ওয়ালটন এর সেলফি এক্সপার্ট | ওয়ালটন প্রিমো জেড এক্স ৩ (Primo ZX3) রিভিউ

বর্তমান সময়ে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে উৎপাদন বাড়ছে, তেমনি স্মার্টফোনে দেখা মিলছে নিত্যনতুন ফিচারস। ইলেকট্রনিক্স প্রোডাক্টস এর বাজারে সবচেয়ে চাহিদার এবং শীর্ষ স্হান দখল করে আছে স্মার্টফোন। বর্তমান সময়ে কোন মানুষের সামর্থ্য আছে তবে স্মার্টফোন নেই, এরকম মানুষ খুজে পাওয়া দুস্কর। একইভাবে এই নানা শ্রেনীর মানুষকে টার্গেট করে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলো প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন মডেলের স্মার্টফোন নিয়ে আসছে। কিছু কোম্পানি স্মার্টফোনকে হাইলাইট করছে ক্যামেরা দিয়ে, কিছু কোম্পানি হাইলাইট করছে বিল্ট কোয়ালিটি দিয়ে আবার কিছু কোম্পানি স্মার্টফোনকে হাইলাইট করছে সাশ্রয়ী দামে ভালো হার্ডওয়্যার দিয়ে।

এভাবে বহু স্মার্টফোন কোম্পানি নানাভাবে তাদের স্মার্টফোন উৎপাদন করছে এবং তা বাজারে নিয়ে আসছে। কিছু কোম্পানি বাজারে সবার উপরে অবস্হান করছে, কেবল বিপুল মার্কেটিং এর জোড়ে, আবার কিছু কিছু বাজারে শীর্ষে অবস্হান করছে ব্যবহারকারীর ভালো অভিজ্ঞতার জোড়ে। যাই হোক,আন্তর্জাতিক বহু স্মার্টফোন নির্মাতা কোম্পানির পাশাপাশি, বাংলাদেশী বিপুল জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে ; দেশীয় ইলেকট্রনিক্স নির্মাতা কোম্পানি ওয়ালটন প্রতিনিয়ত নিয়ে আসছে নিত্যনতুন মডেলের স্মার্টফোন।

চিপসেটMT6757
র‍্যাম ও স্টোরেজ৪ জিবি ও ৬৪ জিবি
ডিসপ্লে৬” IPS (১৯২০*১০৮০)
ক্যামেরা১৩ ও ৫ মেগাপিক্সেল / ২০ মেগাপিক্সেল
অপারেটিং সিস্টেম এনড্রয়েড ৭.০
 ব্যাটারি ৪৫৫০ এমএএইচ

সম্প্রতি ৩৩ হাজার টাকা দামে ওয়ালটন বাজারে এনেছে তাদের, নতুন ফ্লাগশীপ স্মার্টফোন Primo ZX3। মূলত ZX লাইন-আপের সবই ওয়ালটনের ফ্লাগশীপ স্মার্টফোন। স্মার্টফোনটিকে ওয়ালটন মূলত ফিচার তথা হাইলাইট করছে এর ক্যামেরা দিয়ে। আর ইউটিউবে এটিসি চ্যানেল থেকে Primo ZX3 দিয়ে শুট করা একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। যা থেকে বোঝা যায়, ডিভাইসটির ক্যামেরা কোয়ালিটি খারাপ না। যাই হোক,ভালো বিল্ট কোয়ালিটি এবং হাই-লাইটেট ক্যামেরা সম্পন্ন ওয়ালটনের ফ্লাগশীপ Primo ZX3 সম্পর্কে আমরা জানব বিস্তারিত।

স্মার্টফোনটির বক্স বলতে হবে যথেষ্ঠ প্রিমিয়াম। বক্স এর ওপর ZX3 ব্র্যান্ডিং এবং এর সাথে লেখা BELIEVE IN SOMETHING BETTER। যাই হোক,আনবক্সিং এর মধ্য দিয়ে আপনি বক্সে যা যা পাচ্ছেনঃ

  • স্বয়ং Primo ZX3 ডিভাইস
  • সিম ও এসডিকার্ড ইজেক্টর পিন
  • ইউএসবি ২.০ ডাটা/চার্জিং কেবল
  • ওটিজি কেবল
  • ফাস্ট চার্জার
  • হেডফোন
  • প্রিমিয়াম ফ্লিপ কভার
  • সর্বশেষ, ইউজার ম্যানুয়াল ও ওয়ারেন্টি কার্ড।

বডি ও ডাইমেনসন

বক্সের পাশাপাশি ডিভাইসটির বিল্ট কোয়ালিটি বলতে গেলে তুলনামূলক ভালো। সম্পূর্ন মেটাল বডি এবং সাইড দিয়ে রাউন্ড ফিনিশিং আপনার হাতে একটি দারুন ফিল এনে দেবে, সচরাচর অন্যসব হাইএন্ড স্মার্টফোনের মতই। ডিভাইসটির উচ্চতা ১৬৬.৪ মিলিমিটার এবং প্রস্হ ৮৩.৩ মিলিমিটার। ডিভাইসটির পুরুত্ব ৯.১ মিলিমিটার। এসব সহ ব্যাটারি নিয়ে ডিভাইসটি আপনার কাছে একটু ভারী মনে হতে পারে, কেননা এর ওজন ২২৬ গ্রাম।

ডিভাইসটির ব্যাক সাইডে উপরের দিকে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরার সাথে, সিঙ্গেল এলইডি ফ্লাস। তার নিচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর এর মত দেখতে ওয়ালটনের ব্র্যান্ডিং বা লোগো, তবে এটি কিন্তু ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর নয়। এবং সবার নিচে Primo ZX3 লেখা। তারও নিচে রয়েছে মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট ও একটি স্পিকার, অন্যটি মাইক্রোফোন গ্রিল। আর ডান সাইডে বরাবর অন্যসব স্মার্টফোনের মত পাওয়ার ও ভলিউম বাটন।বাম পাশে রয়েছে দুটি সীম ও একটি এসডি কার্ড সাপোর্টেড ট্রে।

ডিসপ্লেঃ ডিভাইসটিতে রয়েছে ১৯২০*১০৮০ রেজুলেশনের ৬ ইঞ্চি ফুল এইচডি IPS ডিসপ্লে। প্রোটেকশম হিসেবে নাকি রয়েছে হাই প্রোটেকটিভ স্ক্র্যাচ প্রুফ গ্লাস। আর এটি একটি ২.৫ ডি কার্ভড ডিসপ্লে।

ক্যামেরা

ডিভাইসটির ক্যামরাতে হয়ত বেশি নজর দেয়া হয়েছে। ক্যামেরার দিক দিয়ে এটি একটি হিউজ ক্যামেরা ফোন।

প্রাইমারি ক্যামেরাঃ ডিভাইসটির রিয়ার প্যানেলে একটি ১৩ মেগাপিক্সেল ও ৫ মেগাপিক্সেল ডুয়াল ক্যামেরা মডিউল বিদ্যমান। ক্যামেরা দুটুই f/2.0 এপার্চার যুক্ত।ক্যামেরা ফিচারে অটো ফোকাস ও ম্যানুয়াল ফোকাস বিদ্যমান রয়েছে। ক্যামেরাটি দিয়ে ১৯২০*১০৮০ পিক্সেলে ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং করা যাবে। সেকেন্ডে তুলনামূলক বেশি শট ক্যাপচার ক্ষমতা থাকার কারনে, এই ক্যামেরাতে স্লো মোশন ফিচারটি বিদ্যমান।

সেকেন্ডারি ক্যামেরাঃ এর ফ্রন্ট প্যানেলে রয়েছে একটি সিঙ্গেল ২০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। আর যার ফলে নির্মাতার তরফ থেকে একে বলা হচ্ছে সেলফি কিং। বোকেহ মোড এর ফলে ডিএসএলআর এর মত ছবিতে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করা সম্ভব হবে। এই ক্যামেরাটিও f/2.0 এপার্চার সমৃদ্ধ।

ক্যামেরা স্যাম্পল 

হার্ডওয়্যার

ডিভাইসটিতে প্রোসেসর হিসেবে থাকছে মিডিয়াটেক এর প্রোসেসর। যা আমার মতে একটি খারাপ দিক। এই দামে মিডিয়াটেক প্রোসেসর আসলে কেউই চায় না। এমনকি শাওমির ১০ হাজার টাকার ফোনেও স্ন্যাপড্রাগন প্রোসেসর থাকে। যদিও বলা হচ্ছে না “মিডিয়াটেক কোন প্রোসেসরই না ” তা না; তবুও এই দামে স্ন্যাপড্রাগন দেয়া যেত। আপনি নিশ্চয়ই ৫০ হাজার টাকার ল্যাপটপে এএমডি প্রোসেসর চাইবেন না! ডিভাইসটিতে রয়েছে মিডিয়াটেক mt6757 চিপসেট,এটি ২.৪ গিগাহার্জ ক্লকস্পীড এর ওক্টাকোর প্রোসেসর। একইভাবে গ্রাফিক্স প্রোসেসিং ইউনিট হিসেবে থাকছে Mali T880।

আরও রয়েছে ৪ জিবি রাম এবং ৬৪ জিবি স্টোরেজ।

ডিভাইসটিতে সেন্সর এর কথা বলতে গেলে বহু সেন্সর রয়েছে। যা আপনার নানা কাজে সাহায্য করবে। ডিভাইসটি ১০ মাল্টিফিংগার টাচ সাপোর্টেড। এনটুটু বেঞ্চমার্কে এর স্কোর এসেছে ৬৫৬৯৮ এবং নিনামার্কে স্কোর এসেছে 60.9 fps। গীকবেঞ্চ এ সিঙ্গেল কোরে স্কোর এসেছে ৮০৫ এবং মাল্টিকোরে এসেছে ৩৭৪৪।

অন্যান্য

ব্যাটারি হিসেবে রয়েছে একটি হাই ডেনসিটি লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। যা ৪৫৫০ এমএএইচ ক্ষমতা সম্পন্ন। সবচেয়ে বেশি সুবিধা এটি ফাস্ট চার্জিং সাপোর্টেড। এবং বক্সের সাথে একটি ফাস্ট চার্জারও পাওয়া যায়। বর্তমান সময়ের অন্যসব ডিভাইস এর মত এটিও ৪ জি সাপোর্টেড। আর এটি ২.৪ জি ও ৫জি দুই ব্যান্ড এর ওয়াইফাই সিংনালই সাপোর্ট করে।

এক নজরে যা যা ফিচার মনে হয়েছেঃ

  • ২০ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • ৩ডি সারাউন্ডিং সাউন্ড সিস্টেম (Maxx Audio)
  • ৬৪ জিবি রম
  • এনড্রয়েড ৭.০
  • ২০ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা এর জন্য কার্যকর ফেস আনলক

পরিশেষে

৩৩ হাজার টাকার বাজেটে মিডিয়াটেক প্রোসেসর সত্যিই আমার কাছে হতাশাজনক। এখানে অন্তত স্ন্যাপড্রাগন কোয়ালকম এর ৬০০ সিরিজের প্রোসেসর ব্যবহার করা যেত। পাশাপাশি এডরিনো জিপিইউ ব্যবহার করলে এটা বাজারের অন্যসব ডিভাইসকে টেক্কা দেয়ার ক্ষমতা রাখত।



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

আশা করি রিভিউটি ভালো লেগেছে। নিচে স্মার্টফোনটি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে ভুলবেন না। আর এরকম আরও রিভিউ চান কিনা তা জানাতে পারেন।