ইন্টারনেটটেক চিন্তা

বিট Vs বাইট, মেগাবিট Vs মেগাবাইট, গিগাবিট Vs গিগাবাইট | Mb আর MB কিন্তু এক জিনিষ নয়!

5
বিট Vs বাইট, মেগাবিট Vs মেগাবাইট, গিগাবিট Vs গিগাবাইট

আমাদের সমস্ত কম্পিউটিং চাহিদা দিনদিন যেভাবে শুধু মাত্র একটি ইন্টারনেট ব্রাউজারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, এতে “ইন্টারনেট স্পীড” বর্তমানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ টার্ম হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এন্টারটেইনমেন্ট বলুন বা যেকোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা, যেখানে মানুষ নিজের ঘরে বসে মুভি, গেম, যেকোনো ফাইল ডাউনলোড করতে পারে, সেখানে কেন বসে টিভি দেখবে বা বাজার থেকে ডিভিডি কিনে আনবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যখন আপনি একজন নতুন ইউজার, আর ব্রডব্যান্ড কানেকশন বা যেকোনো ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার থেকে ইন্টারনেট কানেকশন নিতে চান, সেক্ষেত্রে দেখা যায়, আপনার সাবস্ক্রাইব করা ইন্টারনেট স্পীড আর বাড়িতে কম্পিউটারে ব্যবহার করার সময় ইন্টারনেট স্পীড একেবারেই মিলে না। আসলে সমস্ত বিষয়টি সঠিক হিসেবের উপর নির্ভর করে, যেটা আপনি জানেন না। তাই এই আর্টিকেলে বিট Vs বাইট, মেগাবিট Vs মেগাবাইট, গিগাবিট Vs গিগাবাইট — নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেগুলো আপনার সমস্ত প্রশ্নের উত্তর প্রদান করবে।

মেগাবিট Vs মেগাবাইট

মেগাবিট আর মেগাবাইট’কে যখন ভাঙ্গিয়ে উচ্চারণ করবেন সেটা শুনতে আলাদা লাগবে, কিন্তু যখন এরা সংক্ষিপ্ত ফর্মে থাকে, Mb বা MB রুপে, তখন কিন্তু উচ্চারণে একেবারেই কোন পার্থক্য থাকে না, কিন্তু এদের অর্থ কিন্তু মোটেও এক নয়। আর সমস্যা তখনই দেখা দেয়, যখন আপনি দুই টাইপের ডাটা একই নজরে দেখতে শুরু করেন, ইন্টারনেট স্পীড আর হার্ড ড্রাইভে সেভ থাকা ফাইল সাইজ। মেগাবিট প্রকাশে সাধারণত ছোট হাতের ইংরেজি অক্ষর “b” ব্যবহার করা হয়, অর্থাৎ “Mb” বা “Mbit” — আর যখন ইন্টারনেট স্পীড টার্মের কথা আসে, প্রায় সকল কোম্পানি মেগাবিট টার্মটিকেই ব্যবহার করে থাকে।

মেগাবিট Vs মেগাবাইট

ধরুন, আপনি ৮ মেগাবিট/সেকেন্ড (8Mb/s) ইন্টারনেট কানেকশন নিয়েছেন, এর মানে আপনি প্রত্যেক সেকেন্ডে ৮ মেগাবিট স্পীডে ডাটা ট্র্যান্সফার করতে পাড়বেন। কিন্তু ইন্টারনেট থেকে কোন ফাইল ডাউনলোড করার সময় হয়তো আপনি দেখতে পাচ্ছেন, ১ মেগাবাইট/সেকেন্ড (1MB/s) স্পীডে ফাইলটি ডাউনলোড হচ্ছে, তাহলে ব্যাপারটি কি দাঁড়ালো? আপনি কি কম স্পীড পাচ্ছেন? জি না! এখানে আপনি ৮ মেগাবিট বলুন, আর ১ মেগাবিট সেকেন্ড স্পীড বলুন, দুই ক্ষেত্রে পরিমাপটি কিন্তু একই থাকছে।

কারণ, Mb আর MB দুইটি টার্ম উচ্চারণে একই হলেও, এক জিনিষ নয়। এখানে Mb বলতে মেগাবিট (Megabit) বুঝানো হয় এবং MB বলতে মেগাবাইট (Megabyte) বুঝানো হয়। মনে করুণ, আপনি 750 MB একটি ফাইল ডাউনলোড করছেন, এর মানে টেকনিক্যালি এর সাইজ ৭৫০ মেগাবাইট আবার একই সাথে এর সাইজ ৬,০০০ মেগাবিট (6000 Mb)।

