রিভিউস্মার্টফোন

প্রিমো এইচএম৪ (Primo HM4) রিভিউ | ওয়ালটনের বেসিক স্মার্টফোন

4

নিত্যনতুন প্রযুক্তি পন্য সম্পর্কে জানার আগ্রহ সবারই। তাই নিয়মিত ওয়্যারবিডি চেস্টা করে নতুন প্রযুক্তি পন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে আপনাদের সামনে নিয়ে আসার। তারই ধারাবাহিকতায় ওয়্যারবিডিের স্মার্টফোন রিভিউ পর্ব। ব্যাক্তিগত কেনার জন্য না হলেও, জ্ঞানের জন্য এসব গ্যাজেটস সম্পর্কে ধারনা রাখা ভাল।

ওয়ালটনের সম্প্রতি বাজারে আসা আরেকটি স্মার্টফোন প্রিমো এইচএম ৪ [ Primo HM4]। এটি একটি এন্ট্রি লেভেলের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন। কম দামে এই স্মার্টফোন হতে পারে আপনার সেকেন্ডারি ডিভাইস। ওয়্যারবিডিের নিয়মিত রিভিউ পর্বে আজ আমরা জানব ওয়ালটন প্রিমো এইচএম৪ সম্পর্কে।

মূল ফিচারঃ

  • ৮ মেগাপিক্সেল সেকেন্ডারি ও প্রাইমারি ক্যামেরা।
  • ৩৮০০ এমএএইচ ব্যাটারি
  • অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ নগাট

ক্যামেরা

অন্যসব স্মার্টফোনের মত ওয়ালটনের এই ডিভাইসটিতেও ক্যামেরার দিক দিয়ে এডভান্টেজ পাবে ব্যবহারীররা। বিশেষ করে যারা ঘন ঘন সেলফি তোলেন, তাদের জন্য স্মার্টফোনের ফ্রন্টে থাকছে বিএসআই সেন্সরযুক্ত ৮ মেগাপিক্সেল সেকেন্ডারি ক্যামেরা। আর অন্ধকারের সময় আলোর জোগান দিতে ক্যামেরাটির সাথে রয়েছে সিঙ্গেল এলইডি ফ্ল্যাস। তাছাড়াও সেকেন্ডারি ফ্রন্ট ফেসিং এই ক্যামেরাটিতে ফেস ডিটেকশন, অটো ফোকাস, ফিংগারপ্রিন্ট ক্যাপচার ইত্যাদির মত সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে।

একইভাবে মূল ক্যামেরা বা প্রাইমারি ক্যামেরা হিসেবেও থাকছে বিএসআই সেন্সর যুক্ত একটি ৮ মেগাপিক্সেল সিঙ্গেল ক্যামেরা,যার সাথে রয়েছে সিঙ্গেল এলইডি ফ্ল্যাশ। এই ক্যামেরা দিয়ে ১০৮০*১৯২০ রেজুলেশনে সম্পূর্ণ এইচডি ভিডিও ক্যাপচার করা যাবে। একইভাবে এতে ফেস ডিটেকশন, কন্টিনিউয়াস ফোকাস এর মত অপশন তো থাকছেই। আর দারুন প্রোফেশনাল শট নেয়ার জন্য ক্যামেরা অ্যাপটিতে রয়েছে “প্রো “মোড। মোট কথা,সামনে পিছে ক্যামেরা মোটামোটি বলা চলে। একেবারে আহামরি কিছু না।

ক্যামেরা স্যাম্পল

[su_carousel source=”media: 5448,5447,5453″]

বডি ও ডিসপ্লে

ডিভাইসটির স্ক্রীন-টু-বডি রেশিও অত্যান্ত ব্যবহার বান্ধব। আর ব্যবহারকারীর কাছে ডিসপ্লে এর পাশ দিয়ে বেজেল বেশি মোটা মনে হবে না। ডিভাইসটি ৮.৪ মিলিমিটার পুরু। এর উচ্চতা ১৫৪.৭ মিলিমিটার আর প্রসস্থ ৭৭ মিলিমিটার। আর ব্যাটারী সহ স্মার্টফোন তথা ডিভাইসটির ওজন ১৭০ গ্রাম। ডিভাইসটি সম্পূর্ন মেটাল বডি না হলেও, রয়েছে দারুহ একটা মেটাল টেক্সচার।

ডিসপ্লে হিসেবে ফোনটিতে রয়েছে ১২৮০*৭২০ রেজুলেশনের এইচডি তথা হাই ডেফিনেশন আইপিএস ডিসপ্লে। আইপিএস হওয়ার কারনে ভিউইং অ্যাঙ্গেল নিয়ে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর ডিসপ্লেটি সাইড দিয়ে ২.৫ ডি কার্ভড হওয়ায় পাওয়া যাবে একটি অন্যরকম ফিলিংস। ক্যাপাসিটিভ টাচ ডিসপ্লের সাথে ডিভাইসটি ১৬ মিলিয়ন কালার সাপোর্টেড। পিকচার তথা ডিসপ্লে কোয়ালিটি অপটিমাইজেশন এর জন্য সেটিংসে রয়েছে মিরাভিশন টেকনোলজি।

হার্ডওয়্যার

এটি একটি এনট্রি লেভেলের এনড্রয়েড স্মার্টফোন হওয়ার কারনে, এতে রয়েছে বেসিক হার্ডওয়্যার স্পেসিফিকেশন। আহামরি, অসাধারন কোন কিছু নেই -যা আছে তা সাধারন। প্রোসেসর বা চিপসেট হিসেবে রয়েছে ARM (Advance Risk Machine) আর্কিটেকচারের আদলে মিডিয়াটেকের MT6580 চিপসেট। যার বাজ স্পীড ১.৩ গিগাহার্জ । এটি ৪ কোর সম্পন্ন, একটি কোয়াড কোর চিপসেট বা প্রোসেসর। যার সাথে জিপিইউ তথা গ্রাফিক্স প্রোসেসিং ইউনিট হিসেবে রয়েছে, একই ARM অার্কিটেকচারের Mali-400. MP জিপিইউ চিপ। হার্ডওয়্যারটিকে ব্যাকআপ দিবে ১ জিবি রাম, যার তুলনামূলক ৩০০-৪০০ এমবি সাধারন ব্যবহারে ফাঁকা থাকে। তবে ইন্টারনাল স্টোরেজ খুবই কম, এটি মাত্র ৪ জিবি।তাই ব্যবহারকারীকে ১৬-৩২ জিবি এক্সটারনাল এসডিকার্ড ব্যবহার করতে হবে।

অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকছে, লেটেস্ট এনড্রয়েড ৭.০ তথা নগাট সংস্করনটি। সম্পূর্ণ ইন্টারফেসটি মূলত স্টক হলেও আইকনগুলো কাস্টমাইজড। এনটুটু বেঞ্চমার্কে ডিভাইসটির স্কোর এসেছে ২৪১১৪।

অন্যান্য

ডিভাইসটিতে সেন্সর হিসেবে রয়েছে মোশন সেন্সর, ব্রাইটনেস কম-বেশি করার জন্য এনভাইরনমেন্ট সেন্সর, পোজিশনিং এর জন্য রয়েছে প্রক্সিমিটি সেন্সর। আর ব্যাকে রয়েছে একটি ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর, যারর রেসপন্স টাইম ০.২-০.৪ সেকেন্ড। নেটওয়ার্কিং ও কানেক্টিভিটির দিক দিয়ে দিয়ে ডিভাইসটি একদম ব্যাসিক। সীম কার্ড ও এসডি কার্ড স্লটে একই সাথে দুটি ন্যানো সীম ও একটি মাইক্রো এসডি কার্ড প্রবেশ করানো যায়। তবে ডিভাইসটি ৪জি সাপোর্টেড নয়।

সম্পূর্ণ ডিভাইসকে ব্যাকআপ দিবে একটি ৩৮০০ এমএএইচ লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। আর যেহেতু লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি, এটি সাইজে অনেক কমপ্যাক্ট হয় আর ওজনেও হয় হালকা। পাওয়ার ধারন করতে পারে বেশি। ৩৮০০ এমএইচ ব্যাটারি দিয়ে, অনায়াসেই একদিন সম্পূর্ণ ব্যাক আপ পাওয়া যাবে। ডিভাইসটির দাম ৭৮৯০ টাকা।

 

পরিশেষে

এটি আমার কাছে একটি বেসিক এনড্রয়েড স্মার্টফোন। এই ফোনে ফেসবুক ভালোভাবে ব্যবহার করতেও ফেসবুক লাইট অ্যাপটি ব্যবহার করতে হবে। তরুনদের জন্য এই স্মার্টফোন মানানসই নয়। তবে আপনার পরিবারের বয়স্ক বাবা,মা বা দাদা-দাদীকে আপনি এটি কিনে দিতে পারেন। অথবা সেকেন্ডারি ফোন হিসেবে আপনার যদি অ্যানড্রয়েড দরকার পরে, তবে এটি কিনে ফেলতে পারেন।

তৌহিদুর রহমান মাহিন
কোন কিছু জেনে সেটা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই সার্থকতা । আমি মোঃ তৌহিদুর রহমান মাহিন- ভালোবাসি প্রযুক্তিকে , আরও ভালোবাসি প্রযুক্তি সম্পর্কে বেশি বেশি জানতে- জানাতে। নিয়মিত মানসম্মত প্রযুক্তি বিষয়ক আর্টিকেল উপহার দেয়ার প্রত্যয়ে আছি টেকহাবস এর সাথে।

কিভাবে ওয়েবসাইট হ্যাক হয়? হ্যাকার কেন আপনার ওয়েবসাইট হ্যাক করতে চায়?

Previous article

রুট ফোল্ডার বা রুট ডিরেক্টরি কি? — বিস্তারিত ব্যাখ্যা!

Next article

You may also like

4 Comments

  1. nice review vai! but price kothao mention nai? why?

  2. ভাই বাজেট ১৫, কোন ফোন বেস্ট হবে? ক্যামেরা ফ্যাক্টর। দ্রুত রিপ্লাই দেন প্লিজ।

    1. Xiaomi Note 4x বা Xiaomi Redmi Note 5A কিনতে পারেন।

  3. ভালো লাগলো রিভিউ। ধন্যবাদ ভাইয়া।

Leave a reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *