ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক রেঞ্জ নিয়ে যে তথ্য গুলো আপনার জানা প্রয়োজনীয়!

ওয়াইফাই হলো একটি তারবিহীন কমিউনিকেশন প্রযুক্তি। ওয়াইফাই হলো একটি ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং প্রোটোকল, যেখানে ডিভাইসগুলো তারবিহীন সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করে। ওয়াইফাই একপ্রকার লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা LAN যা IEEE 802.11 নেটওয়ার্ক প্রোটোকল ভিত্তিক। একটি নির্দিষ্ঠ স্হানে ডাটা কমিনিউনিকেশনের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ওয়াইফাই। ওয়াইফাই খুবই ফাস্ট এবং সহজে সেটাপ করা যায় এমন একটি প্রযুক্তি। আজ আমি ওয়াইফাই রেঞ্জ এবং নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত কিছু টার্ম আলোকপাত করব।

ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস পয়েন্ট

ওয়াইফাই এর সাথে ওয়্যারলেস ডিভাইসগুলো কানেক্টেডড হয় হয় অ্যাক্সেস পয়েন্ট এর সাহায্যে। অ্যাক্সেস পয়েন্টকে সংক্ষেপে আমরা জানি APs বা WAPs হিসেবে। প্রত্যেকটি জায়গা যেখানে আপনার ডিভাইস ওয়্যারলেস ভাবে কোনো নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে, সেখানে একটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট বিদ্যমান। ওয়াইফাই এর ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কিং ডিভাইসটি হল একটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট, যেখানে ওয়্যারলেস বা তারহীনভাবে ওয়্যারলেস সাপোর্টেড ডিভাইসগুলি কানেক্টেড হচ্ছে। অ্যাক্সেস পয়েন্ট সর্বদা ওয়্যারলেস রেডিও সিগন্যাল এর ট্রান্সমিটার ও রিসিভার এর মত কাজ করে।

সুতরাং আপনার ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত রাউটারটি হল আপনার ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস পয়েন্ট। অ্যাক্সেস পয়েন্ট এর ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে অ্যাক্সেস পয়েন্ট ডিভাইস কতজন ব্যবহারকারী হ্যান্ডেল করতে পারবে। সর্বশেষ আধুনিক অ্যাক্সেস পয়েন্ট সমৃদ্ধ নেটওয়ার্কিং ডিভাইস সর্বোচ্চ ২৫৫ জন ক্লায়েন্ট তথা ব্যবহারকারী সাপোর্ট করে। আগের পুরাতন অ্যাক্সেস পয়েন্টগুলো ২০ জন ক্লায়েন্ট সাপোর্ট করে।

ওয়াইফাই অ্যান্টেনা

Source/Tp-Link

ওয়াইফাই অ্যান্টেনা নিয়ে ইতিমধ্যে বিস্তারিত একটি আর্টিকেল রয়েছে । ওয়াইফাই অ্যান্টেনা ওয়াইফাই রাউটার এ অতান্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কম্পোনেন্ট । মূলত অ্যাক্সেস পয়েন্ট থেকে রেডিও সিগন্যাল এটি শক্তিশালী আরএফআইডি সার্কিট ব্যাবহার করে সিগন্যাল  ট্র্যান্সমিট করে থাকে ।(আরএফআইডি টেকনোলজি কিভাবে কাজ করে? যে টার্ম গুলো জানা প্রয়োজনীয়!) অমনি ডিরেকশোনাল এবং ডিরেকশোনাল অ্যান্টেনা ; এই দুইরকম অ্যান্টেনা ব্যাবহার করে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ট্র্যান্সমিট করে । আবার একই সাথে এটি সিগন্যাল রিসিভ করে । অ্যান্টেনা এর অপর ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক এর রেঞ্জ অনেকটা নিরভর করে থাকে ।

ওয়াইফাই রেঞ্জ

ওয়াইফাই কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এর রেঞ্জ নির্ভর করে ; কি পরিমান এবং কি মানের ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস পয়েন্ট ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে নেটওয়ার্কিং ডিভাইসটি তৈরি করতে। হোম নেটওয়ার্কে একটি সিঙ্গেল রাউটার যেখানে সাধারনত কেবল একটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট থাকে, তা একটি পুরো পরিবারের জন্য যথেষ্ঠ হতে পারে। তবে অফিস বা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে বড় বড় নেটওয়ার্কিং ডিভাইস থাকে ; যেখানে একের অধিক অ্যাক্সেস পয়েন্ট দেখা যায়। এজন্য নিঃসন্দেহে যে ডিভাইসের রেঞ্জ বেশি তার দামও বেশি হবে। অ্যাক্সেস পয়েন্ট ছাড়াও আরও বেশ কিছু বিষয়ের অপর নেটওয়ার্কের রেঞ্জ নির্ভর করে, এগুলো হলোঃ

