ফেসবুক স্ক্যান্ডাল : কল হিস্টোরি এবং এসএমএস ডেটা ট্র্যাক! #DeleteFacebook

আপনি যদি গত কয়েকদিনে একবারও ফেসবুকে লগিন করে থাকেন অথবা ফেসবুক এবং টুইটারের নিউজ ফিড বা হোমপেজ স্ক্রল করে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনি ফেসবুকের এই নতুন স্ক্যান্ডাল সম্পর্কে শুনেছেন। অধিকাংশ ফেসবুক ইউজার যা শুনেছেন তা হচ্ছে ফেসবুককে নিয়ে কিছু একটা হয়েছে যা ফেসবুক সম্পর্কে মানুষের পজিটিভিটিকে কমিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আসলে কি হয়েছে এবং কেন হয়েছে আর কেনই বা সেটা নিয়ে এত বেশি আলোচনা হচ্ছে সেটা হয়তো অধিকাংশ ইউজার জানেন না। যারা জানেন না, তাদেরকে এই বিষয়ে কিছুটা জানানোর জন্যই আজকের এই ছোট আর্টিকেলটি লেখা।

প্রথমত টাইটেল দেখেই হয়তো অনেকটাই বুঝে গিয়েছেন যে এই সম্পূর্ণ বিষয়টি কি নিয়ে। ফেসবুক তাদের ইউজারদের স্মার্টফোন থেকে তাদের সকল কল হিস্টোরি এবং এসএমএস এবং এই ধরনের পারসোনাল ডেটাগুলো কালেক্ট করছে এবং তাদের সার্ভারে স্টোর করছে। এবং এই কাজটি যে তারা গত কয়েকদিন ধরে করছে তা নয়। এই পারসোনাল ডেটা কালেক্ট করার কাজটি ফেসবুক আরও কয়েক বছর আগে থেকেই করে আসছে। আপনি হয়তো জানেন যে আপনি চাইলে আপনার ফেসবুক আইডি ডিলিট বা ডিঅ্যাক্টিভেট করার আগে আপনার সম্পূর্ণ ফেসবুক প্রোফাইল এবং আপনার ফেসবুক প্রোফাইল সম্পর্কিত যেসকল ডেটা ফেসবুকের সার্ভারে আছে, সেইসব ডেটা আপনি একটি Zip ফাইল আকারে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

কিছু ফেসবুক ইউজার এবং টুইটার ইউজার রিপোর্ট করেছেন যে, তারা তাদের ডাউনলোড করা এই Zip ফাইলে তাদের স্মার্টফোনের সব কল হিস্টোরি এবং তাদের পারসোনাল মেসেজগুলোর হিস্টোরিও পেয়েছেন যেগুলো ফেসবুক বছরের পর বছর ট্র্যাক করে আসছে। নিচের টুইটটি লক্ষ্য করুন-

তিনি বলেছেন, তিনি তার ডিলিটেড ফেসবুক আইডির যে জিপ ফাইল ডাউনলোড করেছিলেন, সেই ফাইলটিতে তার গত বছরের সব ফোন কল হিস্টোরি এবং মেসেজের ডেটা আছে। কিন্তু এভাবে ইউজারদের ডেটা কালেক্ট করা যে ফেসবুক এর কাছে কোন নতুন বা ইনোভেটিভ ব্যাপার নয়। কারণ, গুগল এবং ফেসবুক দুজনেই আরও অনেক আগে থেকেই ইউজারদের ডেটা কালেক্ট করে আসছে। হয়তো ফোন কল হিস্টোরি এবং মেসেজ এর ডেটার মত এত গুরুতর ডেটা কালেক্ট করেনি, তবে কিছু ডেটা সবসময়ই কালেক্ট করা হয়ে থাকে। যেমন, আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন যে,আপনি যদি আজকে অ্যামাজনে বা অন্য কোন অনলাইন শপে কোন প্রোডাক্ট ব্রাউজ করে দেখেন অথবা পারচেজ করেন, তাহলে কালকেই দেখবেন যে গুগল এবং ফেসবুক আপনাকে ঐ প্রোডাক্টটির অ্যাড বা ঐ সম্পর্কিত ঐ ধরনেরই অন্য কোন প্রোডাক্ট এর অ্যাড দেখাচ্ছে। এটা আমার মতে কল হিস্টোরি এবং মেসেজের ডেটার থেকে আরও গুরুতর ডেটা কালেক্টিং সিস্টেম। কারণ, এক্ষেত্রে ফেসবুক এবং গুগল একেবারে আপনার ব্রাউজিং হিস্টোরিই ট্র্যাক করছে পরোক্ষভাবে।

