গুগল পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেল : কতোটা পারফেক্ট?

গুগল পিক্সেল ২

গত বছর নিজেদের ব্র্যান্ডেড এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন তৈরি করার সিদ্ধান্তটি ছিল সম্ভবত গুগলের সবথেকে ভাল সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম। যদিও এর আগেও গুগলের নিজের ব্র্যান্ডেড স্মার্টফোন ছিল, কিন্তু সেগুলো তৈরি করেছিল অন্যান্য বড় বড় স্মার্টফোন নির্মাতা যেমন মোটোরোলা, এইচটিসি এবং এলজি। গুগল শুধুমাত্র এসব স্মার্টফোনের সফটওয়্যারের দিকটি নিয়ন্ত্রণ করতো।

কিন্তু ২০১৬ সালের মাঝের দিকে তারা চিন্তা করে যে এভাবে আর হচ্ছে না। তাদেরকে এবার এমন ফোন তৈরি করতে হবে যেগুলো সম্পূর্ণ তাদের নিজেদের তৈরি যাতে ফোনের হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার দুটির ওপরেই সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে গুগলের। এই পরিকল্পনা মাথায় নিয়েই তারা গত বছর অক্টোবর মাসের ২০ তারিখে রিলিজ করে গুগলের নিজেদের তৈরি প্রথম দুটি স্মার্টফোন, গুগল পিক্সেল এবং গুগল পিক্সেল এক্সেল। গুগলের প্রথম ফোন হওয়ায় প্রযুক্তির জগতে বেশ ভালোই সাড়া ফেলেছিল এই স্মার্টফোন দুটি।এই দুটি ফোনের ডিজাইন খুব একটা আকর্ষণীও না হলেও এই স্মার্টফোনদুটির ক্যামেরা কোয়ালিটি, সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্স এবং পারফরমেন্সের কারনে প্রায় সবাই এক নজরেই স্মার্টফোনদুটির প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন এর দাম অনেক বেশি হওয়া সত্ত্বেও।

গুগল পিক্সেল
গুগল পিক্সেল

গত বছর এই ফোন দুটি রিলিজ করে আশানুরূপ সাড়া পেয়ে গুগল এবছর অক্টোবর মাসে রিলিজ করে তাদের পিক্সেল লাইনআপের পরবর্তী দুটি স্মার্টফোন, পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেল। এই দুটি স্মার্টফোন আগের বছরের মডেলের থেকে প্রায় সবদিক থেকে আরও ভালো, আরও শক্তিশালী এবং আরও বেশি ইম্প্রুভড। তো চলুন দেখা যাক কি কি থাকছে এবং কি কি থাকছে না গুগলের এবছরের নতুন ফোন পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেলে।

গুগল পিক্সেল ২ ও পিক্সেল ২ এক্সেল
গুগল পিক্সেল ২ ও পিক্সেল ২ এক্সেল

স্পেসিফিকেশনস

প্রথমেই শুরু করা যাক ফোনের ভেতরের যন্ত্রপাতি দিয়ে। গুগল পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেল দুটিই মেটাল ইউনি বডির স্মার্টফোন। পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল এক্সেল স্মার্টফোন দুটির মধ্যে ইন্টার্নাল স্পেসিফকেশনের কোনো পার্থক্য নেই। দুটি ফোনের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে এদের স্ক্রিন সাইজ, স্ক্রিন টু বডি রেশিও, ডিসপ্লে এবং ব্যাটারিতে। দুটি ফোনের ডিজাইনও একই। বাইরে থেকে দেখলে শুধু পিক্সেল ২ এক্সেল ফোনটিকে শুধুমাত্র পিক্সেল ২ এর থেকে একটু বড় দেখায়।

তো গুগল পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেল এই দুটি স্মার্টফোনেই চিপসেট হিসেবে ব্যাবহার করা হয়েছে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫। অক্টাকোর প্রোসসরের সাথে থাকছে ৪ জিবি র‍্যাম এবং ইউজারের চয়েজ অনুযায়ী ৬৪ বা ১২৮ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ যদিও এবারও কোনো মাইক্রো এসডি কার্ড সাপোর্ট থাকছে না। এছাড়া গ্রাফিক্স এর দায়িত্বে আছে এড্রেনো ৫৪০ জিপিউ। এছাড়াও থাকছে ব্লুটুথ ৫.০ সাপোর্ট। স্মার্টফোন দুটির রিয়ারে থাকছে ১২.২ মেগাপিক্সেল অটো ফোকাস ক্যামেরা যা ৪কে ভিডিও করতে সক্ষম। এছাড়া ফ্রন্টে থাকছে ১.৪ মাইক্রন পিক্সেল সেন্সরযুক্ত ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। থাকছে ২৭০০ এমএএইচ (পিক্সেল ২) এবং ৩৫২০ এমএএইচ (পিক্সেল ২ এক্সেল) নন রিমুভেবল ব্যাটারি এবং স্যাথে ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট। এছাড়াও থাকছে আইপি ৬৭ সার্টিফাইড ওয়াটার রেসিসটেন্স। আর পিক্সেলের গত বছরের দুটি মডেলে হেডফোন জ্যাক দেওয়া হলেও, এবছের ফোন দুটির কোনোটিতেই হেডফোন জ্যাক দেওয়া হয়নি। আর একটি স্মার্টফোন ব্যাবহার করার জন্য যত ধরনের সেন্সর সাধারনত দরকার হয় তার থেকে আরো অনেক বেশি সেন্সরস দেওয়া হয়েছে এই স্মার্টফোন দুটিতে।

গুগল পিক্সেল ২ ও পিক্সেল ২ এক্সেল

           স্মার্টফোন                পিক্সেল ২           পিক্সেল ২ এক্সেল
             চিপসেট       স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫         স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫
              জিপিউ         এড্রেনো ৫৪০          এড্রেনো ৫৪০
    ডিসপ্লে রেজোলিউশন            ১০৮০ পি             ১৪৪০ পি
        ব্যাটারি ক্যাপাসিটি        ২৭০০ এমএএইচ       ৩৫২০ এমএএইচ
       র‍্যাম এবং স্টোরেজ    ৪ জিবি ও ৬৪/১২৮ জিবি   ৪ জিবি ও ৬৪/১২৮ জিবি
         ডিসপ্লে সাইজ                ৫ ইঞ্চি               ৬ ইঞ্চি
      ক্যামেরা (ব্যাক+ফ্রন্ট)      ১২.১ + ৮ মেগাপিক্সেল    ১২.১ + ৮ মেগাপিক্সেল


ডিসপ্লে

এই স্মার্টফোন দুটির ডিসপ্লে নিয়ে আলাদা একটি সেকশন তৈরি করতে হল কারণ এই  ডিসপ্লে হচ্ছে পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেল এর অন্যতম একটি ফিচার। আপনি যদি কখনো স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ৮ , নোট ৮ বা এলজি জি৬ অথবা শাওমি মি মিক্স ফোনগুলোর ডিসপ্লে দেখে থাকেন তাহলেই বুঝবেন যে পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেল স্মার্টফোন দুটির ডিসপ্লের স্পেশালিটি কি। গুগল পিক্সেল ২ স্মার্টফোনটিতে থাকছে ৫ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে যার স্ক্রিন রেজোলিউশন ১০৮০×১৯২০ অর্থাৎ ফুল এইচডি। আর পিক্সেল ২ এক্সেল স্মার্টফোনে থাকছে ৬ ইঞ্চির এমোলেড ডিসপ্লে যার স্ক্রিন রেজোলিউশন ২৮৮০×১৪৪০ অর্থাৎ কোয়াড এইচডি। এবং এই দুটি ফোনের ডিসপ্লেতেই থাকছে গোরিলা গ্লাস ৫ প্রোটেকশন।

এই দুটি ফোনের ডিসপ্লেই বেজেললেস কনসেপ্ট এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। অর্থাৎ স্যামসাং এর ইনফিনিটি ডিসপ্লের মত এই ফোনদুটির ডিসপ্লেও ফোনের দুই দিকে মিশে যায় এবং স্ক্রিনের দুইদিকে কোনো অপ্রয়োজনীয় ব্ল্যাক বার থাকেনা। এই ধরনের ডিসপ্লে আমরা আগেও অনেক ফোনে দেখেছি। কিন্তু গুগলের ফোনে এই প্রথম এই ধরনের ডিসপ্লে ব্যাবহার করা হল এবছর। গুগল পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এর ডিসপ্লের সাথ সবথেকে বেশি মিল খুঁজে পাওয়া যায় এলজি জি৬ এবং এলজি ভি৩০ এর ডিসপ্লের। আপনি যেভাবেই বিবেচনা করুন না কেন, এটি একটি অসাধারণ ডিসপ্লে। বাজারের অন্যান্য কোম্পানির ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোর  থেকে কোনো অংশে কম যায়না গুগল পিক্সেলের ডিসপ্লে।

গুগল পিক্সেল ২

ক্যামেরা

ডিসপ্লের পরেই যে সেকশনটি নিয়ে কথা বলা উচিৎ ত হচ্ছে ফোনের ক্যামেরা। গুগলের পিক্সেল লাইনাপ সবসময়ই ক্যামেরার জন্য বিখ্যাত। কারণ গত বছর প্রথম গুগল পিক্সেল এবং পিক্সেল এক্সেল স্মার্টফোন দুটির ক্যামেরা ছিল ২০১৬ সালের বেস্ট স্মার্টফোন ক্যামেরা। তাই এবছরের ফোনদুটির ক্যামেরা থেকে আরো ভালো কিছু আশা করেছে ইউজাররা। এবং সম্ভবত এবছরও ইউজারদের আশা পূরণ করতে পেরেছে গুগল। এখনকার অন্যান্য কোম্পানির ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনগুলোর অন্যতম একটি ফিচার হচ্ছে ডুয়াল ক্যামেরা সেটাপ। এবছর অনেক ফোনে আমরা ডুয়াল ক্যামেরা দেখেছি। যেমন, স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৮ , আইফোন ৮+ , শাওমি মি ৬, ওয়ানপ্লাস ৫ ইত্যাদি। এমনকি এখন অনেক বাজেট স্মার্টফোনেও ডুয়াল ক্যামেরা সেটাপ ব্যাবহার করা হচ্ছে।

কিন্তু গত বছরের মতো এবছরও গুগল তাদের কোনো স্মার্টফোনে ডুয়াল ক্যামেরা ব্যাবহার করেনি। কারণ গুগলের দাবী, তারা সিঙ্গেল ক্যামেরার সাহায্যেই ডুয়াল ক্যামেরার অনেক ফিচার স্মার্টফোনে ইমপ্লিমেন্ট করতে পেরেছে। যেমন, পর্ট্রেইট মোড। গুগল পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেলের সিঙ্গেল ক্যামেরার সাহায্যেই ছবির অবজেক্টে ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লার করা যায় যেখানে এটি করতে অন্যান্য স্মার্টফোনে ডুয়াল ক্যামেরার দরকার হত। এছাড়া এবছরও গুগলের দাবী যে পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেলের ক্যামেরা এখনো পর্যন্ত তৈরি হওয়া বেস্ট স্মার্টফোন ক্যামেরা।

পিক্সেল ২ ক্যামেরা

গুগলের পিক্সেল লাইনাপের সব স্মার্টফোন অসাধারন ছবি তুলতে পারার কারনটি কিন্তু শুধুমাত্র এর ক্যামেরা হার্ডওয়্যার নয়। এর একটি বড় কারন হচ্ছে এর সফটওয়্যার এবং ইমেজ প্রোসেসিং অ্যালগরিদম। গুগল পিক্সেলে তোলা ছবিগুলো ভালো আসার কারন হচ্ছে তাদের পোস্ট প্রোসেসিং। আপনি যখন গুগল পিক্সেলে ছবি তোলেন, তখন আপনার ফোন একসাথে বেশ কয়েকটি শট নেয় এবং প্রত্যেকটি শট থেকে আলদা আলাদা ভাবে ডিটেইলস কালেক্ট করে। এরপরে সবগুলো শট মিলিয়ে একটি ফাইনাল ইমেজ তৈরি করে এবং সেটিই আপনাকে এবং সবাইকে দেখানো হয়। তাই গুগল পিক্সেলে তোলা ছবি অনেক ভালো আসে। গুগলের দাবী এবছর তারা গুগল পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেলে ক্যামেরা হার্ডওয়্যারের সাথে সাথে এই ইমেজ প্রোসেসিং অ্যালগরিদমও আরও অনেক ইম্প্রুভ করেছে।

সফটওয়্যার ও পারফরমেন্স

সাধারনত যারা গুগল ব্র্যান্ডেড কোন স্মার্টফোন যেমন পিক্সেল কিংবা নেক্সাস ব্যবহার করেন, তাদের অন্যতম একটি টার্গেট থাকে গুগলের সফটওয়্যার বা স্টক এন্ড্রয়েড ব্যবহার করা। কারন আরও অনেক স্মার্টফোনে স্টক এন্ড্রয়েড ব্যাবহার করার সুযোগ থাকলেও টা সরাসরি গুগলের নিয়ন্ত্রিত সফটওয়্যার নয়। কিন্তু গুগলের পিক্সেল লাইনাপের স্মার্টফোনে যে সফটওয়্যার দেওয়া হয়, টা সরাসরি গুগল নিয়ন্ত্রন করে। তাই এসব স্মার্টফোনে সিকিউরিটি প্যাচ আপডেট এবং সফটওয়্যার আপডেটও অনেক দ্রুত পাওয়া যায়। যার ফলে আপনি এন্ড্রয়েডের পরবর্তী ভারশনের আপডেট এবং সিকিউরিটি আপডেটগুলো রিলিজ হওয়ার সাথে সাথে সবার আগে আপনার পিক্সেল স্মার্টফোনে পাবেন। পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। এই স্মার্টফোন দুটিতে প্রাথমিকভাবে এন্ড্রয়েড ৮.০ অরিও থাকবে এবং আপনি এর পরবর্তী অধিকাংশ সফটওয়্যার আপডেটই রিলিজ হওয়ার সাথে সাথেই পাবেন।

এছাড়া গুগল পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেলে থাকছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ যা কোয়ালকমের তৈরি সবথেকে পাওয়ারফুল চিপসেট এবং এড্রেনো ৫৪০ জিপিইউ যা কোয়ালকোমের তৈরি সবথেকে পাওয়ারফুল জিপিইউ। যেহেতু স্টক এন্ড্রয়েড অপারেট করার জন্য খুব বেশি পাওয়ারফুল হার্ডওয়্যার দরকার হয়না তাই এত শক্তিশালি হার্ডওয়্যারে গুগলে পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেলের পারফরমেন্স কেমন হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এছাড়া গুগলের ওএস অপটিমাইজেশনের কারনে পারফরমেন্স হবে আরও বেশি ফ্লুয়িড এবং অন্যান্য যেকোনো এন্ড্রয়েড স্মার্টফোনের থেকে বেশি রেস্পনসিভ।

স্পেশাল ফিচারস

এবছর গুগল পিক্সেল ২ এবং পিক্সেল ২ এক্সেলে আগের বছরের সাধারন ফিচারসগুলো ছাড়াও আরও অনেক অসাধারন নতুন ফিচারস অ্যাড করা হয়েছে। আগের বছরের পিক্সেল এক্সক্লুসিভ সফটওয়্যার ফিচারগুলো যেমন পিক্সেল লঞ্চার, ব্লু থিম, লাইভ ওয়ালপেপারস এবং গুগল ফটোস এর ফুল রেজোলিউশন আনলিমিটেড ব্যাকআপ ইত্যাদি এগুলো তো থাকছেই, এছাড়াও এবার আরও অনেক নতুন নতুন ফিচারস এবং ইম্প্রুভমেন্টস থাকছে। এর মধ্যে সবথেকে বড় দুটি নতুন ফিচারস হচ্ছে গুগল লেন্স এবং অগমেন্টেড রিয়ালিটি। গুগল লেন্সের সাহায্যে আপনি আপনার স্মার্টফোনের ক্যামেরার সাহায্যে কোন অবজেক্ট স্ক্যান করেই ওই অবজেক্টটি সম্পর্কে সব ধরনের তথ্য জানতে পারবেন। এছাড়া ওই জিনিসটি আপনি কোথায় কিনতে পেতে পারেন তাও জানতে পারবেন। এটার আর তেমন কোন ব্যাবহার নেই।

পিক্সেল ২ এক্সেল

আর অগমেন্টেড রিয়ালিটি হচ্ছে অনেকটা বাস্তব পৃথিবী ও ভারচুয়াল পৃথিবীকে একসাথে করার মত। অর্থাৎ আপনি ক্যামেরার সাহায্যে আপনার সামনের বাস্তব পৃথিবীতে বিভিন্ন অবাস্তব অবজেক্ট যেমন কোন ভিডিও গেম ক্যারেক্টার, মন্সটার বা ড্রাগন ইত্যাদি বিভিন্ন জিনিস আনতে পারবেন এবং সেটার ছবি তুলতে পারবেন, ভিডিও করতে পারবেন। এটা শুধুমাত্র মজা করার জন্য। কিন্তু সম্পূর্ণ অগমেন্টেড রিয়ালিটি বিষয়টি কিন্তু জাস্ট মজা করার জন্য নয়। আপনি আরও বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে পারবেন এর সাহায্যে। যেমন, স্মার্টফোনের সাহায্যে কোনকিছুর পরিমাপ করা , কামেরর সাহায্যে দূরত্ব পরিমাপ করা, ৩ডি মডেল তৈরি করা এবং আরও অনেক কিছু।

শেষ কথা

গুগল পিক্সেল ২ এর ৬৪ জিবি মডেলের বর্তমান দাম ৬৪৯ ডলার এবং পিক্সেল ২ এক্সেল এর দাম ৭৪৯ ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৪,০০০ টাকা এবং ৬২ হাজার টাকা।  কিন্তু প্রত্যেকবছরের মত এবছরও বাংলাদেশের এই দামটা বেড়ে গিয়ে প্রায় ৭০/৮০ হাজারের ওপরে উঠে যাবে। ২ এবং পিক্সেল ২ দুটি অসাধারন স্মার্টফোন। তাদের দাম অনুযায়ী হয়ত পারফেক্ট ভ্যালু ফর মানি বলা যায়না কারন এর থেকে কম দামে আরও ভাল স্মার্টফোন আছে যেগুলো হয়ত পিক্সেল ২ এর থেকে ভালো না, কিন্তু দাম অনুযায়ী প্রয়জনের তুলনায় অনেক বেশি ভাল। যেমন, ওয়ানপ্লাস ৫, শাওমি মি৬। কিন্তু অনেক বেশি দাম যদি আপনার কাছে কোন ব্যাপার না হয় এবং আপনি যদি স্টক এন্ড্রয়েডের ফ্যান হন অথবা যদি স্মার্টফোনে ক্যামেরা আপনার প্রধান প্রায়োরিটি হয়, তবে আমি বলব আপনার জন্য গুগলের এই পিক্সেল লাইনাপের ফোনগুলোই বেস্ট হবে।

আজকের মত এখানেই শেষ করছি। আশা করি আর্টিকেলটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আর্টিকেলটি সম্পর্কে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে নিচে কমেন্ট সেকশনে জানাতে ভুলবেন না। ভালো থাকবেন।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

ইমেজ ক্রেডিট; MKBHD YouTube
You can find me on : Facebook

সিয়াম
অনেক ছোটবেলা থেকেই প্রযুক্তির প্রতি আকর্ষণ ছিলো এবং হয়তো সেই আকর্ষণটা আরো সাধারন দশ জনের থেকে একটু বেশি। নোকিয়ার বাটন ফোন থেকে শুরু করে ইনফিনিটি ডিসপ্লের বেজেললেস স্মার্টফোন, সবই আমার প্রিয়। জীবনে টেকনোলজি আমাকে যতটা ইম্প্রেস করেছে ততোটা অন্যকিছু কখনো করতে পারেনি। আর এই প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই লেখালেখির শুরু.....