৩২ বিট বনাম ৬৪ বিট প্রসেসর | আপনার কোনটি কেনা উচিৎ?

৬৪ বিট প্রসেসর

৩২ বিট প্রসেসর এবং ৬৪ বিট প্রসেসর সম্পর্কে আপনি অবশ্যই শুনেছেন। আজ আমরা এই দুই প্রকারের প্রসেসরের মধ্যে পার্থক্য এবং কোনটির কি বিশেষ সুবিধা রয়েছে সে বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করবো। ৬৪ বিট প্রসেসর সর্বপ্রথম ২০০৩ সালে এএমডি নিয়ে এসেছিলো কম্পিউটারের জন্য। এবং এর ঠিক ১০ বছর পরে অ্যাপেল ২০১৩ সালে তাদের আইফোন ৫ এস এ তাদের নিজস্ব প্রসেসর অ্যাপেল এ৭ উন্মুক্ত করে, যেটি একটি ৬৪ বিট প্রসেসর ছিল। আর এর পর থেকে ২০১৪, ২০১৫ এবং আজকের দিনে আপনি হয়তো লখ্য করে দেখবেন যে প্রায় প্রত্যেকটি ফোনের স্পেসিফিকেশনে উল্লেখ্য থাকে যে ঐ ফোনটির প্রসেসর ৩২ বিট না ৬৪ বিট। তো এই অবস্থায় একজন সাধারন গ্রাহকের জন্য এটা জানা খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে যে ৩২ বিট প্রসেসর এবং ৬৪ বিট প্রসেসরের মধ্যে কি পার্থক্য এবং আমরা একে কীভাবে তুলনা করতে পারি [আরো জানুনঃ মোবাইল প্রসেসর বৃত্তান্ত | আপনি কোন প্রসেসরটি নির্বাচন করবেন?]। তো আজ আমি আপনাদের ৩ টি এমন পয়েন্ট সম্পর্কে বলবো যার সাহায্যে আপনি খুব ভালোভাবে ৩২ বিট এবং ৬৪ বিট প্রসেসরের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবেন। তো চলুন, আলোচনা শুরু করা যাক;

আরো জানুন

মেমোরি অ্যাড্রেসিং

র‍্যাম

সর্বপ্রথম যে পয়েন্ট টি নিয়ে আলোচনা করবো তা হলো মেমোরি অ্যাড্রেসিং। এখানে মেমোরি বলতে র‍্যামকে বোঝানো হয়েছে [আরো জানুনঃ র‍্যাম কি? স্মার্টফোনের জন্য কতটুকু র‍্যাম দরকার? বিস্তারিত]। দেখুন একটি ৩২ বিট প্রসেসর শুধু মাত্র ৪ জিবি র‍্যামকেই কাজে নিতে পারে। যদি আপনার ফোনে বা আপনার কম্পিউটারে ৪ জিবির উপর র‍্যাম ব্যবহার করেন তবে আপনাকে একটি ৬৪ বিট প্রসেসর ব্যবহার করতে হবে। এমনটা কেন হয়, দেখুন একটি ৩২ বিট প্রসেসরে ৩২ বিট থাকে। অর্থাৎ সেখানে ৩২ টি এমন ভাল্যু থাকে যা আলাদা আলদা জিরো এবং ওয়ান দ্বারা পরিবর্তন করা যায়। এবং এই ৩২ টি ভাল্যু শুধু মাত্র ৪ জিবি পর্যন্ত মেমোরি অ্যাড্রেসিং স্টোর করতে পারে। যেখানে একটি ৬৪ বিট প্রসেসর ১৬ বিলিয়ন গিগাবাইটস মেমোরি অ্যাড্রেসিং স্টোর করতে পারে। হয়তো সামনের ৪-৫ বছরেও এতো মেমোরির প্রয়োজন পড়বে না, কিন্তু আপনি যদি ৪ জিবির উপর র‍্যাম ব্যবহার করেন তবে অবশ্যই একটি ৬৪ বিট প্রসেসরের প্রয়োজন পড়বে।

ক্যালকুলেশন স্পীড

দ্বিতীয় পয়েন্ট হলো প্রসেসর ক্যালকুলেশন স্পীড। দেখুন যেহেতু ৬৪ বিট প্রসেসরে ৬৪ টি আলাদা আলদা ভাল্যু থাকে তাই এটি ৩২ বিট প্রসেসর থেকে বেশি কাজ করতে পারে। এবং বেশি স্পীডে সকল প্রসেস সম্পূর্ণ করতে পারে। তাই একটি ক্যালকুলেশনের জন্য একটি ৬৪ বিটের প্রসেসর একটি ৩২ বিটের প্রসেসর হইতে উন্নত। কিন্তু তৃতীয় পয়েন্ট টি এই বিষয়টিকে সামান্য ঢেকে ফ্যালে।

অপারেটিং সিস্টেম সাপোর্ট

অপারেটিং সিস্টেম সাপোর্ট

তৃতীয় পয়েন্ট টি হলো, আপনার অপারেটিং সিস্টেম, আপনার ব্যবহারকৃত সফটওয়্যার বা অ্যাপস যদি ৬৪ বিট প্রসেসর সমর্থন না করে তবে আপনার একটি ৬৪ বিটের প্রসেসর এবং একটি ৩২ বিটের প্রসেসর এক সমান হয়ে যায়। এমনটা কেন, উদাহরণ স্বরূপ মনে করুন একজন বক্সার আছে যিনি খুব ভালো বক্সিং করেন। কিন্তু যদি এমন কোন কোচ না থাকে যে তার থেকে ভালো বক্সিং করাতে পারে তবে সেই ভালো বক্সার টি হওয়া বা না হওয়াতে কোন যায় আসে না। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ললিপপ এবং মার্সম্যালোতে ৬৪ বিট প্রসেসরের সমর্থন পাওয়া যায় এবং আইফোনে আইওএস ৭ এর পর থেকে ৬৪ বিট সমর্থন পাওয়া যায়। এখন মনে করুন আপনার কাছে একটি কিটক্যাট ওয়ালা ফোন আছে এবং সেখানে যদি ৬৪ বিটের প্রসেসর লাগানোও থাকে তবে সেটি কোন কাজের না। কেনোনা না তো আপনার ঐ ফোনের র‍্যাম ৪ জিবি থেকে বেশি আর নাই বা আপনার ফোন যতটা ক্যালকুলেশন করতে পারে সেই ক্যালকুলেশন করানোর ক্ষমতা তার অপারেটিং সিস্টেমে আছে।

আরো জানুন

এর মানে যখন আপনার ফোনে ৪ জিবির উপর র‍্যাম থাকবে তখন অথবা আপনি যদি এমন কোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করছেন যা ৬৪ বিট সমর্থন করে যেমন ললিপপ বা মার্সম্যালো, তখন আপনার ৬৪ বিট প্রসেসরের প্রয়োজন পড়বে। তাছাড়া ৬৪ বিট প্রসেসর থাকার তেমন কোন সুবিধা নেই।

আরেকটি বিষয় হলো আপনার ফোনের অ্যাপসের। দেখুন আপনার অপারেটিং সিস্টেম হয়তো ৬৪ বিট সমর্থন করলো কিন্তু আপনি যে অ্যাপ গুলো আপনার ফোনে রান করাবেন সেগুলো যদি ৬৪ বিট সমর্থন না করে তবে আপনার ফোনে ৬৪ বিট প্রসেসর হওয়ার কোন মূল্য নেই। আজকের দিনে যদি অ্যান্ড্রয়েড ফোনের কথা বলি তো এখানে আপনি প্রায় সকল প্রকার প্রসেসরের ফোন দেখতে পাবেন। এদের ভেতর কিছু ফোন চলে ৩২ বিটের উপর আবার কিছু চলে ৬৪ বিটে। এবং প্লে স্টোরে অ্যাপ গুলোর সব গুলো কিন্তু ৬৪ বিটে পাওয়া যায় না। কিছু কিছু অ্যাপস আছে যারা ৬৪ বিট সমর্থন করে এবং ৬৪ বিট প্রসেসরকে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যবহার করে। কিন্তু এমন অ্যাপসই বেশি দেখা যায় যা এখনো পর্যন্ত ৩২ বিট প্রসেসরকেই সমর্থন করে। তো এই অবস্থায় আপনি কখনোয় ৬৪ বিট প্রসেসরের সম্পূর্ণ ফাইদা উঠাতে পারবেন না।

শেষ কথা


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

বন্ধুরা আশা করছি এই পোস্ট পড়ে আপনারা এটুকু বুঝে গেছেন যে, আপনার শুধু তখনই ৬৪ বিট প্রসেসর প্রয়োজন পড়ে যখন আপনার ফোনের র‍্যাম ৪ জিবি থেকে বড় হবে বা আপনার অপারেটিং সিস্টেম ৬৪ বিট সমর্থন করবে কিংবা আপনার ব্যবহার করা অ্যাপস ঠিকঠাক ৬৪ বিটের উপর কাজ করবে। যদি কোন কোম্পানি বলে যে আমাদের ফোনে ৬৪ বিটের প্রসেসর রয়েছে কিন্তু ফোনটি চলে কিটক্যাট অপারেটিং সিস্টেমের উপর, এরমানে ঐ কোম্পানিটি আপনাকে ঠকাবার চেষ্টা করছে। কেনোনা ঐ ফোনে ৬৪ বিট প্রসেসর দিয়ে কোন কাজ হবে না। তো আমার পুরো বিশ্বাস যে এখন থেকে আপনি সঠিক প্রসেসর পছন্দ করতে সক্ষম হবেন এবং সঠিক ভাবে জানতে পারবেন যে আসলেই সেটি প্রয়োজনীয় কি না। আমাকে যদি এ ব্যাপারে জিজ্ঞাস করেন, তবে বলবো ৬৪ বিট প্রসেসরের ফোন নেওয়াটাই ভালো হবে, কিন্তু অবশ্যই ভেবে চিনতে তারপর সিদ্ধান্ত। আপনার যেকোনো আলদা প্রশ্নে অবশ্যই কমেন্ট করুন আর শেয়ার বাটনে ক্লিক করে ধ্বংস করে ফেলার বিশেষ অনুরোধ নিয়ে এখানেই শেষ করছি 😀 ।

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।