বর্তমান তারিখ:18 August, 2019

৫ টি বেস্ট ফ্রি উইন্ডোজ সফটওয়্যার! [২০১৮]

পর্ব-১


উইন্ডোজ সফটওয়্যার তো আমরা সবাই চিনি এবং প্রত্যেকদিন ব্যবহারও করি। যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমের প্রাণই হচ্ছে তার এপ্লিকেশনস বা প্রোগ্রামস বা সফটওয়্যার। থার্ড পার্টি প্রোগ্রামস ছাড়া সম্পূর্ণ উইন্ডোজ ওএসই নিরর্থক হয়ে যায়। কারণ, উইন্ডোজ স্টোরে উইন্ডোজ ১০ এর জন্য ডেডিকেটেড ইউনিভার্সাল এপ্লিকেশন প্রয়োজনের তুলনায় এখনো কিছুটা কম আছে। এছাড়া এসব ইউনিভার্সাল এপ্লিকেশনগুলো উইন্ডোজ এর ট্রেডিশনাল Win32 ডেস্কটপ প্রোগ্রামগুলোর মতো এখনো এতো বেশি পাওয়ারফুল এবং এতো বেশি ফিচারপ্যাকড হয়ে পারেনি।যাইহোক,আর ভূমিকা না করে মূল বিষয়ে আসা যাক। আজকে ফ্রি উইন্ডোজ সফটওয়্যার সিরিজের প্রথম পর্বে এমন ৫ টি ফ্রি উইন্ডোজ সফটওয়্যার নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো আপনার অবশ্যই ব্যবহার করে দেখা উচিত যদি আপনি উইন্ডোজ ইউজার হয়ে থাকেন।


১. Handbrake

সহজ কথায় বলতে হলে এটি হচ্ছে একটি ভিডিও কনভার্টার সফটওয়্যার। অর্থাৎ এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে আপনি একটি ফরম্যাট থেকে আরেকটি ফরম্যাটে ভিডিও কনভার্ট করতে পারবেন। ভিডিও ফরম্যাট চেঞ্জ না করলেও আপনি চাইলে এটির সাহায্যে একটি অনেক বড় সাইজের ভিডিওকে কনভার্ট করে ছোট সাইজ করতে পারবেন। ভিডিও কোয়ালিটি রিডিউস করার মাধ্যমে একটি ভিডিওর সাইজ কমাতে পারবেন, ভিডিও কোডেক চেঞ্জ করতে পারবেন, ভিডিও ক্রপ করতে পারবেন এবং এই ধরণের আরো অনেক কাজের টুলস পাবেন এই সফটওয়্যারটির ভেতরে। এছাড়া আপনি চাইলে স্পেসিফিক কোনো ডিভাইসে কোনো ভিডিও চলার জন্য ওই ডিভাইসটির জন্য ভিডিওটিকে কনভার্ট করে নিতে পারবেন। এবং এর জন্য আপনি অনেক প্রিসেটও পাবেন। আপনাকে এর জন্য ভিডিও কনভার্ট রিলেটেড অনেক অনেক সেটিংস মনে রাখার প্রয়োজন হবেনা। এছাড়া এই সফটওয়্যারটি সম্পূর্ণ ফ্রি, ওপেনসোর্স, লাইটওয়েট, অ্যাডফ্রি এবং যথেষ্ট ফাংশনাল।

উইন্ডোজ সফটওয়্যার

ডাউনলোড করুন : এখানে

২. MusicBee

নাম শুনেই নিশ্চই বুঝতে পারছেন যে এটি একটি মিউজিক প্লেয়ার সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যারটি আমার মতে উইন্ডোজ ডিভাইসের জন্য অন্যতম সেরা একটি মিউজিক প্লেয়ার। এই সফটওয়্যারটির সব ফিচারস বর্ণনা করতে গেলে এই সম্পূর্ণ আর্টিকেলেও বলে শেষ করা যাবেনা। এই মিউজিক প্লেয়ারটিতে কি আছে জিজ্ঞেস না করে, জিজ্ঞেস করতে পারেন যে কি নেই। মিনিমাল এবং আকর্ষনীয় ইউজার ইন্টারফেস, মিউজিক ট্যাগ এডিটর, ম্যানুয়াল পিকচার ট্যাগিং, অটোমেটিক লিরিকস, অটোমেটিক আর্টিস্ট পিকচার, অটোমেটিক কভার আর্ট এবং একটি ফাংশনাল মিউজিক প্লেয়ারে যা যা থাকা উচিত তার প্রায় সবকিছুই আছে এই সফটওয়্যারটিতে। এছাড়া এই সফটওয়্যারটিতে প্রিলোডেড এতো বেশি থিমস এবং স্কিনস আছে, এতো বেশি থিমস সম্ভবত কোনো অপারেটিং সিস্টেমের কোনো মিউজিক প্লেয়ার সফটওয়্যারে নেই। এই সফটওয়্যারটিকে আপনি ঠিক আপনার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে কাস্টমাইজ করতে পারবেন। আমার মতে, আপনি যদি উইন্ডোজ ডিভাইস ব্যবহার করেন, তাহলে এটি একটি মাস্ট-হ্যাভ সফটওয়্যার। আর হ্যা, এই সফটওয়্যারটিও সম্পূর্ণ ফ্রি, লাইটওয়েট এবং অ্যাডফ্রি।

উইন্ডোজ সফটওয়্যার

ডাউনলোড করুন : এখানে

৩. Everything

এটি হচ্ছে একটি লোকাল সার্চ করার সফটওয়্যার। আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন যে উইন্ডোজে তো পিসিতে কোনো লোকাল ফাইল সার্চ করার জন্য উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারে একটি সার্চ অপশন আছেই। তাহলে এর জন্য আবার একটি থার্ড পার্টি সফটওয়্যার এর দরকারটা কি? দরকার আছে। কারণ, উইন্ডোজ এর যে ডিফল্ট সার্চ অপশনটি আছে সেটা মোটেই খুব বেশি রিলায়েবল না। রিলায়েবল না বললাম কারণ, সেটি যথেষ্ট স্লো। আপনি যদি কখনো উইন্ডোজ এক্সপ্লোরার থেকে কোনো ফাইল সার্চ করে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে থাকেন, তাহলে নিশ্চই জানেন এটা কতটা স্লো। যদি আপনার হার্ড ড্রাইভ অনেক বরো হয় এবং অনেক বেশি ফাইলস থাকে তাহলে আপনি আশা করতেই পারেন যে একটি ফাইল সার্চ করলে সার্চ রেজাল্ট পেতে পেতে আপনি এক কাপ কফি খেয়ে আসতে পারবেন। যাইহোক, এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করলে আপনি প্রথমেই যেটা লক্ষ্য করবেন যে, এটা কতটা ফাস্ট। আপনি কিছু সার্চ করলে আপনাকে উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারের তুলনায় প্রায় ৮০% দ্রুত আপনাকে সার্চ রেজাল্ট দেখাবে এই সফটওয়্যারটি। অনেক ক্ষেত্রেই প্রায় ইনস্ট্যান্ট সার্চ রেজাল্ট দেখাতে পারে এই সফটওয়্যারটি। এছাড়া সার্চ করার জন্য অ্যাডভান্সড যেসকল ফিচার থাকা উচিত সেগুলো তো থাকছেই। যেমন- ফিল্টারিং, ফাইল সর্ট করে দেখা, নির্দিষ্ট একটি ফাইল ফরম্যাটের সার্চ রেজাল্ট দেখা ইত্যাদি। আর এই সফটওয়্যারটিও ফ্রি, লাইটওয়েট এবং সম্পূর্ণ অ্যাডফ্রি।

উইন্ডোজ সফটওয়্যার

ডাউনলোড করুন : এখানে

৪. IObit Uninstaller

নাম শুনেই বুঝতে পারছেন যে এটি একটি আনইনস্টলার সফটওয়্যার। এটির নাম হয়তো আপনি জানেন এবং হয়তো ব্যবহারও করেছেন। কারণ, এটি অনেক জনপ্রিয় একটি সফটওয়্যার। এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে আপনি আপনার পিসিতে থাকা অন্যান্য সফটওয়্যার এবং প্রোগ্রামস আনইনস্টল করতে পারবেন। আর অন্যান্য আনইনস্টলার সফটওয়্যারগুলোর মতোই এটাতে কিছু এক্সট্রা ফিচারস বা অ্যাডভান্সড ফাংশনালিটি আছে যেগুলো না থাকলে উইন্ডোজে ডেডিকেটেড আনইনস্টলার  থাকার পরেও এই থার্ড পার্টি আনইনস্টলার সফটওয়্যার কেউ ব্যাবহার করতো না। যেমন, এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে আপনি একটি সফটওয়্যার আনইনস্টল করলে এটি একইসাথে ওই সফটওয়্যার এর সাথে রিলেটেড যত ফাইল আছে এবং যতরকম রেজিস্ট্রি এন্ট্রি আছে সেসবকিছু ডিলিট করে একটি সম্পূর্ণ ক্লিন আনইনস্টল নিশ্চিত করে। উইন্ডোজ প্রোগ্রামস বা সফটওয়্যার আনইনস্টল করা ছাড়াও, আপনি এর সাহায্যে আপনার ব্রাউজার টুলবারও ক্লিন রাখতে পারবেন। আর আমার মতে এই সফটওয়্যারটির সবথেকে ভালো ফিচারটি হচ্ছে, এর সাহায্যে আপনি উইন্ডোজ ১০ এর স্টার্ট মেনুতে আগে থেকে যেসব অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার বা ইউনিভার্সাল এপ্লিকেশন প্রিলোডেড থাকে, যেগুলো সাধারণভাবে আনইনস্টল করা যায়না, সেগুলোও আনইনস্টল করতে পারবেন। এই সফটওয়্যারটির ইউজার ইন্সটারফেসও অনেক সুন্দর। এই সফটওয়্যারটির ফুল ভার্সন পেতে চাইলে আপনাকে লাইসেন্স কি কিনতে হবে। তবে এর ফ্রি ভার্সনেই আপনার অধিকাংশ কাজই হয়ে যাবে।

উইন্ডোজ সফটওয়্যার

ডাউনলোড করুন : এখানে

৫. Ultimate Windows Tweaker

এই সফটওয়্যারটি মূলত উইন্ডোজ ১০ এর অনেক এক্সট্রা কাস্টমাইজেশন এবং এক্সট্রা টিউনিং এর একটি ওয়ান স্টপ শপ। অর্থাৎ এই সফটওয়্যারটিতে আপনি উইন্ডোজ ১০ কে নিজের ইচ্ছামতো কাস্টমাইজ এবং টিউন করার জন্য অনেক ধরণের এক্সট্রা টুলস এবং সেটিংস পেয়ে যাবেন যেগুলো আপনি সাধারণভাবে উইন্ডোজ ১০ এর সেটিংসে পাবেন না। উদাহরণস্বরূপ, আপনি চাইলে আপনার ডেস্কটপে থাকা সব সফটওয়্যার আইকনগুলোর থেকে শর্টকাট অ্যারো তুলে নিতে পারবেন, আপনি চাইলে উইন্ডোজ এক্সপ্লোরার কনটেক্সট মেনুতে আরো এক্সট্রা অনেক ধরণের শর্টকাট অ্যাড করতে পারবেন, স্টার্ট মেনুতে রিস্টার্ট এবং শাট ডাউন অপশনের পাশাপাশি স্লিপ এবং হাইবারনেট অপশনও আনতে পারবেন। এই ধরণের আরো অনেক অনেক হিডেন সেটিংস এক্সেস করতে পারবেন যেগুলোর সাহায্যে আপনি উইন্ডোজ ১০ কে নিজের ইচ্ছামতো কাস্টমাইজ করতে নিতে পারবেন এবং উইন্ডোজ এর ফাংশনালিটি বাড়াতে পারবেন। এই সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে আপনি আরো কি কি করতে পারবেন সেটা জানতে হলে আপনাকে সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে দেখতে হবে। কারণ, এখানে সবকিছু লিখলে লিখে শেষ করা যাবেনা।

উইন্ডোজ সফটওয়্যার

ডাউনলোড করুন : এখানে। 


তো এই ছিল ৫ টি বেস্ট উইন্ডোজ সফটওয়্যার যেগুলো অবশ্যই একবার ট্রাই করে দেখা উচিত যদি আপনি উইন্ডোজ ইউজার হয়ে থাকেন। এমন আরো অনেক প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আছে। এমন আরো ৫ টি সফটওয়্যার নিয়ে পরবর্তী পর্বে আলোচনা করা যাবে। আজকের মতো এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদর ভালো লেগেছে। কোনো ধরণের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। এবং আপনি যদি এমন আরো ভালো ফ্রি সফটওয়্যার এর নাম জানেন, তাহলেও নিচে কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। আমরা পরবর্তী পর্বে সেই সফটওয়্যারটি ইন্ক্লুড করার চেষ্টা করবো তাহলে। ধন্যবাদ।

Image Credit : Pixabay


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

 

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

11 Comments

    1. সিয়াম একান্ত Post author Reply

      But it’s considerable as it’s so lightweight and ad-free. Right? 🙂

  1. Salam Ratul Reply

    ভালো ছিল আর্টিকেলটি। ধন্যবাদ ভাইয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *