WireBD

বাজেট এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোন প্রিমো এনএইচ৩আই (Primo NH3i) ও প্রিমো জিএফ৬ (Primo GF6) রিভিউ!

বহু মানুষ আছেন তারা কেবল ওয়েব ব্রাউজিং, ইউটিউবে ভিডিও স্ট্রিমিং এবং সাধারন কলিং এর জন্য একটি স্মার্টফোন। আসলে তাদের জন্য একটি ভালো মানের এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোনই যথেষ্ঠ। এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোন বলা হয় সেইসব ফোনকে যেসব ফোনে কিছু সংখ্যক এডভান্স ফিচার থাকে এবং এই ফোনগুলো হাই এন্ড বা লো এন্ড স্মার্টফোনের স্কেলড ডাউন ভার্সন। এসব এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোন টার্গেট করা হয় এভারেজ স্মার্টফোন ইউজারদের জন্য, যাদের সাধারনত স্মার্টফোন বেশি কমপ্লেক্স কাজ নেই বা হয়ত বাজেট কম। অনেকের কেবল এন্ড্রয়েড এর কিছু ফাংশন ব্যবহার করার জন্য একটি ফোনের দরকার পরে, তাদের জন্য এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোন ভালো।

এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোনে সাধারনত খুবই বেসিক হার্ডওয়্যার ব্যবহার করা হয়,আবার একেবারে যে ব্যবহার করার মত না, তাও নয় কিন্তু মোটামোটি মানের হার্ডওয়্যার। এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোনে যদিও হাই এন্ড ফোনের মত ফিচার পাওয়া যায় না, তবে যা থাকে তা দাম অনুযায়ী ভালো। এসব স্মার্টফোনের মডেল হয় একদম বেসিক, আকর্ষনীয় তেমন কিছু দেখা যায় না।

আজ আমি ওয়ালটনের দুটি বাজেট এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোনের রিভিউ তুলে ধরব। অনেকে মনে করেন আমরা কেবল ওয়ালটনের রিভিউ করি কেন? এর উত্তর হল ব্যাক্তিগতভাবে আমার কাছে বাজেট ও একদম সাধ্যের মধ্যে বাংলাদেশী কোন ব্র্যান্ডের কিছু কিনতে চাইলে আমি ওয়ালটন প্রিফার করি। এবং আমি নিজেও ৭ হাজার টাকা দিয়ে ওয়ালটনের একটি স্মার্টফোন কিনে বেসিক ইউজার হিসেবে তা ২ বছর ব্যবহার করেছি, কোন সমস্যা ছাড়া। যাইহোক,আমরা আজ জানব প্রিমো এনএইচ৩আই এবং প্রিমো জিএফ৬ দুটি এনট্রি লেভেল স্মার্টফোন সম্পর্কে। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

প্রিমো এনএইচ৩আই

৬৭০০ টাকায় ওয়ালটনের অ্যান্ড্রয়েড ৭ নগাট সম্পন্ন বাজেট এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন এটি। স্মার্টফোনটির বক্সের ভিতরে যা যা পাওয়া যাবেঃ

  • স্বয়ং প্রিমো এনএইচ৩আই ডিভাইসটি
  • একটি ব্যাক কভার
  • ওয়ারেন্টি কার্ড
  • একটি ইউএসবি কেবল
  • একটি চার্জার এডাপ্টার
  • একটি হেডফোন

ডিসপ্লে এবং বডি

দাম অনুযায়ী প্লাস পয়েন্ট হল এর ডিসপ্লে। এই স্মার্টফোনে ব্যবহারকারীরা পাবে সম্পূর্ণ ৫.৫ ইঞ্চি আইপিএস ক্যাপাসিটিভ টাচ ডিসপ্লে। আইপিএস হওয়ার কারনে ভিউইং অ্যাঙ্গেল এর সমস্যা মোটামোটি থাকছে না। আর প্রোটেকশন হিসেবে থাকবে স্ক্র্যাচ প্রোটেকটিভ গ্লাস।


ডিভাইসটি ১৫৬ মিলিমিটার লম্বা এবং প্রসস্থ ৭৯ মিলিমিটার। ডিভাইসটি ৯.৩৫ মিলিমিটার পুরু এবং ব্যাটারিসহ এর ওজন ১৮০ গ্রাম প্রায়। সম্পূর্ণ প্লাস্টিক বডির ব্যাক সাইডে রিয়াল ক্যামেরা মডিউলটি দেখতে একটু আইফোন ১০ এর ক্যামেরা মডিউল এর মত। স্মার্টফোনটিতে রয়েছে বেশ কিছু টাচ জেস্চার যা ব্যবহাকারীদের বেশ সুবিধা দিবে। এই সম্পূর্ন ডিভাইসটির জন্য রয়েছে একটি ২৫০০ এমএএইচ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, যা সাধারন ব্যবহারে ১ দিন স্ক্রীন অনটাইম দিতে পারবে। ডিভাইসটির পেছনে রিমুভেবল ব্যাককভার রয়েছে এবং এর ব্যাটারিটিও রিমুভেবল।

ক্যামেরা

ডিভাইসটির সামনে পিছনে এলইডি ফ্লাসের সাথে রয়েছে ৫ মেগাপিক্সেল BSI সেন্সর যুক্ত ক্যামেরা। এখানে ক্যামেরা অ্যাপটিতে বেশ কিছু মোড এবং ক্যামেরা কন্ট্রোল ফিচার রয়েছে, যা দিয়ে ভালো মানের ছবি ক্যাপচার করা সম্ভব।

সামনের ৫ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরার সাথে পোট্রেট মোড ফিচার দেয়া হয়েছে। সামনে ফ্লাশ থাকার কারনে অনেকের ভিডিও চ্যাট ও সেলফি তোলার সময় সুবিধা হবে। সামনে পিছে দুই ক্যামেরাই ১০৮০*১৯২০ রেজুলেশনে ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করতে সক্ষম।

ক্যামেরা স্যাম্পল

অনেকে বলেন BSI সেন্সর কি তাদের জন্য, BSI সেন্সর এর পূর্নরূপ হচ্ছে ব্লাক-ইলুমিনেটেড সেন্সর। একে ব্যাকসাইড ইলুমিনেশন বা বিআই’ও বলা হয়ে থাকে। এই সেন্সর এী কারনে ক্যামেরা এলিমেন্ট গুলো আরো বেশি লাইট ক্যাপচার করতে পারে, এতে যেসব ক্যামেরা BSI সেন্সর ভিত্তিক তাদের লো-লাইট বা কম আলোয় ভালো পারফর্মেন্স পাওয়া যায়। সিকিউরিটি ক্যামেরা, বিভিন্ন টেলিস্কোপ ক্যামেরাতে এইজন্য BSI সেন্সর লাগানো থাকে। ২০০৯ সালে সনি সর্বপ্রথম BSI সেন্সরকে ব্যবহারযোগ্য আরও কার্যকর করে ক্যামেরা তৈরি করে। অ্যাপেলের আইফোন ৪ থেকে এই বিএসআই সেন্সরযুক্ত ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়ে আসছে।

হার্ডওয়্যার

এন্ট্রি লেভেলের এই ফোনটির হার্ডওয়্যার খুবই বেসিক। সম্পূর্ণ ডিভাইসটিকে রান করাবে মিডিয়াটেক MT6580 চিপসেট। যেটি চার কোর বিশিষ্ঠ ১.৩ গিগাহার্জ ক্ষমতা সম্পন্ন। রাম থাকছে ১ জিবি আর জিপিইউ হিসেবে মালি৪০০এমপি। এনটুটু বেঞ্চমার্কে এর স্কোর এসেছে ২৪৫৯৩।

এই স্মার্টফোনে টানা ৩ডি গেমিং এর মত টাস্ক আশা না করাই ভালো। তবে টুকটাক হালকা পাতলা গেমস খেলা যাবে। ডিভাইসটি ৫ মাল্টিফিংগার টাচ সাপোর্টেড।

প্রিমো জিএফ৬

৫৪০০ টাকা মূল্যের আরেকটি এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোন এটি। এটিও অ্যান্ড্রয়েড ৭ নগাট অপারেটিং সিস্টেম সমৃদ্ধ একটি স্মার্টফোন এর বক্স খুললে যা যা পাওয়া যাবেঃ

  • স্বয়ং প্রিমো জিএফ৬ ডিভাইসটি
  • ওয়ারেন্টি কার্ড
  • চার্জার এডাপ্টার
  • ইউএসবি কেবল
  • হেডফোন

ডিসপ্লে এবং বডি

ডিভাইসটি ৫ ইঞ্চি FWVGA ডিসপ্লে সাথে ক্যাপাসিটিভ টাচ সম্পন্ন। এটি লম্বায় ১৪৬ মিলিমিটার এবং প্রসস্থ ৭৪ মিলিমিটার। ৯.৮ মিলিমিটার পুরু এবং ব্যাটারিসহ এর ওজন প্রায় ১৬৫ গ্রাম। ডিভাইসটির ব্যাকসাইড অত্যান্ত আকর্ষনীয়। এই স্মার্টফোনটিতে ব্যাটারি হিসেবে রয়েছে ২০০০ এমএএইচ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। এই ডিভাইসটিরও পেছনে রিমুভেবল ব্যাককভার রয়েছে এবং এর ব্যাটারিটিও রিমুভেবল। ডিসপ্লে এর দিক দিয়ে এটি প্রিমো এনএইচ৩আই এর দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে ।ডিভাইসটি ২ মাল্টিফিংগার টাচ সাপোর্টেড।

ক্যামেরা

এই ডিভাইসেও আগের প্রিমো এনএইচ৩আই এর মত সামনে পিছে ৫ মেগাপিক্সেল BSI সেন্সর যুক্ত ক্যামেরা মডিউল বিদ্যমান রয়েছে। তবে সামনের ফ্রন্ট ক্যামেরায় কোনো ফ্লাশ নেই। আর সব মিলিয়ে ক্যামেরা ফিচারে কিছু কমবেশি রয়েছে। যেমনঃ এই ডিভাইসে প্রোট্রেট মোডটি নেই। যাই হোক,দাম অনুযায়ী ক্যামেরা তুলনামূলক ঠিকই আছে।

তবে পার্থক্য এর কথা বলতে গেলে, প্রিমো এনএইচ৩আই এর সাথে এর মাইনর কোন অমিল দেখা যাচ্ছে না । আপনারা ক্যামেরা স্যাম্পল দেখলেই বুঝতে পারবেন ।

ক্যামেরা স্যাম্পল

হার্ডওয়্যার

এতে চিপসেট হিসেবে রয়েছে MT6480M যা একটু কম শক্তিসালী আর জিপিইউ হিসেবে রয়েছে মালি ৪০০। রাম থাকছে ১ জিবি আর রম ৮ জিবি। তাই গেমিং  যে তেমন আশানুরূপ হবে না তা বোঝাই যাচ্ছে। এনটুটু বেঞ্চমার্কে এর স্কোর এসেছে ২৪০৯৮।

তো এইছিলো দুটি বাজেট এন্ট্রি লেভেল স্মার্টফোনের রিভিউ, আশা করি ভালো লেগেছে। আসলে কমদামে বেশি কিছু আশা করা ঠিক নয়। নিচে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না। আর নতুন বছর সবার ভালো কাটুক।

তৌহিদুর রহমান মাহিন

কোন কিছু জেনে সেটা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই সার্থকতা । আমি মোঃ তৌহিদুর রহমান মাহিন- ভালোবাসি প্রযুক্তিকে , আরও ভালোবাসি প্রযুক্তি সম্পর্কে বেশি বেশি জানতে- জানাতে। নিয়মিত মানসম্মত প্রযুক্তি বিষয়ক আর্টিকেল উপহার দেয়ার প্রত্যয়ে আছি টেকহাবস এর সাথে।

2 comments

সোশ্যাল মিডিয়া

লজ্জা পাবেন না, সোশ্যাল মিডিয়া গুলোতে টেকহাবসের সাথে যুক্ত হয়ে সকল আপডেট গুলো সবার আগে পান!