ডাটা ব্যাকআপ কেন প্রয়োজনীয়? বেস্ট ফ্রী অনলাইন ডাটা ব্যাকআপ সার্ভিস!

অনলাইন ব্যাকআপ

আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা গুলোকে হয়তো আপনি কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভে সেভ করে রেখেছেন, আর নিশ্চিন্তে বসে রয়েছেন, তাই না? কিন্তু আমি যদি আপনাকে বর্ণনা দেয়, কিভাবে আপনার ডাটা গুলো বসে থাকতে থাকতেই ক্র্যাশ হয়ে যেতে পারে, আপনার শান্তিতে বসে থাকা দুঃস্বপ্নে পরিনত হয়ে যাবে। এই আর্টিকেলে আমি ডাটা ব্যাকআপ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানাবো, এবং কিছু ফ্রী অনলাইন ডাটা ব্যাকআপ সার্ভিস সম্পর্কে জানবো। বিস্তারিত জানার জন্য, স্থির হয়ে সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়তে থাকুন।

ডাটা ব্যাকআপ প্রয়োজনীয়তা

আপনার কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ হয়তো কিছু সময়ের জন্য ডাটা স্টোর করে রাখার জন্য ভালো। বিশেষ করে আপনি যে ডাটা গুলোকে নিয়মিত অ্যাক্সেস করেন, সেগুলোকে কম্পিউটার ড্রাইভেই রাখা ভালো। কিন্তু যে ডাটা গুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বা যে ডাটা গুলোকে আপনি বহুকাল ধরে সংরক্ষিত রাখতে চান, সেক্ষেত্রে কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ সঠিক চয়েজ নয়। কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ ঠিক কখন ফেইল হয়ে যাবে, এর গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে না। বিদ্যুতের ফলে ধপ করে কম্পিউটার অফ হয়ে গেলে আপনার হার্ড ড্রাইভ আচানক ক্র্যাশ হয়ে যেতে পারে আর ক্র্যাশ না হলেও এতে অবশ্যই ব্যাড সেক্টর তৈরি হয়, যার ফলে আপনার ডাটা করাপ্টেড হয়ে যেতে পারে। এমনকি আপনি যদি কোন হার্ড ড্রাইভে ডাটা লোড করে ব্যাস সিন্দুকে রেখে দেন, বসে থেকেও ড্রাইভটি ফেইল হয়ে যেতে পারে।

ডাটা ব্যাকআপ

তো এতো গেলো আপনার ভাগ্য দোষের ব্যাপার, কিন্তু আরো ভয়ের কারণ রয়েছে, যেগুলো ইনস্ট্যান্ট আপনার সকল ডাটা গুলোকে ধ্বংস করতে পারে। কম্পিউটার ম্যালওয়্যার! – আপনি নিশ্চয় ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, এর মানে আপনি নিশ্চয় ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষিত নয়। যেকোনো সময় যেকোনো ভাবে আপনার কম্পিউটার ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে। এখন অনেক টাইপের ম্যালওয়্যার রয়েছে, যারা বিশেষ করে আপনার কম্পিউটারের ডাটা গুলোকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্যই তৈরি। আপনি র‍্যানসমওয়্যারের নাম নিশ্চয় শুনেছেন; এটি আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করে সকল ডাটা গুলোকে এনক্রিপ্টেড করিয়ে দেয়। এনক্রিপশন হলো এক কম্পিউটারের ভাষা যেটি সাধারণ ফাইলকে উলটাপালটা করে ফেলে। আপনার কম্পিউটারে যদি র‍্যানসমওয়্যার প্রবেশ করে, এর সাথে লাগানো যেকোনো হার্ড ড্রাইভ বা ইউএসবি ড্রাইভের ডাটা গুলোও এনক্রিপটেড হয়ে যাবে। আর সেই ডাটা গুলোকে ফেরত পাওয়া প্রায় অসম্ভব। সাথে আপনার ল্যাপটপ যেকোনো সময় চুরি হয়ে যেতে পারে, কিংবা কেউ কম্পিউটার থেকে হার্ড ড্রাইভ বেড় করে নিয়ে যেতে পারে, এতে সমস্ত ডাটা গুলো হারিয়ে ফেলবেন।

বড় বড় কোম্পানিরা তাদের ডাটা গুলোর ব্যাকআপ রাখার জন্য মাসে কয়েক লাখ পর্যন্ত ডলার খরচ করে। —তো এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝে গেছেন, আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা গুলোকে ব্যাকআপ করে রাখা কেন দরকারি! ব্যাট কিভাবে ব্যাকআপ করবেন? চিন্তা করার কারণ নেই, নিচের প্যারাগ্রাফে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

বেস্ট ডাটা ব্যাকআপ ম্যাথড

দেখুন, প্রথমত আমি বলবো আপনার ডাটা গুলোকে অফলাইনে স্টোর করে রাখায় বেস্ট পদ্ধতি। তবে হার্ড ড্রাইভে লং টাইমের উদ্দেশ্যে ডাটা না স্টোর করায় ভালো। ডাটা লং টাইমের জন্য স্টোর রাখার বেস্ট পদ্ধতি হচ্ছে সিডি, ডিভিডি, বা ব্লু-রে ডিস্ক। হ্যাঁ, কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ থেকে ডিভিডি অনেক বেশি সময়ের জন্য ফেইল না হয়ে ডাটা সংরক্ষিত রাখতে পারে, এর চেয়েও বেশি সময় ধরে ক্যাসেট টেপ ড্রাইভ ডাটা সংরক্ষিত করতে পারে। তাই আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা গুলোকে ডিভিডি’তে ব্যাকআপ রাখা বেস্ট হবে। যদি ডাটার সাইজ অনেক বেশি হয়, সেক্ষেত্রে ব্লু-রে ডিস্ক ইউজ করা বেস্ট হবে। একটি সিঙ্গেল ব্লু-রে ডিস্কে ৫০-১২৮ জিবি পর্যন্ত ডাটা স্টোর করতে পারবেন। সাথে অবশ্যই আপনার ডাটা গুলোর অনেক গুলো কপি তৈরি করুণ। একটি কপি বানিয়ে নিশ্চিন্ত হবেন না। যদি ডাটা গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তো ডাটা গুলোকে এনক্রিপশন করিয়ে তবেই ডিস্ক রাইট করুণ। কয়েক বছর ধারণ করার জন্য এক্সটারনাল হার্ড ড্রাইভ ব্যবহার করতে পারেন।

অনলাইন ব্যাকআপ

অফলাইন ম্যাথডের পরে, সবচাইতে জনপ্রিয় ম্যাথড হচ্ছে অনলাইন ব্যাকআপ করা। যেহেতু আজকে ইন্টারনেটের যুগ, তাই আমরা অনলাইন থেকেই সকল সুযোগ সুবিধা গুলোকে পেতে চাই। অনলাইন ব্যাকআপ রাখার মাধ্যমে আপনি যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সময় আবার ডাটা গুলোকে অ্যাক্সেস করতে পারবেন। যেকোনো কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে ডাটা গুলোকে রীড করতে পারবেন। তাছাড়া বিভিন্ন ডিভাইজের সাথে একসাথে ডাটা গুলোকে সিঙ্ক করতে পারবেন।

যদি আপনার খুববেশি ডাটা ব্যাকআপ রাখার প্রয়োজন না হয়, তবে অনেক ফ্রী অনলাইন সার্ভিস রয়েছে যাদের কাছে আপনি ডাটা ব্যাকআপ রাখতে পারবেন। তারা লাইফ টাইমের জন্য আপনার ডাটা গুলোকে ব্যাকআপ রাখবে। তাদের কাছেও আপনার ডাটার আরো আলাদা কপি থাকে, যাতে কোন কারণে সার্ভার হার্ড ড্রাইভ ক্র্যাশ করলে আপনার ডাটা গুলোকে হারিয়ে ফেলতে না হয়। তবে অনলাইন ব্যাকআপ রাখার ক্ষেত্রে অবশ্যই যে কোম্পানি নির্বাচন করবেন সেটি বিশ্বস্ত হতে হবে। তা না হলে, আপনার ডাটা গুলো গায়েব করে কোম্পানি পালিয়ে যাবে, আর আপনাকে পড়তে হবে আরেক অসুবিধায়। তবে আরেকটি কথা, আপনার ডাটা গুলো যদি প্রচণ্ড সেনসিটিভ হয়, তাহলে অনলাইন ব্যাকআপ না রাখায় ভালো, অনলাইনে অনেক সময় প্রাইভেসির সমস্যা হতে পারে, তাছাড়া সিকিউরিটি রিস্কও থাকে। অনলাইন ডাটা ব্যাকআপ রিস্ক গুলো সম্পর্কে জানতে এই আর্টিকেলটি দেখুন!

ফ্রী অনলাইন ডাটা ব্যাকআপ সার্ভিস

অনলাইনে অনেক ডাটা ব্যাকআপ রাখার সার্ভিস রয়েছে, যারা ফ্রী ডাটা ব্যাকআপ প্ল্যান প্রদান করে থাকে। যেহেতু ফ্রী, তাই অবশ্যই প্রিমিয়াম কোন কিছুর মতো আশা না রাখায় ভালো। ফ্রী প্ল্যানে সব সময় ডিস্ক লিমিটেশন থাকে। তবে আপনার যদি মাত্র ১০-১৫ জিবি ডাটা ব্যাকআপ রাখা প্রয়োজনীয় হয়, পেইড প্যান পারচেজ করার কোনই দরকার নেই। যদি আপনার বিজনেসের জন্য বা বেশি পরিমানে ডাটা ব্যাকআপ করতে চান, সেক্ষেত্রে অবশ্যই পেইড প্ল্যান কেনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

গুগল ড্রাইভ

গুগলের উপর যদি ভরসা না রাখেন তো আর কাকে ভরসা করবেন, বলুন? গুগল ড্রাইভ আপনাকে ফ্রী ১৫ জিবি স্পেস প্রদান করে অনলাইন ডাটা ব্যাকআপ করার জন্য। তবে এই স্পেস জিমেইল, গুগল ফটো, এবং ড্রাইভের মাঝে শেয়ার করা থাকে। যাই হোক, এটি অন্তত ড্রপবক্সের ফ্রী ২জিবি থেকে অনেক বেশি ভালো। সাথে আপনি কম্পিউটার, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস সব কিছু থেকেই ডাটা ব্যাকআপ, অটো-ব্যাকআপ, অ্যাক্সেস, এবং সিঙ্ক করতে পারবেন। যদি আপনি ফ্রী ব্যাকআপ প্ল্যান আর একসাথে বহু সুবিধার কথা ভেবে থাকেন, অবশ্যই গুগল ড্রাইভ আপনার প্রথম পছন্দ হবে। গুগল ড্রাইভে আপনি যেকোনো টাইপের ফাইল স্টোর করতে পারবেন।

মিমিডিয়া

মিমিডিয়া—আপনাকে ফ্রী ১০ জিবি ডাটা ব্যাকআপ প্ল্যান প্রদান করে এবং গুগল ড্রাইভের মতো এখানেও আপনি অটো-ব্যাকআপ গ্রহন করতে পারবেন। মিমিডিয়ার একটি সমস্যার দিক হচ্ছে, এটি কেবল ফটোস, মিউজিক, মুভি, ভিডিও স্টোর করার জন্য ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু জিপ ফাইল বা ইএক্সই ফাইল গুলোকে এখানে স্টোর করতে পারবেন না। যাই হোক, অন্তত মিডিয়া ফাইল গুলোকে স্টোর করার জন্য মিমিডিয়া বেস্ট চয়েজ। আমি নিজেও এখানে ৫ জিবির মতো ডাটা ব্যাকআপ করে রেখেছি, ডাটা আপলোড এবং ডাউনলোড স্পীড অনেক ফাস্ট। তাছাড়া মোবাইল অ্যাপ এবং ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে, ফাইল আপলোড করার জন্য।

আইড্রাইভ বেসিক

আইড্রাইভ বেসিক প্ল্যান আপনাকে ফ্রী তে ৫জিবি ডাটা অফার করে অনলাইন ফাইল স্টোর করার জন্য। অন্যান্য যতো সকল অনলাইন ডাটা ব্যাকআপ সার্ভিস রয়েছে, প্রত্যেকটি সুবিধা আপনি আইড্রাইভ প্রিমিয়াম অ্যাকাউন্ট থেকে পেয়ে যাবেন। তবে ফ্রী অ্যাকাউন্টেও আপনি অনেক কিছু করতে পারবেন। এরা আনলিমিটেড ডিভাইজ সমর্থন করে, অর্থাৎ আপনার বাড়ির যতো গুলো ডিভাইজ রয়েছে, সকল ডিভাইজ থেকে ফাইল আপলোড করতে পারবেন একটি অ্যাকাউন্টের অধীনে, শুধু ৫জিবি পর্যন্ত লিমিট থাকবে।

জটাক্লাউড

জটাক্লাউড —আপনাকে ৫জিবি পর্যন্ত ফ্রী ক্লাউড স্পেস প্রদান করে, কিন্তু আপনি যদি আপনার ফ্রেন্ডদের রেফার করেন, সে ক্ষেত্রে ১০০ জিবি পর্যন্ত ফ্রী স্পেস পেতে পারবেন। আলাদা যেকোনো ব্যাকআপ সার্ভিসের মতো এদের থেকেও আপনি সকল সুবিধা পাবেন, সাথে এরাও আনলিমিটেড ডিভাইজ সমর্থন করে। আর এদের প্রিমিয়াম প্ল্যানও রয়েছে। এদের সার্ভার নরোয়েতে অবস্থিত। উইন্ডোজ এবং ম্যাকওএস’কে আরামে সমর্থন করে।

মেমোপাল

মেমোপাল — ৩জিবি ফ্রী স্পেস প্রদান করে, এবং সাথে আপনি অগুনতি কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবেন। এদের সফটওয়্যার যেকোনো মোবাইল এবং যেকোনো কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম সমর্থন করে। তাই নো টেনশন।

ডাটা ব্যাকআপ রাখা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কেউ নিশ্চয়তা দিতে পারবে না কখন কিভাবে প্রয়োজনীয় ডাটা লস হয়ে যেতে পারে। তাই অফলাইন ব্যাকআপ হোক আর অনলাইন—নিয়মিত ডাটা ব্যাকআপ নেওয়া অত্যন্ত আদর্শ!

আশা করছি, এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য অনেক সাহায্যপূর্ণ ছিল। আপনি ডাটা ব্যাকআপ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানলেন, ডাটা ব্যাকআপ করার বেস্ট ম্যাথড গুলো সম্পর্কে জানলেন, এবং বেস্ট অনলাইন ফ্রী ব্যাকআপ সার্ভিস গুলোর সাথে পরিচিত হলেন। আপনার কাছে কি আরো ফ্রী সার্ভিস লিস্ট রয়েছে? নিচে আমাদের কমেন্ট করে জানান।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

ইমেজ ক্রেডিট; Pixabay.Com

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।