সুপার ক্যাপাসিটার দিয়ে আপনার স্মার্টফোন ফুল চার্জ করুন মাত্র ৫ সেকেন্ডে!

সুপার ক্যাপাসিটার

আপনি হয়তো আপনার ফোন ফাস্ট চার্জ করেছেন, টার্বো চার্জ করেছেন কিংবা কুইক চার্জ করেছেন। কিন্তু কেমন হতো যদি আপনার ফোনের ব্যাটারি ৫ সেকেন্ডে ফুল চার্জ করা যেতো? বন্ধু আমি আপনার সাথে একদমই মজা করছি না। আর আজ আমি আলোচনা করতে বসেছি সুপার ক্যাপাসিটার নিয়ে, যার মাধ্যমে আপনি আপনার ফোনের ব্যাটারি চার্জ করতে পারবেন মাত্র পাঁচ সেকেন্ডে। তো চলুন আলোচনায় প্রবেশ করা যাক 🙂

আরো কিছু পোস্ট

সুপার ক্যাপাসিটার (Super Capacitor)

সুপার ক্যাপাসিটার

বন্ধুরা আজকের দিনে আমরা ফোনে ব্যবহার করি লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বা লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। এবং এই ব্যাটারি গুলো চার্জ করতে ব্যবহার করি স্ট্যান্ডার্ড চার্জার যা ১৮ বা ২০ ওয়াটের হয়ে থাকে। এরপর আমরা কুইক চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১ ঘণ্টা বা ২ ঘণ্টা ধরে ফোনের ব্যাটারি চার্জ করে ফুল করি। এবং আমরা অনেক খুশি হয়ে বলি যে ৩-৪ ঘণ্টার চার্জিং ঝামেলা কম করে আমরা ১ ঘণ্টা করে ফেলেছি, আর এটি সত্যিই অনেক ভালো কথা।

কিন্তু আমি যদি বলি যে ভবিষ্যতে ইলেকট্রিক কার, যেকোনো ব্যাটারি, বা আপনার ফোনের ব্যাটারি যদি তৈরি করা হয়ে থাকে সুপার ক্যাপাসিটারের মাধ্যমে তবে এইসব ব্যাটারি ৫ সেকেন্ডে জিরো থেকে ১০০% চার্জ করা যাবে তো? জি হাঁ বন্ধু এটি বাস্তবায়িত হতে পারে গ্রাফিন নামক একটি পদার্থ ব্যবহার করে। গ্রাফিন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে আমি একটি পোস্ট করেছি আপনি চাইলে সেটি চেক করে নিতে পারেন।

একটি সাধারন ক্যাপাসিটার কি করে? একটি সাধারন ক্যাপাসিটার খুব দ্রুত চার্জ হতে পারে এবং অনেক দ্রুত ডিসচার্জ ও হয়ে যায়। এবং ব্যাটারি কি কাজ করে? ব্যাটারি চার্জ করতে অনেক সময় লাগে এবং অনেক সময় ধরে এটি ডিসচার্জ হয়। এই অবস্থায় যদি আমরা এদের দুজনেরই সর্বউত্তম গুনকে একত্র করে দেয়, মানে ক্যাপাসিটারের ফাস্ট চার্জিং এবং ব্যাটারির স্লো ডিসচার্জিং তো এভাবে পাওয়া যেতে পারে সুপার ক্যাপাসিটার। যদিও আজকের দিনে গ্রাফিনের আকার এতো বড় করা সম্ভব নয়। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি সুপার ক্যাপাসিটার ব্যবহার করে ব্যাটারি তৈরি করা যায় তবে এক প্রকারের চমৎকার হয়ে যাবে বলতে পারেন।

আপনার ফোনে মনে করুন ৩,০০০ বা ৪,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি রয়েছে এবং আপনি তা ৫ সেকেন্ডে চার্জ করে নিলেন এবং সাধারনভাবে ১-২ দিন পর্যন্ত ব্যবহার করছেন। ইলেকট্রিক কার দিনদিন জনপ্রিয়তা লাভ করছে। কিন্তু যেহেতু ইলেকট্রিক কার চার্জ করতে সময় লাগে তাই আমরা এখনো এটি ঠিকভাবে ব্যাবহারের উপযোগী করে তুলতে পারছি না। কিন্তু কারের ব্যাটারিও যদি এমন হয় যে ৫ মিনিটের মধ্যে ফুল চার্জ হয়ে যাবে কিংবা ২ মিনিটের মধ্যে ফুল চার্জ হয়ে যাবে। তো আপনি যদি রাস্তায় কোথাও যান তবে আপনাকে চার্জ ষ্টেশনে দাঁড়াতে হবে এবং ৫ মিনিট ধরে গাড়ি চার্জ করে আবার বেরিয়ে পড়তে পারবেন।

আমরা যদি কথা বলি কোন পাওয়ার হাউজের বা যদি কথা বলি যে কোন পোর্টেবল ডিভাইজের যেখানে ব্যাটারি লাগানো থাকে, তো সেখানে ভবিষ্যতে সুপার ক্যাপাসিটার ব্যবহার করে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব হতে পারে। আর এই সবকিছুই হবে গ্রাফিনের সাহায্যে। আমি পুরো আশা করছি যে সামনের ৫-৬ বছরের মধ্যে আপনি এবং আমি আমাদের মোবাইল ফোন বা ট্যাবলেটকে মাত্র ৫ সেকেন্ডে ফুল চার্জ করতে পারবো এবং পরে অনেক লম্বা সময় ধরে তা ব্যবহারও করতে পারবো। এখানে এমন হতে পারে যে মোবাইলের ব্যাটারি যদি ১০ হাজার বা ১৫ হাজার এমএএইচ বাড়ানো হয় তবে হয়তো ফুল চার্জ করতে ২ মিনিট অথবা ৫ মিনিট লাগতে পারে। কিন্তু সেটিও অনেক কম সময় হবে আজকের তুলনায়।

শেষ কথা


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

বন্ধুরা আশা করছি এই পোস্টটি আপনাদের অনেক চমৎকার তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম হয়েছে। এবং আজকের আলোচনায় আমরা ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানলাম। আপনার যদি এ ব্যাপারে কোন প্রশ্ন থাকে তবে অবশ্যই আমাকে নিচে কমেন্ট করুন। আর পোস্টটি ফেসবুক, টুইটার, গুগল প্লাসে শেয়ার করতে ভুলবেন না একদমই 🙂

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।