  • নির্দিষ্ঠ IEEE 802.11 ভিত্তিক ওয়াইফাই প্রটোকল
  • নেটওয়ার্কিং ডিভাইসের ট্রান্সমিটার ক্ষমতা
  • নেটওয়ার্কের আশেপাশের পরিবেশের ফিজিকাল অবস্হা। (যেমনঃ দেয়াল,ঘর সংখ্যা ইত্যাদি)
Source/Tenda

প্রচলিত ২.৪ গিগাহার্জ ক্ষমতা সম্পন্ন ওয়াইফাই রাউটার তার রেঞ্জ ইনডোরে ১৫০ ফিট বা ৪৬ মিটার পর্যন্ত ট্রান্সমিট করতে পারে, আর আউটডোরে করতে পারে ৩০০ ফিট বা ৯২ মিটার পর্যন্ত ; যেখানে পুরাতন 802.11a প্রোটোকল এর ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের রাউটার ২.৪ এর তুলনায় এক তৃতীয়াংশ কম রেঞ্জ প্রদান করে। তবে নতুন 802.11n রাউটার এবং 802.11ac রাউটার ২.৪ গিগাহার্জ এবং ৫ গিগাহার্জ দুই ব্যান্ডেই প্রায় একই রেঞ্জ প্রদান করে থাকে। এখানে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা যেমন ইটের দেয়াল এই রেঞ্জকে ২৫% শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। ওয়াইফাই নেটওয়ার্কিং ডিভাইস নির্মাতারা সাধারনত একটা ক্লিন পরিবেশের হিসেবে ওয়াইফাই রাউটারের রেঞ্জ উল্লেখ করে থাকে। তবে বাস্তবিক হিসেবে তা কেবল খাতা কলম পর্যন্তই থেকে যায়।

  • মূলত ওয়াইফাই রাউটারের প্রকৃত কতদূর রেঞ্জ তা নির্নয় করা যায় না।
  • ওয়াইফাই রেঞ্জ হল মূলত দুইমুখি পথ, অ্যাক্সেস পয়েন্ট থেকে একটি পথে সিগন্যাল যায় এবং আরেকটি পথে ক্লায়েন্ট থেকে সিগন্যাল রাউটারে পৌছে।
  • আসেপাশের অন্যান্য নেটওয়ার্কিং ডিভাইস এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস এর কারনে এই রেঞ্জ করাপ্টেড হয়ে থাকে।

ওয়েভ শোষন

আপনার সামনে যখন কোন সাউন্ডবক্স থাকে তখন তার শব্দ শুনতে আপনার কোন সমস্যা হয়না। তবে এর মাঝে আপনার কানের ওপর যদি বালিশ রাখা হয়, তবে বালিশটি শব্দ শোষন করে নেয়। আর এতে করে আপনি কম শব্দ শুনতে পান। ওয়াইফাই নেটওয়ার্কস এর ক্ষেত্রে এরকম শোষন ঘটে,রেডিও ওয়েভের শোষন। আপনার পানি রেডিও ওয়েভ এর সবচেয়ে বড় শোষক, তারপর গাছ, দেয়াল ইত্যাদি। ইত্যাদি ওয়াইফাই রেডিও সিগন্যালকে শোষন করে নেয়। এতে করে রেঞ্জ এর হ্রাস ঘটে।

রাউটার অ্যান্টেনা এর কাজ কি ?   | ওয়াইফাই ডাইরেক্ট কি?

বর্তমান সময়ের প্রচলিত রাউটার

সিঙ্গেল ব্যান্ড রাউটার, ডুয়াল ব্যান্ড রাউটার, ট্রাই ব্যান্ড রাউটার

  • 802.11ac রাউটারঃ 802.11 নেটওয়ার্ক স্ট্যান্ডার্ড ফ্যামিলির নতুন সদস্য 802.11ac নেটওয়ার্ক স্ট্যান্ডার্ড। এই রাউটারগুলি ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের হয়ে থাকে। তাই বাসাবাড়িতে তথা হোম নেটওয়ার্কেরর জন্য এগুলো খুবই কার্যকরী রাউটার। এসব রাউটারে এক্সট্রা প্রাইভেসির সাথে গেস্ট নেটওয়ার্ক অপশন পাওয়া যায়।
  • 802.11n রাউটারঃ ডাউনলোডিং, অনলাইম গেমস স্ট্রিমিং এবং মুভি দেখার ক্ষেত্রে এই ওয়াইফাই স্ট্যান্ডার্ডেরর রাউটার অত্যান্ত জনপ্রিয়।
  • 802.11g রাউটারঃ একাধিক ইথারনেট পোর্টে যুক্ত কম্পিউটার এর নিরাপত্তা WPA2 নিরাপত্তা এবং ফাস্ট ইথারনেট এক্সপেরিয়েন্স নিশ্চিত করার জন্য এই ব্যান্ডের রাউটার বাজারে জনপ্রিয়।

সর্বোচ্চ কতজন নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারে?

ওয়াইফাই ডাইরেক্ট

এটি ওয়াইফাই এর ক্ষেত্রে সর্বাধিক জিজ্ঞাসিত একটি প্রশ্ন। আসলে সর্বোচ্চ কতজন আমার নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে? আর এখানে উঠে আসে অ্যাক্সেস পয়েন্ট এর বিষয়টা। সাধারন হোম রাউটারে একটি অ্যাক্সেস পয়েন্ট থাকে ; অন্যদিকে বিজনেস রাউটারে একের অধিক অ্যাক্সেস পয়েন্ট দেখা যায়। আগেই বলেছি, প্রত্যেকটি অ্যাক্সেস পয়েন্টের লিমিট থাকে সর্বোচ্চ কতজন ব্যবহারকারী এটি হ্যান্ডেল করতে পারবে। তাই যত বেশি অ্যাক্সেস পয়েন্ট তত বেশি ব্যবহারকারী যথা ইউজার সামলানোর ক্ষমতা।

  • আধুনিক অ্যাক্সেস পয়েন্টগুলো সর্বোচ্চ ২৫০ জন পর্যন্ত ব্যবহাকারী সাপোর্ট করতে পারে। তবে এটি কেবল তাত্ত্বিকভাবে বলা হয়েছে, বাস্তবে অনেক প্রতিবন্ধকতার জন্য হয় না।
  • ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস পয়েন্টে অনেকসময় ওভারলোড এর ফলে ডিভাইস অত্যাধিক গরম হয়ে যায়। এতে করে তার কাজ বন্ধ করা দেয়। বেশি ব্যবহারকারী হলে এই সমস্যা দেখা যায়।
  • একই নেটওয়ার্কে অনেক বেশি ক্লায়েন্ট তথা ব্যবহারকারী যুক্ত হওয়ার ফলে অনেক বেশি রেডিও ওয়েভ তৈরি করে। আর এই রেডিও ওয়েভ ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক গুলোকে অনেক বেশি দুর্বল করে দেয়।

এখানে রাউটারে কানেক্টেড ব্যবহারকারীদের অপর সরবরাহকৃত ব্যান্ডউইথ অ্যাক্সেস পয়েন্ট থেকে ভাগ করে দেয়া হয়। উদাহরন হিসেবে ৩০০ এমবিপিএস এর রাউটারে প্রতি ব্যবহারকারীর ভাগে পড়বে ৩ এমবিপিএস স্পীড। যদিও আমাদের দেশে সচরাচর ৩০০ এমবিপিএস স্পীড কেউ নেয় না। তাই আরো কম ব্যান্ডউইথ,আরো বেশি ইউজার, আরো কম স্পীড।

নিজের ওয়াইফাই হ্যাক করে সিকিউরিটি চেক করুন , কেউ আপনার ওয়াইফাই হ্যাক করছে না তো?



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশে আমরা পরিচিত হচ্ছি নানাবিধ নতুন নতুন জিনিসের সাথে।এই আর্টিকেলে আমি ওয়াইফাই ডিভাইসের পরিসর বা রেঞ্জ যে সঠিকভাবে নির্ধারন করা সম্ভব নয় এবং মূলত কেন , ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ইত্যাদি বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আমি ওয়াইফাই এবং ওয়্যারলেস সম্পর্কিত আরও বিভিন্ন টার্ম আর্টিকেল এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে শেয়ার করার চেষ্টা করব। আশা করি আজকের আর্টিকেলে মাধ্যমে ওয়াইফাই রেঞ্জ এবং ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক সম্পর্কে কিছু জানতে পেরেছেন। ওয়াইফাই সম্পর্কে অনেকের কিছু জিজ্ঞাসা হয়ত স্পষ্ট হয়েছে। নিচে অবশ্যই আপনার অভিমত কমেন্টের মাধ্যমে জানাবেন।