WireBD
Advertisements
Advertisements

বিটকয়েন সম্পর্কে ৫ টি ভুল ধারণা : এগুলো বিশ্বাস করা বন্ধ করুণ!

বিটকয়েন টার্মটি ছিল গত বছরে প্রযুক্তির দুনিয়ায় সবথেকে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। আমরা প্রায় সবাই কম-বেশি জানি এই বিটকয়েন এবং ক্রিপটোকারেন্সি সম্পর্কে। অনেকে হয়ত অনেক কিছুই জানি এই সম্পর্কে, আবার অনেকে শুধু জানি যে বিটকয়েন হচ্ছে খুব মূল্যবান একটি জিনিস যেটি নিয়ে প্রযুক্তির দুনিয়ার সবাই এখন আলোচনা করছে। কিন্তু যারা বিটকয়েন বা ক্রিপটোকারেন্সি সম্পর্কে মোটামুটি ভালো ধারণা রাখে, তারাও বিটকয়েন সম্পর্কে কয়েকটি ভুল তথ্যে বিশ্বাস করে। আমি সবার কথা বলছিনা, তবে প্রায় ৭০% মানুষই বিটকয়েন সম্পর্কে এখনও কয়েকটি ভুল ধারণা রাখেন যেগুলো এখনই বিশ্বাস করা বন্ধ করা উচিৎ। আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় এটিই। আজকে এমন কয়েকটি বিটকয়েন গুজব বা মিথ নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো আপনার বিশ্বাস করা বন্ধ করা উচিৎ।

বিটকয়েন সম্পর্কে ৫ টি ভুল ধারণা


১. এসব ভুল ধারণার বিষয়টি শুরু করতে হলে প্রথমেই বলতে হয় বিটকয়েন সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের সবথেকে বড় ভুল ধারণার কথা। এখনও অধিকাংশ মানুষ যারা বিটকয়েন সম্পর্কে কম-বেশি জানেন, তাদের মধ্যে অনেকেরই ধারণা হচ্ছে, তারা কখনো বিটকয়েন কিনতে পারবেনা। কারণ, বিটকয়েন কিনতে হলে আপনাকে সর্বনিম্ন ১ বিটকয়েন কিনতে হবে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৫,০০০ ডলার এরও বেশি। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা। হ্যাঁ, আপনি বিটকয়েন কিনতে চাইলে আপনি চাইলে ১ বিটকয়েন এবং ১০ বিটকয়েন বা ২০ বিটকয়েন যত ইচ্ছা কিনতে পারেন। কিন্তু সর্বনিম্ন আপনাকে ১ বিটকয়েনই কিনতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আপনি চাইলে ০.১ বিটকয়েনও কিনতে পারবেন এবং চাইলে ০.০১ বা ০.০০১ পরিমাণ বিটকয়েনও কিনতে পারবেন। আপনি যদি ১ টি বিটকয়েন এর সমান দাম দিয়ে সম্পূর্ণ একটি বিটকয়েন কিনতে না পারেন, তাহলেও আপনি চাইলেই ১০০ ডলার বা এমনকি ১০-১৫ ডলার খরচ করে ০.১ বা ০.০০১ পরিমান বিটকয়েনও কিনতে পারবেন।

২. এবার আসি দ্বিতীয় ভুল ধারণার বিষয়ে। এই ভুল ধারণাটিও অনেকেই বিশ্বাস করেন। বিশেষ করে যাদের বিটকয়েন এবং এই সম্পূর্ণ ক্রিপটোকারেন্সি ইন্ডাসট্রি সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা নেই, তারাই এই ভুল ধারণাটি বিশ্বাস করে থাকেন। তাদের মধ্যে অনেকেই মনে করে থাকেন যে বিটকয়েনের দাম দিনদিন বাড়তেই থাকবে। কখনোই কমে যাবে না। কিন্তু এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। বিটকয়েনের প্রাইস প্রত্যেক মিনিট এবং অ্যাকিউরেটলি বলতে হলে প্রত্যেক ১/২ সেকেন্ডে চেঞ্জ হতেই থাকে। কিন্তু চেঞ্জ হয় মানেই যে দাম বেড়ে যায় এমনটা নয়। বিটকয়েনের দাম আগামীকালকে বেড়ে অনেক বেশিও হয়ে যেতে পারে এবং দাম কমে একেবারে সামান্যও হয়ে যেতে পারে। বিটকয়েনের দামের বিষয়টা অনেকটা স্টক মার্কেটের মত। বিটকয়েনের গত কয়েক মাসের প্রাইজ এর আপ-ডাউন দেখলেই বুঝবেন যে এই ধারণাটি আসলে কতটা ভুল। শুধুমাত্র ৩-৪ মাসের মধ্যেই বিটকয়েনের প্রাইস বেড়ে গিয়ে ২০ হাজার ডলারের কাছাকাছিও গিয়েছে এবং আবার ১ মাসের মধ্যে কমে গিয়ে ১১ হাজার ডলারও হয়ে গিয়েছে। তাই বিটকয়েনের দাম শুধুমাত্র বাড়তেই থাকবে এমন ভাবার কোন কারণ নেই।

বিটকয়েন

৩. বার আসি তৃতীয় ভুল ধারণার বিষয়ে। এটি সম্ভবত বিটকয়েন সম্পর্কে সবথেকে ভুল বড় ভুল ধারণা যেটি প্রায় ৮০% মানুষই বিশ্বাস করে এবং এখনো করছে। ভুল ধারণাটি হচ্ছে, বিটকয়েন ট্র্যানজেকশন কেউ কখনো ট্র্যাক করতে পারেনা। প্রায় ৮০% মানুষ যারা বিটকয়েন এবং ক্রিপটোকারেন্সি সম্পর্কে জানেন, তারা বিশ্বাস করেন যে, বিটকয়েনের সবথেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে এটি কবে কখন কে কার সাথে লেনদেন করছে তা অন্য কেউ কখনো ট্র্যাক করতে পারেনা বা জানতে পারেনা। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ সত্যি নয়। অনেকেই হয়ত একটি বিষয় জানেন না যে, বিটকয়েন এর প্রত্যেকটি লেন-দেন হচ্ছে পাবলিক। একজন যখন অন্য আরেকজনকে বিটকয়েন সেন্ড করে বা কেউ যখন বিটকয়েন রিসিভ করে, তখন এই সম্পূর্ণ ট্র্যানজেকশনটি ব্লকচেইনে ইন্টার করা হয় এবং ইন্টারনেটে সংযুক্ত  যেকোনো ব্যাক্তি এই ট্র্যানজেকশনগুলো দেখতে পারবে, যদিও সেখানে যারা বিটকয়েন লেন-দেন করেছে তাদের কোন নাম বা কন্টাক্ট ইনফরমেশন থাকবেনা। থাকবে শুধু যে দুটি বিটকয়েন ওয়ালেট ব্যাবহার করে তারা লেন-দেন করেছে সেই দুটি ওয়ালেট এর অ্যাড্রেস এবং তাতে থাকা বিটকয়েনের পরিমাণ। এই ইনফরমেশনগুলো সবসময়ই পাবলিক। কিন্তু, এদের মধ্যে কেউ একজন যদি তার বিটকয়েন ওয়ালেট ব্যাবহার করে অন্য কোথাও পণ্য কিনে থাকে বা বিটকয়েন ব্যাবহার করে কোথাও কোন স্টোরে পেমেন্ট করে থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই ট্র্যাক করা সম্ভব হবে। কোন দেশের সরকার যদি চায় কোন একটি বিটকয়েন ট্র্যানজেকশন ট্র্যাক করতে, তাহলে তারা শুধুমাত্র সাস্পেক্টদের বিটকয়েন ওয়ালেট অ্যাড্রেস নিয়ে ওই স্টোরে গিয়ে জানতে চাইতে পারে যে এই বিটকয়েন ওয়ালেট অ্যাড্রেস ব্যাবহার করে কে তাদের কাছ থেকে পণ্য কিনেছে। এটা জানতে চাইলেই স্টোরের ক্যাশিয়ার তাদের রেকর্ড চেক করে বলে দিতে পারবে যে কে এই পণ্যটি কিনেছে। বিষয়টি যদিও একটি কমপ্লিকেটেড, তবুও বিটকয়েন ট্র্যানজেকশন ট্র্যাক করা সরকারের কাছে খুবই সম্ভব, যদি তারা এই বিষয়ে যথেষ্ট রিসার্চ করে।

৪. এবার আসি বিটকয়েন সম্পর্কে মানুষের চতুর্থ ভুল ধারণার বিষয়ে। এই ভুল ধারণাটিও এখনো অনেকের মনেই আছে। এই ভুল ধারণাটি হচ্ছে বিটকয়েন মাইনিং নিয়ে। অনেকেই মনে করেন যে যেকোনো পিসিতেই বিটকয়েন মাইন করা যাবে এবং এটা লাভজনক হবে। কিন্তু এই ধারণাটিও ভুল। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, আপনি চাইলে যেকোনো পিসিতেই বিটকয়েন মাইন করতে পারবেন। কিন্তু সমস্যাটি হচ্ছে প্রোফিটেবলিটি নিয়ে। যেমন, আপনি যদি লো এন্ড সিপিইউ বা জিপিইউ ব্যাবহার করে বিটকয়েন মাইন করেন, তাহলে আপনি মাইনিং ঠিকই করতে পারবেন কিন্তু তা একেবারেই লাভজনক হবেনা। যেমন, আমাকে অনেকেই মেসেজ করে জিজ্ঞেস করে যে, ভাইয়া আমি কি ইন্টেল জিপিইউ ব্যাবহার করে বিটকয়েন মাইন করতে পারবো? উত্তরটা হচ্ছে, হ্যাঁ পারবেন কিন্তু দেখা যাবে যে মাস শেষে পিসির জন্য আপনাকে ৫০০ টাকা বেশি বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে, কিন্তু আপনি যেটুকু বিটকয়েন মাইনিং করছেন তার থেকে আপনি পাচ্ছেন ২০০ টাকা। সেখানে আপনার প্রায় ৩০০ টাকার মত লস হয়ে যাবে (উদাহরণস্বরূপ)। ঠিক এই কারনে অধিকাংশ পপুলার মাইনিং প্রোগ্রাম যেমন, NiceHash Miner তাদের প্রোগ্রামটি শুধুমাত্র হাই এন্ড জিপিইউ ব্যাবহারকারিদের জন্য লিমিটেড করে দিয়েছে।  তাই, যেকোনো সিপিইউ জিপিইউ ব্যাবহার করেই বিটকয়েন মাইন করতে পারবেন এবং সেটি লাভজনক হবে, এই সম্পূর্ণ বিষয়টি একটি ভুল ধারণা ছাড়া আর কিছুই না।

বিটকয়েন

৫. এবার বলি আজকের লিস্ট এর পঞ্চম ভুল ধারণার বিষয়ে। আমার মনে হয় বাংলাদেশের প্রায় ৯০% মানুষ যারা বিটকয়েন সম্পর্কে জানেন তাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষের এই ভুল ধারণাটি আছে। বাংলাদেশের অনেক মানুষ মনে করেন যে, ক্রিপটোকারেন্সি মানেই বিটকয়েন। আপনার যদি এমন ধারণা না থেকে থাকে, তাহলে আপনি বাকি ১০% এর মধ্যে। কিন্তু যদি এখনো এই ধারণা থেকে থাকে, তাহলে বলি, বিটকয়েন মানেই একমাত্র ক্রিপটোকারেন্সি নয়। বিটকয়েনের মত এমন অনেক অনেক ক্রিপটোকারেন্সি আছে যেগুলোর হয়ত নামও শোনেন নি কখনো। পৃথিবীতে বর্তমানে বিটকয়েনের মত এমন হাজারো রকমের ক্রিপটোকারেন্সি আছে। অবশ্যই এগুলোর মধ্যে বিটকয়েন সবথেকে বড় এবং সবথেকে জনপ্রিয়। তবে বিটকয়েন ছাড়াও আরও কয়েকটি জনপ্রিয় ক্রিপটোকারেন্সি রয়েছে। যেমন- ইথিরিয়াম, লাইটকয়েন, ডোজকয়েন, ড্যাশ ইত্যাদি। এগুলো ছাড়াও আরও অনেক অনেক ক্রিপটোকারেন্সি রয়েছে। অনেক ধরনের ক্রিপটোকারেন্সি রয়েছে যেগুলো কেউ কখনো কিনবেনা বা সংগ্রহ করবেনা বা কোন ভ্যালুও নেই, কিন্তু তবুও সেগুলোও বিটকয়েনের মতই ক্রিপটোকারেন্সি এবং সেগুলোর অস্তিত্ব রয়েছে।


সবশেষে বলতে চাই, এই আর্টিকেলটি এবং ওয়্যারবিডিে লেখা বিটকয়েন বিষয়ক অন্য সকল আর্টিকেল শুধুমাত্র শিক্ষামুলক উদ্দেশ্যে ব্যাবহার করুণ। বিটকয়েনকে বাংলাদেশ সরকার সমর্থন করেনা। তাই বিটকয়েন সম্পর্কিত সব ধরনের লেন-দেন করতে চাইলে শুধুমাত্র নিজ দায়িত্বে করুণ। কোন ধরনের আইনি জটিলতায় জড়ালে তার জন্য ওয়্যারবিডি কোনভাবেই দায়ী থাকবেনা।


তো এই ছিল বিটকয়েন এবং ক্রিপটোকারেন্সি নিয়ে ৫ টি ভুল ধারণা যেগুলো আপনার আজই বিশ্বাস করা বন্ধ করা উচিৎ। আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আজকের লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। ধন্যবাদ।

Image Credit : TyprographyImages Via Pixabay, BenjaminNelan Via Pixabay, QuinceMedia Via Pixabay

সিয়াম একান্ত

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

15 comments

    • খুব বেশি জমাতে পারিনি আপু। যখন বিটকয়েনের দাম এখনকার তুলনায় আরও কিছু কম ছিল, তখন জিপিইউ মাইনিং করেছিলাম। ওয়ালেটে প্রায় ৮০ ডলারের মত বিটকয়েন ছিল। কিন্তু কিছুদিন আগে যখন বিটকয়েনের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল, তখন উইথড্র করে নিয়েছিলাম। খুব সম্ভবত উইথড্র করে লাভই হয়েছিল। কারণ, এরপরেই বিটকয়েন এর দাম অনেক কমে যায়। আর এখন আর বিটকয়েন মাইনিং খুব বেশি প্রোফিটেবল না। তাই এখন আর মাইনিং করিনা। 🙂

  • সিয়াম একান্ত ভাইয়া অসাধারণ পোস্ট। আমার খুব ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ ভাইয়া।

    • সেটা অবশ্য ঠিক। বিটকয়েন আমাদের মত বাংলাদেশে থানা মানুষের জন্য না। কারণ, মাইনিং করা তো পরের কথা, ক্রিপটোকারেন্সি লিগালি লেন-দেন করাও যায়না আমাদের দেশে।

  • ekta request ase bhai…. 🙂 Logic gate niya article den…. onek eng site ghure matha bobo kortese bai.. apni koren or keu eta koruk ei site e. techubs cara vorosa nai keu. plxx bhai. AND, OR, NAND, etc explained koren..
    this article…….. as always.. “FATAFATI”

    • লজিক গেইট? আচ্ছা, মাথায় থাকবে ভাইয়া। ধন্যবাদ। 🙂

  • অসাধারণ আর্টিকেল ভাইয়া। অনেক উপভোগ করলাম। কিন্তু আপনি কথা দিয়েছিলেন যে ব্লকচেইন টেকনোলজি বাক্ষা করবেন? সেটা দ্রুত করলে ভালো হয়। আরেকটি বিষয় জানার ছিল ভাইয়া। সুপার কম্পিউটার ব্যবহার করে কি যেকোনো ইনক্রিপ্টেড কী ব্রেক করা সম্ভব?? আমি শুনেছি কোয়ান্টাম কম্পিউটার নাকি যেকোনো কী ব্রেক করতে পাড়বে? তাহলে সিকিউরিটি কি অবস্থা হবে? নাকি আলাদা অ্যালগরিদম ব্যবহার করবে তখম? অনুগরহ করে যাবেন।

    • হ্যাঁ ভাইয়া, লিখব ব্লকচেইন টেকনোলজি নিয়ে। এরপরের আর্টিকেলটিই ব্লকচেইন নিয়ে লেখার চেষ্টা করবো। আসলে, সত্যি কথা বলতে, সুপার কম্পিউটার ব্যাবহার করে এনক্রিপটেড কি ব্রেক করা যায় কিনা, এই বিষয়ে আমারও খুব বেশি আইডিয়া নেই। তাই বলতে পারছিনা।

সোশ্যাল মিডিয়া

লজ্জা পাবেন না, সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে টেকহাবসের সাথে যুক্ত হয়ে সকল আপডেট গুলো সবার আগে পান!