কম্পিউটার প্রসেসর i3, i5, i7 এর বৃত্তান্ত! আপনি কোনটা কিনবেন?

কম্পিউটার প্রসেসর i3, i5, i7 এর বৃত্তান্ত! আপনি কোনটা কিনবেন?

আমরা যখনই নতুন ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ কেনার কথা ভাবি, তখনই মাথায় আসে কম্পিউটার প্রসেসর এর কথা। যে কোন প্রসেসরটি সবচাইতে ভালো হবে। কোর i3 না কোর i5 না কোর i7? যাইহোক, আশাকরি আজকের এই পোস্টটিতে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন আজ। দেখুন আমরা যখন ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ কিনি বা কিনতে যাই তখন বিভিন্ন প্রসেসর দেখতে পাই। যেমন, i3, i5, i7। শুধু কিন্তু তা না। এখানে আবার বিভিন্ন জেনারেশন এর কথা ও থাকে। যেমন, ৪র্থ জেনারেশন কিংবা ৫ম জেনারেশন।তো বুঝতেই পারছেন একের পর এক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার দরকার আছে। না হলে সব গুলিয়ে যাবে। তাহলে শুরু করা যাক।


কম্পিউটার প্রসেসর এর জেনারেশন বৃত্তান্তঃ

কম্পিউটার প্রসেসরসবচেয়ে প্রথমে কম্পিউটার প্রসেসর এর জেনারেশন নিয়ে কথা বলি। ইনটেল প্রতি বছর নতুন জেনারেশন মুক্তি প্রদান করে। এখন প্রশ্ন হলো যে এই জেনারেশন জিনিসটি কি? আসলে জেনারেশন হলো, ইনটেল প্রতি বছর যে প্রসেসর তৈরি করে তার উৎপাদন টেকনিক কতটা উন্নত এবং কতটা ছোট। আসুন বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার করে বোঝানোর চেষ্টা করি। একটি সাধারন প্রসেসর এর ভেতরে লক্ষ্য লক্ষ্য এবং কোটি কোটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ট্র্যান্সিস্টর (Transistor) লাগানো থাকে। ইনটেল প্রত্যেক বছরে অর্থাৎ প্রসেসর এর প্রতিটি নতুন জেনারেশন এ এই ট্র্যান্সিস্টর গুলো কতো বেশি ক্ষুদ্র করে বানিয়েছে তা প্রকাশ করে। কম্পিউটার প্রসেসর এর ট্র্যান্সিস্টর গুলো যত বেশি ক্ষুদ্র হবে ততো বেশি দ্রুত গতি সম্পূর্ণ হবে, ততো বেশি দক্ষ হবে এবং কম পাওয়ার ব্যবহার করবে।

বর্তমানে সবচাইতে আধুনিক কম্পিউটার প্রসেসর এর ট্র্যান্সিস্টর এর মাপ হলো ১৪ ন্যানো মিটারস। কয়েক বছর আগে ২০ ন্যানো মিটারস ছিল এবং বেশ কয়েক বছর আগে ২৮ ন্যানো মিটারস ছিলো, তার আগে ১০০, ১৫০ ইত্যাদি ছিলো। তো দেখতে পাচ্ছেন এই ট্র্যান্সিস্টর এর মাপ কয়েক বছরে ধিরে ধিরে কমতে কমতে আজকের এই ১৪ ন্যানো মিটারস এ পৌঁছিয়েছে।

এখন যদি আপনি আমাকে প্রশ্ন করেন যে, ৪র্থ জেনারেশন উত্তম না ৫ম জেনারেশন না ৬ষ্ঠ? দেখুন এতে কোনো সন্দেহ নেই যে যত আধুনিক জেনারেশন এর প্রসেসর হবে ঠিক ততোটাই উন্নত প্রসেসর হবে। কেনোনা সর্বাধুনিক জেনারেশন এর প্রসেসর এ ট্র্যান্সিস্টর সবচেয়ে ক্ষুদ্র হবে। এবং আমি আগেই বলেছি ট্র্যান্সিস্টর গুলো যত বেশি ক্ষুদ্র হবে ততো বেশি দ্রুত গতি সম্পূর্ণ হবে, ততো বেশি দক্ষ হবে এবং কম পাওয়ার ব্যবহার করবে। তাহলে সর্বাধিক কর্মক্ষমতা পাওয়ার জন্য সর্বাধুনিক জেনারেশন এর প্রসেসর ক্রয় করতে হবে এতে কোনো সন্দেহ নাই।

কম্পিউটার প্রসেসর i3, i5, i7

সাধারন ভোক্তা বাজারে ইনটেল প্রসেসরকে মোট তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ইনটেল কোর i3, ইনটেল কোর i5, এবং ইনটেল কোর i7। এখানে ইনটেল কোর i3 যে প্রসেসরটি আছে তা প্রাথমিক একটি প্রসেসর। এর নিজের যে প্রসেসর গুলো আছে যেমন: পেন্টিয়াম বা সেলেরন, এই প্রসেসর গুলো নিয়ে এখানে কথা বলবো না।

যাই হোক, এখন ইনটেল কোর i3 প্রসেসর এর কথা যদি আপনাকে বলি তাহলে, আপনি একটি Dual Core প্রসেসর পাবেন। সেটা আপনি ল্যাপটপ এর জন্য কিনুন কিংবা ডেক্সটপ এর জন্য। এতে আপনি Hyperthreading সক্রিয় পাবেন। এর ফলে আপনি আপনার ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ এ যে Operating System ব্যবহার করবেন সেই Operating System আপনার i3 প্রসেসরটিকে Hyperthreading সক্রিয় থাকায় Quad Core হিসেবে ব্যবহার করবে। এবং আপনি ভালো কর্মক্ষমতা উপভোগ করতে পারবেন। তাছাড়াও আপনি বাজারে  ইনটেল কোর i3 প্রসেসর এর আবার অনেক মডেল দেখতে পাবেন। যেমনঃ ৪১৩০, ৪২২০ ইত্যাদি।

এখন এই মডেল গুলো কি? এখন আলাদা আলাদা মডেল এর প্রসেসর এ আলাদা আলাদা Clock স্পীড দেখতে পাওয়া যাবে। এর মানে প্রসেসর এর যে ফ্রিকোয়েন্সি থাকে, মনে করুন ২.১ অথবা ২.৩ অথবা ২.৯, এই ফ্রিকোয়েন্সি এর পরিবর্তন মডেল গুলোর পরিবর্তন এর সাথে ঘটে থাকে। প্রসেসর এর মডেল, ফ্রিকোয়েন্সি ছাড়াও আরেকটি অংশ থাকে সেই অংশটিকে আমরা বলে থাকি ক্যাশ মেমোরি। এই ক্যাশ মেমোরির পরিমান একেবারেই ছোট হয়ে থাকে। কোনো প্রসেসর এর ক্যাশ মেমোরির ৩ এমবি হয় আবার কোনো প্রসেসর এর ক্যাশ মেমোরির ৬ এমবি হয়। তো এই ক্যাশ মেমোরির কি? আজ আমি ক্যাশ মেমোরির নিয়ে এখানে আলোচনা করছি না, কিন্তু খুব তাড়াতাড়ি ক্যাশ মেমোরির নিয়ে একটি পোস্ট লিখব আশা করছি। তবে এটুকু মনে রাখেন যে ক্যাশ মেমোরির যত বেশি, ততোই ভালো।

চলুন এবার কথা বলা যাক ইনটেল কোর i5 প্রসেসর নিয়ে। ল্যাপটপ এর সাথে যে ইনটেল কোর i5 প্রসেসর পাওয়া যায় সেটি হয় Dual Core এবং যে প্রসেসরটি ডেক্সটপ এর সাথে পাওয়া যায় সেটি হলো Quad Core। যদি ডেক্সটপ এর কথা বলি তবে এর মধ্যে Hyperthreading সক্রিয় থাকে না, কিন্তু ল্যাপটপ এ Hyperthreading সক্রিয় থাকে। অর্থাৎ আপনার ২ কোর এর প্রসেসরটিকে ল্যাপটপ এর Operating System ৪ কোর হিসেবে দেখতে ও ব্যবহার করতে পারবে। এখন এই যে প্রসেসর এটি ইনটেল কোর i3 থেকে ভালো, এতে আপনি বেশি ক্যাশ মেমোরি পাবেন এবং এর স্পীড ও বেশি হবে এবং এর যে কর্মক্ষমতা সেটিও ইনটেল কোর i3 প্রসেসর থেকে বেশি পাবেন।

ইনটেল কোর i7 প্রসেসরটি হলো বাজারের ভোক্তাগনদের জন্য সর্ব শ্রেষ্ঠ প্রসেসর। এটি তিন ভাবে পাওয়া যায়। সাধারন ল্যাপটপ এ Dual Core থাকে, উন্নত মানের ল্যাপটপ গুলোতে যেমন, ম্যাকবুক বা এলিয়েন ওয়্যার সিরিজের ল্যাপটপ গুলোতে Quad-Core থাকে এবং ডেক্সটপ গুলোতে Quad-Core বা Octa-Core থাকে। এই প্রসেসর এ Hyperthreading সক্রিয় থাকে। যাতে করে Operating System দিগুন কোর দেখতে পায়। এবং সে হিসেবে কাজ করে। ইনটেল কোর i7 প্রসেসর এ সর্বাধিক ক্যাশ মেমোরির দেখতে পাওয়া যায়। আপনি ৮ এম্বি পর্যন্ত ক্যাশ মেমোরির পেতে পারেন। আগেই বলেছি যে ক্যাশ মেমোরির যত বেশি, ততোই ভালো।

কম্পিউটার প্রসেসর, i3, i5, i7 কখন কোনটা আপনি ব্যবহার করবেন?

আপনি যদি একজন সাধারন ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন। যেমন ধরুন আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করতে চান কিংবা মাইক্রোসফট অফিস এর কাজ করবেন অথবা হালকা গেম খেলতে চান এবং সাথে মুভিজ, মিউজিক উপভোগ করতে চান তবে ইনটেল কোর i3 প্রসেসর আপনার জন্য ভালো হবে। আপনাকে অঝতা টাকা খরচ করে ইনটেল কোর i5 বা ইনটেল কোর i7 প্রসেসর কিনতে হবে না।

এখন আপনি যদি মধ্যম মাপের ব্যবহারকারী হোন। যেমন মনে করুন আপনি ফটো সম্পাদন করবেন অথবা বেশ কিছু মাল্টিটাস্ক করবেন তবে আপনার জন্য ইনটেল কোর i5 প্রসেসরটি ভালো হবে। তাছাড়া শুধু নাম দেখে প্রসেসর ক্রয় করা থেকে বিরত থাকবেন। প্রসেসর কেনার সময় এর মডেল দেখবেন, এর জেনারেশন দেখবেন, ক্যাশ মেমোরির ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করে তবেই প্রসেসর নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেবেন।

আগেই বলে রাখি আপনি যদি অনেক অগ্রসর ব্যবহারকারী না হয়ে থাকেন তবে ইনটেল কোর i7 প্রসেসর আপনার কোনো কাজের না। আপনি যদি হাই-কোয়ালিটি ভিডিও রেন্ডার করতে চান অথবা 3D রেন্ডার করতে চান কিংবা হাই-কোয়ালিটি গেমিং করার কথা ভাবেন, তাহলে শুধু তখনই কম্পিউটার প্রসেসর ইনটেল কোর i7 এর প্রয়োজন পরবে আপনার।

কম্পিউটার প্রসেসর এর জেনারেশন চেনার উপায়

কম্পিউটার প্রসেসর এর জেনারেশন প্রসেসরটির মডেল থেকেই চেনা যেতে পারে। প্রসেসর কেনার সময় এর জেনারেশন দেখে কেনাটা আবশ্যক তাই জেনারেশন চেনারও গুরুত্ব থাকে। মনে করুন একটি প্রসেসর এর মডেল ইনটেল কোর i7 ৭৭০ এবং আরেকটি প্রসেসর এর মডেল ইনটেল কোর i7 ৭৭০। এখানে প্রথম প্রসেসরটি ৪র্থ জেনারেশন এবং দ্বিতীয় প্রসেসরটি ৫ম জেনারেশন। লক্ষ করলে দেখতে পাবেন যে এর জেনারেশন সংখ্যা এর মডেল সংখ্যার প্রথম সংখ্যা। এভাবেই আপনি খুব সহজেই কম্পিউটার প্রসেসর এর জেনারেশন চিনতে পারবেন।


তো এই ছিল আজকের বিষয়। আশা করি আপনাদের পরিপূর্ণ ভাবে বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। এখন থেকে যখন বাজারে যাবেন আপনার ল্যাপটপ বা ডেক্সটপ কিনতে কিংবা বন্ধুরটি কিনতে, তখন আশা করি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। এবং আশা করি খুব ভালো ফলাফল পাবেন আপনার কাজের প্রতি। এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যয় শেয়ার করবেন। সাথে এই সাইটটি নিয়মিত ভিসিট করবেন, কেনোনা আমি প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয়ে লেখালেখি করি। তাই নিয়মিত ভিসিট করার অবশ্যই মূল্য রাখে। আপনাদের এই পোস্টটি কেমন লেগেছে তা নিচে কমেন্ট করে জানাবেন। সাথে কোনো প্রশ্ন থাকলে নির্দ্বিধায় জানাবেন। এই সাইটটির ইংরেজি সংস্করণ ও আছে তা আপনি চাইলে এখান থেকে দেখতে ও পড়তে পারেন। পরিসেসে সকলের শুভ কামনা করছি।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image: Shutterstock

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।