এই সমস্যার সমাধান, নিচের প্যারাগ্রাফে পানির মতো পরিষ্কার করা হয়েছে…

বিট Vs বাইট

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক টার্মের ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কের ডিজিটাল ডাটা ট্র্যান্সমিট করার সময় বিট এবং বাইটকে স্ট্যান্ডার্ড ইউনিট হিসেবে গণনা করা হয়। প্রত্যেক বাইটে ৮টি বিট থাকে। কম্পিউটার ডাটার ক্ষেত্রে বিট হচ্ছে যেকোনো ডাটার সবচাইতে ক্ষুদ্রতম অংশ, বা বলতে পারেন ডাটার পরমানু হচ্ছে এই বিট। একটি ইমেইল বা সাধারণ টেক্সট ম্যাসেজ থেকেও বিট অনেক ক্ষুদ্র আকারের হয়ে থাকে। সহজভাবে বোঝার জন্য মনে করুণ, এই আর্টিকেলের প্রত্যেকটি অক্ষর একেকটি বিট, আর এখানে হাজারো অক্ষর একত্রিত হয়ে একটি পুরনাজ্ঞ আর্টিকেল তৈরি করেছে।

আসলে মূল ইউনিট হচ্ছে বিট বা বাইট, কিন্তু এর পূর্বে মেগা বা গিগা টার্মটিকে প্রিফিক্স হিসেবে জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে বড় নাম্বার ছোট করে উচ্চারণ এবং বুঝতে সুবিধা হয়। মেগাবিট বলতে মিলিয়ন বিট আর গিগাবিট বলতে বিলিয়ন বিট বুঝানো হয়, এখন আপনিই চিন্তা করে দেখুন, যদি মেগা আর গিগা প্রিফিক্স না ব্যবহার করা হয় সেক্ষেত্রে সংখ্যা কতো বিশাল আকার ধারণ করতে পারে। কিন্তু এখানে মূল টার্ম কিন্তু বিট আর বাইটের, যতোই পূর্বে মেগা, গিগা, টেরা ইত্যাদি লাগানো থাক। খুব টেকনিক্যাল দিকে না গেলে, হিসেব কিন্তু একেবারেই সহজ, ৮ বিট = ১ বাইট, বা আরেকভাবে বলতে পারেন, বিট হচ্ছে বাইটের ১/৮ এর অংশ বা ১ বাইট ১ বিট থেকে ৮ গুন বড় — যেভাবেই বলুন, হিসেব কিন্তু একই আসছে।

তাহলে, আপনার ইন্টারনেট কানেকশনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি কি দাঁড়ালো? আপনি ৮ মেগাবিটের কানেকশন নিয়েছেন, কিন্তু ডাউনলোড করার সময় যদি ১ মেগাবাইট/সেকেন্ড স্পীড প্রদর্শিত হয়, সেটা একেবারেই ঠিক। আবার আপনার কানেকশন যদি ১ মেগাবিট/সেকেন্ডের হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ডাউনলোড করার সময় আপনি ১ মেগাবিট = ১/৮ মেগাবাইট = ০.১২৫ মেগাবাইট বা ১২৫ কিলোবাইট/সেকেন্ড স্পীড পাবেন। আপনার আইএসপি আপনার কাছে বিট/সেকেন্ড হিসেবে ব্যান্ডউইথ রেট প্রদান করে, কিন্তু অপারেটিং সিস্টেম বা বিভিন্ন সফটওয়্যার বাইট/সেকেন্ড রুপে ডাটা পরিমাপ করে, আর এই জন্যই পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু সঠিক হিসেব করে দেখলেই বুঝতে পাড়বেন সঠিক স্পীড পাচ্ছেন কিনা।

তো আপনি সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করেই সহজেই মেগাবিট বা গিগাবিট থেকে মেগাবাইট বা গিগাবাইটের রেজাল্ট পেতে পাড়বেন। আপনাকে জাস্ট মেগাবিটের সাথে ৮ ভাগ করে দিতে হবে, তাহলে মেগাবাইট রেজাল্ট পেয়ে যাবেন। আপনি চাইলে গুগল সার্চ ব্যবহার করেও সহজেই আপনার ডাটা ইউনিট কনভার্ট করে ফেলতে পাড়বেন। মনে করুণ আপনার ইন্টারনেট স্পীড ৫ মেগাবিট/সেকেন্ড (5 Mb/s) এখন গুগল সার্চ করুন, “5 megabits to megabytes” আপনি সহজেই রেজাল্ট পেয়ে যাবেন।

আইএসপি’রা বাইট ব্যবহার না করে কেন বিট ব্যবহার করে?

এখন এই প্রশ্ন আপনার মনে আসাটা একেবারেই স্বাভাবিক যে, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার’রা বাইট টার্ম ব্যবহার না করে কেন বিট টার্ম ব্যবহার করে? যদি তারা বাইট টার্মে তাদের কানেকশন স্পীড রেটিং করতো তাহলে এতো বিভ্রান্তির সৃষ্টিই হতো না। আসলে সত্যি কথা বলতে এই সম্পূর্ণই মার্কেটিং টার্ম। অবশ্যই ৬৪ মেগাবিট/সেকেন্ড ইউনিট’টি দেখতে ৮ মেগাবাইট/সেকেন্ড থেকে অনেক আকর্ষণীয়। তারা ১২৫ কিলোবাইট/সেকেন্ড স্পীডকে বিটে প্রকাশ করার জন্য ১ মেগাবিট/সেকেন্ড লিখে প্রচার করতে পারে, অবশ্যই মানুষ কিলো থেকে মেগাতে বেশি আকর্ষিত হবে। এই জন্যই মূলত নেটওয়ার্কে ডাটা ট্র্যান্সফার করার ক্ষেত্রে সর্বদা বিট টার্মটিকে কাজে লাগানো হয়।

কিন্তু অপরদিকে, স্টোরেজ ক্যাপাসিটি বা ফাইল সাইজ মাপার সময় সর্বদা বাইট ইউনিট টার্মটি ব্যবহার করা হয়, যেমন- ৫০০ গিগাবাইট হার্ড ড্রাইভ বা ১০০ মেগাবাইট ফাইল সাইজ। কিন্তু আবার যখনই ইন্টারনেট কানেকশনের কথা চলে আসবে তখনোই ১০০ মেগাবিট, এরকম টার্ম ব্যবহার হওয়া শুরু হয়ে যায়।সত্যি বলতে মডার্ন কম্পিউটার আর নেটওয়ার্কিং সিস্টেম চালুর প্রথম থেকেই আমরা বিট/সেকেন্ড হিসেবে ইন্টারনেট স্পীড পরিমাপ করে আসছি, আর সেই খাতিরেই হোক বা মার্কেটিং টার্মের জন্যই হোক, আজকের আইএসপিরা এখনো বিট/সেকেন্ড টার্মটিই ব্যবহার করে। কিন্তু যদি আপনি Mbps আর MBps এর মধ্যে ছোট হাতের বা বড় হাতের “বি” লক্ষ্য করেন, সহজেই বুঝতে পাড়বেন এটি বিট না বাইট!


ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার থেকে আপনি 5 Mbps কিনুন আর 10 Mbps কানেকশন কিনুন, কখনোই আপনি একেবারে কাটায় কাটায় ঠিক স্পীড পাবেন না, কখনো স্পীড কম বা কখনো সঠিক, এরকমভাবে স্পীড পাবেন। এজন্যই দেখে থাকবেন আইএসপিরা “UP To” এই টার্মটি ব্যবহার করে থাকে। মানে তারা এটা বলছে না আপনাকে ৫ মেগাবিট/সেকেন্ড স্পীড দেবেই, বরং তারা এটা বলছে, ঐ প্যাকেজ থেকে আপনি সর্বচ্চ ৫ মেগাবিট/সেকেন্ড পর্যন্ত স্পীড পেতে পারেন। এখন আপনার লোকেশন আইএসপি থেকে কতোদূরে, কতোগুলো ইউজার একই লাইন ব্যবহার করছে, আইএসপি তাদের সার্ভিস কতো ভালোভাবে মেন্টেইন করছে, এগুলোর উপর নির্ভর করে আপনি কতোটা স্পীড পাবেন সেটা নির্ণীত হয়।

তো আপনি আইএসপি থেকে কানেকশন নিয়েছেন 1 Mbps কিন্তু ডাউনলোড করার সময় পাচ্ছেন, 0.125 MB/s বা 125 KBps; তাহলে এখন আর বিচলিত হওয়ার দরকার নেই, কেনোনা আপনি এই আর্টিকেল থেকে জানলেন, আসলে সম্পূর্ণ ব্যাপারটি বিট আর বাইটের ফ্যাক্টর। যদি আপনার কোম্পানি ভালো হয়ে থাকে, অবশ্যই ব্যান্ডউইথ থ্রটলিং ছাড়ায় আপনাকে ভালো স্পীড প্রদান করবে। যদি আপনি কাঙ্ক্ষিত স্পীড পেতে ব্যার্থ হোন, আপনার ইন্টারনেট স্পীড বাড়িয়ে নিন — এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

ইমেজ ক্রেডিটঃ By alphaspirit Via Shutterstock | By boscorelli Via Shutterstock

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

স্যাটেলাইট ফোন : কিভাবে কাজ করে? এর সুবিধা-অসুবিধা কি? [বিস্তারিত!]

Previous article

ডাইরেক্টএক্স (DirectX) ও ডট নেট ফ্রেমওয়ার্ক (.NET Framework) : কি এবং কেন দরকার হয়?

Next article

You may also like

5 Comments

  1. nice article.
    Thanks vai..

  2. Awesome Explained!
    Very helpful for newbies.

  3. very much informative,

  4. মারাক্তক ????

  5. খুব ভালো লাগলো। সুন্দরভাবে উপস্থাপনা বুজতে সহজ হলো। ধন্যবাদ ভাইয়া।

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *