হুয়াওয়ে মেট ১০ এবং মেট ১০ প্রো : ইন্টেলিজেন্ট স্মার্টফোন?

হুয়াওয়ে মেট ১০ প্রো

আপনি এশিয়া মহাদেশে থাকেন মানে আপনি অবশ্যই “হুয়াওয়ে” নামের এই স্মার্টফোন কোম্পানির নামটি শুনেছেন এবং বেশ ভালভাবেই পরিচিত এই চাইনিজ স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারারের সাথে। বর্তমানে বাংলাদেশে হুয়াওয়ের বাজার বেশ ভালই চলছে বলা যায়। শাওমির মত অবিশ্বাস্যরকম ভাল না হলেও, অন্যান্য অনেক দেশের থেকে বাংলাদেশে হুয়াওয়ের মার্কেট বেশ ভালো এখন। এর প্রধান কারনই হচ্ছে বাংলাদেশে রিলিজ করা হুয়াওয়ের বেশ কয়েকটি মিড বাজেট স্মার্টফোন যেমন হুয়াওয়ে জিআর৫ ২০১৭ বা জিআর৩ ২০১৭। এছাড়া হুয়াওয়ের ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন পি৯ এবং পি১০ও বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। আজকে আলোচনা করবো হুয়াওয়ের নতুন দুইটি নতুন স্মার্টফোন হুয়াওয়ে মেট ১০ এবং মেট ১০ প্রো নিয়ে।

গত বছর হুয়াওয়ে তাদের মেট লাইনাপের স্মার্টফোনগুলোর সাথে নতুন দুটি স্মার্টফোন, হুয়াওয়ে মেট ৯ এবং মেট ৯ প্রো যোগ করে। এই দুটি ফোন তাদের ইম্প্রেসিভ স্পেসিফিকেশন, ভাল ক্যামেরা এবং আগের তুলনায় ইম্প্রুভড সফটওয়্যারের কারণে প্রযুক্তির জগতে বেশ ভালই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। গত বছর হুয়াওয়ে তাদের মেট লাইনাপের স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তার সুত্র ধরে এবছর তাদের মেট সিরিজে আরও নতুন দুটি স্মার্টফোন যোগ করে যেগুলোর নাম যথাক্রমে হুয়াওয়ে মেট ১০ এবং মেট ১০ প্রো। এবং হুয়াওয়ের এই নতুন দুটি স্মার্টফোন তাদের গত বছরের রিলিজ করা দুটি স্মার্টফোনের থেকেও সবদিক থেকে অনেক অনেক বেশি ইম্প্রুভড এবং ফিচার প্যাকড। আশা করা যায়, এবছর এই নতুন দুটি স্মার্টফোন আগের বছরের তুলনায় আরও অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পাবে। তো চলুন দেখা যাক, এবছর হুয়াওয়ের এই নতুন দুটি স্মার্টফোনে নতুন কি কি থাকছে এবং নতুন কি কি ইম্প্রুভ করা হয়েছে।

হুয়াউয়ে মেট ১০

বিল্ড কোয়ালিটি এবং স্পেসিফিকেশনস

প্রথমে স্মার্টফোনদুটির ডিজাইন, বিল্ড কোয়ালিটি এবং স্পেসিফিকেশন দিয়েই শুরু করা যাক। এই ফোনদুটি নিয়ে বলতে হলে প্রথমেই বলতে হবে এদের স্ক্রিনের কথা। কারন, এবারই হুয়াওয়ে সর্প্রবথম তাদের কোন স্মার্টফোনে বেজেললেস স্ক্রিন বসাতে পেরেছে। বেজেললেস জিনিসটা এখন আর কোন নতুন ফিচার নয়। সর্বপ্রথম শার্প একোয়াস ক্রিস্টাল, এরপর শাওমি, তারপর স্যামসাঙ এবং এরপর এলজি, গুগলসহ আরও অনেক স্মার্টফোন ম্যানুফ্যাকচারারই তাদের অনেক ফোনে বেজেললেস স্ক্রিন ব্যাবহার করেছে। কিন্তু এটি হুয়াওয়ের জন্য একেবারেই নতুন। কারন, হুয়াওয়ে এই প্রথম তাদের কোন ফোনে বেজেললেস স্ক্রিন ব্যাবহার করল। এই বেজেললেস ফিচারটিকে হুয়াওয়ে “ফুলভিউ” ডিসপ্লে বলছে।

এই স্ক্রিন ছাড়া স্মার্টফোনদুটির বাকি ডিজাইন প্রায় আগের বছরের মডেলের মতই আছে, যদিও ডিজাইনটি দেখলে এখন আগের থেকে অনেক বেশি ইম্প্রুভড মনে হচ্ছে। টেকনিক্যাল ভাষায় বলতে গেলে, সম্পূর্ণ মেটাল ইউনিবডির স্মার্টফোনদুটিতে থাকছে যথাক্রমে ৫.৯ ইঞ্চি (মেট ৯) এবং ৬ ইঞ্চির (মেট ৯ প্রো)  ডিসপ্লে। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, মেট ৯ এ থাকছে  কোয়াড এইচডি এলসিডি ডিসপ্লে যার অ্যাসপেক্ট রেশিও ১৬ঃ৯  এবং মেট ৯ প্রোতে থাকছে ফুল এইচডি প্লাস অ্যামোলেড ডিসপ্লে যার অ্যাসপেক্ট রেশিও ১৮ঃ৯। এছাড়া এই দুটি স্মার্টফোনের স্ক্রিনই এইচডিআর ১০ সাপোর্টেড, যার ফলে ইউটিউব এবং নেটফ্লিক্সে সরাসরি এইচডিআর কন্টেন্ট দেখা সম্ভব হবে।

হুয়াউয়ে মেট ১০

দুটি স্মার্টফোনের চিপসেট হিসেবে থাকছে হাইসিলিকন কিরিন ৯৭০, যেটি IFA 2017 তে এনাউন্স করা হয় এবং এটি একটি অ্যাওয়ার্ড উইনিং চিপসেট। এই চিপসেটটির জন্য হুয়াওয়ে Best Of IFA অ্যাওয়ার্ডও জিতেছে। এই চিপসেটটি অবিশ্বাস্য রকম পাওয়ারফুল। এই চিপসেটটি কাগজে কলমে অনেক ক্ষেত্রে স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ কেও হার মানাতে সক্ষম। এছাড়া এই চিপসেটটির বিশেষত্ব হচ্ছে, এই চিপসেটটির একটি আলাদা প্রোসেসিং ইউনিটই আছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এর জন্য। এটির জন্য আলাদা একটি প্রোসেসিং ইউনিট থাকার কারণে এই চিপসেট এবং এই স্মার্টফোনদুটি বিশেষভাবে AI ফোকাসড, যার কারণে এই স্মার্টফোনদুটির অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যাবহার থাকবে। এই চিপসেটটিই মুলত এই স্মার্টফোনদুটির প্রধান আকর্ষণ।

হুয়াউয়ে মেট ১০

এছাড়া এই স্মার্টফোনদুটিতে জিপিউ হিসেবে থাকছে ম্যালি জি৭২ এমপি ১২ যা একটি যথেষ্ট ভাল এবং পাওয়ারফুল জিপিউ। এই দুটি ফোনেই রিয়ারে থাকছে ২৩ মেগাপিক্সেলের ডুয়াল ক্যামেরা সেটাপ এবং ফ্রন্টে থাকছে ৮ মেগাপিক্সেল অটোফোকাস ক্যামেরা। এছাড়া হুয়াওয়ে মেট ১০ প্রো হচ্ছে আইপি ৬৭ সার্টিফাইড কিন্তু মেট ১০ নয়। অর্থাৎ, মেট ১০ প্রো ওয়াটার রেসিস্ট্যান্ট। এই স্মার্টফোনটি ১ মিটার গভীর পানির নিচে প্রায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকতে পারবে। আর হ্যাঁ, হুয়াওয়ে মেট ১০ এ হেডফোন জ্যাক থাকছে কিন্তু মেট ১০ প্রোতে কোন হেডফোন জ্যাক থাকছেনা। ফোনদুটির একটু ডিটেইলড স্পেসিফিকেশন নিচের চার্টে দেখুন। সম্পূর্ণ স্পেসিফিকেশন জানতে এখানে (মেট ১০ / মেট ১০ প্রো) দেখতে পারেন।

হুয়াওয়ে মেট ১০হুয়াওয়ে মেট ১০ প্রো
চিপসেট কিরিন ৯৭০কিরিন ৯৭০
র‍্যাম ও স্টোরেজ৪ জিবি ও ৬৪ জিবি৪/৬ জিবি ও ৬৪/১২৮ জিবি
প্রোসেসরঅক্টাকোরঅক্টাকোর
জিপিউম্যালি জি৭২ এমপি ১২ম্যালি জি৭২ এমপি ১২
স্ক্রিন সাইজ, রেজোলিউশান৫.৯ ইঞ্চি, কোয়াড এইচডি৬ ইঞ্চি, ফুল এইচডি প্লাস
ক্যামেরা (রিয়ার+ফ্রন্ট)২০+১২ এমপি ডুয়াল+৮ এমপি২০+১২ এমপি ডুয়াল+ ৮ এমপি
ব্যাটারি ক্যাপাসিটি৪০০০ এমএএইচ৪০০০ এমএএইচ

সফটওয়্যার

এই স্মার্টফোনদুটির স্পেসিফিকেশনের পরেই যে বিষয়টি চলে আসে টা হল এর সফটওয়্যার। এই স্মার্টফোনের সফটওয়্যার না বলে হুয়াওয়ের সফটওয়্যার বললে বেশি একিউরেট হয়। হুয়াওয়ে সাধারনত তাদের সব স্মার্টফোনে (নেক্সাস বাদে) EMUI বা ইমোশন ইউআই ব্যাবহার করে থাকে এবং এই ফোনদুটির ক্ষেত্রেও কোন ব্যাতিক্রম হয়নি। হুয়াওয়ের সফটওয়্যারটি অনেক হেভি এবং কাস্টোমাইজড ইউআই হওয়ায় সাধারনত এসব স্মার্টফোনে সিস্টেম পেতে সাধারনের তুলনায় একটু বেশি দেরি হয়ে থাকে। কিন্তু এবছর হুয়াওয়ে সফটওয়্যার নিয়ে কোন কম্প্রোমাইজ করেনি। হুয়াওয়ে মেট ১০ এবং মেট ১০ প্রোতে আউট অফ দ্যা বক্স ওএস হিসেবে থাকছে অ্যান্ড্রয়েড ৮.০ (অরিও) যা হুয়াওয়ের নিজের EMUI দ্বারা হেভিলি কাস্টোমাইজড।

এর ইউআইটি অনেকটা আইওএস এবং মিইউআই এর মত হলেও ইমোশন ইউআইতে মিইউআই এর মত অনেক কাস্টোমাইজেশন অপশন এবং ফিচারস আছে। যেমন, ডুয়াল অ্যাপ তৈরি, লাইভ নেটওয়ার্ক ট্রাফিক মনিটর, মিউজিক টিউনিং এবং আরও অনেক অনেক ফিচারস আছে যেগুলো একজন হুয়াওয়ে স্মার্টফোন ব্যাবহারকারী বেশি ভাল জানবেন। এবং লেটেস্ট ইএমইউআই আরও অন্যান্য হেভিলি কাস্টোমাইজড ইউআইগুলোর থেকে অনেক বেশি পলিশড। অন্যান্য অনেক কাস্টম ইউআই স্টক অ্যান্ড্রয়েডের কিছু কিছু ফিচার অমিট করে দেয়। কিন্তু হুয়াওয়ের ইমোশন ইউআই তে আপনি স্টক অ্যান্ড্রয়েডের সব ফিচারসই পাবেন। যেমন, অ্যাপ ড্রয়ার, স্প্লিট স্ক্রিন, কুইক রিপ্লাই ইত্যাদি।

হুয়াওয়ে মেট ১০ এর ক্যমেরা

ক্যামেরা সেকশনটি হুয়াওয়ে মেট ১০ এবং মেট ১০ প্রো স্মার্টফোন দুটির অন্যতম  আকর্ষণীও একটি ফিচার। ডুয়াল ক্যামেরা এখন ট্রেন্ড, তাই হুয়াওয়েও এই ট্রেন্ডটিই ফলো করছে। এছাড়া লেইকার সাথে হুয়াওয়ের পার্টনারশিপ অনেক আগে থেকেই। তাই এই লেইকার সেন্সর ব্যাবহার করার ফলে হুয়াওয়ের ক্যামেরা সবসময়ই ভালো ছিল। আর এবছর এই দুটি স্মার্টফোনের রিয়ারেই হুয়াওয়ে রেখেছে ডুয়াল ২০+১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেটাপ যা এবারও লেইকা সেন্সরযুক্ত। এর মধ্যে প্রাইমারি ক্যামেরা অর্থাৎ ২০ মেগাপিক্সেল আরজিবি সেন্সর যার অ্যাপারচার এফ ১.৬ এবং সেকেন্ডারি ক্যামেরাটি একটি ১২ মেগাপিক্সেল মোনোক্রোম সেন্সর। এই ধরনের ডুয়াল ক্যামেরা কম্বিনেশন হুয়াওয়েই সবথেকে বেশি ব্যাবহার করে এসেছে অতীতে। এছাড়া এই ধরনের আরজিবি+মোনোক্রোম সেন্সর ব্যাবহার করেছে এসেনশিয়াল ফোন। কিন্তু আরজিবি+মোনোক্রোম সেন্সর সবথেকে ভালভাবে হুয়াওয়েই ইমপ্লিমেন্ট করতে পেরেছে সবসময়। এইধরনের ক্যামেরা সেটাপে সবসময় আপনার ফোন প্রাইমারি আরজিবি সেন্সর এবং সেকেন্ডারি মোনোক্রোম সেন্সর, এই দুটি সেন্সরের তোলা শট থেকে ডিটেইলস কালেক্ট করে এবং এই দুটি ক্যামেরার শট নিয়েই আপনাকে একটি অভারল বেটার এবং শার্প ইমেজ দেওয়ার চেষ্টা করে।

হুয়াউয়ে মেট ১০

এছাড়া এবার হুয়াওয়ের ক্যামেরায় ভাল ছবি তুলতে সবথেকে বড় দায়িত্ব পালন করবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। যেহেতু এই দুটি স্মার্টফোন AI ফোকাসড, তাই এই স্মার্টফোনদুটিতে ভাল ছবি তোলার ক্ষেত্রেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যাবহার করা হচ্ছে। আপনি যখন মেট ১০ এবং মেট ১০ প্রো এর ক্যামেরায় কোন অবজেক্টকে ফোকাস করবেন সেটির ছবি তোলার জন্য, তখন আপনার ফোন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যাবহার করে আইডেন্টিফাই করবে যে আপনি কিসের ছবি তুলতে চাচ্ছেন। আপনি যে ধরনের অবজেক্টের ছবি তুলতে চান, আপনার ক্যামেরা সেই অবজেক্টের বেস্ট শটটি তোলার জন্য নিজেকে টিউন করে নেবে এবং আপনাকে সবসময় বেস্ট রেজাল্ট দেওয়ার চেষ্টা করবে। যেমন, আপনি যদি একটি ফুলের ছবি তোলেন, তাহলে যখনই আপনার ফোন বা ফোনের AI  বুঝতে পারবে যে আপনি যে অবজেক্টটির ছবি তুলছেন টা একটি ফুল, তাহলে তার ওপর বেজ করে ক্যামেরা আপনাকে বেস্ট রেজাল্ট দেওয়ার চেষ্টা করবে।

পারফরমেন্স

এই স্মার্টফোনদুটির পারফরমেন্স কেমন হবে বা কতটা ভাল হবে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। কারন, হুয়াওয়ের কিরিন চিপসেটগুলো সবসময়ই অনেক ক্যাপেবল চিপসেট। সত্যি কথা বলতে, ডে টু ডে টাস্ক এবং অ্যাপ ওপেন ক্লোজ এর স্পিড এবং ইউআই এর রেসপন্সিভনেসের দিক থেকে কিরিন চিপসেট স্যামসাঙ এর এক্সিনস এবং অনেকসময় কোয়ালকোমের স্ন্যাপড্রাগন চিপসেটকেও আউটপারফর্ম করে। কিছু কিছু অ্যাপস এবং গেমস যদিও কিরিন চিপসেটে তুলনামূলকভাবে খারাপ পারফর্ম করে, কিন্তু সেগুলো অ্যাপের অপটিমাইজেশনের কারণে। কিন্তু সাধারনত একটি স্মার্টফোনের সব ধরনের কাজ স্মুথলি করার জন্য কিরিন ৯৭০ চিপসেট এবং ম্যালি জি৭২ জিপিউ এবং তার সাথে এই হাই এন্ড স্পেসিফিকেশন দরকারের থেকেও অনেক বেশি।

এছাড়া হুয়াওয়ে তাদের মেট সিরিজের স্মার্টফোনের পারফরমেন্স স্ন্যাপি রাখার ক্ষেত্রেও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যাবহার করে। স্মার্টফোনটি মুলত আপনার অ্যাপ ইউজেস লক্ষ্য করে এবং আপনি স্মার্টফোনে কি কি কাজ বেশি করেন এবং কি কি কাজ কম করেন সেসব লক্ষ্য রাখে এবং এসব ডেটার ওপরে বেজ করে আপনার ফোনকে ভাল পারফর্ম করার জন্য অপ্টিমাইজ করে। এই প্রক্রিয়াটি প্রথমবার হুয়াওয়ে গত বছর তাদের মেট ৯ স্মার্টফোন লঞ্চ করার সময় এনাউন্স করে। এবছর এই প্রক্রিয়াটি আরও বেশি ইম্প্রুভ করা হয়েছে। তাই এবছর মেট ১০ এবং মেট ১০ প্রো স্মার্টফোনদুটির পারফরমেন্স আগের তুলনায় আরও ভাল হবে, এটা আশা করাই যায়।

হুয়াউয়ে মেট ১০

এছাড়া, এবছর হুয়াওয়ে তাদের এই নতুন দুটি স্মার্টফোনের সাথে একটি নতুন ফিচার ইন্ট্রোডিউস করেছে। এই ফিচারটি স্যামসাঙ গ্যালাক্সি এস৮ এর স্যামসাঙ ডেক্স এবং মাইক্রোসফট লুমিয়া ৯৫০ এর কন্টিনিউয়াম এর মত। অর্থাৎ, আপনি চাইলেই আপনার স্মার্টফোনটি কোন বড় স্ক্রিনের সাথে কানেক্ট করে ডেক্সটপ এক্সপেরিয়েন্স নিতে পারবেন। আপনি যদি স্যামসাঙ ডেক্স সম্পর্কে জেনে থাকেন, তাহলে আপনি এটাও বুঝবেন। কারন এই দুটি প্রায় একই জিনিস। কিন্তু মেট ১০ এবং মেট ১০ প্রো এর সুবিধাটি হচ্ছে, ডেক্সটপ এক্সপেরিয়েন্স নেওয়ার জন্য আপনাকে এক্সট্রা কোন ডক বা টুল কিনতে হবেনা যেটা স্যামসাঙ গ্যালাক্সি এস৮ এবং লুমিয়া ৯৫০ এর ক্ষেত্রে কিনতে হত।

হুয়াউয়ে মেট ১০

তো এই ছিল হুয়াওয়ে মেট ১০ এবং মেট ১০ প্রো। এই স্মার্টফোনদুটি কিন্তু কোনভাবেই বাজেট স্মার্টফোন নয়। মেট ১০ কিনতে চাইলে আপনাকে গুনতে হবে প্রায় ৮২২ ইউএস ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৬ হাজার টাকার কাছাকাছি। আর মেট ১০ প্রো কিনতে চাইলে আপনাকে গুনতে হবে প্রায় ৯৪০ ইউএস ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৯ হাজার টাকার কাছাকাছি।

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আপনার কোন ধরনের প্রশ্ন বা কোন মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। ভালো থাকবেন।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

You can find me on : Facebook
ইমেজ ক্রেডিট : Android Authority

সিয়াম
অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....