আপনি যখন ফোনে ফেসবুক অ্যাপ ইন্সটল করেন, তখন ফেসবুক আপনার ফোনের কি কি পারমিশন চাচ্ছে এবং কিসের কিসের ডেটা ব্যবহার করতে চাচ্ছে, সেটা জানা এখন থেকে ২-৩ বছর আগে অনেক কঠিন ছিল। তাই তখন বেশিরভাগ র‍্যান্ডম ইন্টারনেট ইউজার এই বিষয়ে তেমন কোন প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু এখনকার সময়ে গুগল তাদের অ্যান্ড্রয়েড ওএসের অ্যাপ পারমিশনের ব্যাপারে অনেক বেশি স্ট্রিক্ট হয়ে গিয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত প্রত্যেকটি ইন্সটল করা অ্যাপ এর জন্য ম্যানুয়াল পারমিশন সেট করার ব্যাবস্থা করেছে। যার ফলে, বর্তমানে কোনো অ্যাপ ফোনের কোন পারমিশন চাইলে সেটি ইউজারকে ম্যানুয়ালি দিতে হয়। এর ফলে কোন কোন অ্যাপ কি কি ডেটা অ্যাক্সেস করতে চাচ্ছে তা সহজেই ইউজার জানতে পারে। আপনি ফেসবুক অ্যাপ ইন্সটল করতে দেখতে পাবেন যে ফেসবুক আপনার কল হিস্টোরি, মেসেজ এবং কন্টাক্টস এর পারমিশন চাচ্ছে। মূলত এখান থেকেই শুরু হয় ফেসবুক নিয়ে এই ডেটা কালেক্ট করার সন্দেহ।

যাইহোক, এরপর ফেসবুক কর্পোরেশন বলেছে যে, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলোর জন্য এই ধরনের ইউজার ডেটা অ্যাক্সেস করা খুবই সাধারণ ব্যাপার। কারণ, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপগুলোই আপনি ব্যবহার করছেন আপনার বন্ধুবান্ধবের সাথে আরও বেটার কানেক্টেড থাকার জন্য। আর এসব ডেটা ফেসবুক বা আরও অন্যান্য ট্রাস্টেড সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্সেস করছে ইউজারদের ভালোর জন্যই (অন্তত ফেসবুকের মতে)। ফেসবুক এসব ডেটা অ্যাক্সেস করছে তাদের ফ্রেন্ড সাজেশন অ্যালগরিদম এবং এই ধরনের সব ফিচারস ইম্প্রুভ করার জন্য। এবং ফেসবুক কখনোই অস্বীকার করেনি ডেটা কালেক্ট করার কথা। এছাড়া ফেসবুক এও বলেছে যে তারা কোনমতেই তাদের ইউজারদের এসব পারসোনাল ডেটা কোথাও লিক করেনা এবং সেল করেনা। তারা এসব ডেটা কেন অ্যাক্সেস করে এবং ডেটাগুলো কি কাজে লাগায় এসব বিষয় ফেসবুক তাদের একটি অফিশিয়াল ব্লগ পোস্টে ব্যাখ্যা করেছে গতকালকে। এই ব্লগ পোস্টটি এখানে পাবেন।



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

তো এই ছিল মূলত #DeleteFacebook এর পেছনের স্টোরি। যেই ফেসবুকের মালিক নিজের ল্যাপটপের ওয়েবক্যাম টেপ দিয়ে হাইড করে রাখেন প্রাইভেসির ভয়ে, সেই ফেসবুকই কি কোটি কোটি ইউজারের পারসোনাল ডেটা ট্র্যাক করে আসছে এতদিন ধরে? এটাই মুলত হাজার হাজার ইউজারের প্রথম প্রশ্ন, যদিও ব্যাক্তিগতভাবে আমার কাছে মনে হয়না যে ফেসবুক কোন নেগেটিভ ইন্টেনশনে এসব করছে বা করে আসছে। যাইহোক, আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটিও আপনাদের ভালো লেগেছে। কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন।

সিয়াম
অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....