ইউআরএল কি এবং ওয়েব কন্টেন্ট দেখাতে এটি কিভাবে কাজ করে?

3D illustration- mouse arrow pointing the url in the web browser address bar

আপনি যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আপনি অবশ্যই ইউআরএল ইউজ করেছেন বা ইউআরএল লিখেছেন। যদি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন বললে  ভুল হবে। কারণ, ইন্টারনেট ব্যবহার না করলে আপনি ওয়্যারবিডি ভিজিট করতে পারতেন না এবং এই আর্টিকেলটি পড়তেও পারতেন না। ওয়্যারবিডি ভিজিট করার জন্যও আপনাকে প্রথমে ব্রাউজারের এড্রেস বারে ওয়্যারবিডিের ইউআরএল টাইপ করতে হয়েছে। এই ইউআরএলই হচ্ছে যেকোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার প্রথম স্টেপ এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ স্টেপ। কিন্তু কিভাবে কাজ করে এই ইউআরএল? ইউআরএল এর প্রত্যেকটি অংশ কি নির্দেশ করে এবং কোন অংশের কাজই বা কি? আজকে ইউআরএল এর এইসকল বিষয় নিয়েই ছোট করে আলোচনা করবো। প্রথমেই জানা যাক,

ইউআরএল কি এবং কিভাবে কাজ করে?

এটি অবশ্যই আমরা  সবাই জানি যে, ইউআরএল (URL) কোন বাংলা শব্দ নয়। URL এর সম্পূর্ণ অর্থ হচ্ছে, Uniform Resource Locator। আপনি যদি একটি ইউআরএল বা একটি ওয়েবসাইটের এড্রেসের দিকে ভালভাবে লক্ষ্য করেন তাহলে আপনি দেখবেন যে এটির মুলত তিনটি অংশ আছে। প্রথমটি হচ্ছে HTTP অথবা HTTPS এবং এরপরে মুলত থাকে ওয়েবসাইটটি বা ওয়েব সার্ভিসটির নাম এবং তারপরে থাকে তার ডোমেইন নেম। আপনি কোন ওয়েবপেইজ ভিজিট করার সময় আপনার ব্রাউজারের এড্রেস বারটি লক্ষ্য করলে ওই ওয়েবপেইজের ওই মুহূর্তের বা ওই কারেন্ট পেজটির ইউআরএল দেখতে পাবেন।

অনেকসময় ইউআরএলটি হয় অনেক সহজ। যেমন- https://wirebd.com বা https://microsoft.com ইত্যাদি এবং অনেকসময় আপনি ইউআরএল এর মধ্যে দেখবেন আরও অনেক ধরনের এলিমেন্টস আছে যেগুলোকে আমরা বলি স্পেশাল ক্যারেক্টারস। যেমন- ?/\<>#%^ ইত্যাদি। এই ধরনের ইউআরএল তৈরি হয় যখন আপনি ওয়েবপেইজটির ভেতরের কোন সাব ক্যাটাগরিতে বা ভেতরের কোন সাব ফোল্ডারে প্রবেশ করেন অথবা কোন লগিন পেজ অ্যাক্সেস করেন অথবা এই ধরনের ওয়েবপেইজটির অ্যাডভান্সড লেভেলের কিছু অ্যাক্সেস করেন। সেগুলোর ব্যাপারে পরে আসা যাবে। আগে জানা যাক HTTP এবং HTTPS কি যেগুলো যেকোনো ইউআরএল এর প্রথমে থাকে। এগুলোও অবশ্যই একটি বড় ইংরেজি টার্মের সংক্ষিপ্ত রূপ। HTTP এর পূর্ণরূপ হচ্ছে, Hyper Text Transfer Protocol। এটি মুলত কয়েকটি কমান্ডের সেট যেগুলো কোন একটি ওয়েবপেইজের বা ওয়েব সার্ভারের ট্রান্সমিশন নিয়ন্ত্রন করে। আর যখন কোন ওয়েবপেইজের এড্রেসে HTTP এর জায়গায় HTTPS থাকে, তার মানে হচ্ছে ওই ওয়েব সার্ভারে ইন্টার করা আপনার যেকোনো ইনফরমেশন সেফ বা সিকিওরড বা Secured (S)।

ইউআরএল

কিন্তু এই HTTP ছাড়াও আরও অনেক ধরনের স্কিম আপনি কোন ইউআরএলের প্রথমে লক্ষ্য করে থাকবেন। যেমন, আপনি যদি কোন ইমেইল এড্রেসে কখনো ক্লিক করে থাকেন, তাহলে আপনি খেয়াল করবেন যে ব্রাউজারের এড্রেস বারের ইউআরএলটি HTTPS দিয়ে শুরু না হয়ে শুরু হচ্ছে MAILTO: দিয়ে। যেমন- mailto:[email protected] এবং সেক্ষেত্রে আপনার ইউআরএল আপনার ব্রাউজারকে নির্দেশ করছে যে এই ইমেইল এড্রেসে একটি ইমেইল পাঠাতে হবে। এবং আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, আপনি যদি ইউআরটিতে ক্লিক করেন, তাহলে ব্রাউজার সাথেসাথেই আপনাকে আপনার চয়েজ অনুযায়ী একটি মেইল ক্লায়েন্ট সিলেক্ট করতে বলবে যার সাহায্যে আপনি ওই ইমেল এড্রেসে একটি মেইল পাঠাতে পারেন। এছাড়াও আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন আপনি যদি আপনার আইএসপির এফটিপি সার্ভারে লগিন করে কোন মুভি বা অন্য কোন ফাইল ডাউনলোড করেন তখন যে ইউআরটি ব্রাউজারের এড্রেস বারে দেখতে পাবেন সেটির প্রথমে থাকবে FTP: যার অর্থ হচ্ছে File Transfer Protocol। যেমন- Ftp://172.43.34.76 ইত্যাদি। এই ইউআরএল এর প্রথমে FTP থাকার মানে হচ্ছে আপনি এই ইউআরটির সাহায্যে কোন একটি ওয়েব সার্ভার বা এফটিপি সার্ভার থেকে ফাইল অ্যাক্সেস করছেন।

এরপরে ইউআরএলের যে অংশটি দেখতে পাবেন সেটি হচ্ছে ওয়েবসাইটটির ডোমেইন নেম। সাধারনত আপনি খেয়াল করলে দেখবেন আপনি সাধারনত অধিকাংশ ওয়েবসাইটে তিন ধরনের ডোমেইন নেম দেখতে পাবেন। সবথেকে বেশি দেখতে পাবেন .COM ডোমেইন। এছাড়াও .ORG এবং .NET ডোমেইনও দেখতে পাবেন অনেক বেশি। এই ধরনের ডোমেইন নেমগুলোকে বলা হয় টপ লেভেল ডোমেইন। এই প্রত্যেকটি ডোমেইন নেম কিন্তু আবার ওই ওয়েবসাইটটির পেছনের সার্ভিসটির বা কোম্পানিটির টাইপ বা কোম্পানিটির উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করে। যেমন, .COM ডোমেইন নির্দেশ করে একটি ব্যাবসায়িক বা বাণিজ্যিক বা Commercial ওয়েব সার্ভিসকে (যেমন- Microsoft.com)। আবার .ORG ডোমেইন নির্দেশ করে একটি নন প্রোফিট অরগানাইজেশনকে (যেমন- Mozilla.org) ইত্যাদি। আবার .EDU নির্দেশ করে এডুকেশনাল বা শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটকে। আবার বিভিন্ন দেশের আবার নিজেদের কিছু স্পেশাল ডোমেইনও আছে যেগুলো নির্দেশ করে যে ওই ওয়েবসাইটটি বা ওই ওয়েব সার্ভারটি কন রিজিয়ন বেসড বা কোন দেশে অবস্থিত। যেমন, অ্যামেরিকার জন্য .US , ইংল্যান্ডের জন্য .UK , ইন্ডিয়ার জন্য .IN এবং বাংলাদেশের জন্য .COM.BD ইত্যাদি।

ইউআরএল

ডোমেইনের পরে আপনি যা দেখতে পাবেন একটি ইউআরএলে তা হচ্ছে ওয়েবসাইটের কোন সেকশন বা কোন কন্টেন্টের নাম স্পেশাল ক্যারেক্টার দিয়ে আলাদা করা। এই প্যারার নিচে দেওয়া স্ক্রিনশটটি লক্ষ্য করলে বা স্ক্রিনশটটির এড্রেস বারে লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন আমি কিসের কথা বোঝাতে চেয়েছি। এই ধরনের ইউআরএল নির্দেশ করে যে আপনি ওয়েবপেইজটির কোন সেকশনের কন্টেন্ট কারেন্টলি পড়ছেন বা ওয়েবসাইটের কোন সাবক্যাটাগরিতে আপনি আছেন। বিষয়টি আরেকটি উদাহরণ দিয়ে বোঝাই। আপনি যদি শুধুমাত্র ওয়্যারবিডিের হোমপেজ অ্যাক্সেস করেন, তখন আপনার ওয়েব ব্রাউজারের এড্রেস বারে আপনি যে ইউআরএল দেখতে পাবেন তা হবে https://wirebd.com । কিন্তু আপনি যদি ওয়্যারবিডিে কোন আর্টিকেল পড়ার জন্য লোড করেন, তাহলে আপনি ইউআরএল দেখতে পাবেন এমন একটি ফরম্যাটে- https://wirebd.com/article/article ID। যার মানে হচ্ছে, আপনি আমাদের ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির নির্দিষ্ট একটি কন্টেন্ট লোড করেছেন। এসময় ইউআরএলের প্রত্যেকটি / (স্ল্যাশ) চিহ্ন ওয়েব সার্ভারের প্রত্যেকটি সাব ফোল্ডারকে নির্দেশ করে যেখানে আপনার কাঙ্ক্ষিত কন্টেন্টটি লোকেটেড আছে। এই বিষয়টি অনেকটা পিসিতে উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারে ফাইল ব্রাউজ করার মত। এই ইউআরএল অনুযায়ীই আপনাকে ওয়েবসার্ভার থেকে বা ওয়েবসাইট থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত ফাইলটি বা কাঙ্ক্ষিত ইনফোটি দেখানো হয়। এছাড়াও আপনি অনেকসময় অনেক ওয়েবসাইটের ইউআরএলে ? মার্ক অর্থাৎ প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেখতে পাবেন। ইউআরএলের মধ্যে এটি তৈরি হয় যখন আপনি ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট একটি কন্টেন্ট সার্চ করে খুজে বের করেন। গুগলের সার্চ রেজাল্ট পেজের এড্রেস বারে লক্ষ্য করলে আপনি এমন প্রশ্নবোধক চিহ্ন দেখতে পারবেন। এই ধরনের ইউআরএল ফরম্যাট শুধুমাত্র ওয়্যারবিডি নয়, পৃথিবীর সব ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রেই একইভাবে কাজ করে। যেমন নিচে অ্যাপল ওয়েবসাইটের একটি স্ক্রীনশট দেওয়া হয়েছে।

ইউআরএল


তো এই ছিল ইউআরএল কি এবং ওয়েব কন্টেন্ট দেখাতে ইউআরএল কিভাবে কাজ করে তার ছোট একটি ব্যাখ্যা। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের আর্টিকেলটিও আপনাদের ভালো লেগেছে। কোন প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image Credit : Pixabay

সিয়াম
অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....