টেক চিন্তাপ্রযুক্তিমোবাইল

স্মার্টফোন ব্যবহার কি ক্যান্সার ঘটাতে পারে? | বিস্তারিত জানুন

17
স্মার্টফোন ব্যবহার কি ক্যান্সার ঘটাতে পারে?

বন্ধুরা আপনাদের সকলের মনে কখনো না কখনো অবশ্যই এই প্রশ্নটি এসেছে, যে স্মার্টফোন ব্যবহার করার ফলে কি ক্যান্সার হতে পারে? প্রশ্নটি মনে আসা অনেকটাই স্বাভাবিক। কেনোনা স্মার্টফোন একটি ওয়ারলেস টেকনোলজি এবং স্মার্টফোন ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিভ ওয়েভস এর ভিত্তিতে কাজ করে। তাই এই অবস্থায় আপনার অবশ্যই জানা প্রয়োজন যে সত্যিই স্মার্টফোন ক্যান্সার ঘটাতে পারে কি না। আজকের এই আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন, এবং আমি আজ আপনাদের এই প্রশ্নের উত্তরটি দিতে চলেছি।

আরো জানুনঃ

স্মার্টফোন রেডিয়েশন কি ক্যান্সার ঘটায়?

ক্যান্সার

স্মার্টফোন থেকে ক্যান্সার হয় কি না এই বিষয়ের উপর আমরা অনেক দিন যাবত বিভিন্ন গবেষণা করে আসছি। এই অবস্থায় একজন সাধারন ব্যবহারকারীর মনে একটি টার্ম বের হয়ে আসে, আর তা হলো রেডিয়েশন। আর রেডিয়েশনের নাম শুনতেই একজন সাধারন ব্যবহারকারী প্রায়ই ঘাবরিয়ে যায়, কে জানে কি ধরনের রেডিয়েশন, কি ধরনের তরঙ্গ, কে জানে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে করতে ক্যান্সার হয়ে যায় কি না। এই অবস্থায় একটি কথা মাথায় রাখুন। দেখুন হাঁ, এটি সম্ভব যে রেডিয়েশনের ফলে ক্যান্সার হতে পারে কিন্তু সকল ধরনের রেডিয়েশনের ফলে ক্যান্সার হয় না। এবং স্মার্টফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশনের ফলে কখনোয় ক্যান্সার হওয়ার সম্ভবনা নেই।

মোবাইল ফোনে ব্যবহার করা হয় রেডিও ফ্রিকুএন্সি ওয়েভস। এবং রেডিও ফ্রিকুএন্সি ওয়েভসে অনেক লো এনার্জি থাকে। আপনার মোবাইল অপারেটররা তাদের নেটওয়ার্কের এর জন্য যে ৭০০ মেগাহার্জ বা ৮০০ মেগাহার্জ বা ২০০০ মেগাহার্জ বা অন্যান্য আলাদা আলদা ব্যান্ডস ব্যবহার করে থাকে তা সবই  রেডিও ফ্রিকুএন্সি ওয়েভস এর উপর হয়ে থাকে। আর এই রেডিও ফ্রিকুএন্সি ওয়েভসে এমন ক্ষমতা থাকে না যা আপনার শরীরের কোন অংশের ক্ষতি সাধন করতে পারে।

স্মার্টফোন রেডিয়েশন কি ক্যান্সার ঘটায়?

ছবিঃ Mirion.com

রেডিয়েশন প্রধানত ২ ধরনের হয়ে থাকে। নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন এবং আয়োনাইজিং রেডিয়েশন। নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন কম ফ্রিকুএন্সির হয়ে থাকে এবং কম ফ্রিকুএন্সি মানে কম এনার্জি। কিন্তু রেডিয়েশনের ফ্রিকুএন্সি যতো বাড়ে এটি ততো বেশি এনার্জি সম্পূর্ণ হয়ে উঠে এবং হাই ফ্রিকুএন্সি রেডিয়েশনকে আয়োনাইজিং রেডিয়েশন বলা হয়। উপরের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন যে, পাওয়ার লাইনস, রেডিও এবং সেলফোন, মাইক্রোওয়েভস ইত্যাদি নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশনের মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ এগুলো কম ক্ষমতা সম্পূর্ণ এবং আপনার জন্য একদম ক্ষতিকর নয়। ক্ষতিকর রেডিয়েশন শুরু হয়ে থাকে আলট্রা-ভায়লেট রশ্মি থেকে। এবং এর উপর যে এক্সরে বা গামা রে আছে তা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু এগুলো এতো ক্ষতিকর কেন? চলুন এ বিষয়ে কিছু জ্ঞান নিয়ে নেওয়া যাক।

দেখুন, যেকোনো অ্যাটমের উপর কোন উৎস থেকে যদি অনেক উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ণ কোন ওয়েভস নিক্ষেপ করা হয় তবে উচ্চ ক্ষমতার কারণে ঐ অ্যাটম থেকে কিছু ইলেকট্রন বেড় হয়ে যেতে পারে। ইলেকট্রন বেড় হয়ে যাওয়ার কারণে ঐ অ্যাটমটি আয়োনাইজ হয়ে যায়। এবং ঐ তরঙ্গের ভেতর আয়োনাইজিং সক্ষমতা প্রমান পাওয়া যায়। এবং এই আয়োনাইজিং সক্ষমতা শুরু হয়ে থাকে আলট্রা-ভায়লেট রশ্মি থেকে এবং এর আরো উপরের উচ্চ ফ্রিকুএন্সির রেডিয়েশনে। আর এজন্য আমরা বলে থাকি যে বাহিরে সূর্যের আলো থেকে আলট্রা-ভায়লেট রশ্মি এসে আমাদের স্কিন ক্যান্সার ঘটাতে পারে, আলট্রা-ভায়লেট রশ্মি থেকে চোখের সমস্যা হতে পারে।

কিন্তু এর নিচের যেসব রেডিয়েশন আছে যেমন রেডিও এবং সেলফোন, মাইক্রোওয়েভস ইত্যাদি থেকে অনেক দূর দূরান্ত পর্যন্ত কোন ক্ষতির সম্ভবনা নাই। তো এখানে একটি কথা পরিষ্কার যে আপনার মোবাইল ফোন থেকে আপনার কোন প্রকারের ক্ষতি একদমই হবে না। আপনার ফোন ব্যবহার করতে করতে যদি আপনার মাথা ব্যাথা করে তবে অবশ্যই তা আপনার ফোনের জন্য নয় বরং হয়তো অন্য কোন কারণে তা হচ্ছে। অথবা আপনার যদি কোন প্রকারের অসুখও হয়ে থাকে, (আল্লাহ্‌ আপনাকে সুস্থ রাখুন 🙂 ) তো সেটার জন্য আপনার ফোন কোন ভাবেই দায়ী নয়।

আরেকটি কথা বন্ধুরা, বাজারে অনেক অ্যান্টি রেডিয়েশন চিপ কিনতে পাওয়া যায়। যারা বলে থাকে যে এটি আপনার ফোনের পেছনে লাগানোর ফলে আপনার ফোনের রেডিয়েশন কমে যাবে। আসলে এই সকল চিপ একদম অঝথা। এটি একদমই আপনার কেনার প্রয়োজন নেই। কেনোনা প্রথম কথা হলো ফোনের রেডিয়েশন থেকে আপনার একদমই সমস্যা নেই। এবং দ্বিতীয়ত যদি মনেও করি যে ফোন রেডিয়েশন থেকে সমস্যা হতে পারে তারপরেও শুধু কোন চিপ লাগানোর জন্য তা বাধা পেয়ে যাবে না। বরং চিপ লাগানোর ফলে রেডিয়েশনের মাত্রা আরো বেড়ে যেতে পারে। তো এই সকল অঝথা চিপ কখনো কিনবেন না। আপনি যেমন ভাবে আপনার ফোন ব্যবহার করছিলেন ঠিক তেমন ভাবেই করতে থাকুন, এতে কোন প্রকারের রোগ ব্যাধি আপনার সামনে আসবে না।

আজ পর্যন্ত যতো গুলো গবেষণা হয়েছে এই বিষয় নিয়ে তাদের প্রত্যেকটি গবেষণা সর্বশেষে এটিই বলেছে যে, মোবাইল ফোন থেকে কোন প্রকারের কোন ঝুঁকি একদমই নেই। মোবাইল ফোন ছাড়াও আমরা যদি কথা বলে থাকি ওয়াইফাই নিয়ে ব্লুটুথ নিয়ে বা মাইক্রোওয়েভ নিয়ে তবে এইসকল প্রযুক্তিও আপনার কোন প্রকারের ক্ষতি করে থাকে না। অনেকে আবার ওয়াইফাই নিয়ে অনেক প্রকারের ভয় মনে পুষে রেখেছেন। অনেকে বলে থাকেন যে ওয়াইফাই ক্ষতিকর কেনোনা এটি অনেক হাই এনার্জি ব্যবহার করে। গিগাহার্জ! ওয়াইফাই গিগাহার্জ ফ্রিকুএন্সি ব্যবহার করে। গিগাহার্জ মানে ১ সেকেন্ডে বিলিয়ন বার। তো এটি নিয়ে অনেকে ভাবে যে ওয়াইফাই সিগন্যালের কাছে থাকলে এটি আপনার শরীরের ক্ষতি করতে পারে। এরকম র‍্যায় আপনি নিজেও বানানোর আগে জেনে নিন যে ওয়াইফাই একটি নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন। আপনার ওয়াইফাই থেকে অনেক বেশি, প্রায় হাজার গুন বেশি রেডিয়েশন থাকে আপনার ঘরে জ্বলে থাকা বাল্বটিতে। তো আপনি যদি বাল্বের রেডিয়েশন নিয়ে চিন্তত না হয়ে থাকেন তবে কেন ওয়াইফাই রেডিয়েশন নিয়ে চিন্তা করছেন। আপনি জানেন কি সাধারন আলোতে টেরাহার্জ ফ্রিকুএন্সি থাকে। যেটি ওয়াইফাই ফ্রিকুএন্সি থেকে হাজার গুন বেশি।

সাধারন আলো থেকে রেডিয়েশন

শেষ কথা


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

শেষ কথা হলো এটাই যে, আপনি আপনার ফোন দিনে ১ ঘণ্টা ব্যবহার করুন আর ১০ ঘণ্টা, এতে আপনার কখনই কোন সমস্যা হবে না। ক্যান্সার হওয়া তো অনেক দুরের কথা। সারাদিন ওয়াইফাই ব্যবহার করুন আর যতো খুশি ইন্টারনেট আর ডাটা আদান প্রদান করুন, কখনই কোন সমস্যা হবে না। এই বিষয়টি তো আমি সুত্র অনুসারে বুঝিয়েই দিলামই এবং এটি বিজ্ঞানিক ভাবেও প্রমানিত হয়েছে যে, নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন থেকে আপনার শরীরের কোন প্রকারের ক্ষতি হওয়া সম্ভব নয়। আশা করছি আজকের এই পোস্টটি আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে, এবং সম্ভবত আপনার মনের কোনে বসে থাকা আসঙ্খাকেও দূর করতে সক্ষম হয়েছে। আমার মতে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি আলোচনা ছিল তাই দয়া করে পোস্টটি শেয়ার করে সকলকে জানিয়ে দিন। এবং যেকোনো প্রশ্নে বা মতামত জানাতে অবশ্যই কমেন্ট করুন।

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

ক্যামেরা, সেন্সর, অ্যাপারচার, লেন্স, ওআইএস, ফোকাস | ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত

Previous article

আপনার হার্ডড্রাইভ এর হারানো স্পেস গুলো যায় কোথায়? | বিশাল সমস্যার সমাধান

Next article

You may also like

17 Comments

  1. khub valo post. sotti bolte amio etodin mone kortam smartphone theke khoti hote pare. But aaj bisoyta clear hoye gelo. Thanks Vai.

    1. এখন থেকে আর চিন্তা করার কোন কারন নেই। 😀 কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ 🙂

  2. Nice Post 🙂

  3. Khub e sundor vabe bujhlam bisoyTi. Khub valo uposthapon korecen.

    1. সর্বদা সাথেই থাকবেন আশা করছি। ধন্যবাদ 😀

  4. ভালো লিখেছেন দাদা। অনেক কম ব্লগারকে দেখেছি, যারা সকল কমেন্টের উত্তর করে। আপনি সেরা দের সেরা।

    1. ভাই আপনারা আছেন তো আমি আছি, আপনারা নাই তো আমারও কোন দাম নাই। তাই সবসময়ই চাই আপনাদের সাথে মিলে মিশে থাকতে। কমেন্ট করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

  5. Great Post.. With great writing sense

  6. আপনাকে বিজ্ঞান শিক্ষক বানিয়ে দেওয়া উচিৎ। খুব ভালো হয়েছে।

    1. শিক্ষক হতে পাড়া অনেক সন্মানের কাজ। আপনি কমেন্টটি করে আমার সন্মান অনেক বাড়িয়ে দিলেন। আপনার প্রতিও রইল আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা। আশা করছি এভাবেই সাথে থেকে উৎসাহ দিতে থাকবেন। 🙂

  7. Khub bhalo post!! Sotti WiFi & Mobile niye bhoy chilo. Apni science er teacher er motoi sohoj kore bujhiye dilen. Accha bhai, Firefox or Chrome er moddhe kona best? Sunechi naki Chrome privacy issue ache? Aar apnar site (Let’s Encrypt) ei company theke SSL certified. Browser er SSL er padlock er opor click korle je technical information ase:-
    Connection Encrypted(TLS_ECDHE_RSA_WITH_AES_128_GCM_SHA256, 128 bit keys, TLS 1.2)

    etar maane ektu bolte parben? Encryption niye to post korechen ta theke kichu ta bujhte parchi tobe sobta na. Aaro sundor post er opekkhay thaklam.

    1. কমেন্ট করার জন্য ধন্যবাদ অনির্বান ভাই। আশা করছি আর মোবাইল আর ওয়াইফাই নিয়ে কোন ভয় থাকবে না।

      আসলে ফায়ারফক্স আর ক্রোমের মধ্যে কোনটা বেস্ট তা নির্ণয় করা একটু মুশকিল। বিভিন্ন ব্যবহারকারীর কাছে বিভিন্ন রকম মতবাদ এবং অভিজ্ঞতার কথা শুনতে পাওয়া যায়। তবে আমি বলবো আপনি যেটা ব্যবহার করে বেশি তৃপ্তি পাবেন, আসলে সেটাই বেস্ট। যদি এক্সটেনশন এর কথা বলি তবে উভয়েরই এক্সটেনশন মার্কেট অনেক বড়। প্রায় সকল প্রকার মেজর এক্সটেনশন উভয় ব্রাউজারের জন্যই রয়েছে। মোবাইল, পিসি, ম্যাক, লিনাক্স সবার জন্যই দুই ব্রাউজারই পাওয়া যায়। আবার দুই ব্রাউজারেই অ্যাকাউন্ট থেকে সিঙ্ক করার অপশন আছে। আপনি যে ডিভাইজেই থাকুন না কেন এক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে একই ব্রাউজার হিস্টরি, সেভ করা পাসওয়ার্ড, এক্সটেনশন ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন। বেঞ্চমার্ক রেজাল্ট এ কোনটাতে ফায়ারফক্স ভালো আবার কোনটাতে ক্রোম ভালো। তবে আমার কাছে ক্রোম বেশি ভালো মনে হয়। আমি ২০০৯ থেকে ফায়ারফক্স ব্যবহার করতাম। ফায়ারফক্স এর সবচেয়ে বড় অসুবিধা যার জন্য ফায়ারফক্স ব্যবহার করা বাদ দিয়েছি, তা হলো ফায়ারফক্স অনেক বেশি র‍্যাম ব্যবহার করে। সেখানে ক্রোম অনেক কম র‍্যাম ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া ক্রোমের পেজ রেন্ডারিং ফায়ারফক্স থেকে বেশি ভালো এবং দ্রুত মনে হয় আমার। আপনি জানতে চেয়েছেন ক্রোমে কোন প্রাইভেসি সমস্যা আছে কি না। আমি জানি না আপনি ঠিক কোন প্রাইভেসি সমস্যার কথা উল্লেখ করতে চেয়েছেন। তবে ক্রোম কিন্তু বেশির ভাগ সময় ভাইরাস আক্রান্ত সাইট, ফিসিং সাইট, হ্যাকিং সাইট, ইত্যাদি ব্লক করে রাখে। ফলে আপনি সহজেই সতর্ক হয়ে যেতে পারেন। তাছাড়া গুগলে সেফ সার্চ থেকে যা ব্লক করা থাকে সেই সাইট গুলো ভিসিট করতে চাইলে ক্রোম ওয়ারিং দেখায়। আমার কাছে সব দিক থেকে ক্রোম ভালো মনে হয়, তবে ফায়ারফক্স এ ও কোন সমস্যা নাই। শুধু বেশি মেমোরি খায় এটাই সমস্যা,।

      এখন কথা বলি আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন নিয়ে। আপনি “TLS_ECDHE_RSA_WITH_AES_128_GCM_SHA256, 128 bit keys, TLS 1.2” এর মানে বুঝতে চেয়েছেন। আমি আপনাকে বুঝাবার চেষ্টা করছি। দেখুন একটি সাইটকে SSL বা TLS এই দুই প্রোটোকল ব্যবহার করেই কিন্তু সিকিউর করা যায়। সাইট HTTPS ব্যবহার করার মানে হলো এই সাইটে আপনি যে তথ্যই প্রবেশ করিয়ে থাকুন না কেন, তা ইন্টারনেটে প্রচার হওয়ার আগেই ইঙ্ক্রিপ্ট হয়ে যায়। তারপর সার্ভারে গিয়ে ডিক্রিপ্ট হয়। লাইনটিতে TLS থাকার মানে এটি TLS অর্থাৎ Transport Security Layer ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক কানেকশন নিরাপত্তা প্রদান করে। প্রায় সকল ইন্টারনেট ব্রাউজার TLS এবং SSL উভয়ই সমর্থন করে থাকে। TLS 1.2 হলো TLS এর একটি স্ট্যান্ডার্ড। যেমন TLS 1.0, TLS 1.1, এবং TLS 1.2। এভাবে SSL এ ও স্ট্যান্ডার্ড আছে যেমন, SSL 3.0। যাইহোক ২য় তো লেখা আছে ECDHE_RSA। ECDHE এর পূর্ণ রুপ হলো Elliptic curve Diffie–Hellman। এটি Diffie Hellman অর্থাৎ DHE এর একটি আধুনিক ভার্সন। ECDHE একটি কী শেয়ার করা প্রটোকল বাবস্থা। যেটি আপনার ব্রাউজার এবং সার্ভারের মধ্যে একে অপরের সাথে তাদের পাবলিক কী শেয়ার করে থাকে। এবং এই সিস্টেমটি RSA অ্যালগোরিদম এ কাজ করে। RSA একটি ইনক্রিপশন সিস্টেম যেখানে ২ টি কী থাকে, পাবলিক এবং প্রাইভেট। পাবলিক এবং প্রাইভেট কী কীভাবে কাজ করে তা তো নিশ্চয় আপনি জানেন। এর পড়ে লেখা আছে WITH_AES_128। মানে ECDHE_RSA ইনক্রিপশন সিস্টেমটি আবার Advanced Encryption Standard এ কাজ করে। AES বিশেষ ভাবে ইউএস গভর্নমেন্ট ব্যবহার করে থাকে তাদের ডাটা গুলো সুরক্ষিত রাখতে। কিন্তু এখন এটি বিশ্ববাপি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। AES তিনটি ব্লকে ডাটা ইনক্রিপ্ট ডিক্রিপ্ট করে থাকে AES-128, AES-192 এবং AES-256. এখানে ১২৮ লেখা থাকা মানে এটি 128 ব্লকের অ্যালগোরিদমে কাজ করে। এর পরে লেখা আছে GCM_SHA256। এখানে GCM এর পূর্ণ রুপ Galois/Counter Mode। এটি একটি আধুনিক authenticated encryption সিস্টেম। যেটি ১২৮-বিট কী ব্লকে কাজ করে। শেষে আসে SHA256, এর মানে হল Secure Hash Algorithm 256. TLS প্রোটোকল মূলত সকল ডাটা গুলোকে একটি ম্যাসেজ রুপে ইনক্রিপ্ট করে থাকে। তো এই ম্যাসেজ রুপে ইনক্রিপ্ট করার গোপন তথ্য Secure Hash Algorithm এ জমা থাকে। আর ২৫৬ হল এর কী ব্লক। 128 bit keys মানে হলো এই সম্পূর্ণ ইনক্রিপশনটি ১২৮ বিট কী দিয়ে ইঙ্ক্রিপ্ট করা রয়েছে। ১২৮ বিট মানে ১২৮ টি আলাদা আলদা ভাল্যু।

      মনে হয় বিষয়টি একটু বেশিই কঠিন হয়ে গেলো! তবে আপনি প্রশ্নও করেছেন একটু অগ্রসর প্রকিতির 🙂 কিছু বুঝতে সমস্যা হলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন। ধন্যবাদ।

  8. Ore baba!! Matha bho bho korche. Erokom question majhe majhe mone hoy, jodio apni ja sohoj kore bojhalen tar tulona nei. Ekdin web security niye details ekta post korun na! Asole apnar moto ekjon teacher thakle onek kichu jante iccha kore. Aar apnar FB ID to jani na. Na hole roj question kore jalaton kortam.

    1. হাঁ, অবশ্যই ওয়েব নিরাপত্তা নিয়ে একদিন ইয়া লম্বা একটি পোস্ট করে ফেলবো। আর আমার ফেসবুক আইডি হলো – FB/borhan.azmin

  9. দেখুন বিজ্ঞান মনষ্ক মানুষের অবৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার ফলাফল
    http://www.bigganprojukti.com/wifi-dangerous-for-health/

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *