৩ডি টাচ কি? | থ্রীডি টাচ | এই প্রযুক্তি কতটা সুবিধা জনক?

৩ডি টাচ | থ্রীডি টাচ

বন্ধুরা আপনারা টাচ স্ক্রীন সম্পর্কে শুনেছেন, মাল্টি টাচ স্ক্রীন সম্পর্কেও শুনেছেন কিন্তু পেছনের কয়েক দিন ধরে অ্যাপেল ৩ডি টাচ নিয়ে বাজার গরম করে রয়েছে। আজকের পোস্টে আমরা ৩ডি টাচ সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো এবং আলোচনা করবো এই প্রযুক্তি কতটা লাভজনক সে ব্যাপারে। ডিসপ্লে প্রযুক্তি এবং  টাচস্ক্রীন প্রযুক্তি নিয়ে আমার পৃথক পৃথক বিস্তারিত পোস্ট রয়েছে, আপনি চাইলে সেটি চেক করতে পারেন। তো চলুন আজকের আলোচনা শুরু করা যাক।

আরো কিছু পোস্ট

টাচ স্ক্রীন

৩ডি টাচ

বন্ধুরা চলুন সর্বপ্রথম কথা বলি টাচ স্ক্রীন নিয়ে। টাচ স্ক্রীন প্রধানত ২ প্রকারের হয়ে থাকে। রেজিস্টিভ এবং ক্যাপাসিটিভ টাচ স্ক্রীন। আজকালের মোবাইল ফোনে, ট্যাবলেটে, ল্যাপটপে যতো টাচ স্ক্রীন দেখতে পাওয়া যায় তা সবগুলো ক্যাপাসিটিভ টাচ স্ক্রীন হয়ে থাকে। রেজিস্টিভ টাচ স্ক্রীন বহুত আগে দেখা যেতো, যখন আপনার ফোনের সাথে একটি টাচ করার জন্য লম্বা লাঠি পাওয়া যেতো এবং এর সাহায্যে আপনি একদম নির্দিষ্ট পয়েন্টে টাচ করতে পারতেন। এই প্রযুক্তি আজকের দিনেও চলে কিন্তু শুধু মাত্র নির্দিষ্ট কিছু কাজে ব্যবহৃত করা হয়ে থাকে। যেমন এটিএম মেশিনে রেজিস্টিভ টাচ স্ক্রীন ব্যবহার করতে দেখা যায়।

বন্ধুরা টাচ স্ক্রীনের পরে আসলো মাল্টি টাচ স্ক্রীন। যেটা অ্যাপেল সর্বপ্রথম লঞ্চ করেছিলো তাদের প্রথম আইফোনের সাথে। যেখানে ফোনের স্ক্রীন এক সাথে আপনার দুটি আঙ্গুল ডিটেক্ট করতে পারতো। এবং এর সাহায্যে আপনার ফোনে অনেক ফিচার উপভোগ করা সম্ভব হচ্ছিলো। যেমন দুই আঙ্গুল টেনে নিয়ে গিয়ে ফটো জুম ইন বা জুম আউট করা যাচ্ছিল। কিন্তু আজকের দিনে আপনি দেখতে পান ১০ পয়েন্ট মাল্টি টাচ। এতে আপনার মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ বা ট্যাবলেট স্ক্রীন ১০ আঙ্গুল বা ১০ পয়েন্ট একসাথে ট্র্যাক করতে পারে। এবং এর সাহায্যে আপনি অনেক উন্নত কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেন। তো চলুন এখন কথা বলা যাক আজকের আলোচনার মূল বিষয় ৩ডি টাচ নিয়ে।

৩ডি টাচ | থ্রীডি টাচ

৩ডি টাচ (থ্রীডি টাচ) একটি সম্পূর্ণ আলাদা প্রযুক্তি যা অ্যাপেল তাদের আইফোন ৬ এবং আইফোন ৬এস এ সর্বপ্রথম উন্মুক্ত করেছিলো। এর আগে যে অ্যাপেল ওয়াচ এসেছিলো সেখানে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিলো সেটি উন্মুক্ত করা হয়েছিলো ফোর্স টাচের নামে। অনেক অনেক লোকজন ভেবেছিল যে, “অ্যাপেল জাস্ট ফোর্স টাচের নাম পরিবর্তন করে ৩ডি টাচ (থ্রীডি টাচ) করেছে ব্যাস, আর কোন পার্থক্য নেই”। কিন্তু এরকম নয়। এটি সত্যিই একটি আলাদা প্রযুক্তি।

তাহলে ৩ডি টাচ কীভাবে কাজ করে? দেখুন স্ক্রীনের নিচে অনেক ছোট ছোট সেন্সর লাগানো থাকে। এবং এই সেন্সর গুলো আপনার প্রদত্ত প্রেসার পরিমাপ করে। এবং আপনি যখন স্ক্রীনে টাচ করেন তখন এক রেজিস্টান্সের পরিবর্তন ঘটে। তো যখনই আপনি একটু দাবিয়ে স্ক্রীনে টাচ করেন তখন সেখানে একটু আলদা পরিবর্তন ঘটে রেজিস্টান্সে। এবং এই পরিবর্তন অনুসারে আপনার স্ক্রীন এটা নিশ্চিত করে যে আপনি ঠিক কত জোরে সেখানে টাচ করেছেন। বন্ধুরা থ্রীডি টাচে সাধারন ফোর্স টাচের তুলনায় একটি প্রেসার পয়েন্ট বেশি রয়েছে।

ফোর্স টাচে প্রেসার প্রয়োগ করার কেবল দুটি পয়েন্ট ছিল। একটি হলো সাধারন টাচ এবং আরেকটি হলো একটু জোরে টাচ। থ্রীডি টাচে আপনার কাছে রয়েছে তিনটি পয়েন্ট। এক হলো সাধারন টাচ, একটি হলো একটু কম ফোর্সে টাচ এবং আরেকটি হলো বেশি ফোর্সে টাচ। এবং অ্যাপেল এই তিন আলাদা টাচের ভিত্তিতে তাদের ফোনে এমন কিছুকিছু ফিচার দিয়েছে যা সত্যিই অসাধারন লাগে।

৩ডি টাচ | থ্রীডি টাচ এর সুবিধা

৩ডি টাচ | থ্রীডি টাচ এর সুবিধা

মনে করুন আপনি ফোনের ক্যামেরা থেকে আপনার সেলফি তোলার কথা ভাবছেন তো আপনাকে কি করতে হবে? প্রথমে ক্যামেরা অ্যাপ ওপেন করতে হবে তারপরে দেখবেন যে সামনের ক্যামেরা ওপেন হলো না পেছনের। যদি পেছনেরটা ওপেন হয়ে থাকে তবে ক্যামেরা সুইচ অপশন থেকে সামনের ক্যামেরা ওপেন করে তবেই আপনি সেলফি নিতে পারতেন। কিন্তু ৩ডি টাচে আপনাকে জাস্ট ক্যামেরা আইকনের উপর হালকা জোরে টাচ করতে হবে তবে আইকন থেকেই সামনের পেছনের ক্যামেরা অপশন, ভিডিও রেকর্ডিং অপশন ইত্যাদি যে অপশন গুলো অ্যাপ ওপেন করার পরে পাওয়া যেতো তা শুধু আইকন থেকে বেড় হয়ে আসা মেন্যুতেই পাওয়া সম্ভব।

এছাড়া অ্যাপেল তাদের ৩ডি টাচ প্রযুক্তিতে আরো একটি প্রয়োগ ব্যবহার করেছে। এবং এর একটি হলো পিক এবং আরেকটি পপ। আগেই বলেছিলাম থ্রীডি টাচ প্রযুক্তি সাধারন টাচ ছাড়াও আরো দুইটি আলদা টাচে কাজ করে, একটি কম প্রেসার টাচ এবং আরেকটি বেশি প্রেসার টাচ। পিক এবং পপ এই দুই টাচ সিস্টেমের উপর কাজ করে। মনে করুন আপনার কাছে একটি ইমেইল এসেছে এবং সেখানে কোন লিঙ্ক রয়েছে। এখন আপনি যদি সেই লিঙ্কের উপর হালকা জোরে টাচ করেন তবে আপনি লিঙ্কে সম্পূর্ণ প্রবেশ না করেই ব্যাস ছোট্ট একটু প্রিভিউ পপ আকারে দেখতে পাবেন। অথবা মনে করুন আপনাকে একটি ছবি ইমেইল করেছে কেউ। হয়তো ছবিটি দেখতে ছোট লাগছে তবে আপনি যদি সেখানে হালকা জোরে টাচ করেন তবে ছবি পপ হয়ে বড় হয়ে যাবে। এবং এই হালকা জোরে টাচ করে কাজ করাকে বলা হয় পিক। এখন আপনি যদি ইমেইলে থাকা লিঙ্কে একটু বেশি জোরে টাচ করেন তবে লিঙ্কটি নতুন উইন্ডো নিয়ে সম্পূর্ণ ওপেন হয়ে যাবে এবং এই ফিচারটির নাম হচ্ছে পপ। তো পিক এবং পপের সাহায্যে আপনার ফোনে অনেক সর্টকাট আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।

