WireBD
Advertisements
Advertisements

সামনের আপকামিং স্মার্টফোন গুলোতে যেসব ফিচার দেখতে পেতে পারেন!

এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে স্মার্টফোনগুলো আমাদের এক্সপেক্টেশনের চেয়েও আরো দ্রুত উন্নত হচ্ছে এবং আরো বেশি ইম্প্রুভড হচ্ছে। এখনকার মডার্ন যেসব স্মার্টফোন আছে সেগুলোর কথা এখন থেকে আর ৩-৪ বছর আগেও আমরা ভাবতে পারতাম না। মারাত্মক পাওয়ারফুল প্রোসেসর, জিপিইউ, ডেস্কটপ কনভার্টেবল স্মার্টফোন, শত শত জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ, ৬ জিবি-৮ জিবি র‍্যাম এসব এখন থেকে আর ৩-৪ বছর আগেও আমরা কল্পনা করতে পারতাম না। স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রি প্রত্যেক বছরই আপগ্রেড হচ্ছে এবং প্রত্যেক বছরই আমরা স্মার্টফোনে  নতুন নতুন ফিচারস এবং কোয়ালিটি ইম্প্রুভমেন্ট দেখতে পাচ্ছি। ঠিক এভাবেই চলতে থাকলে হয়তো এখন থেকে আরো কিছু বছর পরে আমরা এমন স্মার্টফোনও দেখতে পাবো যেগুলো এখনই আমাদের কাছে কল্পনার মতো। যাইহোক, আজকে এমন কয়েকটি ফিচার নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো হয়তো আমরা এবছর থেকে শুরু করে সামনের বছরগুলোতে নতুন সব আপকামিং স্মার্টফোনে দেখতে পেতে পারি।

ডিসপ্লে কাটআউট বা নচ

এবছর সর্বপ্রথম ডিসপ্লে কাটআউট বা নচ ট্রেন্ডটি মার্কেটে নিয়ে আসে এসেনশিয়াল ফোন (Essential Phone)। হ্যা, আপনি যদি ভেবে থাকেন যে নচ (Notch) ট্রেন্ডটি সর্বপ্রথম Apple মার্কেটে আনে আইফোন এক্স বা আইফোন টেনের সাথে, তাহলে এটি একটি ভুল ধারণা। স্লিম বেজেলের স্মার্টফোনের ওপরের দিকে ডিসপ্লে কটোউটের মধ্যে ফ্রন্ট ক্যামেরা এবং সেন্সরস প্লেস করার কনসেপ্টটি সর্বপ্রথম বাজারে আনে এসেনশিয়াল ফোন। এরপরে দ্বিতীয়বার এই নচ এর দেখা মেলে আইফোন এক্সে। কিন্তু Apple তাদের আইফোনে এই ডিসপ্লে কাটআউট বা নচ ফিচারটি ইন্ট্রোডিউস করার পরে এই ফিচারটি মানুষের নজরে আসে এবং হাইপ তৈরী করে।

আপকামিং স্মার্টফোন ফিচার

ঠিক এই কারণেই এখন আরো অনেক স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারার তাদের নতুন স্মার্টফোনগুলোতে আইফোন এক্সের মতো নচ রাখার কথা ইতোমধ্যে Asus তাদের নতুন স্মার্টফোন, জেনফোন ফাইভেও এমন ওপরের দিকে ডিসপ্লে কাটআউট রেখেছে ক্যামেরা এবং সেন্সরগুলোর জন্য। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েডপি (Android P) এর ডেভেলপার প্রিভিউতে দেখা যায়, গুগলও তাদের পরবর্তী অ্যান্ড্রয়েডভার্সনে ন্যাটিভ ডিসপ্লে কাটআউট এর সাপোর্ট দিয়েছে। তাই এটা খুব নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আপকামিং স্মার্টফোনগুলোর সবগুলোতে ডিসপ্লে নচ দেখা না গেলেও, অধিকাংশ এবং বিশেষ করে চাইনিজ স্মার্টফোনগুলোতে এটি অনেক বেশি দেখা যাবে সামনের দিনগুলোতে।

১২০ হার্জ হাই রিফ্রেশ রেট ডিসপ্লে

এই ফিচারটি সর্বপ্রথম ইন্ট্রোডিউজ করে Apple তাদের আইপ্যাড প্রো ২০১৭ ভার্সনের সাথে। এর পরে যদিও রেজর তাদের প্রথম স্মার্টফোন, রেজর ফোনেও এই হাই রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে ইমপ্লিমেন্ট করে। আপনি যদি গেমার হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি অবশ্যই জানেন যে রিফ্রেশ রেট কি এবং এর দরকার কি। এছাড়া আপনি এটাও জানবেন যে রিফ্রেশ রেট বেশি হলে কি কি সুবিধা পাওয়া যায়। যাইহোক, যদি না জেনে থাকেন, তাহলে সহজ ভাষায় বলা যায়, যত হাই রিফ্রেশ রেট, ততো বেশি স্মুথ এবং ফ্লুইড এক্সপেরিয়েন্স।এই কারণেও গেমাররা সবসময় হাই রিফ্রেশ রেটের মনিটর খোঁজে, যাতে বেস্ট গেমিং পারফর্মেন্স নিশ্চিত করা যায়।

আপকামিং স্মার্টফোন ফিচার

১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে প্রতি সেকেন্ডে ১২০ বার রিফ্রেশ হয়। এর ফলে যা হয় তা হচ্ছে, সাধারণ যেকোনো স্মার্টফোনের ৬০ হার্জ ডিসপ্লের তুলনায় আরো অনেক বেশি স্মুথ এবং ফ্লুইড এনিমেশন দেখতে পারে এই হাই রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে, যার ফলে স্মার্টফোনটির ওভারঅল এনিমেশন এবং ডে-টুডে পারফর্মেন্স অনেক ভালো হয়। আপনি যদি একবার একটি ৬০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লেযুক্ত ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি নিশ্চিতভাবেই ইমপ্রেসড হবেন এবং অন্য সব স্মার্টফোনে এই ডিসপ্লে পেতে চাইবেন। যেহেতু এবছর  এই ফিচারটি নতুন দুটি ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসে দেখেছি, আশা করা যায় সামনের বকরগুলোতেও অনেক স্মার্টফোনে এই হাই রিফ্রেশ রেটের ডিসপ্লে আরো বেশি দেখতে পাবো আমরা।

আন্ডার-গ্লাস ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর

আপনি হয়তো ইতোমধ্যেই জানেন যে ভিভো তাদের একটি নতুন স্মার্টফোন দেখিয়েছে যেটিতে তারা ব্যবহার করেছে প্রথিবীর প্রথম আন্ডার-গ্লাস ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। এর ফলে ফোনের বেজেল কম রাখার পরেও ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর প্লেসমেন্ট নিয়ে কোনো চিন্তা করতে হয়না। কারণ এই ফোনে যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি ব্যবহার করেছে তারা, সেটি ফোনের ডিসপ্লের নিচে প্লেস করা এবং ডিসপ্লের ওপর থেকেই সেটি ইউজারের ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিড করতে সক্ষম। এই আন্ডার গ্লাস ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ব্যবহার করা হলে স্যামসাং এর মতো স্মার্টফোনের পেছনের দিকে ক্যামেরা  ছোট্ট একটি জায়গায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর রাখতে হয়না, আবার আইফোন এক্সের মতো কমপ্লিটলি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ব্যাড দিয়ে আনরিলায়েবল ফেস আইডি বা ফেস আনলকও ব্যবহার করতে হয়না। ব্যাক্তিগতভাবে আমার মতে এই আন্ডার গ্লাস ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এবছরের রিলিজ হওয়া সবথেকে ইনোভেটিভ টেকনোলজি মনে হয়েছে।

আপকামিং স্মার্টফোন ফিচার

এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি ভিভো তাদের স্মার্টফোনে ইন্ট্রোডিউজ করলেও এই ফোনটি ছাড়া আর কোনো মেজর ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনে এই ফিচারটি বা এই ধরণের আন্ডারগ্লাস ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর আমরা দেখতে পাইনি। এর কারণ হচ্ছে, ভিভোর দেখানো এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি এখনো কনসেপ্ট এবং এটি সাধারণ ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরগুলোর মতো এতো রিলায়েবল এবং ফাস্ট নয়। তাই এবছর মেজর কয়েকটি ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনে এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর অ্যাড করা হবে না। তবে আশা করা যায় আরো ৫-৭ মাসের মধ্যেই এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি আরো বেশি ইম্প্রুভড হবে এবং খুব সম্ভবত এরপর থেকেই আমরা আরো অনেক স্মার্টফোনে এমন আন্ডার-গ্লাস ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর দেখতে পাবো। ইতোমধ্যেই কিছু Rumor শোনা যায় যে আর কয়েক মাস পরে আপকামিং স্মার্টফোন ওয়ানপ্লাস সিক্সে থাকবে এমন আন্ডার-গ্লাস ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।

ফেস আনলক ফিচার

যদিও ফেসিয়াল রিকোগনিশনের মাধ্যমে ফোন আনলক করার কনসেপ্টটি নতুন কিছু না, তবে গত বছর Apple তাদের আইফোন এক্সে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের পরিবর্তে ফেস আইডি বা ফেস আনলক ইন্ট্রোডিউজ করার পরে থেকে এই ফিচারটি অনেক বেশি সাড়া ফেলেছে। ফেস আইডির সাহায্যে মূলত আপনাকে আপনার ফেস স্ক্যান করে আপনার চেহারাকেই আপনার ফোনের সিকিউরিটি মেথড হিসেবে ব্যবহার করা হয় যাতে আপনি ছাড়া আর কেউ আপনার ফোন আনলক করতে না পারে। কারণ, আনলক করার জন্য আপনাকে আপনার ফ্রন্ট ক্যামেরার সাহায্যে আপনার ফেসটি স্ক্যান করতে হবে। এই ফিচারটি অ্যান্ড্রয়েডএর দুনিয়ায় এখন থেকে আরো ৪ বছর আগে থেকেই আছে।

আপকামিং স্মার্টফোন ফিচার

তবে আইফোন এক্সে এই ফেস আইডি ইন্ট্রোডিউজ করার পরে প্রায় সব স্মার্টফোন ,ম্যানুফ্যাকচারার তাদের নতুন সব স্মার্টফোনে এই ফিচারটি ইমপ্লিমেন্ট করছে। ফ্ল্যাগশিপ ফোন ছাড়াও, এমনকি এখনকার নতুন সব বাজেট স্মার্টফোনেও ফেস আনলক ফিচারটি রাখছে প্রায় সব স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারাররা। গত কয়েক মাসে যতগুলো নতুন স্মার্টফোন রিলিজ হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোতেই ফেস আনলক ফিচারটি ছিল। তাই আশা করা যায় এরপরেও যত অ্যান্ড্রয়েড ফোন রিলিজ হবে, তার সবগুলোতেই থাকবে ফেসিয়াল আনলক ফিচারটি।


তো এই ছিল কয়েকটি সম্ভাব্য ফিচার যেগুলো হয়তো আমরা এবছর থেকে শুরু করে সামনের বছরগুলোতে নতুন সব আপকামিং স্মার্টফোনে দেখতে পেতে পারি। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটিও আপনাদের ভালো লেগেছে। কোনো ধরণের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। আপনার কি ধারণা যে আর কোন কোন ফিচার আমরা সামনের বছরগুলোতে স্মার্টফোনে দেখতে পেতে পারি? আপনার ধারণাও জানাতে পারেন আমাদের কমেন্ট সেকশনে। 🙂

Image Credit : Android Authority , AndroidCentral

সিয়াম একান্ত

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

4 comments

  • অসাধারণ ছিল। আমার খুব জানতে ইচ্ছা করে আজ থেকে ১০০ বছর বা ৫০ বছর পরের ফোন গুলো কিরকম হতে পারে। সেখানে কোন টাইপের ফিচার থাকবে। জেরকম টেলিফোন থেকে মবাইল ফোন যখন আবিস্কার হয়েছিল সেটা সম্পূর্ণ ইউনিক একটি আইডিয়া ছিল এভাবে শুধু ফোন প্রতি বছর আপগ্রেট না করে সম্পূর্ণ ইউনিক কিছুকি আর আসবে না?? খুব জানতে ইচ্ছা করে।

  • Nice again vai.
    but think about Iphone. Lol. Ora every year ekekta kore feature remove kortese. hote pare Iphone 15 te kono feature e thakbe na . lol.
    thanks for this awesome post vai. love you.

সোশ্যাল মিডিয়া

লজ্জা পাবেন না, সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে টেকহাবসের সাথে যুক্ত হয়ে সকল আপডেট গুলো সবার আগে পান!