চার্জে লাগিয়ে ফোন ব্যবহার কি আপনার মৃত্যুর কারন হতে পারে?

চার্জে লাগিয়ে ফোন ব্যবহার কি আপনার মৃত্যুর কারন হতে পারে?

বন্ধুরা আজকে এক অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখমুখি হতে চলেছি। আপনার ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করলে কি আপনার কোন ক্ষতি হতে পারে? কেনোনা ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় রেডিয়েশন হাজার গুন বেশি থাকে। স্মার্টফোন রেডিয়েশন থেকে আপনার কোন ক্ষতি হতে পারে কিনা সে বিষয়ে আমি আরেকটি পোস্ট আগেই করেছি, আপনি চেক করে দেখতে পারে। আজকের আলোচ্য প্রশ্ন কিন্তু শুধু আপনার ক্ষতি হবে কিনা তা নিয়ে নয়।

আপনার ফোন চার্জে লাগিয়ে বেশিক্ষণ রাখলে কি আপনার ফোন বুম… করে ব্লাস্ট হয়ে যাবে? অথবা আপনি যদি সারারাত ফোন চার্জে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তাহলে কি সকালে ফোন কাবাব অবস্থায় পাবেন? অথবা ফোন সিধা করে না উল্টা করে কানে ধরা উচিৎ? সিধা করে ফোন ধরলে কি আপনার মাথায় রেডিয়েশন ঢুকে যাবে?

না বন্ধুরা, প্রশ্ন গুলো করে আমি আপনার সাথে মজা একদমই করছি না। অনেকেরই এই সব প্রশ্নে মাথা ব্যাথা আছে। আর প্রশ্ন গুলো আসা খুবই স্বাভাবিক। কেনোনা আজ পর্যন্ত হয়তো আপনি নিজেও ফেসবুক বা হোয়াটস অ্যাপে এরকম ম্যাসেজ ফরওয়ার্ড করেছেন।

আর যদি ফরওয়ার্ড নাও করেন তারপরেও অনলাইনে এই রকম ব্যাপার নিশ্চয় দেখেছেন। আর আমরা এসকল ম্যাসেজ যখনই দেখি নিজেকে আর নিয়ন্ত্রন করতে পারিনা। আমাদের পরিবার আর বন্ধু বান্ধবীর কাছে শেয়ার করা নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পরি। “লো ব্যাটারি? ফোন ব্যবহার করবেন না।

চার্জে লাগিয়ে? ফোন ব্যবহার করবেন না।” তো এরকম বহুত কথা আমরা মানুষের সাথে শেয়ার করতে থাকি এবং আমরা নিজেরাও বিশ্বাস করি। তো আজ এসকল বিষয়ের খোলাসা করতেই হাজির হয়েছি। চলুন বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

আরো কিছু পোস্ট

সত্যি কি স্মার্টফোন আপনার কোনক্ষতি করতে সক্ষম?

সত্যি কি স্মার্টফোন আপনার কোনক্ষতি করতে সক্ষম?

সত্যি কথা বলতে এই ধারণা গুলো একদমই অসত্য একদমই প্রলাপ। এরকমটা হওয়া কখনোই সম্ভব নয়। আপনি ফোন সারারাত চার্জে লাগিয়ে রাখুন, সারাদিন চার্জে লাগিয়ে রাখুন, ফোন চার্জ করতে করতে ব্যবহার করুন, ফোন উল্টা কানে ধরুন অথবা সিধা কানে ধরুন, লো ব্যাটারিতে ব্যবহার করুন, ফুল ব্যাটারিতে ব্যবহার করুন, যা ইচ্ছা তাই করুন। এতে কখনোই কোন প্রকারের ক্ষতি আপনার হবে না। আপনি সম্পূর্ণই নিরাপদ থাকবেন।

বন্ধু আপনি হয়তো এরকম অনেক ফটো দেখছেন বা ভিডিও দেখেছেন যেখানে কারো কান ফেটে রক্ত বের হচ্ছে, কারো আবার মুখ পুড়ে গেছে সম্পূর্ণভাবে, কারো হাত পুড়ে গেছে ফোন ব্লাস্ট হয়ে ইত্যাদি। তো এগুলোর মধ্যে কিছু দুর্ঘটনা তো সত্যিই হয়েছিলো তা আমি নিজেও মানছি। কিন্তু এগুলো শুধু তখনই হয়ে থাকে যখন আপনি ফোন ঠিক মতো ব্যবহার করবেন না। ঠিক মতো ব্যবহার করা মনে চলুন আরো ভালোভাবে বোঝাবার চেষ্টা করি।

দেখুন ফোনের ব্যাটারি অনেক মারাত্মক একটি জিনিষ এটি আপনিও জানেন আর আমিও জানি এবং ফোন প্রস্তুতকারী কোম্পানি স্যামসাং, অ্যাপেল, এইচটিসিও এই কথা জানে। কিন্তু আপনার ফোন কখনোই একটি মারাত্মক ক্ষতিকর ডিভাইজ নয়। ফোনে প্রতিটি উপাদান অনেক পরিমান মতো দেওয়া আছে যার জন্য আপনার কখনোই কোন সমস্যা হবে। আজকাল ফোন এমন একটি ডিভাইজ যার উপরে আমাদের সবচাইতে বেশি নিয়ন্ত্রন থাকে। একটি ফোন বাজারে আসার আগে ঐ ফোনটিকে অনেকগুলো টেস্ট পাস করতে হয় তবেই সে উন্মুক্ত হতে পারে।

তো এই অবস্থায় ফোন নিয়ে যতো কথা শোনা যায়, সেলফোন বুকের পকেটে রাখলে হৃদপিন্ডের ক্ষতি হতে পারে, মাথার কাছে রাখলে মস্তিস্কের সমস্যা হতে পারে ইত্যাদি গুজব গুলো সম্পূর্ণই মিথ্যা। এই কথা গুলোর কোনই ভিত্তি নাই। আজ পর্যন্ত এমন একটি গবেষণাও দেখা যায়নি যে এই বিষয় গুলো প্রমানিত করতে পারে। এই কথা গুলো ব্যাস মন গড়া। জানিনা কে যে কোথা থেকে এইসব শোনে আর গুঁজব রটায় তার ঠিক নেই।

বন্ধুরা আপনি বলুন তো স্যামসাং, অ্যাপেল, এইচটিসি, সনি ইত্যাদি সহ যতো বড়বড় মোবাইল প্রস্তুতকারি কোম্পানি রয়েছে তারা কি কখনো মোবাইলের প্যাকেটে লিখে রেখেছে যে, মোবাইল ফোন লো ব্যাটারিতে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ বা চার্জ করার সময় ফোন ব্যবহার করবেন না। যদি তাই হতো তবে হিন্দি মুভি শুরু হওয়ার আগে ক্যান্সারের ভিডিও না দেখিয়ে হয়তো আমি থাকতাম সেখানে। আর বলতাম, “ভাই আমি ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করতে গেছিলাম আর ফোন ব্লাস্ট হয়ে আমার কান নষ্ট হয়ে গেছে। দয়া করে কেউ এটা করবেন না 😛 ।”

বন্ধু আপনি যদি ফোন চার্জে লাগিয়ে ব্যবহার করেন তো সেখানে আপনার শুধু দুইটি সমস্যা হতে পারে। প্রথম সমস্যাটি হবে আপনার ফোন স্লো চার্জ হবে কারন আপনি সে সময় ফোনটি ব্যবহার করছেন এবং দ্বিতীয়ত আপনার ফোন ওভার হিট হবে। কেনোনা আপনি যখন ফোন চার্জ করেন তখন এমনিতেই ফোন গরম হয় আর যদি চার্জ করতে করতে ব্যবহারও করেন তবে আরো বেশি গরম হবে। বেশি গরম হওয়ার জন্য আপনার ফোনের পারফর্মেন্স হালকা কমে যেতে পারে।

এবং হতে পারে নিয়মিত ফোন ৮-১০ ঘণ্টা চার্জে লাগিয়ে রেখে ব্যবহার করলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। কিন্তু এছাড়া আপনার কোন প্রকারের অসুবিধা কখনোই হতে পারে না।

এছাড়া ফোন সারারাত চার্জে লাগিয়ে রাখুন বন্ধু, আপনার কোন সমস্যাই হবে না। আপনি কি কখনো কোন সার্ভিস ম্যানুয়াল থেকে পড়েছেন যে, “আপনার ফোন সারারাত চার্জে লাগানো যাবে না।” আমি চাই এসব গুঁজব আপনি একদমই বিশ্বাস করবেন না। যখন থেকে আমি নিজেই মোবাইল ব্যবহার করি তখন থেকে একদিনও এমন হয়নি যে আমি সারারাত মোবাইল চার্জে লাগাইনি।

আমি কেন যেকোনো সাধারন মানুষই তাই করবে। আপনি সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েন আর রাতে বাড়িতে আসেন, তখন আপনার ফোনের ব্যাটারি হয়ে পড়ে লো। আবার আপনাকে সকালে কাজে যেতে হবে। তো আপনি কি ফোন চার্জে লাগিয়ে অপেক্ষা করবেন ২ ঘণ্টা? না সকালে ২ ঘণ্টা আগে উঠে চার্জ করে তবে কাজে যাবেন? আপনার ফোন তৈরি করাই হয়েছে এই জন্য যে আপনি যখন সেভাবে চান তা ব্যবহার করতে পারবেন।

আরো কিছু পোস্ট

তাহলে অনেক সময় দুর্ঘটনা কেন ঘটে?

স্মার্টফোন থেকে ক্ষতি

বন্ধুরা আজ পর্যন্ত মোবাইল ফোন দিয়ে যতো গুলো দুর্ঘটনা ঘটেছে তা হয়েছে শুধু মাত্র নিম্নমানের তৃতীয়পক্ষ জিনিষ ব্যবহার করার কারণে। এর মানে এটা নয় যে আপনি ফোনে কোন আলাদা কোম্পানির চার্জার বা ব্যাটারি ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু আপনি যদি উল্টাপাল্টা কোন কোম্পানির ব্যাটারি বা তার ফোনে লাগিয়ে নেন তবে হতে পারে কোন দুর্ঘটনা হবে। কিন্তু জেনে রাখুন বন্ধু আজকের দিনে আপনার ফোন থেকে ক্ষতি হওয়ার চাইতে আপনার চাঁদে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া বেশি সম্ভাব্য। কোটিকোটি মোবাইল ব্যবহারকারীর মধ্যে আজ পর্যন্ত হয়তো ১০০ বা ২০০ টি দুর্ঘটনা ঘটেছে হয়তো।

আর সেটাও তখন হয়েছে যখন তারা হয়তো তাদের ফোনের সাথে কোন প্রকারের দাদাগিরি করেছে। হয়তো ফোনে যেকোনো আলতু-ফালতু চার্জার লাগিয়ে নিয়েছিল বা ফোনে কোন উল্টাপাল্টা তার ঢুকিয়ে দিয়েছিল বা ফোন খুলে কিছু করার চেষ্টা করা হয়েছিলো। আর তখনই গিয়ে হয়তো কোন সমস্যা হয়েছে। তাছাড়া সাধারনভাবে কখনোই এরকম সমস্যা হওয়া সম্ভব নয়। হাঁ, অনেক সময় হয়তো কোনভাবে আপনার ফোনের ব্যাটারি ফুলে যেতে পারে। তো এতেও ভয় পাবার কোন কারন একদমই নেই। আপনার ফোনের সার্ভিস সেন্টার থেকে খুব সহজেই আপনি তা ফিক্স করিয়ে নিয়ে আসতে পারেন।

আসল কথা হলো আপনি একটি ভালো সোর্স থেকে আসা চার্জার বা ব্যাটারি ব্যবহার করুন ব্যাস আপনার কখনোই কোন সমস্যা হবে না। আর যতো আজেবাজে কথা চারিদিকে ছড়িয়ে আছে সবগুলোকে গুলি মারুন। আর নিশ্চিন্তে সাধারনভাবে আপনার ফোন ব্যবহার করতে থাকুন।

শেষ কথা


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

তো বন্ধুরা এই ছিল আজকের বিষয়। আশা করছি আজকের আলোচনা থেকে আপনি অনেক কিছু জানলেন এবং আপনার মনের সকল ভুল ধারণা দূর হয়ে গিয়েছে। এই পোস্টটি প্লিজ সকলের সাথে শেয়ার করুন এবং সকলের ধারণা পাল্টাতে সাহায্য করুন। আপনার মতামত অবশ্যই আমাকে নিজে কমেন্ট করে জানান। ভালো থাকুন আর ভুল ধারণা থেকে দূরে থাকুন।


তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।