ভিডিও রেজুলেশন : এইচডি, ফুল এইচডি এবং ৪কে! [বিস্তারিত ব্যাখ্যা]

ভিডিও রেজুলেশন : এইচডি, ফুল এইচডি এবং ৪কে

আপনি যদি মার্কেটে একটি মডার্ন টিভি কিনতে যান, আপনি বিভিন্ন টিভির গায়ে বিভিন্ন ধরনের স্টিকার দেখবেন যেখানে তাদের স্পেসিফিকেশন লেখা থাকে। কোন কোন টিভিতে দেখবেন লেখা থাকবে এইচডি টিভি এবং কোন কোনটিতে থাকবে Full HD। আবার কোন কোন টিভিতে দেখবেন বিভিন্ন ধরনের ডিসপ্লে রেজুলেশন লেখা থাকবে। যেমন- ৭২০পি, ১০৮০পি এবং কোন কোনটিতে থাকবে ৪কে। আপনি কোন ভিডিও দেখার সময়ও এই ধরনের বিভিন্ন ধরনের রেজুলেশনের ব্যাপার লক্ষ্য করতে পারবেন। বিশেষ করে ইউটিউবে কোন ভিডিও দেখার সময় আপনি ভিডিওর কোয়ালিটি সেটিংসে এই ধরনের অনেকরকম রেজুলেশন চয়েজ দেখতে পাবেন। সরবনিম্ন ১৪৪পি থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০৮০পি বা ৪কে বা ইভেন অনেকসময় ৮কেও দেখতে পাবেন। কিন্তু এসব এইচডি, ফুল এইচডি এবং পি যুক্ত রেজুলেশন আসলে কি? আজকে এসব রেজুলেশন নিয়েই আলোচনা করবো। প্রথমেই জানা যাক সবথেকে নিম্নমানের রেজুলেশন নিয়ে, যার নাম ১৪৪পি।

১৪৪পি,২৪০পি, ৩৬০পি ও ৪৮০পি 

১৪৪পি রেজুলেশনকে আমরা সাধারনত সবথেকে খারাপ বা সবথেকে নিম্নমানের রেজুলেশন হিসেবে চিনি। ইউটিউবে ভিডিও প্লে করলে আপনি এটি মিনিমাম রেজুলেশন হিসেবে দেখতে পাবেন। কিন্তু বর্তমানে এই রেজুলেশনের কোন ডিসপ্লে বা কোন ভিডিও বা কোন ধরনের কনটেন্ট আপনি অনেক খুঁজলেও হয়ত কোথাও পাবেন না। কারণ, একটি ১৪৪পি এর ভিডিওতে বা কন্টেন্টে ডিটেইলের যথেষ্ট ঘাটতি থাকে। এখানে উল্লেখ্য, ভিডিও রেজুলেশন এর নামের পাশের এই “P” দ্বারা প্রোগ্রেসিভ (Progressive) বোঝানো হয়। টেকনিক্যালি বলতে হলে ১৪৪পি ডিসপ্লে বা ১৮৮পি ভিডিওর ডাইমেনশন হচ্ছে ২৫৬ X ১৪৪ পিক্সেল। ১৪৪পি এর একধাপ উপরের রেজুলেশন হচ্ছে ২৪০পি। ২৪০পি রেজুলেশনের কোন কন্টেন্টও এখন খুব বেশি দেখা যায়না। এটির ডাইমেনশন হচ্ছে ৩২০X২৪০। তার ওপরে যে রেজুলেশনটি আছে তা হচ্ছে ৩৬০পি। এটির ডাইমেনশন হচ্ছে ৪৮০X৩৬০। এটির কোয়ালিটি ২৪০পি এর থেকে আরও একটু ভালো।

এটার পরে যে রেজুলেশন আছে তা হচ্ছে ৪৮০পি। এটিকে SD বা স্ট্যান্ডার্ড ডেফিনেশন ভিডিও বলা হয়ে থাকে। এটির ডাইমেনশন হচ্ছে  ৮৫৪X৪৮০। ১৪৪পি এবং ২৪০পি ও ৩৬০পি এর থেকে ৪৮০ পি এর ভিডিও অনেক বেশি শার্প এবং অনেক বেশি দেখার যোগ্য। মুলত ১৪৪পি,২৪০পি এবং ৪৮০পি এগুলো হাই ডেফিনেশন ভিডিও নয়। হাই ডেফিনেশন ভিডিও শুরু হয় ৪৮০পি এর পরে থেকে। কিন্তু এই রেজুলেশন যত বেশি হয়, ভিডিও তত বেশি শার্প কেন হয়? তার কারণ হচ্ছে ভিডিওতে একটি ফ্রেমে থাকা ডিটেইলস এর পরিমান। যেমন, ১৪৪পি এর ভিডিওতে একটি সিঙ্গেল ফ্রেমে সবসময় ১৪৪ টি আনুভূমিক লাইন থাকবে। তেমনি ২৪০পি এর ভিডিওতে একটি সিঙ্গেল ফ্রেমে সবসময় ২৪০ টি আনুভূমিক লাইন থাকবে এবং ৩৬০পি এবং ৪৮০পি এর ক্ষেত্রেও তাদের রেজুলেশন অনুযায়ী লাইন থাকবে। আর, একটি ভিডিওর একটি সিঙ্গেল ফ্রেমে একবারে যত বেশি লাইন থাকবে, ভিডিওটিতে তত বেশি ডিটেইলস থাকবে এবং ভিডিওটি তাই তত বেশি শার্প হবে।

ভিডিও রেজোলিউশান

৭২০পি ও ১০৮০পি (এইচডি এবং ফুল এইচডি)

ভিডিও রেজুলেশন এর মধ্যে এইচডি রেজুলেশন শুরু ৭২০পি এর থেকেই। ৭২০পি ভিডিওতেও আগের ফর্মুলা অনুযায়ী একটি সিঙ্গেল ফ্রেমে ৭২০ টি আনুভূমিক লাইন থাকে যার ফলে ৭২০পি রেজুলেশন এর ভিডিও এর থেকে নিম্নমানের রেজুলেশন এর ভিডিওর তুলনায় বেশি শার্প হয়। ৭২০পি ভিডিওর ডাইমেনশন হচ্ছে ১২৮০X৭২০। অর্থাৎ এর একটি সম্পূর্ণ ফ্রেমে হরিজোন্টালি ১২৮০ টি পিক্সেল এবং ভার্টিক্যালি ৭২০ টি পিক্সেল থাকে। এই রেজুলেশনটিকে স্ট্যান্ডার্ড এইচডি রেজুলেশন বলা হয়ে থাকে। আর ১০৮০পি কে বলা হয় ফুল এইচডি রেজুলেশন। একটি১০৮০পি রেজুলেশন এর ভিডিওর ডাইমেনশন হচ্ছে ১৯২০X১০৮০। অর্থাৎ একটি সম্পূর্ণ ফ্রেমে হরিজোন্টালি ১৯২০ টি পিক্সেল এবং ভার্টিক্যালি ১০৮০ টি পিক্সেল থাকে। এটিকে কোয়াড এইচডি এবং একইসাথে ২কে ডিসপ্লে বা ২কে রেজুলেশনও বলা হয়ে থাকে। কেন ২কে বলা হয়? কারণ, ১০৮০পি ভিডিও বা ১০৮০পি ডিসপ্লের ডাইমেনশন হচ্ছে ১৯২০X১০৮০। অর্থাৎ এই ডিসপ্লতে হরিজোন্টালি ১৯২০ টি পিক্সেল এবং ভার্টিক্যালি ১০৮০ টি পিক্সেল থাকে। আর K বলতে আমরা বুঝি হাজার। রেজুলেশনের ক্ষেত্রে K দ্বারা বোঝানো হয় ১ হাজারটি হরিজোন্টাল পিক্সেলকে। ফুল এইচডিতে হরিজোন্টালি ১৯২০ টি পিক্সেল থাকে যেটি প্রায় ২০০০ টি পিক্সেলের সমান। তাই এটিকে অনেকক্ষেত্রে ২কে ডিসপ্লে বা ২কে রেজুলেশনও বলা হয়ে থাকে (2K =2000 Pixels)। এই রেজুলেশন এর ভিডিওতে ৭২০পি এর থেকে আরও বেশি ডিটেইলস থাকে এবং ভিডিওটি আরও বেশি ক্লিয়ার, শার্প এবং সর্বোপরি আরও বেটার হয়ে থাকে। কারণ, একটি সিঙ্গেল ফ্রেমে একসাথে যত বেশি পিক্সেল থাকতে পারবে, ভিডিওটি তত বেশি শার্প হবে এবং ভিডিওটির ডিটেইলস তত বেশি ক্লিয়ার হবে। নিচের ছবিদুইটি লক্ষ্য করুন।

ভিডিও রেজোলিউশান

ভিডিও রেজোলিউশান

২১৬০পি (৪কে)

এটি হচ্ছে বর্তমানে সাধারন মানুষের জন্য সবথেকে উচ্চমানের এবং সবথেকে হাই ডেফিনেশন কন্টেন্টের রেজুলেশন। কারণ, কনজিউমার লেভেলে এর থেকে বেশি রেজুলেশনযুক্ত খুব বেশি ডিসপ্লে সেল করা হয় না। যেগুলো সেল করা হয় সেগুলো খুব কম মানুষই কেনার ক্ষমতা রাখে। আপনার ইন্টারনেট স্পিড অনেক ভালো হলে আপনি ৪কে ভিডিও স্ট্রিম করতে পারবেন। কিন্তু আপনার কাছে যদি ৪কে ডিসপ্লে না থাকে তাহলে আপনি ভিডিওটির অরিজিনাল রেজুলেশন উপভোগ করতে পারবেন না কখনোই। ৪কে ভিডিওর টেকনিক্যাল ডাইমেনশন হচ্ছে ৩৮৪০X২১৬০। অর্থাৎ ৪কে ভিডিওর একটি সিঙ্গেল ফ্রেমে ৩৮৪০ টি আনুভূমিক লাইন থাকে। আবার, পিক্সেলের দিক থেকে, ৪কে ভিডিওতে এবং ৪কে ডিসপ্লেতে হরিজোন্টালি ৩৮৪০ টি পিক্সেল এবং ভার্টিক্যালি ২১৬০ টি পিক্সেল থাকে। এখানেও হরিজোন্টালি ৩৮৪০ টি পিক্সেল থাকে যা প্রায় ৪০০০ টি পিক্সেলের সমান। তাই এই একই কারনে এটিকে 4K ভিডিও বা 4K ডিসপ্লে বলা হয় (4K=~ 4000 Pixels)। একটি সিঙ্গেল ফ্রেমে এত বেশি পিক্সেল থাকার কারণে ৪কে ভিডিও ২কে এবং অন্যান্য সব রেজুলেশন এর থেকে অনেক বেশি শার্প এবং সর্বোপরি অন্যদের থেকে অনেক বেটার।

ভিডিও রেজোলিউশান

৪কে এর থেকেও আরও বেশি রেজুলেশনের ভিডিও এবং ডিসপ্লেও আছে। কিন্তু সেগুলোর মধ্যে ৯০% সাধারন কনজিউমারদের কাছে এভেইলেবল নয়। যেমন, এলজি এবং আরও কয়েকটি ম্যানুফ্যাকচারার ৮কে রেজুলেশনযুক্ত ডিসপ্লেও তৈরি করেছে যেগুলোটে ন্যাটিভলি ৮কে কন্টেন্ট উপভোগ করা যাবে। কিন্তু সেগুলো এখনও সাধারন মানুষের জন্য এভেইলেবল নয় এবং আমাদের দেশে সেসব ডিসপ্লে ব্যাবহার করার মত বা কেনার মত কনজিউমারও অনেক কম। যাইহোক, সবশেষে প্রত্যেকটি ডিসপ্লে রেজুলেশন নিয়ে তৈরি করা নিচের চার্টটি দেখতে পারেন।

রেজুলেশনডাইমেনশন
১৪৪পি২৫৬ X ১৪৪
২৪০পি৩২০X২৪০
৩৬০পি৪৮০X৩৬০
৪৮০পি৮৫৪X৪৮০
৭২০পি (এইচডি)১২৮০X৭২০
১০৮০পি (ফুল এইচডি)১৯২০X১০৮০
১৪৪০পি২৫৬০X১৪৪০
২১৬০পি (৪কে)৩৮৪০X২১৬০
৪৩২০পি (৮কে)৭৬৮০X৪৩২০

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image Credit : Shutterstock.Com & Pixabay.Com

সিয়াম
অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....