণ আলাদা কার্ড স্লট। তাই আপনার বর্তমান ফোনে যদি ইউএফএস মেমোরি কার্ড ব্যাবহারের চিন্তা করে থাকেন তবে তা ভুলে যান। তবে স্যামসাং বলেছে যে তারা এমন এক কার্ড স্লট উন্নতিকরণ করতে চলেছে যার মাধ্যমে একই স্লটে ইউএফএস মেমোরি কার্ড এবং মাইক্রো এসডি কার্ড ধারণ করতে পারবে।

শেষ কথা

বন্ধুরা আশা করছি স্যামসাং ইউএফএস কার্ড সম্পর্কে আপনি অনেক কিছু জানলেন। হয়তো ভবিষ্যতের ডিভাইজ গুলোতে এই প্রযুক্তির মেমোরি কার্ড ব্যবহার করা হতে পারে। ইউএফএস কার্ড কি সত্যিই বিপ্লব বয়ে আনতে সক্ষম হবে? এতে আপনার মতামত কি? আমাকে অবশ্যই কমেন্ট করে জানান। এবং এই নতুন বিষয়টি সকলের সাথে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ 🙂

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

16 Comments

  1. অর্নব Reply

    সত্যিই মজার কিছু তথ্য জানলাম ভাই 🙂
    সামসাং যেমন বস আপনিও তেমন বস। হা হা হা

  2. রিয়ান সাব্বির Reply

    আমি মনে করি ৬৪-১২৮ জিবি আমাদের জন্য যথেষ্ট — ২৫৬ জিবির যে কতদাম হবে স্যামসাঙ ই ভালো জানে!

    1. তাহমিদ বোরহান Post author Reply

      আপনার কোথায় যুক্তি আছে কিন্তু 🙂
      তবে আমরা সাধারন জনতা আর কি করতে পারি? শুধু অপেক্ষায় করা ছাড়া আর তো কিছু দেখি না 🙂

  3. Anirban Dutta Reply

    OSADHARON post bhai!! Aaj kal aar sokale uthei post pai na bhai. UFS niye Samsung er website ei dekhchilam but apnar post pore sobta jana gelo. Bhalo thakben bhai.

    1. তাহমিদ বোরহান Post author Reply

      আসলে ভাই কয়েকদিন যাবত কিছু ব্যাক্তিগত সমস্যায় ভুগছি। সবকিছু নিয়মিত করার চেষ্টা করছি। একটু সাথে থাকুন, সব ঠিক করে ফেলবো 🙂

  4. প্রদিপ মন্ডল Reply

    ভাইজান আপনি কি কোন সমস্যায় আছেন? ভাই এরকম ভাবে জানতে চাওয়ার জন্য মাফ চাচ্ছি, আসলে ভাই নিঊ পোস্ট না পেলে কিছুই ভালো লাগে না।
    আপনার অনুরোধ ভাই নতুন পোস্ট দিন। নতুন পোস্ট পায়ার জন্য সারাদিন ভিসিট করতে থাকি ভাই। কিচ্ছু ভালো লাগে না।
    ভুল হলে মাফ করবেন ভাই। আপনার কাছে অনেক কিছু শিখেছি।

    ভালো থাকুন আর দয়া করে পোস্ট করুন

    1. তাহমিদ বোরহান Post author Reply

      ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ভাই 🙂 আপনাদের ফিলিংস বুঝি। আসলে আপনারা আছেন বলেই আমি আছি 🙂 আসলে কিছু ব্যাক্তিগত সমস্যার কারণে আপসেট ছিলাম।
      সবকিছু ফিক্স করার চেষ্টা করছি। একটু ধৈর্য ধরে পাশে থাকুন, অনেক কিছু চমক অপেক্ষা করছে 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *