বর্তমান তারিখ:13 October, 2019

কিছু টেক ইনোভেশন : যেগুলো আমাদের অনলাইন লাইফকে আরও উন্নত করেছে!

টেক ইনোভেশন

বর্তমান সময়ে এসে এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের অনলাইন উপস্থিতি আমাদের বাস্তব উপস্থিতির মতোই উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠছে যুগের অগ্রগতির সাথে সাথেই। বর্তমানে ইন্টারনেট এবং আমাদের অনলাইন উপস্থিতি অনেকের কাছে তাদের বাস্তব উপস্থিতির থেকেও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি ভাবলে অবাক হবেন যে গত কয়েক বছরের মধ্যে ইন্টারনেটের কতটা যুগান্তকারী উন্নতি এসেছে। ইন্টারনেট দিনদিন যত বেশি উন্নত হচ্ছে, আমরা ইন্টারনেটের ওপরে আস্তে আস্তে ততই বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। তবে ইন্টারনেটের এই উন্নতির পেছনে রয়েছে বিশেষ কয়েকটি আবিষ্কার এবং ইনোভেশন। আজকে ইন্টারনেটের এমন কয়েকটি ইনোভেশন নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো আমাদের অনলাইন লাইফকে আরও বেশি উন্নত করেছে এবং করে যাচ্ছে।


ক্লাউড সার্ভার এবং ক্লাউড কম্পিউটিং

আপনি হয়তো খুব ভালোভাবে জানেন না যে ক্লাউড কম্পিউটিং কি, তবে নিশ্চিতভাবেই আপনি এটা নিজেই ব্যবহার করেছেন এবং এমনকি এখনও ব্যবহার করছেন। ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে কিছু হাই এন্ড হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের ওপরে রান করা হাই এন্ড কম্পিউটার যেটি ক্লাউডে বা সহজ ভাষায় বললে ইন্টারনেটে এভেইলেবল করা হয় যাতে আপনি ইন্টারনেটের সাহায্যেই কম্পিউটারটিকে অ্যাক্সেস করতে পারেন এবং এর সাহায্যে আপনার প্রয়োজনীয় কাজটি করে ফেলতে পারেন বা দরকার হলে এর সাহায্যে আপনার পার্সোনাল সার্ভারও তৈরি করতে পারেন।

যেমন, এই যে আপনি ওয়্যারবিডিে এই আর্টিকেলটি পড়ছেন, এই ওয়্যারবিডিের সব ধরনের ডেটাই আপনাকে কোন না কোন সার্ভার গ্রেডের ক্লাউড কম্পিউটার থেকে সার্ভ করা হচ্ছে। যে ক্লাউড সার্ভারে ওয়্যারবিডি ওয়েবসাইটটি হোস্ট করা আছে, সেই সার্ভার থেকেই আপনাকে সবকিছু সার্ভ করা হচ্ছে যখন আপনি এই সাইটটি অ্যাক্সেস করার রিকুয়েস্ট করছেন। পৃথিবীর প্রত্যেকটি ওয়েবসাইট এবং ওয়েব সার্ভিসের পেছনেই আছে ক্লাউড সার্ভার এবং ক্লাউড কম্পিউটিং। ক্লাউড কম্পিউটিং আবিস্কার না হলে কোন ওয়েবসাইট ক্লাউড সার্ভারে হোস্ট করা সম্ভব হতনা। তাই এটি ইন্টারনেটের বিশেষ কয়েকটি ইনোভেশনের মধ্যে অন্যতম।

ইনোভেশন

সোশ্যাল মিডিয়া

এর ব্যাপারে নতুন করে কিছুই বলার নেই। সোশ্যাল মিডিয়া বর্তমানে অধিকাংশ ইন্টারনেট ইউজারের অনলাইন লাইফের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে বর্তমানে অনেক সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের জীবনের এতটাই কাছে চলে এসেছে যে সেটি আক্ষরিক অর্থেই অনেক মানুষের রিয়াল লাইফকেই একধরনের সিমুলেট করে। যেমন -ফেসবুক। ইন্টারনেটে এই সোশ্যাল মিডিয়াগুলোই একমাত্র বড় প্লাটফর্ম যেগুলো বিভিন্ন রিজিয়নের এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বিভিন্ন মানুষকে একে অন্যের সাথে কানেক্টেড রাখে।

স্ট্যাটাস আপডেটস, লাইকস, কমেন্টস, শেয়ারস, চেন-ইনস, চ্যাটিং ইত্যাদি সবকিছুই মানুষের লাইফের সাথে এতটাই মিশে গিয়েছে যে বর্তমানে অধিকাংশ সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার এগুলো ছাড়া এক মুহূর্তও চলতে পারেনা। পৃথিবীকে একটি গ্লোবাল ভিলেজ বলার পেছনে প্রায় ৯০% ক্রেডিটই ফেসবুকের মতো এইসব বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোর এবং অবশ্যই এটি ইন্টারনেটের একটি অন্যতম ইনোভেশন।

ইনোভেশন

ইন্টারনেটের পরিকাঠামো

এখন এইযে আপনি ওয়্যারবিডিে এই আর্টিকেলটি পড়ছেন, এর জন্য অবশ্যই আপনার একটি ওয়েব ব্রাউজার দরকার হচ্ছে। আর আপনি ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে পারছেন যে টেকনোলজি ব্যবহার করে তার নাম হচ্ছে TCP/IP। আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন অনেক ধরনের হাইপারলিংক এবং ইউআরএল ব্যবহার করে। এগুলোই মুলত ইন্টারনেটের ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা পরিকাঠামো।

এই সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বা ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের সম্পূর্ণ কনসেপ্টটির উদ্যোক্তা ছিলেন স্যার টিম বার্নার্স লি। এছাড়া আপনি ইন্টারনেটের এই সমস্ত ইনফরমেশন দেখছেন বিভিন্ন ধরনের ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে। যেমন- HTML। এই সবকিছু হচ্ছে ইন্টারনেট এবং ওয়েবের একেবারে বেসিক কয়েকটি কাঠামো যেগুলো ছাড়া ওয়েবের কোন অস্তিত্বই থাকতো না।

ইনোভেশন

ফ্রি ইনফরমেশন সার্ভিস

এখন যদি আপনি কোন জিনিস বা কোন বিখ্যাত ব্যক্তি বা কোন প্রাণী কিংবা এই ধরনের যেকোনো কিছু সম্পর্কে কিছু  বিস্তারিত জানতে চান তাহলে কি করবেন? আপনি জাস্ট ব্রাউজারে গিয়ে অ্যাড্রেস বারে সেটির নাম লিখে ইন্টার বাটন প্রেস করবেন এবং সেটির উইকিপিডিয়া পেজে ঢুকে আপনার যা যা জানার সবকিছু জেনে নেবেন। কিন্তু কখনো চিন্তা করেছেন যে উইকিপিডিয়ার কোন ফ্রি ইনফরমেশন সোর্স না থাকলে কি হত? তখন আপনাকে কোনকিছু জানতে হলে সম্পূর্ণ একটি ৫ কেজি ওজনের এনসাইক্লোপিডিয়া বই নিয়ে বসতে হত।

এখন যদি আপনার কোন শব্দের অর্থ জানার দরকার হয়, আপনি জাস্ট গুগল ট্রানস্লেট ওপেন করবেন এবং শব্দটি লিখেই তার অন্য ভাষার অর্থ বা শাব্দিক অর্থ পেয়ে যাবেন। যদি গুগল ট্রানস্লেটের মতো ফ্রি সার্ভিস না থাকতো? তাহলে আপনাকে একটি মোটা ডিকশনারি নিয়ে বসে পড়তে হত শব্দটি খুঁজতে। প্রায় ১০-১৫ মিনিট ধরে খোঁজাখুজির পরে গিয়ে আপনি শব্দটি পেতেন। এখন আমাদের সব ধরনের ইনফরমেশন দ্রুত পাওয়ার জন্য কোন না কোন অনলাইন সোর্স আছেই যেখানে মুহূর্তের মধ্যেই আমরা যা সার্চ করবো টাই পেয়ে যাবো। আমি বলবো ইন্টারনেটের সবথেকে বড় ইনোভেশন এটাই।

ইনোভেশন

অনলাইন ওয়ালেট এবং অনলাইন শপিং

এটাও আর বলার অপেক্ষা রাখেনা যে অনলাইন ব্যাংকিং এবং ওয়ালেট সার্ভিসগুলো যেমন পেপাল এবং এমনকি ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড মানুষের জীবনকে কতটা সহজ করেছে। ফিজিক্যাল মানি এর থেকে ডিজিটাল মানি কতটা উপযোগী তা আমরা সবাই জানি। টাকা চুরি হওয়ার বয় নেই, হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই এবং টাকা হিসাব করারও কোন প্রয়োজন থাকেন অনলাইন ব্যাংকিং এবং ওয়ালেট সার্ভিসগুলোর কারনে।

এছাড়া এই অনলাইন ব্যাংকিং সার্ভিসগুলোর কারনেই কাউকে টাকা সেন্ড করার ব্যাপারটি অনেক অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও অনলাইন শপিং আমাদের লাইফকে আরও কতটা সহজ করেছে তা আমরা সবাই জানি। বর্তমানে কোন জিনিস কিনতে চাইলে নিজে মার্কেটে গিয়ে জিনিসটি না কেনার অপশনও আছে আমাদের কাছে। অ্যামাজনের মতো ইন্ডাসট্রি থাকার কারনে আমাদের শপিং হ্যাবিটও দিনদিন অনেকটা অনলাইন নির্ভর হয়ে পড়ছে। এবং এই অনলাইন ব্যাংকিং সার্ভিসগুলো থাকার কারনে অনলাইন শপিং আরও বেশি সহজ এবং কনভেনিয়েন্ট হয়ে গিয়েছে।

ইনোভেশন


 

তো এই ছিল ইন্টারনেটের কয়েকটি ইনোভেশন যেগুলো আমাদের অনলাইন লাইফকে আরও বেশি উন্নত এবং সহজ করেছে ও করে চলেছে। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটিও আপনাদের ভালো লেগেছে।  কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। আপনার মতে ইন্টারনেটের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ইনোভেশন কোনটি? আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন নিচে কমেন্ট সেকশনে।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

ইমেজ ক্রেডিট : By ra2studio Via ShutterstockPexels

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

16 Comments

  1. Salam Ratul Reply

    সিয়াম রউফ একান্ত ভাইয়া আর্টিকেলটি ভালো লেগেছে।মজার টপিক ছিল। ধন্যবাদ ভাইয়া।

  2. shadiqul Islam Rupos Reply

    অসাধারণ। আপনাদের আর্টিকেল গুলো পড়ে যতোটুকু এলেম যুক্ত হয়েছে তার থেকে বলছি ভিআরকে যুক্ত করা যেতো না এই লিস্টে?

    1. সিয়াম একান্ত Post author Reply

      হ্যা ভাইয়া, অবশ্যই যুক্ত করা যেত। তবে সত্যি কথা বলতে ভিআর খুব বেশি মানুষ ব্যবহার করেনা। বাংলাদেশে তো করেই না, আর বাইরের দেশেও খুব কম সংখ্যক মানুষ ভিআর ব্যবহার করে। এই ভিআর প্রযুক্তিটি খুব বেশি জনপ্রিয় নয়। এইজন্যই ভিআর উল্লেখ করিনি এখানে। 🙂

  3. Rayhan Reply

    উইকিপিডিয়াতে সবকিছু পাওয়া যায় মানলাম। বাট আমাদের মতো মানুষের উইকিপিডিয়ার আর্টিকেল বুঝতে আর পড়তে দাত মুখ ভেঙ্গে যায় ভাই। রাইটাররা অনেক মুশকিল ইংরেজি ব্যবহার করে আর মোটেও টেকহাবসের মতো সহজ করে কোন বিষয় এক্সপ্লেইন করে না। একবার ক্লাউড কম্পিউটিং নিয়ে উইকি পড়তে গিয়ে যা শিক্ষা হয়েছে কি আর বলবো। শেষে টেকহাবস থেকে ভালো ভাবে জানতে পেরেছিলাম।

    ধন্যবাদ ভাইয়া আপনাকে এভাবে সর্বদা অ্যাক্টিভ থেকে আমাদের একের পর এক মারাত্মক টাইপের কন্টেন্ট উপহার দিয়ে চলার জন্য। আমি যতো বড়ই কমেন্ট করি যতো গুনই করি আপনার অবশ্যই সেটা অনেক কম হবে।

    1. সিয়াম একান্ত Post author Reply

      ধন্যবাদ ভাইয়া। আশা করি এভাবেই আমাদের পাশে থাকবেন এবং সাপোর্ট করবেন। আর হ্যা, ঠিক বলেছেন। উইকিপিডিয়ায় সবকিছু যেভাবে লেখা হয় সেটা আমাদের মতো সাধারন বাঙ্গালীদের বোঝা একটু কষ্টকর হতে পারে যদি আমি ইংরেজিতে সাধারন মানুষের থেকে একটু ভালো না হন। তবে আমি শুধুমাত্র বাংলাদেশের মানুষের কথা বলিনি। আমি এগুলোর কথা লিখেছি সম্পূর্ণ পৃথিবীর ইন্টারনেট ইউজারদের কথা চিন্তা করে। 🙂

  4. হাবিব বাসার Reply

    আপনারা সাধারণ বিষয় গুলোকে এতোটা অসাধারণ করে উপস্থাপন করেন যে ভালো না লাগিয়ে থাকা সম্ভব হয় না। কমেন্ট করার ভাষা বিলুপ্ত হুয়ে যায় ভাই।

  5. আফনান খান Reply

    ভাইয়া আপনারা কোন সিডিএন ইউজ করেন?
    ইমেজ গুলো গুগল থেকে কিভাবে আসছে? টেকনিক টা বলা যাবে কি?

    1. সিয়াম একান্ত Post author Reply

      জী ভাইয়া। আমরা গুগলে ক্লাউড সার্ভার এবং গুগল ক্লাউডেরই সিডিএন ব্যবহার করি। আমাদের সব ইমেজগুলো গুগল ক্লাউড সার্ভারে হোস্ট করা থেকে। এইজন্যই ইমেজগুলো গুগল থেকে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *