অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ঠান্ডা রাখার কার্যকরী উপায়!

এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন ঠান্ডা রাখার কার্যকরী উপায়!

আজ প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, স্মার্টফোন গুলো আরও এডভান্সড হচ্ছে। স্মার্টফোনের ক্ষমতা যেভাবে বাড়ছে, আকারে এটি একইভাবে ছোট হয়ে আসছে। যাই হোক,তবে এই স্মার্টফোনের এই অত্যাধিক এডভান্সমেন্ট কিন্তু নতুন এক স্মার্টফোন সমস্যার জন্ম দিয়েছে – আর সেটি হল ওভারহিটিং বা অতিরিক্ত গরম হওয়া।স্মার্টফোন ব্যাটারি প্রতিনিয়ত যে-পরিমান পাওয়ার প্রোসেসিং করছে ঠিক সেইপরিমাণ তাপ তথা গরমও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে কমপ্যাক্ট ডিভাইসগুলোতে এই হিটিং সমস্যা তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি হয়। বিশেষ করে বিল্ট-ইন ব্যাটারিসহ অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস এর ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সবচাইতে বড় সমস্যা হল অতিরিক্ত গরম হওয়া।


আপনি হয়ত খেয়াল করবেন আইফোন,ব্লাকবেরী ও উইন্ডোজ স্মার্টফোনে হিটিং বা গরম হওয়ার সমস্যাটি তুলনামূলক কম। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে এই গরম হওয়ার মূল কারন হলো নন-অপটিমাইজড সফটওয়্যার, এটি গড়ে সকল অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন গরম হওয়ার মূল কারন। বেশিরভাগ চাইনিজ ম্যানুফ্যাকচারাররা এখানে সফটওয়্যার এর সাথে নন-অপটিমাইজড হার্ডওয়্যার ব্যবহার করে থাকেন, কোন প্রকার টেস্টিং ছাড়াই। প্রোসেসর অত্যাধিক গিগাহার্টজ এবং ৪,৬,৮ জিবি র্যাম স্মার্টফোনকে শক্তিসালী এবং ল্যাগ ফ্রি করে ঠিকই -তবে ওভার হিটিং এর মত সমস্যা বয়ে নিয়ে আসে। তো আপনিও যদি স্মার্টফোন ওভারহিটিং তথা গরম হওয়ার সমস্যায় ভোগেন, তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আজ আমরা আলোচনা করব কিভাবে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ঠান্ডা রাখবেন তা নিয়ে!

কি কারনে স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হয়? এটা কি স্বাভাবিক?

ওভারহিটিং কতটা ক্ষতি করতে পারে?

কিভাবে ওভারহিটিং থেকে রক্ষা পাবেন সে বিষয়ে আলোচনা করার আগে চলুন জানি, ওভারহিটিং আপনার স্মার্টফোনের কি কি ক্ষতি করতে পারে। এটা জানা জরুরী। ওভারহিটিং এর ফলে আপনি স্মার্টফোন চালানো রত অবস্হায় আকষ্মিক সাট ডাউন তথা স্মার্টফোন বন্ধ হয়ে যাওয়ার শিকার হতে পারেন। তাছাড়াও অতিরিক্ত ওভারহিটিং আপনার স্মার্টফোনের ভেতর থাকা নানা হার্ডওয়্যার তথা কম্পোনেন্টকে ক্ষতিগ্রস্হ করতে পারে। এভাবে আপনি একটি ওভারহিটিং স্মার্টফোন চালাতে থাকলে, অচিরেই আপনার প্রিয় স্মার্টফোনের মরা মুখ দেখতে পারেন!

ওভারহিটিং

সবচেয়ে খারাপ যা হতে পারে তা হলো, আপনার স্মার্টফোনটি এক্সপ্লোড তথা সহজ ভাষায় বললে বোম এর মত ব্লাস্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সেসব স্মার্টফোন যেগুলো বিল্ট-ইন ব্যাটারি। তো বন্ধুরা, অতিরিক্ত ওভারহিটিং খুবই খারাপ এবং এ থেকে অবশ্যই সতর্ক থাকা উচিত।

অতিরিক্ত ব্যবহারঃ

ওভারহিটিং এর জন্য অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটিকে গালি না নিয়ে, আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস এর দিকে আগে তাকানো উচিত। হ্যা,এখনকার স্মার্টফোনগুলো শক্তিসালী তবে তারা পিসি তথা কম্পিউটার এর মত কন্টিনিউয়াসলী হেভি গেমিং বা টাস্ক এর জন্য তৈরি নয়। কেননা পিসির মত এতে কুলিং সিস্টেম বা খোলামেলা জায়গা নেই। স্মার্টফোনকে তার পাওয়ার এর জন্য একটি ব্যাটারি এর ওপর নির্ভর থাকতে হয়, আর যেটি তাপ সৃষ্টি করার জন্য অন্যতম দায়ী।
আপনি যখন আপনার স্মার্টফোনে হাই এন্ড গেমগুলো খেলেন, তখন এটি উত্তপ্ত হয়, কেননা এর ছোট পরিসরের ভেতর র্যাম,সিপিইউ,জিপিইউ এর হাই প্রোসেসিং এর কারনে এতে তাপ উৎপন্ন হয়,তারওপর ব্যাটারিকেও প্রতিনিয়ত পাওয়ার সাপ্লাই দিতে হয়।এসব মিলে হেভি টাস্কিং ও গেমিং এর সময় আপনি পান এমন একটি স্মার্টফোন যা দিয়ে সহজেই আপনার পড়নের শার্টটা ইস্ত্রি করতে পারবেন।

তো এখানে আমরা বলছিনা গেমস খেলেন না বা হেভি টাস্কিং করেন না। তবে আপনার স্মার্টফোনের ব্যবহারে একটি ব্যালেন্স তৈরি করুন। প্রতি ১ থেকে ১.৫ ঘন্টা স্মার্টফোন ব্যবহার এর পর একে ২০-৩০ মিনিট এর জন্য ব্রেক দিন। এটা আপনার অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনটিকে ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করবে। তাছাড়াও পুরাতন ফোনগুলোর ক্ষেত্রে আপনার স্মার্টফোন ব্যবহারের ডিউরেশন আরো কমে দিন।

ব্যাটারির কারনে অতিরিক্ত গরম হওয়াঃ

একটি ডিভেকটিভ ব্যাটারি স্মার্টফোন ওভারহিটিং এর অন্যতম কারন। আপনার ফোনের যাবতীয় কম্পোনেন্ট হয়ত ঠিকই রয়েছে, তবে একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারির জন্য দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ স্মার্টফোনটি গরম হয়ে যাচ্ছে। একটি ডিফেকটিভ ব্যাটারি সনাক্ত করতে আপনাকে ব্যাটারির তাপমাত্রা এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনার স্মার্টফোনের পেছনের সাইড অন্যান্য অংশের থেকে বেশি গরম কিনা খেয়াল করুন। যদি ব্যাটাটি খোলা যায় তাহলে ব্যাটারি খুলে সনাক্ত করুন, আসলে গরমটা আসছে কই থেকে।

বর্তমানে অনেক অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের ব্যাটারি বিল্টইন, এগুলো খোলা যায় না। তাই আপনি সিস্টেম থেকে ব্যাটারি ইনফরমেশন ও তাপমাত্রা এসব সম্পর্কে জানতে পারবেন। ব্যাটারি ইনফরমেশন চেক করতে আপনার ফোনের ডায়ালার অ্যাপে যান তারপর *#*#৪৬৩৬#*#* ডায়াল করুন, এতে করে আপনার ফোনের ব্যাটারি ইনফরমেশন পপ-আপ হবে। এখানে আপনার ব্যাটারির তাপমাত্রা যদি ২৫-৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এর ভেতর থাকে তাহলে সমস্যা নেই। তবে যদি ৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস এর ওপর হয় তাহলে এখনই সার্ভিস সেন্টারের রাস্তা মাপেন।

ডায়ালার এর মাধ্যমে আপনার ফোন যদি ব্যাটারি ইনফরমেশন ফিচারটি সাপোর্ট না করে, তাহলে সিপিইউ জেড অ্যাপটি ইনস্টল করে ব্যাটারির তথ্য জানুন।

চার্জিং এর সময় অতিরিক্ত গরম হওয়াঃ

আবার স্মার্টফোন চার্জিং এর সময় গরম হওয়া এটি অন্যতম একটি সমস্যা। এক্ষেত্রে হয় ব্যাটারির সমস্যা না হয় চার্জার এর সমস্যা।এক্ষেত্রে আগে শিওর হয়ে হয়ে নিন আপনার ব্যাটারি ঠিক আছে কিনা। তারপর আপনার স্মার্টফোনের ম্যানুফেকচার কতৃক প্রদত্ত চার্জার দিয়ে ফোন চার্জ দিন এখন যদি গরম হয়, তাহলে ভালো একটি ইউএসবি ক্যাবল ব্যবহার করুন। চার্জার এর বিভিন্ন কম্পোনেন্ট ডিফেকটিভ হওয়ার কারনে এই হিটিং এর সমস্যা হতে পারে, এজন্য চার্জারটি রিপ্লেস করে ফেলুন।

তারওপর ফোন চার্জ দেয়ার সময় খেয়াল রাখবেন সারফেসটি গরম কিনা। ঠান্ডা বা নাতিশীতোষ্ণ সারফেসে ফোন চার্জ দেয়ার চেষ্টা করবেন। চার্জিং এর সময় ব্যাটারির ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম হওয়া স্বাভাবিক।

তারওপর আরও নজর রাখবেন, চার্জিং এর সময় আপনার ব্যাকগ্রাউন্ডে ভারী ভারী কোন অ্যাপলিকেশন চলছে কিনা। চার্জিং এর সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে এসব অ্যাপস এর কার্যক্রম আপনার স্মার্টফোনকে গরম করে তুলতে পারে।

ব্যাক কভার বা কেস এর কারনে গরম হওয়াঃ

আপনার স্মার্টফোনের ব্যাক কভার হয়ত আপনার ফোনের সৌন্দর্যকে অনেকগুণে বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে এটি কিন্তু ওভারহিটিং এর মত সমস্যারও জন্ম দিতে পারে। এসব স্মার্টফোন ব্যাক কভার তদুপরি কেস এগুলো তৈরি হয় ইসুলেটর ম্যাটেরিয়াল তথা প্লাস্টিক, লেদার এসব দিয়ে। যেগুলো কিনা আপনার স্মার্টফোনের বডিকে আরও গরম করে তুলতে পারে। যার ফলে আপনার ফোনের হার্ডওয়্যারগত সামান্য গরম ও ব্যাক কভার এর কারনে সৃষ্ট গরম একটি গরমাগরম ফিলিংস আনতে পারে আপনার হাতে!
আপনি যদি তাহলে বুঝতে পারেন যে,আপনার ব্যাক কভার এর জন্য এই গরম এর উৎপত্তি, তবে এটি রিপ্লেস করে নিন আরও খোলামেলা ব্যাক কাভার এর সাথে। তাছাড়াও আপনি পুরাতন ব্যাক কাভার এর পিছে কতগুলো ছিদ্র করে নিতে পারেন আলো-বাতাস যেন ঢুকতে পারে। বর্তমানে আলিএক্সপ্রেস বা অন্যান্য ইন্টারন্যাশনাল অনলাইন রিটেইল স্টোরে কুলিং স্মার্টফোন ব্যাক কভার পাওয়া যায়, এগুলো কিনতে পারেন। এগুলো তো আপনার স্মার্টফোনকে গরম করবেই না, বরং আরও ঠান্ডা করে তুলবে।

ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার এর কারনে গরম হওয়াঃ

অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের অন্যতম আরেকটি সমস্যা হল সহজেই ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার এর আক্রমন। সাধারন প্লে স্টোর এর বাহিরে থেকে কোন ফাইল তথা Apk ফাইল ডাউনলোড এবং ইনস্টল করলে সেখান থেকে ফোনে ক্ষতিকারক ম্যালওয়্যার প্রবেশ করে। এগুলো ফোনের হার্ডওয়্যার,সফটওয়্যারগত নানা বিধ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, ব্যাকগ্রাউন্ডে অটো প্রোসেস চালু রাখে, যার ফলে স্মার্টফোন গরম হয়ে যায়।এর থেকে বাচার জন্য Avast Mobile Security & Antivirus অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারেন।

ফোন কলঃ

ফোন কল করার সময় স্মার্টফোন হিট হয়ে যায়। এটা স্বাভাবিক টানা ১ ঘন্টা কথা বললে আপনার ফোন নিঃসন্দেহে ৪৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা তার বেশি উত্তপ্ত হবে, তবে এক্ষেত্রে ভয় নেই। তবে ফোন কল এর দৈর্ঘ্য কম রাখার চেষ্টা করুন। এই সময় ফোনের মূল নেটওয়ার্কিং কম্পোনেন্ট গুলো কাজ করে এবং ব্যাপক ব্যাটারি ড্রেইন হয়।

আরো কতিপয় কিছু কারনঃ

পুরাতন ফোনগুলোর কম্পোনেন্ট ক্ষয় এবং পুরাতন হয়ে যাওয়ার ফলে এগুলো আগের চেয়ে বেশি গরম হয়ে যায়। আরো কিছু কারনে স্মার্টফোন গরম হয় সেগুলো উল্লেখ করা হলঃ

১। ওয়াইফাই এর কন্টিনিউয়াস ব্যবহার আপনার ফোনকে গরম করে তোলে, তাই ওয়াইফাই ব্যবহার এর ক্ষেত্রে সতর্ক হোন।

২। বিভিন্ন অ্যাপস যারা বেশি ব্যাটারি ড্রেইন করে – এসব অ্যাপস সনাক্ত করার জন্য DU Battery Cooler ব্যবহার করতে পারেন।

৩। ফোনের ব্লুটুথ অফ করে রাখুন, এটি ফোন গরম করার জন্য দায়ী।

৪। ব্রাইটনেস তুলনামূলক ভাবে ৫০% এর কম রাখুন।

৫। স্মার্টফোনে শেয়ারইট ছাড়া এমনি হটস্পট ব্যবহার করবেন না, এতে করে এক বা ততোধিক ফোনের ডাটা-ইনফরমেশন আপনারফোন দিয়ে পাস হবে, মনে রাখবেন আপনার হাতে যা এটি একটি স্মার্টফোন,রাউটার না।


তো বন্ধুরা, হার্ডওয়্যারগত এবং সফটওয়্যারগত ফল্টই স্মার্টফোনের গরম হওয়ার জন্য দায়ী। এই আর্টিকেলে আলোচিত বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন। নিঃসন্দেহে স্মার্টফোন বলতে গেলে বর্তমানে পিসির মত ক্ষমতাসালী হয়ে যাচ্ছে, তবে কোনো ভাবেই পিসির মত কুলিং সিস্টেম এতে লক্ষ্য করা যায় না -তার ওপর অতিরিক্ত ব্যাটারির চাপ; সব মিলে এটা স্মার্টফোনের জন্য একটি প্রচলিত সমস্যা হলেও এটি দীর্ঘ সময়ের ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের জন্যই হুমকি স্বরূপ। আপনি যদি ওভারহিটিং সম্পর্কে আরো কিছু জানতে চান নিতে কমেন্ট করুন। আর্টিকেলটি কেমন লাগল সেটিও কমেন্টে জানান।

ইমেজ ক্রেডিট; By nasidastudio Via Shutterstock | By cliplab.pro Via Shutterstock


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

আমাকে পেতে পারেন ফেসবুকে