ইন্টারনেট

ডিএনএস (DNS) কি এবং কেন দরকার হয়? ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কি?

25
ডিএনএস

Wআপনি যদি ইন্টারনেট সম্পর্কে অনেক ঘাটাঘাটি করেন তাহলে অবশ্যই একটি নাম শুনেছেন তা হচ্ছে, ডিএনএস (DNS)। এর সম্পূর্ণ নাম হচ্ছে, ডোমেইন নেম সিস্টেম (Domain Name System)। এই ডিএনএস বলতে পারেন ইন্টারনেটের একটি খুব  বেসিক এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এলিমেন্টসগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই ডিএনএস এর সাহায্যেই মুলত আপনার ব্রাউজার জানতে পারে যে আপনাকে ইন্টারনেটের ঠিক কোন ওয়েবসাইটে বা কোন সার্ভারে নিয়ে যেতে হবে।

তবে এই ডিএনএস জিনিসটির মূল কাজটি কি এবং কেনই বা দরকার হয়? এই বিষয়েই আজকে আলোচনা করবো।


ডিএনএস (DNS)

আপনি যখন কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করেন, তখন অবশ্যই আপনাকে ব্রাউজারে ওয়েবসাইটটির ইউআরএল বা সহজভাবে বললে, ওয়েবসাইটটির অ্যাড্রেস টাইপ করতে হয়। যেমন- Google.com বা Techubs.net। তবে আপনি যখন ব্রাউজারে ওয়েবসাইটটির অ্যাড্রেস টাইপ করেন এবং ইন্টার প্রেস করেন, তখন কিন্তু আপনার ব্রাউজার বা আপনার ইন্টারনেট ওই ইউআরএলটির সাহায্যে আপনার কাঙ্খিত ওয়েবসাইটটিকে খুঁজে বের করেনা। আপনার ব্রাউজারকে মুলত আপনি যে ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে চাচ্ছেন সেই ওয়েবসাইটটির আইপি অ্যাড্রেস জানতে হয়।

তাই আপনি যখন কোন ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস লিখে ইন্টার করেন, তখন আপনার ব্রাউজার মুলত ডিএনএসের কাছে রিকুয়েস্ট সেন্ড করে আপনার কাঙ্খিত ওয়েবসাইটটির আইপি অ্যাড্রেস পাওয়ার জন্য। এই ডিএনএসকে বলতে পারেন ইন্টারনেটের ডিকশনারির মতো যেখানে ওয়েব সার্ভারগুলোর আইপি অ্যাড্রেস স্টোর করে রাখা হয়।

ডিএনএস

এই ডিএনএস রিকুয়েস্টটি মুলত প্রথমে যেখানে যায় তা হচ্ছে রিকারসিভ নেম সার্ভার (Recursive Name Server)। এই নেম সার্ভারটি সাধারনত আপনার আইএসপি অপারেট করে। তবে আপনাকে শুধুমাত্র আপনার আইএসপির সার্ভার ব্যবহার করতে হবে এমন কোন কথা নেই। আপনি পাবলিক নেম সার্ভারগুলোও ব্যবহার করতে পারেন যেগুলো বিভিন্ন অর্গানাইজেশন অপারেট করে থাকে। যেমন- গুগল পাবলিক DNS বা ক্লাউডফ্লেয়ার DNS ইত্যাদি।

রিকারসিভ নেম সার্ভার

এবার জানা যাক এই নেম সার্ভারগুলোর কাজ কি। এই পাবলিক নেম সার্ভার বা আপনার আইএসপির নেম সার্ভারগুলো অধিকাংশ সময়ই আপনার কাঙ্খিত ওয়েবসাইটটির আইপি অ্যাড্রেস স্টোর করে রাখবে। কিন্তু অনেকসময় যদি ওয়েবসাইটটির আইপি অ্যাড্রেস স্টোর না করা থাকে, তখন মুলত এই রিকুয়েস্টটি চলে যায় আরেক জায়গায় যেটিকে বলা হয় রুট সার্ভার। এই ১৩ টি রুট সার্ভারগুলো সব টপ লেভেল ডোমেইনগুলোর (.com, .net, .org etc) আইপি অ্যাড্রেসের রেকর্ড রাখে।

এটা শুনে কম সংখ্যক সার্ভার মনে হলেও আসলে এই রুট সার্ভারগুলোর ডেটাবেস আপনি যা ভাবছেন, তার থেকেও অনেক অনেক বিশাল। এই রুট সার্ভারগুলো মুলত সারা পৃথিবীজুড়ে ফিজিক্যাল হার্ডওয়্যার এবং ডেটা সেন্টার ব্যবহার করে এটা নিশ্চিত করার জন্য যে যাতে এসব রিকুয়েস্টগুলো সবসময় ইনস্ট্যান্টলি সার্ভ করা যায় সবাইকে।

ডিএনএস

এরপর যখন আপনার কাঙ্খিত ডোমেইনের পেছনের আইপি অ্যাড্রেসটি পাওয়া যায়, তারপর আপনার  রিকুয়েস্টটি হ্যান্ডওভার করা হয় আপনি যে টপ লেভেল ডোমেইনটি অ্যাক্সেস করতে চাচ্ছেন তার সার্ভারে (যে সার্ভারটি আইপি অ্যাড্রেসের সাহায্যে বের করা হয়েছে)। ধরুন আপনি Techubs.Net ডোমেইনটিতে ভিজিট করার রিকুয়েস্ট করলেন।

তখন এই রিকারসিভ নেম সার্ভারটি আপনার রিকুয়েস্টকে এই ইউআরএলটির ডোমেইন সার্ভারে পাঠাবে। এবং এখান থেকে আপনার কাঙ্খিত ওয়েবসাইটটির ডোমেইন যে নেমসার্ভারে পয়েন্ট করা আছে অর্থাৎ ওয়েবসাইটটির সকল ডেটা যে ক্লাউড সার্ভারে হোস্ট করা আছে সেই ক্লাউড সার্ভারটিতে আপনার রিকুয়েস্টটি সেন্ড করা হবে যাতে সেখান থেকে ওই ওয়েবসাইটটির সকল ডেটা আপনাকে সার্ভ করা হয়। এবং এরপরেই মুলত আপনি ওয়েবসাইটটি অ্যাক্সেস করতে পারেন।

ডিএনএস ক্যাশিং

টাইম সেভ করার জন্য আপনার কম্পিউটার এবং রিকারসিভ নেম সার্ভার দুটিই এই ডিএনএস রিকুয়েস্টগুলোকে ক্যাশ করে রাখে বা সহজ ভাষায় বললে লোকালি আপনার ডিভাইসে স্টোর করে রাখে, যাতে আপনার ডিভাইস আগে থেকেই জানতে পারে যে আপনার ভিজিট করা ওয়েবসাইটগুলোর আইপি অ্যাড্রেস কি কি এবং পরবর্তীতে আপনি যখন ওই ওয়েবসাইটটি ভিজিট করতে যাবেন তখন যেন আবার নতুন করে আইপি অ্যাড্রেস খুঁজতে না হয়।

ঠিক এই কারনে আপনি একটি ওয়েবসাইট একবার ভিজিট করার পরে যখন  দ্বিতীয়বার আবার ভিজিট করতে যান, তখন আগের তুলনায় ওয়েবসাইটটি আরও তাড়াতাড়ি লোড হয়। এর কারন হচ্ছে, এবারা আগের মতো আপনার ব্রাউজারকে ওয়েবসাইটটির আইপি অ্যাড্রেস খুঁজে বের করতে হয়নি। কারন, আপনার কম্পিউটার আগে থেকেই এই আইপি অ্যাড্রেসগুলো সেভ করে রেখেছে।

ডিএনএস

ডিএনএস অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোন সমস্যা ছাড়াই কাজ করে। তবে অনেকসময় যদি আপনার ভিজিট করা কোন ওয়েবসাইট তাদের আইপি অ্যাড্রেস বা তাদের সার্ভার চেঞ্জ করে, তখন সমস্যা হতে পারে। তখন দেখা যায় যে আপনার কাঙ্খিত ওয়েবসাইটটির বর্তমান আইপিটি আপনার ক্যাশে সেভ করা ডিএনএস রেকর্ডের সাথে মিলছে না।

তখন ওয়েবসাইটটি অ্যাক্সেস করার সময় আপনার ব্রাউজার আপনাকে ৪০৪ এরর শো করতে পারে যতক্ষন না পর্যন্ত এটি ডিএনএস রেকর্ডগুলো নতুন করে আপডেট করতে পারছে। তবে একটি সিম্পল সিএমডি কমান্ডের সাহায্যেই এটি ফিক্স করা সম্ভব। উইন্ডোজে কমান্ড প্রম্পট অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মোডে ওপেন করে >ipconfig/flushdns কমান্ডটি ইন্টার করলেই আপনার ডিএনএস ক্যাশ ক্লিয়ার হয়ে যাবে।

ডিএনএস স্পুফিং/ ডিএনএস ক্যাশ পয়জনিং

এটি মুলত একটি হ্যাকিং মেথড যা হ্যাকাররা ব্যবহার করে আপনার ডিভাইসকে তাদের স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য। ধরুন আপনি আপনার পিসিতে কোনভাবে একধরনের ম্যালওয়্যার ঢুকিয়ে ফেললেন যেটি আপনার ডিএনএস ক্যাশকে টার্গেট করলো। এই ম্যালওয়্যারগুলো মুলত আপনার ডিএনএস ক্যাশ এডিট করে আপনার এসব সবসময় ভিজিট করা ওয়েবসাইটগুলোর আইপি অ্যাড্রেস চেঞ্জ করে তাদের ইচ্ছামত কোন ম্যালিশিয়াস ওয়েবসাইটের আইপি সেট করে দেবে যাতে পরবর্তীতে আপনি ওই ওয়েবসাইটটিতে ভিজিট করতে গেলে আপনাকে ওই ওয়েবসাইটে না নিয়ে গিয়ে হ্যাকারের ইচ্ছামত কোন ওয়েবসাইটে রিডায়রেক্ট করা হয়।

আপনি যদি কখনো আপনার প্রতিদিন ভিজিট করা কোন ওয়েবসাইট হটাত একদিন ভিজিট করতে গিয়ে দেখেন যে আপনাকে অন্য কোন সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে রিডায়রেক্ট করা হচ্ছে, তাহলে আপনি খুব সম্ভবত ডিএনএস স্পুফিং এর শিকার। তখন আপনার উচিত হবে যত দ্রুত সম্ভব একটি রিলায়েবল ম্যালওয়্যার স্ক্যানার ব্যবহার করে আপনার সম্পূর্ণ সিস্টেম স্ক্যান করা। যেমন- Malwarebytes

ডিএনএস


তো এই ছিল ডিএনএস কি এবং কি কাজে লাগে তার একটি সহজ ব্যাখ্যা। ডিএনএস জিনিসটি মুলত আমাদের ইন্টারনেটকে অনেকটা সহজ করেছে। নাহলে হয়তো আমাদেকে প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটে আইপি অ্যাড্রেস টাইপ করে করে অ্যাক্সেস করতে হত। সেটা অনেকটা সম্পূর্ণ ফোন নাম্বার মনে রেখে এবং টাইপ করে কাউকে ফোন করার মতো। যাইহোক, আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটিও আপনাদের ভালো লেগেছে। কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন।

Img Credit: By Imagentle Via Shutterstock

সিয়াম একান্ত
অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

কয়েকটি প্রশ্ন যেগুলোর উত্তর বিজ্ঞান এখনও দিতে পারেনি!

Previous article

কিছু টেক ইনোভেশন : যেগুলো আমাদের অনলাইন লাইফকে আরও উন্নত করেছে!

Next article

You may also like

25 Comments

  1. সিয়াম একান্ত ভাইয়া। ভালো লাগলো। ধন্যবাদ ভাইয়া।

    1. আপনাকেও ধন্যবাদ। 🙂

  2. Awesome vhai..

    1. 🙂

  3. Thanks

    1. 🙂

  4. Onak kisu expalined korsen. Onek upokari.

    1. Thanks! 🙂

  5. অসাধারণ বললেও এরকম আর্টিকেল কে অপমান করা হবে। ????????

    1. থ্যাংক ইউ ভাইয়া! 🙂

  6. কাজের অনেক
    কিছু শিখলাম আজকের এই আর্টিকেল থেকে।
    কৃতজ্ঞ ভাই।

    1. থ্যাংকস! 🙂

  7. Awesome!!

    1. 🙂

  8. You are awesome man. Love ou a lot.

    1. Thanks man. 🙂

  9. এই পোস্ট পড়ে পালিয়ে গেলে পাপ হবে পাপ 😛
    আপ্রিসিয়েশন তো জানাতেই হবে। মাস্ট!!
    খুব ভালো লাগলো। বলতে পারেন কম্বো প্যাক ছিল আর্টিকেলটি। থ্যাংকস।

    1. থ্যাংক ইউ সো মাচ ভাইয়া! ????

  10. ডিএনএস স্পুফিং/ ডিএনএস ক্যাশ পয়জনিং টপিক টা আগে জানতাম না। ধন্যবাদ। অনেক নতুন তথ্য পেলাম। ভাই কুকি হাইজাকিং নিয়ে এক্রা আর্টিকেল লিখবেন আশা করছি।

    1. লিখবো ভাইয়া। আশা করি খুব শিঘ্রই পাবেন এই বিষয়ে আর্টিকেল। 🙂

  11. Hebbi Laglo.. Bro. Nice

    1. Thanks. 🙂

  12. কাজের জিনিষ শেয়ার করেছেন ভাইয়া। কাল পড়েছিলাম আজ কমেন্ট করলাম 😀

    1. থ্যাংকস! 🙂

  13. Osadharan laglo….e rokom aro post chai….

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *