বর্তমান তারিখ:22 August, 2019

হিরেন্স বুট সিডি | শতশত কম্পিউটার সমস্যার একটিই সমাধান | বেস্ট সিস্টেম রেস্কিউ টুল!

হিরেন্স বুট সিডি

আমি জানি একজন কম্পিউটার ইউজারের কাছে এটা কতো বিরক্তিকর ব্যাপার, আপনি সকালে কম্পিউটার অন করতে চাচ্ছেন কিন্তু কম্পিউটার হঠাৎ করে বুট নিচ্ছে না, বা পিসি পারফর্মেন্স হঠাৎ খারাপ হয়ে গেছে, অথবা আপনি হার্ডওয়্যার ফেইলিউর চেক করতে চাচ্ছেন, সেক্ষেত্রে একটি ভালো সিস্টেম রেস্কিউ ডিস্ক আপনার দিনটিকে স্বাভাবিক বানাতে পারে। বিশ্বাস করুণ, হিরেন্স বুট সিডি (Hiren’s Boot CD) এই অবস্থায় আপনার মনে হবে ওয়ান ম্যান আর্মি টাইপের কোন টুল, আপনার কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভ ফেইল হলে, ভাইরাস ইনফেকশন, পাসওয়ার্ড রিকভারি, অ্যান্ড ডাটা রিকভারি — অল ইন ওয়ান টুল হচ্ছে এই হিরেন্স বুট সিডি!

হিরেন্স বুট সিডি

আপনি যদি আমার মতো হোন, মানে নিজের কম্পিউটার সমস্যা নিজেই ফিক্স করতে পছন্দ করেন, সেক্ষেত্রে এই হিরেন্স বুট সিডি আপনার কাজকে বহু পরিমানে সহজ করতে সক্ষম। আজকের সবচাইতে পপুলার এই সিস্টেম রেস্কিউ টুল যেটা ২০০৪ সালে প্রথম রিলিজ করা হয়, আর এই টুলের বহু সমস্যা একসাথে রিপেয়ার করার ক্ষমতা রয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই বুটেবল টুলকে প্রচণ্ড পছন্দ করি, বিশেষ করে এর সহজ ব্যবহার আর প্রচণ্ড ক্ষমতাকে। আর মানতেই হবে আজকের সবার কিং রেস্কিউ ডিস্ক হচ্ছে এই হিরেন্স বুট সিডি!

প্রথমে, এই বুট সিডি অফিশিয়াল সাইট থেকে জিপ ফাইল ডাউনলোড করে নিতে হবে, যেটা মোটামুটি ৬০০ মেগাবাইটের মতো। এবার জিপ ফাইলকে এক্সট্র্যাক্ট করে নিতে হবে। আপনাকে বুটেবল সিডি তৈরি করার জন্য কোন তৃতীয়পক্ষ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হবে, অথবা উইন্ডোজ বিল্ডইন ফিচার দিয়েই বুটেবল সিডি বার্ন করতে পারবেন।

তবে হ্যাঁ, অবশ্যই একটি ব্ল্যাঙ্ক ডিস্কও প্রয়োজনীয় হবে। সাথে আপনার কম্পিউটারে একটি সিডি বা ডিভিডি রাইটার, রীডার থাকতে হবে, এবং বুটমেন্যুতে সেটা এনাবল থাকতে হবে। আপনি যদি সিডি, ডিভিডির ঝামেলা না করতে চান, তো বুটেবল ইউএসবি বানিয়ে নিতে পারেন। আর আজকেরদিনে বুটেবল ইউএসবি কিভাবে বানাতে হবে সেট নিশ্চয় আপনাকে শিখিয়ে দেওয়ার দরকার নেই, তারপরেও না জানলে ইউটিউব বা গুগল সার্চ করে দেখুন, শতশত টিউটোরিয়াল পেয়ে যাবেন।

হিরেন্স বুট সিডি

এবার ইমেজটি আপনার সিস্টেমে বুট করার সাথে সাথে একটি বুট মেন্যু ডিসপ্লে করবে। যদি আপনার কম্পিউটারের ওএস ঠিকঠাক থাকে, তাহলে বুট ফ্রম হার্ডড্রাইভ করা বেস্ট হবে। যদি কম্পিউটারের ওএস এর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে মিনি উইন্ডোজ এক্সপি মুডে বুট করতে পারেন।

মিনি উইন্ডোজ এক্সপি

এই টুলটির এটাই সবচাইতে ভালো ব্যাপার, আপনি মিনি উইন্ডোজ এক্সপিতে বুট করতে পারবেন, যেটা ফুল কাজ করা একটি উইন্ডোজ এক্সপি এনভার্নমেন্ট। এখানে আপনি অনেক উইন্ডোজ এক্সপি টুল পেয়ে যাবেন, যেগুলো অরিজিন্যাল ওএস মতো করেই ব্যবহার করতে পারবেন।

মিনি উইন্ডোজ এক্সপি

সাথে আপনার কম্পিউটার ওএস যদি বুট না নেয়, আপনার যদি কোন ফাইল কপি পেস্ট করার থাকে, কিংবা ভাইরাস স্ক্যান করতে চান, এক্ষেত্রে এটা বেস্ট সলিউসন হিসেবে প্রমানিত হবে। এখানের বিস্তর উইন্ডোজ টুল গুলো ব্যবহার করে, প্রায় আপনি যেকোনো ধরণের প্রবলেম রিপেয়ার করে ফেলতে পারবেন।

আরো সুবিধার কথা কি জানেন, এই মিনি এক্সপি’তে থাকা কালীন সময়ে ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক বা ইথারনেট ক্যাবল যুক্ত করে আপনার পিসি’তে ইন্টারনেট পর্যন্ত সংযুক্ত করতে পারবেন, মানে কি দাঁড়ালো? আপনি অনলাইন থেকে যেকোনো ফাইল ডাউনলোড করতে পারবেন, যেকোনো কিছু আপডেট করতে পারবেন, আপনার ক্লাউড স্টোরেজে কোন ফাইল থাকলে সেটাকেউ ডাউনলোড করে কাজ করা সম্ভব হবে এই রিপেয়ার টুলটি ব্যবহার করে। তাছাড়া চিন্তা করে দেখুন এটি একটি লাইভ উইন্ডোজ সিডি বা ইউএসবি’র মতো। জাস্ট ডিস্ক বা ইউএসবি স্টিক ইন্সার্ট করিয়ে ফুল ফাংশান্যাল একটি ওএস পেয়ে যাবেন।

ডস প্রোগ্রাম

যদিও এটা মিনি এক্সপির মতো এতো বিশাল পরিমানে ব্যবহৃত হয় না, তবে বুট মেন্যু থেকে ডস প্রোগ্রাম পছন্দ করার মাধ্যমে অনেক ডস ভার্সনের অ্যাপ্লিকেশন রান করাতে পারবেন। এখানে হার্ড ড্রাইভ ডায়াগনস্টিক টুল, এবং আলাদা হার্ডওয়্যার ডায়াগনস্টিক টুল গুলোকে পেয়ে যাবেন, সাথে পার্টিশন অ্যান্ড ব্যাকআপ টুল, BIOS, মাস্টার বুট রেকর্ড (এমবিআর) এবং কিছু উপকারি সিস্টেম ফাইল টুল গুলোও এখানে পেয়ে যাবেন, যেগুলো অনেক বিপদের সময় আপনাকে উদ্ধার করতে পারে।

ডস প্রোগ্রাম

লিনাক্স বেইজড রেস্কিউ এনভার্নমেন্ট

এই বুট মেন্যুটি সিলেক্ট করার মাধ্যমে আপনি লিনাক্সের সবচাইতে জনপ্রিয় ডিস্ক পার্টিশন এবং ডাটা রিকভারি এনভার্নমেন্টের বুট করতে পারবেন। এটি মুল একটি ডিস্ক পার্টিশন এবং ডাটা ওয়াইপিং টুল, অনেক কোম্পানি এসএসডি ডাটা ওয়াইপ করার জন্য এই টুলকে রেকোমেন্ড করে থাকে। যখন হার্ড ড্রাইভের পার্টিশন বা ডাটা রিকভারির কথা আসে, লিনাক্স অবশ্যই উইন্ডোজের সবচাইতে বেস্ট অলটার্নেটিভ হিসেবে প্রমানিত হয়।

লিনাক্স বেইজড রেস্কিউ এনভার্নমেন্ট

মেমটেস্ট ৮৬+

এই টুলটিকে আপনার সিস্টেম মেমোরি ডায়াগনস্টিক করার জন্য ব্যবহৃত করা হয়। যদি আপনি বুঝতে পারেন বা আপনার খটকা লাগে, র‍্যামেই কোন সমস্যা রয়েছে, সেক্ষেত্রে সবার আগে এই টুলটি রান করা জরুরী হবে, এটা র‍্যাম এরর ডিটেক্ট করতে সাহায্য করবে।

তাছাড়া এই টুলটিতে আরো কিছু রেসকিউ টুল রয়েছে, যেমন উইন্ডোজ পাসওয়ার্ড রিমুভার, যেটা উইন্ডোজ ৭ পর্যন্ত পাসওয়ার্ড রিমুভ করে রিসেট করতে সাহায্য করে। কন-বুট টুলটি উইন্ডোজ লগঅন করার সময় পাসওয়ার্ড বাইপাস করতে সাহায্য করে। অনেক সময় অপারেটিং সিস্টেম বুট করার সময় NTLDR ফাইল মিসিং এরর শো করে। ফিক্স-NTLDR-মিসিং টুলটি সমস্যা হয়ে থাকা NTLDR ফাইলটি রিপেয়ার করে এবং NTLDR মিসিং এরর থেকে আপনাকে রক্ষা প্রদান করে।

হিরেন্স বুট সিডি দ্যা বেস্ট সিস্টেম রেস্কিউ টুল!

হিরেন্স বুট সিডির লেটেস্ট ভার্সন ১৫.২ রিলিজ হয়েছিলো ২০১২ সালে, মানে বুঝতেই পাড়ছেন এটি অনেক পুরাতন হয়ে গেছে। অফিশিয়াল ভাবে কোন নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়নি এটি উইন্ডোজ ১০ এ কাজ করবে কিনা, হয়তো সকল টুল ঠিকঠাক মতো কাজ করবে না আপনার সিস্টেমে, কিন্তু তারপরেও এটি অল-ইন-ওয়ান টুল, যার মধ্যে শত সমস্যার সমাধান রয়েছে। যেহেতু এটি ২০১২ সালের ভার্সন, তাই এতে লাইভ ভার্সন হিসেবে উইন্ডোজ আর লিনাক্সের পুরাতন এনভার্নমেন্ট দেখতে পাওয়া যায়, তবে আমি নিজে টেস্ট করে দেখেছি আর ৮০% সময় আমার কাছে বেশিরভাগ টুল ঠিকঠাক মতো কাজ করেছে।



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

আরো অনেক পিসি রেস্কিউ টুল বা ইউটিলিটি মার্কেটে রয়েছে, কিন্তু এর মধ্যে হিরেন্স বুট সিডি আমার সবচাইতে পছন্দের, এর সহজ ব্যবহার সিস্টেম আমার মন কেড়ে নিয়েছে। তো আপনি কি কখনো হিরেন্স বুট সিডি টুল ব্যবহার করেছেন? আপনার সিস্টেমে কি সমস্যা হয়েছিলো? নাকি আপনি আলাদা কোন সিস্টেম রেস্কিউ টুল ব্যবহার করেন? সবকিছু আমাদের নিচে কমেন্ট করে জানিয়ে দিন।

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

9 Comments

  1. Salam Ratul Reply

    অনেক চমৎকার এবং উপকারী পোস্ট ভাইয়া। আমার খুব ভালো লেগেছে শিক্ষামুলক আর্টিকেলটি। ধন্যবাদ ভাইয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *