এলজি জি৫ রিভিউ | একটি মডিউলার ফোন

এলজি জি৫ রিভিউ

এলজি জি৫ ইউনিক ডিজাইনের একটি মডিউলার ফোন। যেটি আপনাকে শুধু মাত্র সোয়াপ করে অতিরিক্ত এক্সেসিরিস ব্যাবহারের সুবিধা প্রদান করে। তাছাড়াও এতে রয়েছে দুইটি রেয়ার ক্যামেরা, বর্ধন যোগ্য স্টোরেজ এবং বদলানো যোগ্য ব্যাটারি। সর্বপরি এটি নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার স্মার্টফোন। চলুন এই ফোনটির বিস্তারিত রিভিউ দেখে নেওয়া যাক। তারপর আপনাদের আমার নিজস্ব মতামত দেবো যে, ফোনটি কেনা উচিৎ হবে কি না। একটি ভালো রিভিউ আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহনের সময় এবং টাকা দুটোই বাঁচাতে পারে। তো চলুন শুরু করা যাক।

এলজি কোম্পানিটি তাদের স্মার্টফোনের সাথে সর্বদা নিরাপদ ভাবে বিজনেস করে এসেছে। সাম্প্রতি বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বদা কোম্পানিটি তাদের ফোন রিলিজ করে এসেছে। কিন্তু এই বছর কোম্পানিটি একদম নতুন কিছু করার ঝুঁকি নিয়ে, তাদের নতুন মডিউলার ফোন এলজি জি৫ রিলিজ করেছে। যেটাতে সোয়াপ করে অতিরিক্ত এক্সেসিরিস ব্যাবহারের সুবিধা রয়েছে। যেহেতু বর্তমান বাজারে কোন মডিউলার ফোন নেই, তাই ফিচারটি যতই ইউনিক হোক তা ভোক্তাদের চাহিদা কতটা মেটাতে পারবে তা কিন্তু বিশাল এক প্রশ্নবোধক চিহ্ন। যদিও আমি নতুন আবিষ্কারকে পছন্দ করি, তারপরেও জানা গেছে ফোনটির বাজারে সামান্য পতনের সৃষ্টি হয়েছে। সোয়াপ করে অতিরিক্ত এক্সেসিরিস ব্যাবহারের সুবিধা সত্যিই অনেক আকর্ষণীয়। কিন্তু বারবার ফোনটিতে নতুন এক্সেসিরিস ঢুকানো মানে বারবার ফোনটি অফ অন করা। এবং এই প্রযুক্তিটি সম্পূর্ণ নতুন হওয়াই বাজারে এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত মডিউল নেয়। এলজি প্রধানত দুইটি মডিউল বিক্রি করছে ফোনটির সাথে। যদিও এটি নতুন কোন আইডিয়া এবং প্রযুক্তি সফল বাজারজাত করার জন্য যথেষ্ট নয়। হয়তো সামনের দিনে অনেক সহযোগী কোম্পানি এগিয়ে আসবে বিভিন্ন ধরনের ক্রিয়েটিভ মডিউল নিয়ে। তবে সত্যিকার দিক থেকে দেখতে গেলে স্মার্টফোনে মডিউল এর ধারণা একেবারে ইউনিক এবং স্মার্টফোন প্রজন্মর পরবর্তী সংস্করণ।

এবার এলজি জি৫ এর মডিউলের কথা ভুলে বাকী ফোনটির দিকে দৃষ্টিপাত করা যাক। আপাতত রিমুভ আবোল ব্যাটারির সাথে এটি একটি চমৎকার ডিভাইজ। এবং এটি পৃথিবীর মধ্যে একটি অসাধারণত্ব ফোন হিসেবে গণ্য পেতে চলেছে। ফোনটির অ্যালুমিনিয়াম বিল্ড ডিজাইন আপনাকে প্রিমিয়াম ফিল প্রদান করে। এবং এর ডুয়াল রেয়ার ক্যামেরা যথেষ্ট উন্নত ইমেজ উৎপন্ন করতে সক্ষম।

সার্বিকদিক থেকে দেখতে গেলে এই ফোনটির ক্যামেরা এখনো পর্যন্ত স্যামসাং এর গ্যালাক্সি এস৭ এবং এস৭ এজ এর চেয়ে উন্নত নয়, যখন ইমেজ প্রসেসিং স্পীড এবং ব্যাটারি লাইফ এর প্রশ্ন আসে। কিন্তু তারপরেও ছবি তোলা, ইন্টারনেট ব্রাউজ, পছন্দের ভিডিও দেখতে এই ফোনটি আপনাকে যথেষ্ট তিপ্তি প্রদান করবে।

(জি৫ এর হার্ডওয়্যারের সাথে বিভিন্ন কোম্পানির ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর হার্ডওয়্যার তুলনা করতে রিভিউটির একদম শেষে দেখুন)

এলজি জি৫ এর ডিজাইন

এলজি জি৫ এর ডিজাইন
ছবিঃ James Martin|সি-নেট

যখন এলজি প্রথম তার এই জি৫ ফোনটি প্রদর্শন করে তখন এটি সর্বপ্রথম মডিউলার ফোন হিসেবে গণ্য করা হয়। ইচ্ছা মতো সোয়াপ করে ফোনের সাথে ইচ্ছা মতো হার্ডওয়্যার যুক্ত করা স্মার্টফোন ইউজারদের জন্য স্বপ্নের মতো একটি বিষয় ছিল। কিন্তু ইউজারদের সেই স্বপ্ন পুরন করেছে জি৫। আপনার ব্যাক্তিগত কম্পিউটারের মতো ইচ্ছা মতো যন্ত্রাংশ প্রয়োজন অনুসারে বদলানো, তাও আবার আপনার স্মার্টফোনে, এটি সত্যিই একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তি। জি৫ এর মডিউল সুবিধাটি উপভোগ করতে ডিভাইজটির বাম পাশে অবস্থিত একটি ছোট বাটনে হালকা ঠেলা দিতে হবে। তাহলে জি৫ এর নিচের দিকটা একটা ফ্রেম ও ব্যাটারির সাথে খুলে আসবে। এবার সেই ফ্রেমে বিভিন্ন এক্সেসিরিস লাগিয়ে ভেতরে প্রবেশ করিয়ে দিতে হবে। কিন্তু বেশি মডিউল খোলামেলা করলে আপনার ব্যাটারি ড্রেন করতে পারে।

গুগল এইরকম মডিউলার ফোন ডিজাইন করতে তাদের প্রজেক্ট আরা নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু তাদের প্রজেক্টের উন্নতিকরণ এখনো পর্যন্ত স্থগিত আছে। কিন্তু এমন সময় এই ধরনের আইডিয়া নিয়ে এলজি বাজারে সবার প্রথমে নেমে গেলো। যার ফলে এলজির সফলতা পাওয়ার সুযোগটা অনেক অংশেই বেশি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই পর্যন্ত কোম্পানিটি মাত্র দুইটি মডিউল এক্সেসিরিস উদ্ভবন করতে পেরেছে। যদিও সময়ের দিকে এবং বর্তমান প্রযুক্তির দিকে লক্ষ্য করে এলজিকে ক্ষমা করা যায়।

একটি মডিউল এর নাম “ক্যাম প্লাস”। এটি একটি ক্যামেরা সহযোগী মডিউল। এতে ইমেজ ও ভিডিও ক্যাপচার করার জন্য একটি ফিজিক্যাল বাটন এবং জুম কমা বারা করার জন্য একটি ফিজিক্যাল চাকা আছে। এবং এই মডিউলটির সাথে একটি বিল্ড ইন ব্যাটারি আছে, যেটি ফোনটিতে অতিরিক্ত সময় ধরে পাওয়ার সঞ্চারন করতে সাহায্য করবে। এবং আরেকটি মডিউল এর নাম হলো “হাই-ফাই প্লাস”। এটি একটি পোর্টআবোল ডিজিটাল টু এনালগ কনভার্টার (ডিএসি), যেটি ফোনের অডিও প্লে-ব্যাককে বুস্ট করবে। এটির সাথে একটি অডিও গ্রিল, ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট এবং ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক যুক্ত করা আছে। তাই এটি আপনার এলজি জি৫ এর সাথে সর্বদা যুক্ত হয়ে থাকতে পারবে।

ফোনটির মডিউলারটি প্রথমবার বের করতে একটু ঝামেলা করতে পারে। কেনোনা এটির ফ্রেম ফোনটির সাথে অনেক শক্ত করে লেগে থাকে এবং সহজে বের হয়ে আসতে চায়না। তবে আপনার যদি একটু বড় নখ থাকে তবে মডিউলারটি টেনে বের করতে সুবিধা হবে। আমি বলবনা যে, সবসময় এই ঝামেলা লেগেই থাকবে। ব্যাবহারের সাথে সাথে এটি অবশ্যই ঠিক হয়ে যাবে। যাই হোক, যেহেতু এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত মডিউল এক্সেসিরিস নেই ফোনটির জন্য। তাই এলজির অবশ্যই অন্যান্য কোম্পানির সাথে অতি সিগ্রহি ডিল করা উচিৎ, যাতে নতুন অনেক মডিউল এক্সেসিরিস উদ্ভবন করে বাজারে আনা যায়। তবে, একটি টপ লেভেলের হান্ডসেট হিসেবে জি৫ একটি অসাধারন ডিভাইজ। শুধু মডিউল এর দিক থেকে একটু কমতি লক্ষ্য করা যায়।

সফটওয়্যার | ইজি ইউজার ইন্টারফেস

জি৫ সফটওয়্যার
ছবিঃ Lynn La/সি-নেট

আপনি যদি ফ্রেস ইউজার ইন্টারফেস পছন্দ করে থাকেন তবে তবে জি৫ আপনার অনেক পছন্দের একটি ডিভাইজ হতে পারে। এলজি তাদের এই ডিভাইজটির অ্যাপ ড্রয়ারটি গ্রিড করে বানিয়েছে। জি৫ এর ডিফল্ট থিমে হোমের সাথে কোন ড্যাশবোর্ড নেই, সরাসরি অ্যাপ ড্রয়ার। আবার বলতে পারেন কোন আলাদা অ্যাপ ড্রয়ার নেই। যেমনটা আইফোন সহ হুয়াই, সাওমি ইত্যাদি ডিভাইজে দেখা যায়। অনেকের কাছে এটি বিরক্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু আপনি যদি এরকমটা আগে ব্যবহার করে না থাকেন তবে এই ফিচারের প্রেমে পড়ে যেতে পারেন। কিন্তু ড্যাশবোর্ড না থাকায় আপনার হোম স্ক্রীনকে আপনার মনের মতো করে সাজাতে পারবেন না। ড্যাশবোর্ড এর বদলে থাকা অ্যাপ ড্রয়ারে ৫ টি সারিরে অ্যাপস সাজিয়ে রাখা যাবে। ভাগ্যবসত কিছু ভালো সফটওয়্যার সম্ভার পাওয়া যাবে ডিফল্ট ভাবে।

তাছাড়াও স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর মতো জি৫ এও আছে অলঅয়েজ অন ডিসপ্লে। যেটা নিয়মিত ভাবে সময়, তারিখ, মিস করে ফেলা নোটিফিকেশন প্রদর্শন করবে, এমনকি ডিভাইজটির স্লিপিং টাইমেও অলঅয়েজ অন ডিসপ্লে অন থাকবে। আপনাকে অন্যান্য ফোন গুলোর মতো গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশন জানতে বা সময় জানতে বারবার ব্যাকলাইট জ্বালাতে হবে না। যাই হোক, এটি অনেক ভালো একটি ফিচার হলেও স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর তুলনায়
সীমিত। স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর  অলঅয়েজ অন ডিসপ্লেতে আলাদা আলদা ঘড়ি এবং মাসিক ক্যালেন্ডার থিম সেট করা যায়। এলজি জি৫ এর অলঅয়েজ অন ডিসপ্লেতে শুধু একটি ওয়েলকাম ম্যাসেজ যুক্ত করা যাই, আর ব্যাস এটুকুই। যখন রোদে অলঅয়েজ অন ডিসপ্লের টেক্সট দেখার কথা আসে, তখন জি৫ এর টেক্সট এস৭ এর মতো উজ্জ্বল নয়।

ক্যামেরা | দুইটি ক্যামেরা হওয়াটা অবশ্যই একটি থেকে ভালো

জি৫ ক্যামেরা
ছবিঃ Josh Miller/সি-নেট

এলজি জি৫ এ দুইটি ক্যামেরা আছে পেছনে। একটি ১৬-মেগাপিক্সেল সমৃদ্ধ ক্যামেরা যেটিতে ৭৮-ডিগ্রি প্রশস্ত লেন্স, এবং আরেকটি ৮-মেগাপিক্সেল ক্যামেরার সাথে প্রশস্ত অ্যাঙ্গেল ১৩৫-ডিগ্রি লেন্স আছে। জি৫ এর ক্যামেরার প্রশস্ত লেন্স আপনাকে প্রত্যেকটি ফ্রেম ক্যাপচার করার সময় অধিক স্পেস ক্যাপচার করার সুযোগ দেবে। প্রথমে আমি এই বিষয়টি নিয়ে তেমন উত্তেজিত ছিলাম না। কিন্তু পরে দেখলাম যে প্রশস্ত লেন্স এর জি৫ দিয়ে গ্রুপ ফটো নেয়াটা কতটা সুবিধার। যারা প্রশস্ত অ্যাঙ্গেলে ফটো ক্যাপচার করতে ভালোবাসেন কিন্তু ফোনে প্রশস্ত লেন্স না থাকায় জুম আউট করে ফটো ক্যাপচার করেন, তাদের জন্য এই দুই ক্যামেরা বিশিষ্ট জি৫ সর্বউত্তম পছন্দ হতে পারে।

ক্যামেরার সর্বউত্তম সুবিধা গুলো নিশ্চিত করতে এলজি ২ টি বিশেষ সফটওয়্যার প্রদান করেছে ডিফল্ট ভাবে। একটি হলো “পপআউট (Popout)”, যেটি স্ট্যান্ডার্ড লেন্স থেকে তোলা ইমেজ গুলোকে প্রশস্ত লেন্স ক্যাপচার ভিউ প্রদান করে এবং কিছু বিশেষ ইফেক্ট যুক্ত করে। আরেকটি অ্যাপ হলো “মাল্টি ভিউ (multiview)”। মাল্টি ভিউ সকল তোলা ইমেজ গুলোকে একত্রিত করে (সামনের ৮-মেগাপিক্সেল ক্যামেরার ফটো গুলোকেও)। এবং একটি ইনস্ট্যান্ট ফটো কলেজ তৈরি করে। ডিভাইজটির প্রত্যেকটি ক্যামেরা অনেক দ্রুত ক্যাপচার নিতে পারে। এবং প্রত্যেকে অনেক শার্প ইমেজ উৎপন্ন করতে পারে।

এস৭ এর ক্যামেরার সাথে জি৫ এর ক্যামেরা তুলনা করলে জি৫ এর ইমেজ হালকা একটু অন্ধকার মনে হয়। কিন্তু এর পরিমান বেশি না। কিন্তু জি৫ এর ক্যামেরায় অনেক ডিপ এবং রিচ কালার লক্ষ্য করা গেছে। সর্বপরি অনেক ভালো ইমেজ কোয়ালিটি দিতে পারে ডিভাইজটি।

ব্যাটারি | চিত্তাকর্ষক, কিন্তু সর্বউত্তম নয়

জি৫ ব্যাটারি
ছবিঃ সি-নেট

হ্যান্ডসেটটি ২,৮০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে সারাদিন রিচার্জ ছাড়া বেশ ভালো কার্যক্ষমতা দিতে প্রমান করেছে। সারাদিন ওয়েব ব্রাইজ করে, বেন্সমার্ক টেস্ট করে, এবং নিয়মিত ফটো ক্যাপচার করেও সন্ধ্যার দিকে ৬০% চার্জ অবশিষ্ট থাকতে দেখা গেছে। ফোনটির ব্যাটারি লাইফ এর ল্যাব টেস্ট করা হয়েছে। এবং সেখানেও ফোনটি অসাধারন কর্মক্ষমতা দেখিয়েছে। ডিভাইজটি এয়ারপ্লেন মুডে একটানা ১২ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট ভিডিও প্লে-ব্যাক করতে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়াও ফোনটি কুইক চার্জিং প্রযুক্তি সমর্থন করে। ফোনটি ফুল চার্জ হতে মাত্র ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট সময় গ্রহন করে। জি৫ এলজি জি৪ থেকে ব্যাটারির দিকে নজরকারা উন্নতি আনা হয়েছে। জি৪ এ ৩,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি আছে, কিন্তু মাত্র ১০ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট ব্যাকআপ দেয়।

যদিও স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এবং এস৭ এজ এর ব্যাটারি লাইফ আরো বেশি। এবং জি৫ চলতে চলতে সামান্য একটু ল্যাগ লক্ষ্য করা গেছে। এই দুই গ্যালাক্সি ফোন একটানা ১৬ ঘণ্টা চার্জ কার্যক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, আশা করা হচ্ছে ১৯ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাক-আপ পাওয়া যাবে। তাছাড়াও ফোন দুটি ওয়্যারলেস চার্জিং সমর্থন করে। ( আরো বিস্তারিত জানুন গ্যালাক্সি এস ৭ রিভিউ থেকে )

গ্যালাক্সি ডিভাইজ দুটিতে একটিই সমস্যা হলো এদের ব্যাটারি খোলা যায় না, কিন্তু জি৫ এ অনেক সহজেই খোলা যায়। যদিও কিছু ইউজার এই অপশন এর পরোয়া করে না। কিন্তু সোয়াপ করে ব্যাটারি খোলার ফিচারটি সত্যিই অনেক কাজের, বিশেষ করে তখন যখন হাতের কাছে কোন প্লাগ থাকে না। তাছাড়া ১-২ বছর ফোন ব্যাবহারের পর যখন ব্যাটারির কর্মদক্ষতা কমে যায় তখন ব্যাটারি খোলার ফিচারটি সত্যিই অনেক লাভবান হিসেবে প্রমানিত হতে পারে। ( তাছাড়াও পরবর্তীতে আপনি যদি ফোনটি বিক্রি করেন তখন, ফ্রেস ব্যাটারি উঠিয়ে ভালো দামে বিক্রি করতে পারবেন)

জি৫ এর সাথে হার্ডওয়্যার তুলনা

[table id=5 /]

এলজি জি৫ কেনা উচিৎ হবে?

আপনি যদি জি৫ কিনতে চান এর মডিউলিটি ফিচার এর জন্য তবে এক কথাই বলবো, কেনা উচিৎ হবে না। আপনি আরো দেরি করতে পারেন, দেখুন বাজারে আরো মডিউল এক্সেসিরিস আসুক। অথবা অপেক্ষা করুন এলজির আরো উন্নত ডিজাইন উন্নতিকরনের জন্য। আমি বলবো আপনার কাছে যদি আরো কিছু টাকা থাকে তবে গ্যালাক্সি এস৭ কেনাটায় উত্তম হবে। তাছাড়াও এস৭ এজ তো আছেই! বাজারের মধ্যে এখন এই দুটিই সর্বউত্তম কর্মক্ষমতার ডিভাইজ। তাছাড়া সাথে পাচ্ছেন পানি প্রতিরোধী ফিচার

আর আপনি যদি টাকা সেভ করার কথা চিন্তা করে থাকেন তবে গুগল নেক্সাস ৬পি কিনে ফেলতে পারেন। এতে আপনি সর্বউত্তম অ্যান্ড্রয়েড কর্মক্ষমতা পাবেন নিশ্চিত ভাবে। তাছাড়া সবার আগে গুগল থেকে সরাসরি অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার আপডেট পেয়ে যাবেন।

যাই হোক, আপনার কাছে যদি ব্যাটারি পাল্টানোর শক্তিশালী প্রাধান্য থাকে তবে অবশ্যই এলজি জি৫ কেনা উচিৎ। অতিরিক্ত ব্যাটারি বদলানোর ফিচারের সাথে আপনি সম্পূর্ণ নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন, যদি আপনার কাছে চার্জিং প্লাগ নাও থাকে। তাছাড়া ফোনটি বিক্রি করার সময় অনেক সুবিধা হবে, ভালো দাম পেতে। এবং আমি জানি এই বিষয় গুলো অনেকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর অনেকের মধ্যে আপনিও যদি একজন হয়ে থাকেন তবে ফোনটি বিনা দ্বিধাতে কিনে ফেলতে পারেন।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

নোটঃ এই রিভিউ এ প্রকাশিত সকল ছবির ক্রেডিট সি-নেট এর

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।