জেপ্যাগ বনাম র‍্যো ইমেজেস | কোনটি সর্বউত্তম? | JPEG Vs RAW

জেপ্যাগ বনাম র‍্যো ইমেজেস

বন্ধুরা আমি জানি আপনাদের মনের ভেতর একবার হলেও এই প্রশ্নটি নিশ্চয় এসেছে যে জেপ্যাগ বনাম র‍্যো ইমেজেস এর মধ্যে কোন ইমেজটি সবচাইতে ভালো এবং এদের মধ্যে পার্থক্য গুলো কি কি? তো আজকের এই পোস্টে আমি এই বিষয়ের উপরই বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। চলুন আর একটি কথাও না বাড়িয়ে সোজা মূল আলোচনায় ঢুকে পরি।

আরো কিছু পোস্ট

জেপ্যাগ ইমেজ (JPEG Image)

জেপ্যাগ ইমেজ (JPEG Image)

বন্ধুরা আপনারা জানেন যে পেছনের ১০-১৫ বছর ধরে আমরা আমাদের স্মার্টফোন, ডিএসএলআর বা যেকোনো টাইপের ক্যামেরাতে ডিজিটাল ক্যামেরা ব্যবহার করে আসছি। আগের জামানার যে রোল ফিল্ম ওয়ালা ক্যামেরা ছিল তার ব্যবহার অনেক আগেই বন্ধ করে দিয়েছি আমরা। আর আজ আমাদের কাছে আছে ডিজিটাল সিমোস বিএসআই সেন্সর যার মাধ্যমে আমরা ইমেজ ক্যাপচার করে ফেলি। এখন বন্ধুরা এই সেন্সরে একসাথে বহুত পিক্সেলস লাগানো থাকে। এবং প্রত্যেকটি আলদা আলদা পিক্সেল একটি ইমেজের ক্ষুদ্রতর অংশের তথ্য সংরক্ষন করে রাখে। এক একটি পিক্সেলে থাকে আলো, আলোর উচ্চ বা নিম্ন প্রবাহ, কালার ইত্যাদি। যখন আমরা এই প্রত্যেকটি পিক্সেল একত্র করে ফেলি তখন আমরা দেখতে পাই একটি পুরনাঙ্গ পরিষ্কার ইমেজ।

কিন্তু সমস্যা হলো বন্ধুরা সেন্সর থেকে সরাসরি যে ইমেজ বের হয়ে আসে তার সাইজ অনেক বড় হয়ে থাকে। এখন আমি যদি আপনাকে বলি যে একটি ফটোর সাইজ ৫০ মেগাবাইটস বা একটি ফটোর সাইজ ২০ মেগাবাইটস, তবে আপনি কি এটা গ্রহন করতে পারবেন? এতো বড় সাইজের ইমেজ আপনি নাতো ফেসবুকে আপলোড করতে পারবেন আর নাইবা হোয়াটস অ্যাপে শেয়ার করতে পারবেন। আবার যদি এই ইমেজ লোকাল ভাবে সংরক্ষন করে রাখতে চান তবেও অনেক বেশি ডাটা ক্ষয় হবে। তো এই সমস্যার সমাধান করার জন্যই আমরা সাহায্য নিয়ে থাকি কম্প্রেসন টেকনিকের। বহুত কম্প্রেসন টেকনিকের মধ্যে জেপ্যাগ অন্যতম। জেপ্যাগ মূলত এমন একটি কম্প্রেসন টেকনিক যার মাধ্যমে ক্যামেরা সেন্সর থেকে বের হয়ে আসা তথ্য গুলোকে প্রসেসিং করা হয়। যাতে আসল ইমেজের কোয়ালিটি খুব একটা বেশি পরিবর্তন না করেই এর সাইজ কমানো যায়। এবং এটি কোথাও শেয়ার করার বা সংরক্ষন করার সহজ উপযোগী করা যায়।

ইমেজকে জেপ্যাগে কম্প্রেস করার পরে আমাদের সামনে একটি ভালমানের ইমেজ কোয়ালিটি আসে। আসল ইমেজ থেকে কম্প্রেস করার পরে আমাদের চোখ এদের দুজনের পার্থক্য কখনোই করতে সক্ষম হবে না। তাছাড়া জেপ্যাগ কম্প্রেস করার পরে ইমেজের আলো বাড়িয়ে বা কমিয়ে, রঙ পরিবর্তন করে এবং বিভিন্ন ফিল্টার ব্যাবহারের মাধ্যমে ইমেজটি আমাদের চোখে ভালো লাগানোর চেষ্টা করি এবং সেটি প্রিন্ট করি বা অন্য ব্যাবহারে লাগাই। কিন্তু যেহেতু আমরা ইমেজকে অনেক বেশি কম্প্রেস করি তাই সেটি আমাদের চোখ ধরতে না পারলেও কিন্তু কোথাও না কোথাও এর পিক্সেলসের অনেক তথ্য আমরা লস করে ফেলি।

র‍্যো ইমেজ (RAW Image)

র‍্যো ইমেজ (JPEG Image)

