বর্তমান তারিখ:22 August, 2019

মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজার ফর অ্যান্ড্রয়েড : হ্যান্ডস অন রিভিউ!

মাইক্রোসফট এজ

মাইক্রোসফট এর তৈরি প্রথম ইন্টারনেট ব্রাউজার, ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এর ব্যার্থতার কথা আমরা প্রায় সবাই জানি। এটিই সম্ভবত সর্বকালের সবথেকে হেটেড ইন্টারনেট ব্রাউজার। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার প্রাইমারি ব্রাউজার হিসেবে ব্যাবহার করে বা পছন্দ করে এমন মানুষ নেই বললেই চলে। এটি এখনো এতটাই হেটেড ব্রাউজার যে এটিকে নিয়ে ইন্টারনেটে ট্রল এবং মিম এর অভাবও নেই। তাই, এতকিছুর পরে মাইক্রোসফট যখন তাদের মতে সর্বকালের সবথেকে ভালো এবং সর্বশেষ উইন্ডোজ ওএস, উইন্ডোজ ১০ রিলিজ করার চিন্তাভাবনা করলো, তখন চিন্তা করলো যে এবার এই ব্রাউজারকে নিয়েও কিছু একটা করতে হয়। কারণ, এবারও যদি উইন্ডোজ এর ডিফল্ট ব্রাউজার তাদের আগের ব্রাউজারের মত স্লো হয়, তবে এবার আর ইউজারদেরকে মুখ দেখাতে পারবে না তারা। সেখান থেকেই মাইক্রোসফট এর নতুন ব্রাউজার, মাইক্রোসফট এজ-এর যাত্রা শুরু যা এখন আর নতুন নেই।

প্রথমত মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজারের কোড নেম দেওয়া হয়েছিল Project Spartan এবং মাইক্রোসফট চেয়েছিল এটার সর্বশেষ নাম Spartan Browser রাখতে। কিন্তু অবশেষে তারা ব্রাউজারটির নাম মাইক্রোসফট এজ (Microsoft Edge) রাখে। এটিই হচ্ছে মাইক্রোসফট এর তৈরি নতুন ইন্টারনেট ব্রাউজার এবং উইন্ডোজ ১০ এর বিল্ট ইন ডিফল্ট ওয়েব ব্রাউজার। এই ব্রাউজারটিতে মাইক্রোসফট তাদের আগের প্রায় সমস্ত ভুল ঠিক করতে পেরেছে। যদিও, এটি এখনো খুব বেশি মানুষ প্রাইমারি ব্রাউজার হিসেবে ব্যাবহার করেনা কিন্তু তার মানে এই না যে এটি ব্রাউজারটি আগের মতই ট্র্যাশ। মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজার আমার মতে উইন্ডোজ এর জন্য সবথেকে ভালো না হলেও ভালো ব্রাউজারগুলোর মধ্যে অন্যতম, যদিও আমি প্রাইমারি ব্রাউজার হিসেবে আমি এখনো গুগল ক্রোম ব্যাবহার করি। কিন্তু, মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজারের ডিজাইন, স্পিড, পারফরমেন্স সবকিছুই অনেক ভালো। এছাড়া মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজার অনেক উইন্ডোজ ইউজার পছন্দ করেন শুধুমাত্র এর ডিজাইন, সিকিউরিটি এবং উইন্ডোজ এর সাথে ডিপ ইন্টাগ্রেশনের কারণে।

মাইক্রোসফট এজ

আর মাইক্রোসফট এজ পিসি ব্রাউজার থেকে বেশ ভালো ইউজার রেসপন্স পেয়ে মাইক্রোসফট এবছর এই ব্রাউজারটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং আইফোনের জন্যও রিলিজ করেছে যাতে ইউজাররা পিসি ব্রাউজারের সাথে ফোনের ব্রাউজারের সামঞ্জস্য রাখতে পারে। মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজার পিসিতে প্রাইমারি ব্রাউজার হিসেবে ব্যাবহার না করলেও অ্যান্ড্রয়েডে প্রাইমারি ব্রাউজার হিসেবে ব্যাবহার করার যোগ্য এটি। কারণ, সত্যি কথা বলতে মাইক্রোসফট এজ এর অ্যান্ড্রয়েড ভার্শন আমার কাছে উইন্ডোজ এর থেকেও আরো বেশি ভালো মনে হয়েছে। হ্যাঁ, অবশ্যই গুগল ক্রোমের থেকে ভালো না, তবে অন্যান্য পপুলার ওয়েব ব্রাউজারের থেকে মাইক্রোসফট এজ আমার কাছে অনেক ভালো মনে হয়েছে। কেন? সেটাই আজকে আলোচনা করবো। আর হ্যাঁ, অ্যান্ড্রয়েডের জন্য মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজার এখনো Beta ভার্শনে আছে। অর্থাৎ, এটির ফাইনাল রিলিজ এখনো হয়নি এবং আপনি এটি গুগল প্লে স্টোরেও পাবেন না। চিন্তা নেই, যদি আপনি এই ব্রাউজারটি ফাইনাল রিলিজের আগেই ফোনে ইন্সটল করে ইউজ করে দেখতে চান, তাহলে আমি লেখার শেষে ব্রাউজারটির ডাইরেক্ট ডাউনলোড লিংক দিয়ে দেব।

ডিজাইন ও ইউজার ইন্টারফেস

মাইক্রোসফট এজ এর ডিজাইন অনেকটা গুগলের ম্যাটেরিয়াল গাইডলাইন মেনেই করা হয়েছে। কিন্তু আপনি যদি পিসিতে কখনো মাইক্রোসফট  এজ কিছুক্ষনের জন্য ব্যাবহার করে থাকেন, তবে আপনি উইন্ডোজ অ্যাপের সাথেও কিছুটা ডিজাইনগত মিল পাবেন এই অ্যাপটির, যেটা রিজনেবল। যেহেতু, এটি মাইক্রোসফট এর তৈরি ওয়েব ব্রাউজার। তাই, উইন্ডোজ অ্যাপের সাথে ডিজাইনের মিল থাকা খুবই স্বাভাবিক। আমার কাছে এই ফ্যাক্টটির জন্যই এই ব্রাউজারটি আরেকটু বেশি ভালো লেগেছে। এটির হোমপেজ এবং টাইটেল বার, অ্যাড্রেস বার ইত্যাদি কিছু কিছু মেজর ইউআই এলিমেন্ট অনেকটা গুগল ক্রোমের মতই।

মাইক্রোসফট এজ

গুগলের ক্রোমের মতই হোমপেজে একটি সার্চ বার এবং তার নিচে আপনার সবথেকে বেশি ভিজিট করা ওয়েবসাইটগুলোর আইকন থাকবে যেগুলো গ্রিড আকারে সাজানো এবং এই আইকনগুলো এবং আপনার ব্রাউজিং হিস্ট্রি ও পাসওয়ার্ড আপনার মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের সাহায্যে আপনার পিসির সাথে Sync হতে থাকবে। তার নিচে আপনার ইন্টারেস্ট অনুযায়ী আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিউজ থাকবে যেগুলো MSN News সোর্স থেকে নেওয়া। সার্চ বারটিতে আপনি নিজের ইচ্ছামত সার্চ ইঞ্জিন সেট করতে পারবেন। এবং এখানে সার্চ বারে আরো দুটি অপশন এক্সট্রা পাবেন। ভয়েস সার্চ এবং QR Code স্ক্যানার। এছাড়া এজ ব্রাউজারের সব ধরনের আইকনস একেবারেই উইন্ডোজ ১০ এর মত। আর এজ ব্রাউজারের ট্যাবস মেনু, ফেভারিটস মেনু, ডাউনলোডস লিস্ট, ফরওয়ার্ড, ব্যাকওয়ার্ড এই সব অপশন এবং স্ক্রিনের ইউআই একেবারেই উইন্ডোজ ১০ এর মত। তাই এই দুই ধরনের ইউনিইভারসাল এবং ম্যাটেরিয়াল ডিজাইন মিলিয়ে এজ ব্রাউজারেরে অভারল ডিজাইনটি বেশ আকর্ষণীয়।

মাইক্রোসফট এজ

মাইক্রোসফট এজ এর এক্সট্রা ফিচারস

মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজারে যদিও খুব বেশি এক্সট্রা ফিচারস নেই, তবে যে কয়েকটি ফিচারস বা টুইকস আছে সেগুলো বেশ কাজের, উদাহরণস্বরূপ, মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজারের সাইট অপশনস বা পেজ অপশনস পপআপ মেনু স্ক্রিনের নিচের দিকে রাখা হয়েছে যেটি গুগল ক্রোমে স্ক্রিনের ওপরের দিকে থাকে।আমার মতে,  মাইক্রোসফট এক ব্রাউজারে এটি নিচে থাকার কারনে এটি ওয়ান হ্যান্ড ইউজের জন্য পারফেক্ট এবং খুব সহজেই নেভিগেট করা সম্ভব হয়, যেটা গুগল ক্রোমে হয়না। এছাড়াও মাইক্রোসফট এজ এর উইন্ডোজ অ্যাপ এর মত অ্যান্ড্রয়েডেও আছে লাইট মোড এবং ডার্ক মোডে সুইচ করার সুবিধা, যেটি গুগল ক্রোমে ন্যাটিভলি নেই। আর মাইক্রোসফট এজ এর একটি মজার ফিচার হচ্ছে Continue On PC, যার ফলে আপনি যেকোনো ওয়েব কন্টেন্ট একটি ক্লিকের সাহায্যে সরাসরি আপনার পিসির ওয়েব ব্রাউজারে পাঠাতে পারবেন। তবে এক্ষেত্রে, আপনার ফোনের এজ ব্রাউজারে এবং পিসির এজ ব্রাউজারে আপনার একই মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট লগইন করা থাকতে হবে।

মাইক্রোসফট এজ

এছাড়া মাইক্রোসফট এজে যেকোনো ওয়েব ব্রাউজারে সবথেকে দরকারি যে ফিচারটি থাকা দরকার সেটিও থাকছে, যার নাম Reading Mode। এটির সাহায্যে যেসব ওয়েবসাইট রিডিং মোড সাপোর্ট করে সেসব ওয়েবসাইটের কন্টেন্টগুলো একটা বইয়ের পেজের মত সহজভাবে পড়তে পারবেন। মানে ওয়েবসাইটের সব অপ্রয়োজনীয় এলিমেন্টস রিমুভ করে দিয়ে শুধুমাত্র লেখার ওপরে ফোকাস করতে পারবেন। এছাড়া যেকোনো ওয়েবসাইটের শর্টকার্ট হোমস্ক্রিনে রাখার ফিচারটিও পাবেন এজ ব্রাউজারে। সবকিছু মিলিয়ে এজ  ব্রাউজারে আরও অনেক থার্ড পার্টি ব্রাউজার অ্যাপের মত অনেক গিমিক ফিচার নেই, তবে একটি সাধারন অ্যাভারেজ ব্রাউজার অ্যাপের থেকে অনেক বেশি ফিচারস আছে।

স্পীড ও পারফরমেন্স

যেকোনো ব্রাউজারের সবথেকে ইম্পরট্যান্ট বিষয়টি হচ্ছে স্পীড এবং পারফরমেন্স। মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজারের স্পীড এবং পারফরমেন্স নিয়ে সত্যি কথা বলতে হলে আমার একটু মিক্সড ফিলিং আছে। আরও ক্লিয়ারলি বললে এই মুহূর্তে মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজারের স্পীড নিয়ে আমি সন্তুষ্ট, কিন্তু পারফরমেন্স নিয়ে না। যদিও, পারফরমেন্স সন্তোষজনক না হওয়াটা রিজনেবল। কারণ, এই ব্রাউজারটি এখনো আন্ডার ডেভেলপমেন্ট এবং এখনো পাবলিক রিলিজ হয়নি। তাই পারফরমেন্স নিয়ে এখন যেসব প্রবলেম আছে সেগুলো অবশ্যই ফাইনাল রিলিজে ফিক্স হয়ে যাবে। পারফরমেন্সের ক্ষেত্রে আমি কয়েক ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছি। যেমন, অনেকসময় কোন ভারী পেজ স্ক্রল করার সময় স্টাটারিং দেখা যায় বা এনিমেশন ল্যাগ দেখা যায় এবং অনেকসময় অনেক ওয়েবসাইটের টেক্সট ফিল্ড আসেনা, এবং এই ধরনের আরও অনেক ছোট ছোট প্রবলেম আছে যেগুলো আশা করি খুব দ্রুত ফিক্স হয়ে যাবে। আর স্পীড নিয়ে বলতে হলে, এটি প্রায় গুগল ক্রোমের মতই  ফাস্ট এবং সত্যি কথা বলতে কোন কোন ক্ষেত্রে গুগল ক্রোমের থেকে আরও দ্রুত কাজ করে। ক্লিয়ারলি বললে উইন্ডোজ ১০ এর মাইক্রোসফট এজ যতটা ফাস্ট, এই অ্যান্ড্রয়েড ভার্শনটি তার থেকেও বেশি ফাস্ট মনে হয়েছে আমার কাছে। হ্যাঁ, ব্রাউজারের লোডিং স্পীড অনেকটাই আপনার ইন্টারনেটের ওপরে নির্ভর করে, কিন্তু একই ইন্টারনেট কানেকশন ব্যাবহার করে আমি গুগল ক্রোম এবং মাইক্রোসফট এজ থেকে প্রায় একই রকম লোডিং স্পীড পেয়েছি। আপনি যদি ইন্টারনেট স্পীড নিয়ে অনেক বেশি খুঁতখুঁতে না হন, তাহলে আপনি হয়ত কোন পার্থক্য নোটিসই করতে পারবেন না।

মাইক্রোসফট এজ

তো এই ছিল মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজারের অ্যান্ড্রয়েড ভার্শনের ছোট একটি হ্যান্ডস অন রিভিউ। আপনি যদি এখনই এই ব্রাউজারটি ফোনে ইন্সটল করে ব্যাবহার করে দেখতে চান, তাহলে নিচের ডাইরেক্ট ডাউনলোড লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। মনে রাখবেন, Apk ফাইল ইন্সটল করতে হলে আপনার ফোনে অবশ্যই Unknown Sources থেকে ইন্সটল Enable করা থাকতে হবে।

Download (Direct) : Microsoft Edge for Android (65 MB)

মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজারের আগামী সকল Beta আপডেটস এই লিংকে পাবেন।



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। কারো কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন।

অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....

3 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *