অ্যান্ড্রয়েড অরিও (৮.০) : নতুন কি কি থাকছে এই ভার্সনে?

অ্যান্ড্রয়েড অরিও ৮ ও

গত কয়েক মাস ধরে অ্যান্ড্রয়েড অরিও নামটি আপনি হয়ত অনেকবার শুনেছেন—শোনারই কথা! কারন এটাই গুগলের এ বছরের নতুন অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন। প্রায় প্রত্যেক বছর নতুন নতুন অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন রিলিজ করা গুগলের একটি অভ্যাস বলা যায়। কারন তারা প্রত্যেক বছর নতুন অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন রিলিজ করে কিন্তু যখন রিলিজ করে তখন তার আগের ভার্সনের ইউজার ১০% ও থাকেনা। অর্থাৎ, গুগল এবছর অ্যান্ড্রয়েড অরিও (৮.০) রিলিজ করেছে, কিন্তু আপনি জানলে অবাক হবেন যে এখনও তাদের আগের ভার্সনের ইউজার অর্থাৎ অ্যান্ড্রয়েড নুগাটও (৭.০) অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড ব্যাবহারকারীর স্মার্টফোনে পৌঁছায়নি। এক্ষেত্রে গুগল প্রায়োরিটি দেয় তাদের নিজেদের ফোন অর্থাৎ নেক্সাস স্মার্টফোন এবং পিক্সেল স্মার্টফোনগুলোকে। সেগুলো গুগলের নিয়ন্ত্রিত ফোন হওয়ায়, নতুন অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনের আপডেট রিলিজ করার পরে সবার আগে গুগলের এই স্মার্টফোনগুলোই এই আপডেট পায়। যেমন, গুগলের নতুন দুটি স্মার্টফোনে (পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেল) আগে থেকেই অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অ্যান্ড্রয়েড ও বা অ্যান্ড্রয়েড অরিও দেওয়া হয়েছে।

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ভার্সনে নতুন কি কি চেঞ্জ বা নতুন কি কি ফিচারস এবং কি কি ইম্প্রুভমেন্ট থাকছে। হয়ত আপনি খুব দ্রুত আপনার স্মার্টফোনে এই ভার্সনের আপডেট পাবেন না, বা হয়ত কখনোই পাবেন না যদি আপনি ওয়ালটন বা সিম্ফনির মত কোন দেশীয় ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন ব্যাবহার করেন। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডের এই নতুন ভার্সনে কি কি থাকছে তা জেনে রাখতেই পারেন। তাহলে আর কথা না বাড়িয়ে চলুন সরাসরি মূল বিষয়ে আসা যাক। এই অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনে নতুন যতসব ফিচার এবং ইম্প্রুভমেন্ট আছে, সেই সবকিছু নিয়ে বলতে হলে আর্টিকেলটি অনেক বড় হয়ে যাবে। তাই এখানে অ্যান্ড্রয়েড অরিওর প্রধান কয়েকটি চেঞ্জ এবং ফিচারস নিয়ে আলোচনা করব।

পিকচার ইন পিকচার মোড

আমার মতে এটিই অ্যান্ড্রয়েড অরিওর সবথেকে বড় এবং সবথেকে যুগান্তকারী ফিচার এবং একইসাথে একটি বড় ইম্প্রুভমেন্ট। এই ফিচারটির সাহায্যে অ্যান্ড্রয়েড অরিও ইউজাররা তাদের স্মার্টফোনে কোন ভিডিও দেখার সময় একইসাথে স্মার্টফোনে অন্যান্য কাজ করতে পারবেন। অর্থাৎ, কোন ভিডিও দেখার সময় আপনি যদি ভিডিও থেকে বেরিয়ে আসেন, তাহলে ভিডিওটি বন্ধ হয়ে যাবেনা। ভিডিওটি আপনার স্ক্রিনের একটি কোনায় ছোট একটি উইন্ডোতে প্লে হতে থাকবে এবং এসময় আপনি স্মার্টফোনে আপনার ইচ্ছামত যেকোনো কাজ করতে পারবেন। ভিডিওটি আপনার কাজে বাধা দেবে না। আপনি আপনার কাজের সুবিধার্থে ভিডিওর উইন্ডোটিকে যেদিকে ইচ্ছা সরিয়ে নিতে পারবেন এবং বড়-ছোট করতে পারবেন। কিন্তু ইউটিউব ভিডিওর ক্ষেত্রে এই ফিচারটি ব্যাবহার করতে হলে আপনার একটি ইউটিউব রেড সাবস্ক্রিপশন দরকার হবে।

অ্যান্ড্রয়েড অরিও

ব্যাকগ্রাউন্ড লিমিট

এটি আগের ফিচারটির মত একটি যুগান্তকারী ফিচার না হলেও যথেষ্ট উপকারি একটি ফিচার। অ্যান্ড্রয়েড অরিও ব্যাবহারকারীরা তাদের স্মার্টফোনে ইন্সটল করা অ্যাপগুলো বাকগ্রাউন্ডে কি কি করতে পারবে তা আরও সহজেই লক্ষ্য রাখতে পারবেন এবং নিজের ইচ্ছামত সেগুলোকে নিয়ন্ত্রনও করতে পারবেন। অর্থাৎ, অ্যান্ড্রয়েডের আগের ভার্সনগুলোতে আপনি থার্ড পার্টি দেখতে পেতেন না যে কোন অ্যাপটি ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার ব্যাটারি ড্রেইন করছে বা কোন অ্যাপটি ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার ফোনের ডেটা কানেকশন ব্যাবহার করছে। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড অরিও ইউজার হলে এসব বিষয় আপনি সহজেই সেটিংস থেকে দেখতে পারবেন এবং চাইলে সেগুলো বন্ধও করতে পারবেন।

অ্যান্ড্রয়েড অরিও

পাসওয়ার্ড অটোফিল

পাসওয়ার্ড অটোফিল হয়ত আপনি অ্যান্ড্রয়েডের আগের ভার্সনগুলোতেও করেছেন। কিন্তু সেক্ষেত্রে এই পাসওয়ার্ড অটোফিল কাজ করার জন্য থার্ড পার্টি পাসওয়ার্ড ম্যানেজারের প্রয়োজন হত। যেমন, লাস্টপাস বা এনপাস ইত্যাদি। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েডের এই ভার্সনে পাসওয়ার্ড অটোফিল ন্যাটিভ ফিচার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এর জন্য এখন থেকে আপনার থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যাবহার করতে হবেনা যদি আপনি অ্যান্ড্রয়েড অরিও ব্যাবহারকারী হন। যেসব সাইট এবং অ্যাপ এর পাসওয়ার্ড আপনি আপনার পিসিতে বা স্মার্টফোনে গুগল ক্রোম ব্রাউজারে গুগল স্মার্ট লকের সাহায্যে সেভ করেছেন, সেসব ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড আপনার ফোনে ওই স্পেসিফিক অ্যাপটি ব্যাবহার করার সময় গুগল অটোমেটিক ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড ফিল আপ করে দেবে। যার ফলে আপনাকে কষ্ট করে ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড টাইপ করতে হবেনা এবং এর জন্য কোন থার্ড পার্টি পাসওয়ার্ড ম্যানেজারও ব্যাবহার করার দরকার হবেনা।

অ্যান্ড্রয়েড অরিও

ইউজার ইন্টারফেস ইম্প্রুভমেন্টস

অ্যান্ড্রয়েড অরিওতে গুগল তাদের আগের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনের তুলনায় খুব বেশি ইউআই ইম্প্রুভমেন্ট করেনি। কিন্তু বেশ কিছু জায়গায় তারা নতুন কিছু ইউআই ইম্প্রুভমেন্ট করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি ইম্প্রুভমেন্ট লক্ষণীয়। যেমন,

১. নোটিফিকেশন ডটস : এখন থেকে অ্যান্ড্রয়েড অরিও ব্যাবহারকারীরা তাদের ফোনের হোমস্ক্রিনে থাকা অ্যাপগুলোর আইকন দেখেই বুঝতে পারবেন যে ওই অ্যাপে তাদের কোন নোটিফিকেশন এসেছে কিনা। যদি আপনার ফোনে কোন অ্যাপ থেকে নোটিফিকেশন এসে থাকে, তাহলে আপনি ওই অ্যাপের আইকনের ওপরে ছোট একটি ডট মারক দেখতে পাবেন। এর ফলে সহজেই বুঝতে পারবেন কোন অ্যাপ থেকে নোটিফিকেশন এসেছে আর কোনটা থেকে আসেনি।

২. সেটিংস পেজ রিডিজাইন : যারা অ্যান্ড্রয়েড নুগাট (৭.০) ব্যাবহার করেন তারাই জানেন যে এর সেটিংস পেজ কতোটা বাজে দেখতে। এছাড়া অ্যান্ড্রয়েড নুগাটের সেটিংস পেজ অনেক বেশি অগোছালো। কিন্তু এই ভার্সনে সেটিংস পেজটিকে সম্পূর্ণ রিডিজাইন করা হয়েছে। এই ভার্সনে অ্যান্ড্রয়েডের সেটিংস পেজ অনেক বেশি অরগানাইজড এবং আকর্ষণীয় দেখতে।

৩. নোটিফিকেশন প্যানেল রিডিজাইন : অ্যান্ড্রয়েডের এই ভার্সনে ফোনের নোটিফিকেশন প্যানেল এবং কুইক সেটিংস প্যানেলকেও নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। এর আগের ভার্সনে এই দুই জায়গায় সম্পূর্ণ থিম ছিল ডার্ক। এবার এই নোটিফিকেশন প্যানেল এবং কুইক সেটিংস প্যানেলের থিম চেঞ্জ করে লাইট থিম বা হোয়াইট থিম করা হয়েছে, যা আমার মতে ঠিক হয়নি। কারন এটা আগে যেমন ছিল তেমনই বেশি ভাল দেখাতো।

৪. নতুন ইমোজি : অ্যান্ড্রয়েড অরিওতে ইমোজিগুলোর নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে। আগের অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনগুলোতে যেসব ইমোজির সাথে পরিচিত ছিলেন আপনি, সেসব ইমোজি থাকছেনা এই ভার্সনে। নতুন যেসব ইমোজি দেওয়া হয়েছে সেগুলো অনেকের ভালো লাগবে আবার অনেকের লাগবেনা। যদিও আমার কাছে সেগুলো ভালোই লেগেছে এবং আগের থেকে বেটার মনে হয়েছে।

অ্যান্ড্রয়েড অরিও

অ্যান্ড্রয়েড অরিও

অ্যান্ড্রয়েড অরিও তে পাবেন আরও ভালো ব্লুটুথ অডিও

অ্যান্ড্রয়েডের এই ভার্সনে গুগল অডিও পারফর্মেন্সের দিকেও নজর দিয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড অরিও ব্যাবহারকারীরা অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন ব্যাবহারকারীদের তুলনায় আরও ভালো ব্লুটুথ অডিও এক্সপেরিয়েন্স পাবেন। এই অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনে গুগল কিছু বিল্ট ইন অডিও কোডেক দিয়েছে যেগুলো ইউজার রিপ্লেসেবল। অর্থাৎ, আপনি নিজের ইচ্ছামত ব্লুটুথ অডিও কোডেক চেঞ্জ করতে পারবেন এবং ব্লুটুথ ডিভাইসে মিউজিক প্লে করার সময় স্মার্টফোনের মিউজিক নিজের পছন্দ অনুযায়ী ওয়্যারলেস অডিও কমিউনিকেশন প্রোটোকল চেঞ্জ করে নিতে পারবেন কোডেক চেঞ্জ করার মাধ্যমে। যার ফলে আপনি পাবেন সর্বোপরি একটি বেটার অডিও লিসেনিং এক্সপেরিয়েন্স।

আরও দ্রুত বুট টাইম এবং আরও ভালো পারফরমেন্স

গুগলের দাবী, অ্যান্ড্রয়েড অরিও চালিত স্মার্টফোনগুলো আগের তুলনায় আরও দ্রুত বুট হবে। এই ভার্সনের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনগুলো অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন চালিত ফোনের তুলনায় ৫০% পর্যন্ত দ্রুত বুট হতে পারবে। অর্থাৎ, আপনার ফোনটি সাধারণত পাওয়ার অন হতে যতটা সময় নিত, তার অর্ধেক সময় নেবে যদি তা অ্যান্ড্রয়েড অরিওতে আপডেট করা হয়। এছাড়াও গুগলের দাবী,  এই অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনের ফোনগুলো আগের ভার্সনের তুলনায় আরও ভালো বা আরও ফ্লুয়িড এবং স্মুথ পারফরমেন্স দিতে পারবে।

তো এগুলোই ছিল সেসব নতুন ফিচারস এবং ইম্প্রুভমেন্টস যেগুলো অ্যান্ড্রয়েড অরিওতে থাকছে। 

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আপনার কোন ধরনের প্রশ্ন বা কোন মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। ভালো থাকবেন।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

You can find me on : Facebook
ইমেজ ক্রেডিট : Android.com | By MariaX Via Shutterstock.com

সিয়াম
অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....