কিন্তু এখন যদি কথা বলি র‍্যো ইমেজেস নিয়ে তবে এটি একটি অ্যানকম্প্রেস ইমেজ এবং এটি সরাসরি আপনার ক্যামেরা সেন্সর থেকে বের হয়ে আসে। এই ফটো হয়তো চোখে দেখতে এতো ভালো নাও লাগতে পারে। মনে হতে পারে যে, এটি দেখতে ডার্ক এবং ইমেজে কালারও হয়তো ভালো দেখতে পাওয়া যেতে না পারে বা ইমেজ রুক্ষ ও হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি একজন ফটোগ্রাফার হয়ে থাকেন বা আপনি যদি প্রফেশনালি ফটোশপ এক্সপার্ট হয়ে থাকেন তবে আপনি র‍্যো ইমেজের সাথে চমৎকার কাজ করতে পারবেন। এবং আপনি যেমনটা চান ঠিক তেমনটা ইমেজ ঐ র‍্যো ফাইল থেকে তৈরি করতে পারবেন।

কিন্তু আপনি যদি জেপ্যাগ থেকে বেশি কিছু করা বা এডিট করার চেষ্টা করেন তবে তা র‍্যো ইমেজেসের মতো কখনোই করা সম্ভব হবে না। কেনোনা জেপ্যাগে কম্প্রেস করার সময় আসল ইমেজটির অনেক তথ্য অলরেডি লস হয়ে গিয়েছে। আপনি হতো প্রথমবার জেপ্যাগ কম্প্রেস করে ভালো ইমেজ দেখতে পারবেন। কিন্তু ঐ ইমেজ যদি বারবার এডিট করেন বা কম্প্রেস করেন তবে তার কোয়ালিটি একদম বেকার হয়ে যেতে পারে। জেপ্যাগে আপনি সে লেভেলের এডিটিং কখনোই করতে পারবেন না যে লেভেলের এডিটিং আপনি র‍্যো ফাইলে করতে পারবেন।

এই অবস্থায় বন্ধুরা পেছনের কিছু সময় ধরে অ্যান্ড্রয়েড মার্সমাল্যোতে ফিচার ছিল, অনেক তৃতীয় পক্ষ অ্যাপ্লিকেশন ছিল যারা সমর্থন করতো আপনার ফোনে সরাসরি র‍্যো ইমেজ তোলার। লুমিয়াতে আপনি ফিচার দেখতে পাবেন এবং আইফোনেও তৃতীয়পক্ষ অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যে আপনি আপনার স্মার্টফোনেও র‍্যো ইমেজ ক্যাপচার করতে পারবেন। র‍্যো ফাইলের সাইজ তো অবশ্যই অনেক বেশি হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি যদি এডিটিং করতে চান তবে এই অবস্থায় জেপ্যাগ থেকে ভালো অবশ্যই র‍্যো হবে। যদি আপনি যা ইচ্ছা তা করতে চান আপনার ইমেজের সাথে।

ডিএসএলআর ক্যামেরাতে বহুত আগে থেকেই এই অপশনটি আছে যে আপনি ক্যাপচার করা ইমেজটি শুধু র‍্যো হিসেবে সেভ করতে পারবেন বা শুধু জেপ্যাগ হিসেবে সেভ করতে পারবেন বা আপনি যদি চান তবে একটি ইমেজকে একসাথে র‍্যো এবং জেপ্যাগ দুই ফাইলেই সেভ করতে পারবেন। আপনার যদি ইমেজটি তৎক্ষণাৎ শেয়ার করার প্রয়োজন পরে তবে আপনি জেপ্যাগ ফাইল শেয়ার করতে পারেন এবং আপনার যদি পরে এডিটিং করার প্রয়োজন পরে তবে আপনি র‍্যো ফাইল থেকে তা করতে পারবেন।

কিন্তু একটি কথা মনে রাখতে হবে যে র‍্যো ফাইলস কিন্তু প্রত্যেকটি মানুষের জন্য নয়। ইমেজ শেয়ারিং বা স্টোর করে রাখার জন্য বা যারা ফটো উঠিয়ে থাকেন সেভ বা শেয়ার করার জন্য সেখানে অবশ্যই জেপ্যাগ উত্তম। জেপ্যাগ ইমেজ ২-৩ মেগাবাইটস এর হয়ে থাকে। তাছাড়া এর ভেতর কালার এবং কনট্রাস্ট ও ঠিকঠাক থাকে তাই ইচ্ছা মতো সেভ বা শেয়ারিং সম্ভব। কিন্তু আপনি যদি একজন ফটো এডিটিং এক্সপার্ট হয়ে থাকেন তবে আপনার কাছে র‍্যো থেকে ভালো আর কিছুই হতে পারে না।

শেষ কথা


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

বন্ধুরা এতক্ষণের আলোচনায় আপনি নিশ্চয় জেনে ফেলেছেন যে আপনার জন্য ঠিক কোনটি পারফেক্ট। আসলে এই ফ্যাক্টর গুলো বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে সর্বদা। আশা করছি আজকের তুলনাটি অনেক চমৎকার ছিল এবং আপনি অনেক উপভোগ করেছেন। এবং সামনের দিনে যদি সময় পাই তবে জেপ্যাগ এবং র‍্যো ইমেজ আমি আপনাদের লাইভ এডিট করে দেখাবো, হয়তো কোন ভিডিও তৈরি করে। যেখানে আপনি এদের মধ্যেকার পার্থক্য অনেক সহজেই বুঝতে পারেন। যাই হোক বন্ধুরা আজকের পোস্ট এই পর্যন্তই ছিল। দয়া করে পোস্টটি শেয়ার করে সমর্থন করুন। এবং আপনার যেকোনো অনুরোধ, প্রশ্ন এবং মতামত জানাতে অবশ্যই আমাকে নিচে কমেন্ট করুন।

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।