৩ডি টাচ | থ্রীডি টাচ এর সুবিধা

মনে করুন আপনি ইন্টারনেট ব্রাউজ করছেন কোন ব্রাউজার ব্যবহার করে। তো সেখানে কোন লিঙ্ক খোলার আগে আপনি লিঙ্কটির উপর হালকা চাপ দিয়ে টাচ করে আগেই লিঙ্কটির প্রিভিউ দেখতে পাবেন পিক ফিচার ব্যবহার করে। লিঙ্কটিতে যাওয়া ঠিক হবে কিনা তা এভাবে আগেই জানতে পারবেন। এবং আপনি যদি আরো একটু প্রেসার দেন তবে লিঙ্কটি খুলে যাবে নতুন উইন্ডো নিয়ে।

থ্রীডি টাচ প্রযুক্তি অ্যাপেলের সকল অ্যাপে দেখতে পাওয়া যায়। সামনের দিনে হতে পারে এই প্রযুক্তির আরো বিস্তার ঘটবে এবং এটি দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। তখন আরো তৃতীয়পক্ষ অ্যাপ গুলোতেও ডেভেলপাররা ৩ডি টাচ ফিচার ব্যবহার করবেন হয়তো। কিছু ব্যাক্তি মনে করেন যে থ্রীডি টাচ প্রযুক্তি এক প্রকারের লং প্রেসিং প্রযুক্তি। আসলে এই ভাবনাটি ঠিক নয় বন্ধু। লং প্রেস একটি আলাদা ব্যাপার। লং প্রেস করে শুধু মাত্র একটি সাব মেন্যু পাওয়া যায়। কিন্তু ৩ডি টাচ সম্পূর্ণ একটি নতুন প্রযুক্তি যা ৩টি আলাদা ফ্যাক্টরে কাজ করে। এবং আপনি সম্পূর্ণ এক আলাদা প্রযুক্তিতে আপনার ফোনের সাথে সম্পৃক্ত হতে পারেন।

হুয়াইয়ের ফোনে এই প্রযুক্তি রয়েছে এবং সামনের দিনে অবশ্যই অনেক কোম্পানির ফোনে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে দেখতে পাওয়া যাবে। বন্ধুরা ৩ডি টাচের মাধ্যমে আপনার ফোনের অ্যাপস ব্যবহার করার ধারণা একদম পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে সামনের দিনে। হয়তো ফটোর উপর সাধারন টাচ করলে ফটো ওপেন হবে, একটু প্রেসার দিয়ে টাচ করলে ফটো লাইক হয়ে যাবে এবং বেশি প্রেসার দিয়ে টাচ করলে ফটোটি শেয়ার হয়ে যাবে। এবং এই ভাবে ডেভেলপারগন তাদের ফোনে বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করতে চলেছেন এবং আপনি আপনার ফোনে একটি আলদা ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

শেষ কথা


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

বন্ধুরা আশা করছি আজকের পোস্টটি আপনার ভালো লেগেছে। আপনার যেকোনো প্রশ্নে অবশ্যই আমাকে কমেন্ট করুন এই পোস্টটি অবশ্যই শেয়ার করুন এবং আপনার ভালোবাসা এই ব্লগের প্রতি এভাবেই অটুট রাখুন। এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি এক্সপ্লোর করতে অবশ্যই নিয়মিত ভিসিট করতে থাকুন। ধন্যবাদ 🙂

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

16 Comments

  1. Anirban Dutta Reply

    Khub bhalo hoyche bhai. Apnar sob post excellent quality er hoy. Kobe asbe bhai amader community? Aar wait korte parchi na. Bhalo thakben.

  2. রিয়ান সাব্বির Reply

    সুনাম করার জন্য প্রতিদিন এতো নতুন নতুন বাক্য কোথা থেকে পাবো ভাই? প্রতিদিনের পোস্ট মনে হয় যেন গতকাল থেকে ভালো। কীভাবে সম্ভব করেন আপনি? প্লিজ আজ উপায়টা বলেই দিন। বস্তা বস্তা ধন্যবাদ আপনার জন্য 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *