WireBD
৪জি/এলটিই নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাস্য ১০টি প্রশ্ন এবং উত্তর!

৪জি/এলটিই নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাস্য ১০টি প্রশ্ন এবং উত্তর!

আমাদের বর্তমান লাইফে ৪জি/এলটিই কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে সেটা আর বলতে বাকী নেই। যদিও আমাদের দেশে এখনো রবি ছাড়া আলাদা অপারেটর গুলো খুব ভালো ৪জি কভারেজ প্রদান করতে সক্ষম হয় নি, কিন্তু এটা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে সম্পূর্ণ বিশ্বের সাথে তুলনা করতে গেলে এখন আমাদের কাছে মোটামুটি হাই স্পীড মোবাইল ইন্টারনেট রয়েছে। ৩জি থেকে আমাদের অনেক আশা ছিল, অনেক ভালো ইন্টারনেট সেবা পাবার, কিন্তু নানান কারণে শুধু টাকায় খরচ হয়েছে আমাদের, সেবা মোটাও সুবিধার ছিল না।

যাই হোক, ৪জি আমাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন টেকনোলোজি, শুধু আমাদের কাছেই নয় সম্পূর্ণ দুনিয়ার কাছেও এটি বর্তমানে লেটেস্ট প্রযুক্তি। যখনই আমি ৪জি নিয়ে কোন সোশ্যাল মিডিয়াতে আলোচনা করি, অনেক প্রশ্ন আমার সামনে আপনারা তুলে ধরে থাকেন।

এই আর্টিকেলে, ৪জি/এলটিই নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাস্য ১০টি প্রশ্ন এবং তাদের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। যদি এই প্রশ্ন গুলো এতোদিন আপনাকে বিভ্রান্ত করে থাকে, তবে চিন্তা করার কোন কারণ নেই, আজ থেকে সকল বিভ্রান্তির শেষ!

১/ আমার ডিভাইজ কি ৪জি/এলটিই সাপোর্টেড?

আগেই বলেছি, ৪জি/এলটি সম্পূর্ণ নতুন টেকনোলোজি। ২০১০ সালের পর থেকে তৈরি করা ডিভাইজ গুলোতে ধীরেধীরে ৪জি সাপোর্ট যুক্ত করা শুরু করা হয়েছিল। তখনকার হাই এন্ড স্মার্টফোন গুলো ধীরেধীরে ৪জি সমর্থন চালু করছিল, যেমন- আইফোন ৫ ফোরজি সমর্থন করতো এবং তখনকার আরো কিছু সেলফোন এবং ট্যাবলেট গুলো ফোরজি ফিচার প্রদান করতো। যদি কথা বলি বর্তমান সময়ের কথা, তাহলে মাক্সিম্যাম ডিভাইজই বর্তমানে ফোরজি সাপোর্টেড হওয়ার কথা।

আপনার ডিভাইজটি এলটিই সাপোর্টেড কিনা সেটা চেক করতে চলে যান ফোনের Settings > More > Mobile Network > Preferred Network Type (ফোনের মডেল এবং অপারেটিং সিস্টেম ভার্শন অনুসারে সেটিং লোকেশন আলাদা হতে পারে) অপশনে, এখানে যদি 4G বা LTE লেখা থাকে (মানে সিলেক্ট করার অপশন থাকে), তাহলে অবশ্যই আপনার ফোন ফোরজি সাপর্টেড, যদি না লেখা থাকে সেক্ষেত্রে আপনাকে ফোনটি আপগ্রেড করতে হবে।

এখন ইউটিউবে হয়তো অনেক ভিডিও দেখে থাকবেন, থ্রিজি ফোনকে কিভাবে ফোরজি বানিয়ে ফেলতে হবে, আপনাকে জানিয়ে রাখি, এগুলো টিউটোরিয়াল কখনোই কাজে দেবে না। হ্যাঁ, তারা কিছু শর্টকোড ডায়াল করে, ফলে ফোনে 4G/LTE অপশন দেখতে পাওয়া যায়, কিন্তু কখনোই এতে আপনার ফোন ফোরজি সাপোর্টেড হয়ে যাবে না, যদি ফোনটি কোম্পানি থেকে সাপোর্টেড হিসেবে তৈরি না করা হয়। শর্টকোড ডায়াল করলে তো ৪জি অপশন দেখাবেই, কেননা সেটা অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম থেকে শো করে, আপনার অপারেটিং সিস্টেম অবশ্যই ফোরজি সাপোর্টেড কিন্তু, কিন্তু ডিভাইজকেও সেটা সাপোর্ট করতে হবে।

আজকের অনেক পকেট ওয়াইফাই রাউটারও ৪জি/এলটিই সাপোর্ট করে থাকে, তবে আপনার পিসি বা ল্যাপটপ ফোরজি সাপোর্ট করে না। আপনি যদি কম্পিউটারে ফোরজি ব্যবহার করতে চান সেক্ষেত্রে ফোরজি মডেম বা ফোরজি সাপোর্ট করে এমন রাউটার কিনতে হবে।

২/ ৪জি ব্যবহার করতে কি, সিম কার্ড আপগ্রেড করতে হবে?

দেখুন এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে আপনার সেল অপারেটরের উপর। যদি টেকনিক্যালভাবে দেখা হয় সেক্ষেত্রে আপনার কাছে থাকা ৩জি সিম কার্ডটি একটি ইউসিম কার্ড, আর ইউসিম কার্ড জন্ম থেকেই ফোরজি রেডি। ফোরজি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার জন্য সত্যি বলতে সিম তেমন গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর নয়, গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হচ্ছে আপনার ফোন ফোরজি সাপোর্টেড হওয়া এবং আপনার সেল অপারেটর ফোরজি সিগন্যাল প্রদান করা সাথে আপনাকে ফিজিক্যালভাবে ফোরজি কভারেজ এরিয়াতে থাকতে হবে।

যদি আপনি ২জি বা অনেক আগের সময় থেকে আপনার সিম কার্ডটি পরিবর্তন না করে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপনার সিমটি ফোরজি নেটওয়ার্ক সমর্থন নাও করতে পারে, কেননা ফোরজি টেকনোলোজিতে আরো বেটার এনক্রিপশন ম্যাথড ব্যবহার করা হয়, যেটা একেবারে পুরাতন সিম সমর্থন নাও করতে পারে। কিন্তু আপনি যে সিম কার্ডে অন্তত ৩জি চালাচ্ছনে, সেটা টেকনিক্যালি ফোরজিতেও কাজ করতে পারবে।

এখন কথা হচ্ছে, আপনার সেল অপারেটর নিয়ে, তারা যদি পুরাতন সিমে বা ফোরজি ব্লক করে রাখে, সেক্ষেত্রে সিম আপগ্রেড না করলে আপনি তাদের ফোরজি নেটওয়ার্কে রেজিস্টার করতে পারবেন না। তারা ভালো করেই জানে আপনি সিমটি আপগ্রেড করেছেন কিনা, সিম আপগ্রেড করলে অবশ্যই তাদের কাস্টমার সেন্টার যেতেন, তাদের কাছে রেকর্ড থাকতো। যাই হোক, এখন সিম আপগ্রেড করার প্রসেস অবশ্যই ফ্রী নয়, তাই সহজেই বুঝতে পারেন কেন তারা সিম আপগ্রেড করার জন্য ইউজারদের ফোর্স দিয়ে রেখেছে। তবে তারা যদি চায়, আপনার বর্তমান সিমেই আপনাকে ফোরজি সেবা প্রদান করতে পারবে।

৩/ ফোরজি কতোটা ফাস্ট?

৩জি+ বা ৩.৫জি টেকনোলোজিকে মোবাইল ব্রডব্যান্ড বলা হলেও ফোরজিই কেবল মোবাইলে সত্যিকারের ব্রডব্যান্ড লেভেলের স্পীড প্রদান করতে সক্ষম। আপনি কতো ফাস্ট ইন্টারনেট স্পীড পেতে পারবেন, সেটা নির্ভর করবে আপনার প্রভাইডারের ব্যান্ডউইথ ক্ষমতা, আপনার এলাকার নেটওয়ার্ক কভারেজ এবং কতো ইউজার একসাথে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে তার উপরে। বিভিন্ন বেঞ্চমার্ক রিপোর্ট অনুসারে অ্যামেরিকাতে অ্যাভারেজ ফোরজি স্পীড ডাউনলোডের ক্ষেত্রে ৫ মেগাবিট/সেকেন্ড থেকে ৫০ মেগাবিট/সেকেন্ড পর্যন্ত এবং আপলোডের ক্ষেত্রে ১ মেগাবিট/সেকেন্ড থেকে ২০ মেগাবিট/সেকেন্ড পর্যন্ত। (জানুনঃ মেগাবিট Vs মেগাবাইট)

যদি আমাদের দেশের কথা বলি, তাহলে সম্পূর্ণ দেশের ফোরজি স্পীড বলতে পারছি না, তবে বেশ কিছু লোকেশনে (রাজশাহী বিভাগের মধ্যে) আমি নিজেই টেস্ট চালিয়েছি। এতে এভারেজ স্পীড ২০-৬০ মেগাবিট/সেকেন্ড (ডাউনলোড) এবং ৫-২০ মেগাবিট/সেকেন্ড (আপলোড) এর ক্ষেত্রে পেয়েছি। বাংলাদেশের কোন স্থানে কোন মোবাইল অপারেটর কতো ভালো ৪জি স্পীড প্রদান করছে, তার উপর নিয়মিত নজর রাখতে এটিসি ইউটিউব চ্যানেলের উপর নজর রাখতে পারেন, তারা সাড়া দেশ ঘুরে ট্রু টেস্ট করে বেড়াচ্ছে!

এখন যদি এলটিই টেকনোলোজির তাত্ত্বিক স্পীড নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেক্ষেত্রে শুধু ফোরজি ১০০ মেগাবিট/সেকেন্ড পর্যন্ত এবং ফোরজি+ নেটওয়ার্ক বা অনেকে যেটাকে ৪.৫জি নেটওয়ার্ক বলে, সেটাতে সর্বচ্চ ৩০০ মেগাবিট/সেকেন্ড পর্যন্ত স্পীড পাওয়া সম্ভব। এখন এতোটা স্পীড কেন অপারেটর’রা দিতে পারে না বা আপনি কেন পাচ্ছেন না, এটা জানতে এখানে ক্লিক করুণ। আরেকটি নতুন এলটিই টেকনোলোজির উপর কাজ করা হচ্ছে, যেটাকে LTE-Advanced বলা হচ্ছে, এখানে তাত্ত্বিকভাবে ১ গিগাবিট/সেকেন্ড পর্যন্ত ইন্টারনেট স্পীড পাওয়া সম্ভব, মানে ব্যাস্তবিকভাবে আপনি সর্বদা ১০০ মেগাবিটের উপর স্পীড পেতে পারবেন।  LTE-Advanced টেকনোলোজিকেই অনেকে ৫জি বলে থাকেন।

৪/ LTE টেকনোলোজিই কি 4G?

LTE এবং 4G এই দুইটি টার্মের আলাদা আলাদা অর্থ রয়েছে। LTE মানে হচ্ছে, Long Term Evolution — কিন্তু 4G মানে Fourth Generation of Broadband Cellular Network Technology, এখন LTE লেভেলের সুবিধা কিন্তু ওয়াইম্যাক্স (WiMax) বা HSPA+ নেটওয়ার্ক টেকনোলোজিতেও পাওয়া যায়, কিন্তু LTEকেই কেন ফোরজি হিসেবে গণ্য করা হয়?

দেখুন, ফোরজির আসল টার্ম অনুসারে LTE, HPSA+, বা WiMax — কেউই কিন্তু ফোরজি হিসেবে গন্য হতে পারতো না। কিন্তু ডিসেম্বর ২০১০ সালের দিকে International Telecommunications Union (ITU) standards group ফোরজিকে পুনরায় সংজ্ঞায়িত করে যাতে এই নেটওয়ার্ক টাইপ গুলোকে ফোরজি বলে আখ্যায়িত করা সম্ভব হয়। বর্তমানে LTE-Advanced টেকনোলোজির উপর কাজ করা হচ্ছে এবং অনেকে এটাকেই ৫জি বলে আখ্যায়িত করছে, কিন্তু ব্যাস্তবিকভাবে এখনো কোন নেটওয়ার্ক টেকনোলোজিকে ৫জি হিসেবে গন্য করা হবে সেটা রেজিস্টার করা হয় নি।

৫/ এলটিই কি ফোন কল সমর্থন করে?

LTE নেটওয়ার্ক টেকনোলোজি ইন্টারনেট প্রোটকল বা আইপির উপর কাজ করে, এটি অ্যানালগ সিগন্যাল যেমন সাধারণ ভয়েস কল প্রভাইড করতে পারে না। সেলফোন অপারেটর’রা বিশেষ করে তাদের নেটওয়ার্ককে ফোন কলের জন্য কনফিগার করে নেয়, যখন সাধারণ ফোন কল আসে আপনার ফোনের নেটওয়ার্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩জি বা ২জিতে সুইচ করে এবং আপনি সাধারণ ভয়েস কল করতে সক্ষম হোন। যদি আপনার ফোনে Only LTE অপশন থাকে এবং আপনি সেটা চালু করে রাখেন, সেক্ষেত্রে আপনার ফোনে কেউ কল করতে পারবে না।

যাই হোক, LTE নেটওয়ার্কে কল সমর্থন করানোর জন্য ভিওআইপি Voice Over IP (VoIP) টেকনোলোজি ব্যবহার করে, LTE ফিচারকে এক্সটেন্ড করানোর জন্য নতুন করে ডিজাইন করানো হয়, একে VO-LTE ও বলা হয়ে থাকে, এটি স্ক্যাইপ, হোয়াটস অ্যাপ ইত্যাদি ইন্টারনেট কলিং সফটওয়্যারের প্রিন্সিপ্যাল ব্যবহার করেই কাজ করে। এখনো আমাদের দেশের অপারেটর’রা ভয়েস ওভার এলটিই সিস্টেম চালু করেনি, তবে হয়তো দুই এক বছরের মধ্যেই চালু করে দেবে।

৬/ এলটিই কি বেশি ব্যাটারি ড্রেইন করে?

অনেক ইউজারের এটি অভিযোগ রয়েছে যে, ৩জি নেটওয়ার্ক থেকে ৪জি নেটওয়ার্কে সুইচ করার পরে তাদের মোবাইলের ব্যাটারি আরো দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। দেখুন, অবশ্যই ফোরজি হ্যান্ডেল করার জন্য আপনার স্মার্টফোনে একাধিক রেডিও এন্টেনা এবং ট্রান্সমিটার লাগানো থাকে। কিন্তু আপনার ফোনের ব্যাটারি তখন দ্রুত শেষ হয়ে যায় যখন আপনি উইক ৪জি সিগন্যালের মধ্যে থাকেন। যদি নেটওয়ার্ক সিগন্যাল অনেক দুর্বল হয় সেক্ষেত্রে আপনার ডিভাইজকে স্ট্যাবল কানেকশন প্রদান করতে অনেক সমস্যা পোহাতে হয়, সাধারণত ফোনের এন্টেনা গুলো তাদের গেইন বারিয়ে দেয়, যাতে বেশি পরিমানে সিগন্যাল ক্যাচ করতে পারে।

আবার ব্যাটারি লাইফ এটার জন্যও কমে যেতে পারে, যদি আপনার ফোন একসাথে অনেক টাইপের ওয়্যারলেস কানেকশন চালু করে রাখে এবং তাদের মধ্যে নেটওয়ার্ক সুইচ করতে থাকে। যেমন ধরুন আপনার ফোন একবার ৪জি তো আরেকবার ৩জি এভাবে নেটওয়ার্ক সুইচ করছে, তো সেক্ষেত্রে ফোনের ব্যাটারি দ্রুতই শেষ হয়ে যাবে। অবশ্যই ৪জি আপনার ব্যাটারি পাগলের মতো শেষ করে দেবে না, কিন্তু যেহেতু এই টেকনোলোজি এখনো নতুন তাই ধীরেধীরে এতে উন্নতি আনা হচ্ছে, আর এক পর্যায়ে এর উন্নতির তুলনার বা সুবিধার তুলনায় ব্যাটারি ড্রেইন ইস্যু আপনার মাথায় আসবে না।

৭/ এলটিই কতোটা সিকিউর?

আগেই বলেছি, LTE টেকনোলোজি ইন্টারনেট প্রোটকলের উপর কাজ করে। আর কোন ইন্টারনেট প্রোটকল টেকনোলোজিই সত্যিকার অর্থে সিকিউর নয়। আলাদা নেটওয়ার্ক সিস্টেমের তুলনায় ইন্টারনেট প্রোটকল সিস্টেমের ট্র্যাফিকের উপর সহজেই নজর রাখা যেতে পারে এবং হ্যাকার চাইলে অনেক সহজেই ইউজার ট্র্যান্সমিশন ডাটা গুলো চুরি করতে পারে। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই, কেননা LTE নেটওয়ার্ক সিস্টেমকে সিকিউর করার জন্য অনেক টাইপের নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি ফিচার ব্যবহার করা হয়, এতে আপনার ডাটা ট্র্যাফিক অনেকটা সিকিউর হয়ে যায়।

তাছাড়া ডাটা ট্র্যান্সমিট করানোর সময় অবশ্যই এনক্রিপশন ম্যাথড ব্যবহার করানো হয়, ফলে হ্যাকার আপনার সিগন্যাল থেকে আপনার ট্র্যান্সমিট করানো ডাটা গুলো ক্যাপচার করে ফেললেও সেগুলো রীড করতে পারে না, কেননা এনক্রিপশন ম্যাথডে ডাটা গুলো আর পড়ার যোগ্য থাকেনা।

৮/ এলটিই Vs ওয়াইফাই — কোনটি বেটার?

দেখুন, LTE এবং WiFi অনেকটা সিমিলার টেকনোলোজি — আপনার বাড়িতে প্রথমে ব্রডব্যান্ড কানেকশন থাকে তারপরে সেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট থেকে রাউটারের সাহায্যে ওয়াইফাই সিগন্যাল তৈরি করে ঐ ইন্টারনেট ট্র্যান্সমিট করানো হয়। ঠিক তেমনিই মোবাইল টাওয়ারের সাথে ব্রডব্যান্ড কানেকশন যুক্ত করা থাকে, আর LTE টেকনোলোজি ব্যবহার করে সেই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কাস্টমারদের কাছ পর্যন্ত পৌঁছান হয়। এই দুইটি টেকনোলোজিই হাই ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও ওয়েভের উপর কাজ করে, ফলে অনেক ভালো ব্যান্ডউইথ স্পীড প্রদান করতে সক্ষম হয়ে থাকে।

কিন্তু দুই টেকনোলোজিকে দুই আলাদা কাজের জন্য উন্নতি করা হয়েছে, তাই এদের মধ্যে কোনটি বেটার এরকম তুলনা করা যুক্তি যোগ্য হবে না। এলটিই কে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে অনেক দূরত্ব পর্যন্ত হাই সিগন্যাল সেন্ড করে হাই স্পীড ইন্টারনেট কানেকশন প্রদান করার জন্য। যেখানে ওয়াইফাইকে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য। আপনার বাড়ির পিসি বা মোবাইল ডিভাইজ গুলোর মধ্যে কানেকশন তৈরি করে দিতে ওয়াইফাই সত্যিই প্রশংসনীয় কাজ করে থাকে, কিন্তু এটি বহুদূর পর্যন্ত সিগন্যাল সেন্ড করতে পারে না, এর জন্য অনেক ট্র্যান্সমিটারের প্রয়োজন পরে, তাছাড়া ইউজার কানেক্ট করার সময় এই দুই নেটওয়ার্ক টেকনোলোজি আলাদা আলাদা স্টাইলে কাজ করে।

৯/ আমি কিভাবে ৪জি ব্যবহার করতে পারবো?

টেকনিক্যালভাবে ফোরজি ব্যবহার করার জন্য অবশ্যই আপনার ডিভাইজ ফোরজি নেটওয়ার্ক সমর্থিত হতে হবে এবং আপনার সেল অপারেটর ফোরজি প্রোভাইড করতে হবে আর অবশ্যই আপনাকে ফিজিক্যালভাবে ফোরজি সিগন্যাল কভারেজ এরিয়াতে অবস্থান করতে হবে। এখানে আরেকটি টার্ম যুক্ত হয়, কিন্তু সেটা টেকনিক্যালভাবে জরুরী নয়, সেটা হচ্ছে আপনাকে ৪জি সিম কার্ড কিনতে হবে বা আপগ্রেড করতে হবে।

এখন আপনার কাছে যদি কোন একটি টার্ম না থাকে, তাহলে আপনি দুর্ভাগ্যবশত ফোরজি ব্যবহার করতে পারবেন না। মানে ফোরজি ব্যবহার করতে ফোরজি হ্যান্ডসেট + ফোরজি সিম কার্ড + ৪জি সাপোর্টেড অপারেটর + ফোরজি কভারেজ এরিয়াতে থাকতে হবে।

১০/ কোন অপারেটর এই মুহূর্তে বেস্ট ৪জি প্রদান করছে?

দেখুন, এই প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর দেওয়া একটু কষ্টের ব্যাপার, এই প্রশ্নের উত্তর তখনই কেবল ঠিকঠাক দেওয়া যাবে যখন আপনার এরিয়াতে নেটওয়ার্ক টেস্ট করা হবে। তবে ইতিমদ্ধেই আমি বিভিন্ন জেলাতে নেটওয়ার্ক টেস্ট করেছি এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকের ইন্টারনেট টেস্ট রেজাল্ট দেখেছি, যদি এর উপর ভিত্তি করে আমাকে উত্তর দিতে বলেন তো সেক্ষেত্রে রবি বর্তমানে বেস্ট ৪জি প্রদান করছে।

একে তো এরা প্রথম দিনেই বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলাতে ৪জি কভারেজ দিয়ে দিয়েছে এবং দ্বিতীয়ত এদের ৩জি নেটওয়ার্ক সিগন্যাল থেকেও ৪জি সিগন্যাল অনেকবেশি শক্তিশালী। আপনার গ্রামটি যদি একেবারেই অনেক ভেতরে না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনি ফোরজি সিগন্যাল পাবেন। আলাদা অপারেটরদের এখনো কভারেজ অনেক কম, তবে আমি পার্সোনালভাবে আলাদা অপারেটরের ইন্টারনেট স্পীড টেস্ট করে দেখে তেমন সন্তুষ্ট হতে পারিনি। হাই স্পীড ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে রবি অবশ্যই বিশেষ পার্থক্য এনেছে তাদের নেটওয়ার্ক জুড়ে।

যদি ফোরজি ইন্টারনেট প্যাকেজের কথা চিন্তা করা হয়, সেক্ষেত্রেও রবি আপনার প্রথম পছন্দ হওয়ার কথা, তাদের বর্তমান অফার পেজটি ভিজিট করলে সত্যিই অনেক আকর্ষণীয় কম দামের অফার নজরে পড়বে যেগুলো আলাদা অপারেটর আপনাকে প্রোভাইড করবে না। বাংলালিংক এর নেটওয়ার্ক কভারেজ এবং নেটওয়ার্ক কোয়ালিটি তেমন উন্নত না হলেও ভালো অফারের দিক থেকে বাংলালিংক’কে আমি দ্বিতীয়তে রাখবো। আর দেশের সবচাইতে বড় নেটওয়ার্ক গ্রামিনফোন নিয়ে আর কি বলবো, হয়তো সামনে এরা আরো কভারেজ বাড়াবে কিংবা ভালো স্পীডও হয়তো প্রদান করবে, তবে এদের ট্র্যাডিশন অনুসারে মনে হয় না, ইন্টারনেটের দাম খুব একটা কমাবে। হাই রেট ইন্টারনেট দাম হওয়ার জন্য আমি গ্রামীণফোনকে কখনোই আপনাকে পছন্দ করতে বলবো না।

তবে আপনার এলাকায় যে নেটওয়ার্ক বেশি ভালো স্পীড প্রদান করবে এবং কম দামের ইন্টারনেট প্রভাইড করবে আপনার সেই অপারেটরে সুইচ করাই উত্তম বলে বিবেচিত হবে।


তো এই ছিল, ৪জি/এলটিই নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাস্য ১০টি প্রশ্ন এবং তাদের উত্তর। আশা করছি, ৪জি টেকনোলোজি সম্পর্কে আগের থেকে এখন আরোবেশি পরিস্কার আপনি। শুধু এই আর্টিকেল নয়, ব্লগের সার্চ বার থেকে “৪জি” লিখে সার্চ করেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল গুলো পেয়ে যেতে পারবেন। আমি এই লিস্টে যদি কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন বাদ দিয়ে থাকি, অবশ্যই সেটা আমাকে কমেন্ট সেকশনে উল্লেখ্য করবেন, আমি রিপ্লাই করে আপনার প্রশ্নের উত্তর দেবার চেষ্টা করবো।

ইমেজ ক্রেডিটঃ By GaudiLab Via Shutterstock

তাহমিদ বোরহান

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

13 comments

সোশ্যাল মিডিয়া

লজ্জা পাবেন না, সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে টেকহাবসের সাথে যুক্ত হয়ে সকল আপডেট গুলো সবার আগে পান!