প্রযুক্তিমোবাইল

ক্যামেরা, সেন্সর, অ্যাপারচার, লেন্স, ওআইএস, ফোকাস | ইত্যাদি নিয়ে বিস্তারিত

22
ক্যামেরা

বন্ধুরা যখনই আমরা দুইটি স্মার্টফোন ক্যামেরা তুলনা করার চেষ্টা করি তখনই স্পেসিফিকেশনে অনেকবার এমন কিছু টার্ম চলে আসে, যে টার্ম গুলোর সম্পর্কে ভালো জ্ঞান না থাকলে তুলনা করা অনেক মুশকিল হয়ে পড়ে। তো আজকের এই পোস্টে ক্যামেরা নিয়ে সকল টার্ম গুলো এবং তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। পোস্টটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন, আশা করি অনেক কিছু নতুন বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আরো পড়ুন

ক্যামেরা সেন্সর ( Sensor)

ক্যামেরা বৃত্তান্ত

দেখুন যেকোনো ক্যামেরার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশটি হচ্ছে সেন্সর। মোবাইল ফোনে সাধারনত দুই ধরনের সেন্সর দেখতে পাওয়া যায়, একটি হলো সিমোস (CMOS) এবং আরেকটি হলো বিএসআই (BSI)। বিএসআই সেন্সর সিমোস সেন্সরের তুলনায় লো লাইট পারফর্মেন্সের ক্ষেত্রে সামান্য একটু বেশি ভালো হয়। এবং সর্বোপরি একটি ঝকঝকে ইমেজ আপনাকে তৈরি করে দেয়। বিএসআই সেন্সরটি ফ্লিপ করে লাগানো থাকে, ফলে ক্যামেরায় যে লাইট প্রবেশ করে তা সেন্সর এর পেছনে চলে যায় এবং লাইট প্রতিফলিত খুব কম হয় তাই ঝকঝকে ইমেজ কোয়ালিটি দেখতে পাওয়া যায়।

সেন্সরে আরেকটি টার্ম থাকে যেটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো সেন্সর সাইজ। দেখুন প্রত্যেকটি সেন্সর সাইজ বর্ণনা করার জন্য একটি নাম্বার থাকে। যেমন ১/২.৩, ১/২.৬ ইত্যাদি। তো সহজ ভাবে বুঝতে ১ ভগ্নাংশের সাথে যে নাম্বার থাকবে তা যতো ছোট হবে আপনার সেন্সর সাইজ ততো বড় হবে। আর আপনার সেন্সর সাইজ যতো বড় হবে তো বড় পিক্সেলস ও পাবেন আপনি। আর যতো বড় পিক্সেলস হবে ইমেজও ততো বেশি আলোকিত এবং ঝকঝকে হবে।

অ্যাপারচার (Aperture)

ক্যামেরা অ্যাপারচার

চলুন এবার কথা বলি অ্যাপারচার নিয়ে। আপনি হয়তো দেখে থাকবেন যে f/1.8, f/2.0, f/2.2 ইত্যাদি নাম্বার দিয়ে ক্যামেরার অ্যাপারচার প্রকাশ করা থাকে। কিন্তু এগুলো আসলে কি হয়? দেখুন এই নাম্বারে যে ছোট হাতের এফ দেখতে পাওয়া যায় তা হলো আপনার ক্যামেরার লেন্সের ফোকাল লেন্থ। এবং যে নাম্বারটি নিচে থাকে তা হলো আপনার ক্যামেরার যে ওপেনিং থাকে মানে ক্যামেরাতে যে হোল থাকে যার মাধ্যমে আলো ক্যামেরাতে প্রবেশ করে তার ডায়ামিটার। এই নাম্বারটি মূলত একটি রেসিয়ো আপনার লেন্সের ফোকাল লেন্থ এবং ক্যামেরার ওপেনিং ডায়ামিটার এর মধ্যকার। যেসকল বড় ডিএসএলআর ক্যামেরা থাকে সেখানে এটি ম্যানুয়ালি অ্যাডজাস্ট করার অপশন থাকে। কিন্তু মোবাইল ফোনে এটি ম্যানুয়ালি অ্যাডজাস্ট করার সুবিধা পাবেন না। অর্থাৎ কোম্পানির পক্ষথেকে ডিফল্ট ভাবে যে অ্যাপারচার পাওয়া যায় সেটিই সবসময় থাকে।

কোন অ্যাপারচারটি বেশি ভালো তা জানার জন্য একটি সহজ বিষয় আপনাকে বলে দেয়, দেখুন অ্যাপারচার নাম্বারে এফ ভগ্নাংশের পরে যে নাম্বারটি থাকে তা যতো ছোট হবে আপনার ক্যামেরার ওপেনিং তোতোই বড় হবে। এবং ওপেনিং যতো বড় হবে আপনার ক্যামেরা ততো ভালো ভাবে লো লাইট ফটোস উঠাতে পারবে। এবং যে শ্যালো ডেফত অফ ফিল্ড ইফেক্ট থাকে তাও ভালোভাবে দেখতে পাওয়া যাবে। শ্যালো ডেফত অফ ফিল্ড ইফেক্ট হলো, আপনি হয়তো দেখেছেন যে ছবি উঠানোর সময় আপনার সামনে থাকা সাবজেক্ট এর ছবি পরিষ্কার হয় এবং সাবজেক্ট এর পেছনে ঘোলা ইফেক্ট থাকে, তো আপনার ক্যামেরার অ্যাপারচার নাম্বার যতো কম হবে এই ইফেক্ট ততো ভালো দেখতে পাওয়া যাবে।

লেন্স (Lense)

ক্যামেরা লেন্স

বন্ধুরা চলুন এবার কথা বলি লেন্স নিয়ে। দেখুন সত্য কথা বলতে লেন্স আজকের দিনে ক্যামেরা তুলনা করার জন্য তেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। সাধারনত মোবাইল ফোনে ৫ এলিমেন্ট লেন্স অথবা ৬ এলিমেন্ট লেন্স দেখতে পাওয়া যায়। আবার কিছু মোবাইল ফোনে বড় ব্র্যান্ডের লেন্স ব্যাবহার করার নাম শুনতে পাওয়া যায়, যেমন স্ন্যাইডার অপটিক্স বা কার্ল জিস অপটিক্স ইত্যাদি। তো আসলে লেন্স তেমন একটি জরুরী বিষয় নয়, এবং তুলনা করা একটু মুশকিলের কাজ তাই এই বিষয়টি আপনি ইগনোরও করতে পারেন।

ওআইএস (OIS)

এবার কথা বলা যাক ক্যামেরার ওআইএস প্রযুক্তি নিয়ে। ওআইএস নিয়ে বিস্তারিত করে একটি আলাদা পোস্ট করে ফেলবো একসময়। এখন এর কিছু বেসিক বিষয় গুলো সম্পর্কে জানি। দেখুন অনেক সময় হয় কি, ফটো উঠানোর সময় আপনার হাত হয়তো সামান্য একটু কেপে যায় ফলে ছবি ঘোলা আসে। কিন্তু আপনার ক্যামেরায় যদি ওআইএস ফিচারটি থাকে তবে হাত কেপে গেলেও ভালো পিকচার উঠানো সম্ভব। তাছাড়াও এটি থাকার ফলে আপনি লো লাইট পারফর্মেন্সও ভালো দেখতে পাবেন। আবার ভিডিও রেকর্ড করার সময় ওআইএস থাকার ফলে রেকর্ডিং কাপাকাপা না উঠে একটি স্থির ভিডিও রেকর্ডিং হয়ে থাকে। তো আপনার ক্যামেরায় ওআইএস থাকা অনেক ভালো একটি ব্যাপার। যদি আপনার ক্যামেরায় ওআইএস থাকে তবে এটি আপনার জন্য সুবিধা জনক।

আরো পড়ুন

ফোকাস টেকনোলজি (Focus Technology)

ফোকাস টেকনোলজি

ফোকাস প্রযুক্তি সম্পর্কে আপনি হয়তো অনেক নাম শুনেছেন। যেমন লেজার অটো ফোকাস, ফেজ ডিটেকশন অটো ফোকাস, এবং সাধারন অটো ফোকাস। এখন এই তিন ফোকাস প্রযুক্তির মধ্যে লেজার অটো ফোকাস সবচাইতে উন্নত প্রযুক্তি। লেজার অটো ফোকাস হলো আপনার ফোনের ক্যামেরার পাশে থাকা একটি ছোট যন্ত্রাংশ। এটি একসাথে একটি বড় এরিয়া জুড়ে অনেক গুলো লেজার বিম ছড়িয়ে দেয়। এবং এই বিম গুলো সামনে থাকা বিষয় বস্তুর সাথে ধক্কা খেয়ে ফিরে আসে। মনে করুন আপনার সামনে লেজার অটো ফোকাস নেওয়া হলো। এখন এই ফোকাস থেকে বের হওয়া কিছু বিম আপনার শরীরের সাথে ধাক্কা লেগে ফেরত আসবে এবং কিছু বিম আপনাকে পাশ কাটিয়ে আপনার পিছনের কোন পরিবেশের উপর ধাক্কা লেগে ফেরত আসবে। আপনার আপনার ফোন এই দুই প্রকার বিমের দূরত্ব মেপে এবং ফেরত আসার সময়ের উপর নির্ভর করে সাবজেক্ট এর আসল অবস্থান নির্ণয় করে। এবং সে অনুসারে এটি ক্যামেরার লেন্সকে মুভ করে একটি ফোকাসড ইমেজ তুলতে সাহায্য করে থাকে। তো একই ভাবে আপনি যখন কোন লেজার অটো ফোকাস ওয়ালা ফোনে ট্যাপ টু ফোকাস করে থাকেন তখন ক্যামেরাতে আপনি যেখানে ট্যাপ করেন আপনার ফোনের লেজার সেখানে লখ্য করে বিম ছুড়ে মারে। আবার সেই বিম ফেরত আসার সময়ের উপর নির্ভর করে বস্তুটির দূরত্ব নির্ণয় করে এবং ক্যামেরার লেন্সকে ঐ দিকে মুভ করে ফোকাস করাতে সাহায্য করে।

এবার কথা বলি ফেজ ডিটেকশন অটো ফোকাস নিয়ে। ফেজ ডিটেকশন অটো ফোকাস আইফন ও স্যামসাং এ দেখতে পাওয়া যায়। এতে কি হয়, দেখুন আপনার ফোনে যে সেন্সর থাকে সেটি অবজেক্ট থেকে আসা ইঙ্কামিং লাইট এর ফেজকে ডিটেক্ট করে। এর মানে সামনে যে বস্তু থেকে আলো ক্যামেরায় এসে পৌছায় ক্যামেরা চেষ্টা করে সে আলোর উপর নির্ভর করে ফোকাস লক করতে।

এবার কথা বলি সাধারন অটো ফোকাস এর ব্যাপারে যেটি প্রায় সকল সাধারন ক্যামেরায় দেখতে পাওয়া যায়। দেখুন এটি একটি কনট্রাস্ট নির্ভর ফোকাস প্রযুক্তি। এটি আপনি এবং আপনার ব্যাকগ্রাউন্ডের কনট্রাস্ট লেভেলের উপর ফোকাস করার চেষ্টা করে থাকে। এতে কোন লেজার বিম বা ফেজ ডিটেকশন প্রযুক্তি থাকে না। আপনি যখনই ট্যাপ করবেন ফোকাস করার জন্য তখন এটি ফোকাস করে নেবে। অনেক সময় আবার এটি ফোকাস করতে একটু দেরি করে থাকে। আবার লো লাইটে এটি ভালো ফোকাস করার জন্য ফ্ল্যাশ ফায়ার করে। কেনোনা লো লাইটে কনট্রাস্ট নির্ভর ফোকাস করতে বেশ মুশকিল হয়ে থাকে। এর জন্যই এটি ফ্ল্যাশের মাধ্যমে পরিবেশকে আলোকিত করে এবং ফোকাস সম্পূর্ণ করে ইমেজ উঠিয়ে ফেলে।

ফ্ল্যাশ (Flash)

ক্যামেরা ফ্ল্যাশ

ক্যামেরার ফ্ল্যাশে মোট তিন প্রকারের ফ্ল্যাশ দেখতে পাওয়া যায়। সিঙ্গেল এলিডি ফ্ল্যাশ, ডুয়াল এলিডি ফ্ল্যাশ, এবং ডুয়াল টোন ফ্ল্যাশ। আগে কিছু নোকিয়ার ফোনে এবং সনির ফোনে জেনন ফ্ল্যাশ দেখতে পাওয়া যেতো কিন্তু আজকের দিনে তা আর দেখতে পাওয়া যায় না। দেখুন সিঙ্গেল এলিডি ফ্ল্যাশের মানে হলো এতে একটি এলিডি রয়েছে। যখন আপনি ফ্ল্যাশ করবেন তখন এই এক এলিডি তার লাইট উৎপন্ন করবে এবং আপনি ছবি পেয়ে যাবেন। ডুয়াল এলিডি ফ্ল্যাশ মানে এতে দুটি এলিডি রয়েছে ফলে ফ্ল্যাশে আপনি বেশি আলো দেখতে পাবেন।

ডুয়াল টোন ফ্ল্যাশে দুটি এলিডি লাগানো থাকে কিন্তু দুটি এলিডির কালার আলাদা আলদা হয়ে থাকে। একটি হয়ে থাকে কুল টাইপ অর্থাৎ ব্লুইস এবং আরেকটি হয়ে থাকে ওয়ার্ম টাইপ অর্থাৎ ইয়োলোইস। এই ফ্ল্যাশ তার আলো অনুসারে এবং সাবজেক্ট অনুসারে এর দুটি আলোকে একসাথে মিশিয়ে গড়ে একটি কালার উৎপন্ন করে এবং আপনি একটি ন্যাচারাল ফটো দেখতে পান।

ইমেজ প্রসেসিং (Image Processing)

ইমেজ প্রসেসিং সিস্টেম প্রতিটি ক্যামেরার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি কোন যন্ত্রাংশ নয় বরং এটি একটি সফটওয়্যার। আলাদা আলদা কোম্পানি ইমেজ প্রসেসিং এর জন্য আলাদা আলাদা প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। যেমন অ্যাপেলের ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যার অনেক ভালো হয়ে থাকে, ফোনে হয়তো ক্যামেরার জন্য বেশি অপশন থাকে না, জাস্ট টাইমার সেট ফ্ল্যাশ অন অফ ইত্যাদি থাকে। কিন্তু যখনই আপনি ফটো উঠান তখন অ্যাপেল সেই ফটোকে এতো ভালো করে প্রসেসিং করে যে আউটপুট অনেক ভালো আসে।

স্যামসাং এর ফোন গুলোতে দেখেছি ইমেজ প্রসেসিং হওয়ার সময় ইমেজকে বেশি কালারফুল করে দেয়। সনি এবং এলজির ফোন গুলো তাদের ইমেজকে অনেক বেশি শার্প করে দেয়, ফলে একদম ন্যাচারাল ইমেজ দেখতে পাওয়া যায় না। তো ইমেজ প্রসেসিং মূলত এমন একটি সিস্টেম যেখানে খারাপ ইমেজকেও ভালো বানানো যায় এবং আপনার ক্যামেরায় যদি অনেক ভালো যন্ত্রাংশও লাগানো থাকে কিন্তু আপনার ইমেজ প্রসেসিং সিস্টেম যদি তেমন ভালো না হয় তবে আপনি ভালো ইমেজ আউটপুট দেখতে পাবেন না। তো এজন্যই দুটি স্মার্টফোনের ক্যামেরার সকল স্পেসিফিকেশন যদি এক হয় কিন্তু ইমেজ প্রসেসিং সিস্টেম যদি আলাদা আলাদা হয় তবে দুইটি ফোন এক মতো করে ছবি উঠাতে পারবে না।

শেষ কথা

আশা করছি এই পোস্টটি পড়ার পরে আপনি আপনার নতুন ক্যামেরা ফোনটি আসল ভাবে নির্বাচন করতে পারবেন এবং অন্য ফোনের ক্যামেরার সাথে খুব ভালোভাবে তুলনা করতে পারবেন। প্রয়োজনে আপনি ফোন গুলোর রিভিউ দেখুন তারপর দেখুন কোনটির অ্যাপারচার ভালো, কোনটির ইমেজ প্রসেসিং সফটওয়্যার ভালো এবং এসকল বিষয় খেয়াল রেখে আপনার নতুন ফোনটি ক্রয় করুন। যাই হোক, পোস্টটি ভালো লাগলে বা আপনার উপকারে আসলে অবশ্যই শেয়ার করুন এবং আপনার যেকোনো প্রকারের প্রশ্নে কমেন্ট করে জানান।

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

জানেন কি আপনার ফোনে কত প্রকারের সেন্সর লাগানো থাকে?

Previous article

স্মার্টফোন ব্যবহার কি ক্যান্সার ঘটাতে পারে? | বিস্তারিত জানুন

Next article

You may also like

22 Comments

  1. অসম্ভব সুন্দর একটি পোস্ট। চমৎকার লাগলো ভাইয়া!

    1. মন্তব্বের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই!

  2. Osadharon post! Eto din website khulchilo na bhai. Ami to chintay pore gechilam. Bhalo achen to bhai?

    1. আপনি এখনো সাথেই আছেন দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ! বাংলাদেশী কোম্পানি থেকে ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে এই সাইট টি খুলেছিলাম। তারপর তারা যা করলো তা করলোই। এখন সব কিছু ভালো প্রভাইডারে সরিয়ে নিয়েছি। আর কখনই সমস্যা হবে না আশা করছি। আর প্রতিদিন সব মজার মজার পোস্টতো থাকবেই। 🙂

      1. Ami Techubs er sathe chilam, achi aar thakbo. Accha bhai, Firefox or Chrome er moddhe kona best? Sunechi naki Chrome privacy issue ache? Aar apnar site (Let’s Encrypt) ei company theke SSL certified. Browser er SSL er padlock er opor click korle je technical information ase:-
        Connection Encrypted(TLS_ECDHE_RSA_WITH_AES_128_GCM_SHA256, 128 bit keys, TLS 1.2)

        etar maane ektu bolte parben? Encryption niye to post korechen ta theke kichu ta bujhte parchi tobe sobta na. Aaro sundor post er opekkhay thaklam.

        1. টেকহাবসও এভাবেই সর্বদা আপনাকে জ্ঞান বিতরন করে যাবে। আপনার সমর্থনের জন্য আপনার কাছে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ আমি।

          আসলে ফায়ারফক্স আর ক্রোমের মধ্যে কোনটা বেস্ট তা নির্ণয় করা একটু মুশকিল। বিভিন্ন ব্যবহারকারীর কাছে বিভিন্ন রকম মতবাদ এবং অভিজ্ঞতার কথা শুনতে পাওয়া যায়। তবে আমি বলবো আপনি যেটা ব্যবহার করে বেশি তৃপ্তি পাবেন, আসলে সেটাই বেস্ট। যদি এক্সটেনশন এর কথা বলি তবে উভয়েরই এক্সটেনশন মার্কেট অনেক বড়। প্রায় সকল প্রকার মেজর এক্সটেনশন উভয় ব্রাউজারের জন্যই রয়েছে। মোবাইল, পিসি, ম্যাক, লিনাক্স সবার জন্যই দুই ব্রাউজারই পাওয়া যায়। আবার দুই ব্রাউজারেই অ্যাকাউন্ট থেকে সিঙ্ক করার অপশন আছে। আপনি যে ডিভাইজেই থাকুন না কেন এক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে একই ব্রাউজার হিস্টরি, সেভ করা পাসওয়ার্ড, এক্সটেনশন ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবেন। বেঞ্চমার্ক রেজাল্ট এ কোনটাতে ফায়ারফক্স ভালো আবার কোনটাতে ক্রোম ভালো। তবে আমার কাছে ক্রোম বেশি ভালো মনে হয়। আমি ২০০৯ থেকে ফায়ারফক্স ব্যবহার করতাম। ফায়ারফক্স এর সবচেয়ে বড় অসুবিধা যার জন্য ফায়ারফক্স ব্যবহার করা বাদ দিয়েছি, তা হলো ফায়ারফক্স অনেক বেশি র‍্যাম ব্যবহার করে। সেখানে ক্রোম অনেক কম র‍্যাম ব্যবহার করে থাকে। তাছাড়া ক্রোমের পেজ রেন্ডারিং ফায়ারফক্স থেকে বেশি ভালো এবং দ্রুত মনে হয় আমার। আপনি জানতে চেয়েছেন ক্রোমে কোন প্রাইভেসি সমস্যা আছে কি না। আমি জানি না আপনি ঠিক কোন প্রাইভেসি সমস্যার কথা উল্লেখ করতে চেয়েছেন। তবে ক্রোম কিন্তু বেশির ভাগ সময় ভাইরাস আক্রান্ত সাইট, ফিসিং সাইট, হ্যাকিং সাইট, ইত্যাদি ব্লক করে রাখে। ফলে আপনি সহজেই সতর্ক হয়ে যেতে পারেন। তাছাড়া গুগলে সেফ সার্চ থেকে যা ব্লক করা থাকে সেই সাইট গুলো ভিসিট করতে চাইলে ক্রোম ওয়ারিং দেখায়। আমার কাছে সব দিক থেকে ক্রোম ভালো মনে হয়, তবে ফায়ারফক্স এ ও কোন সমস্যা নাই। শুধু বেশি মেমোরি খায় এটাই সমস্যা,।

          এখন কথা বলি আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন নিয়ে। আপনি “TLS_ECDHE_RSA_WITH_AES_128_GCM_SHA256, 128 bit keys, TLS 1.2” এর মানে বুঝতে চেয়েছেন। আমি আপনাকে বুঝাবার চেষ্টা করছি। দেখুন একটি সাইটকে SSL বা TLS এই দুই প্রোটোকল ব্যবহার করেই কিন্তু সিকিউর করা যায়। সাইট HTTPS ব্যবহার করার মানে হলো এই সাইটে আপনি যে তথ্যই প্রবেশ করিয়ে থাকুন না কেন, তা ইন্টারনেটে প্রচার হওয়ার আগেই ইঙ্ক্রিপ্ট হয়ে যায়। তারপর সার্ভারে গিয়ে ডিক্রিপ্ট হয়। লাইনটিতে TLS থাকার মানে এটি TLS অর্থাৎ Transport Security Layer ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক কানেকশন নিরাপত্তা প্রদান করে। প্রায় সকল ইন্টারনেট ব্রাউজার TLS এবং SSL উভয়ই সমর্থন করে থাকে। TLS 1.2 হলো TLS এর একটি স্ট্যান্ডার্ড। যেমন TLS 1.0, TLS 1.1, এবং TLS 1.2। এভাবে SSL এ ও স্ট্যান্ডার্ড আছে যেমন, SSL 3.0। যাইহোক ২য় তো লেখা আছে ECDHE_RSA। ECDHE এর পূর্ণ রুপ হলো Elliptic curve Diffie–Hellman। এটি Diffie Hellman অর্থাৎ DHE এর একটি আধুনিক ভার্সন। ECDHE একটি কী শেয়ার করা প্রটোকল বাবস্থা। যেটি আপনার ব্রাউজার এবং সার্ভারের মধ্যে একে অপরের সাথে তাদের পাবলিক কী শেয়ার করে থাকে। এবং এই সিস্টেমটি RSA অ্যালগোরিদম এ কাজ করে। RSA একটি ইনক্রিপশন সিস্টেম যেখানে ২ টি কী থাকে, পাবলিক এবং প্রাইভেট। পাবলিক এবং প্রাইভেট কী কীভাবে কাজ করে তা তো নিশ্চয় আপনি জানেন। এর পড়ে লেখা আছে WITH_AES_128। মানে ECDHE_RSA ইনক্রিপশন সিস্টেমটি আবার Advanced Encryption Standard এ কাজ করে। AES বিশেষ ভাবে ইউএস গভর্নমেন্ট ব্যবহার করে থাকে তাদের ডাটা গুলো সুরক্ষিত রাখতে। কিন্তু এখন এটি বিশ্ববাপি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। AES তিনটি ব্লকে ডাটা ইনক্রিপ্ট ডিক্রিপ্ট করে থাকে AES-128, AES-192 এবং AES-256. এখানে ১২৮ লেখা থাকা মানে এটি 128 ব্লকের অ্যালগোরিদমে কাজ করে। এর পরে লেখা আছে GCM_SHA256। এখানে GCM এর পূর্ণ রুপ Galois/Counter Mode। এটি একটি আধুনিক authenticated encryption সিস্টেম। যেটি ১২৮-বিট কী ব্লকে কাজ করে। শেষে আসে SHA256, এর মানে হল Secure Hash Algorithm 256. TLS প্রোটোকল মূলত সকল ডাটা গুলোকে একটি ম্যাসেজ রুপে ইনক্রিপ্ট করে থাকে। তো এই ম্যাসেজ রুপে ইনক্রিপ্ট করার গোপন তথ্য Secure Hash Algorithm এ জমা থাকে। আর ২৫৬ হল এর কী ব্লক। 128 bit keys মানে হলো এই সম্পূর্ণ ইনক্রিপশনটি ১২৮ বিট কী দিয়ে ইঙ্ক্রিপ্ট করা রয়েছে। ১২৮ বিট মানে ১২৮ টি আলাদা আলদা ভাল্যু।

          মনে হয় বিষয়টি একটু বেশিই কঠিন হয়ে গেলো! তবে আপনি প্রশ্নও করেছেন একটু অগ্রসর প্রকিতির ???? কিছু বুঝতে সমস্যা হলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন। ধন্যবাদ।

          হাঁ, ইঙ্ক্রিপ্সন নিয়ে আরো বড় করে অগ্রসর করে পোস্ট নিশ্চয় করা হবে।

  3. Very nice post!!!!!!!!!

    1. সুন্দর কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ 😀

  4. অসাধারণ পোস্ট

  5. মোবাইল লেন্স দিয়ে ভালো ছবি তোলা যায়।।??

  6. আমি একটি ভাল ক্যামেরার মোবাইল কিনতে চাচ্ছি। নিন্তু বুজতে পারছিনা কোনটা কিনবো । লো লাইটে সহ ভাল ক্যামেরার মোবাইল কিনতে চাচ্ছি।আমার বাজেট কম (১৩০০০টাকা) এই বাজেটে কোন মোবাইলটা নিলে ভাল হয় জানালে অনেক উপকৃত
    হবো ।

    1. Huawei Y6 II ফোনটির দিকে দেখতে পারেন। এর সামনে ৮এম্পি এবং পেছনে ১৩এম্পি সাথে ২.০ অ্যাপারচার রয়েছে দুই ক্যামেরাতেই। লো লাইটে ভালো পারফর্মেন্স পেতে পারেন, তবে ভিডিওতে ন্যাচারাল কালার না দেখিয়ে এটি আর্টিফিশিয়াল কালার শো করে। তাছাড়া পারফর্মেন্স এবং ডিজাইন উভয় দিক থেকেই ফোনটি ভালো, ব্যাটারি লাইফ একটু সমস্যার ব্যাপার হতে পারে। তবে নর্মাল ব্যাবহারে ১ দিন চলে যাবে।

  7. Dear Brother
    let me introduce my name is ADNAN MASUD.
    I have read out your all post.I think it’s more important for anyone who will learnt about technology.
    So I want to know about mobile device and software like IT related.
    I appreciate you.and sincerely requested to you tell me how can I learned theoretical knowledge
    by reading books. (At list name of books)

    1. আপনি একটি ওয়েবসাইট দেখতে পারেন;
      http://howstuffworks.com – সাইটটিতে কোন প্রযুক্তি কিভাবে কাজ করে এবং প্রায় সবকিছুর উপর তাত্ত্বিক নলেজ পেয়ে যাবেন।
      আর কোন বইয়ে এরকম ভাবে কিছু আছে কিনা আমার জানা নেই, গুগল বুক থেকে সার্চ করে দেখতে পারেন। তাছাড়া ইউটিউব এ অনেক চ্যানেল রয়েছে তাদের অনুসরণ করেও আপনি মোবাইল, কম্পিউটার, গ্যাজেট সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারেন।
      আরো কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই রিপ্লাই করবেন,
      ধন্যবাদ 🙂

  8. অসাধারণ একটি পোস্ট ।

    Aperture স্বমন্ধে আজ আমি স্পষ্ট ধারণা পেলাম আপনার পোস্ট টি পড়ে…. ।
    ধন্যবাদ ভাইয়া

  9. f/2.2
    aperture এটা কেমন হবে ভাই

  10. name: symphony i25……
    Camera Factors (Back) Screen flash, f/2.2
    aperture, face
    beauty, Panorama
    mode, professional
    mode, HDR, GIF,
    mood photo
    Camera Resolution (Back) 8 Megapixel
    Camera Resolution
    (Front)
    5 Megapixel (F/2.2,
    face beauty)
    ভাই এই ফোনটি কেমন হবে Camera এর দিক থেকে, একটু জানাবেন plz

  11. Amai “Xiaomi Mi A1” kinte cacchi.. phonetar camera performance kemon hobe ektu doya kore janaben..

  12. Thanks a lot vai……..
    but vai….One Plus 6 vs Xioami mi 8
    Camera te konta valo hobe?

  13. অনেক ধন্যবাদ পোষ্টটি শেয়ার করার জন্য। আমি জানতে চায় হুয়াওয়ে নোভা থ্রি আই স্মর্টফোনটি কেমন হবে? দাম ২৮,৯৯০ টাকা। আমার মূলত ক্যামেরা ভাল হতে হবে। যেমন ছবি দূরে বা কাছে থেকে তুললে নিখূঁত হবে কিনা, জুম করলে ছবি ফেটে যাবে কিনা, ডিএসএলআর এর মত ছবি হবে কিনা ইত্যাদি। যেহেতু এর অ্যাপারচার f/2.2। সেন্সর, ইমেজ প্রসেসিং ভাল কিনা কিভাবে বুঝব? যদি বিস্তারিত জানান খুব খুশি হব।

    1. এই বাজেটের মধ্যে শাওমি মি৮ এসই বেটার হবে!

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *