বর্তমান তারিখ:22 August, 2019

লিনাক্স ব্যবহার শুরুর পূর্বে এই বিষয় গুলো জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়!

লিনাক্স ব্যবহার করার পূর্বে

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে করতে জাস্ট বোরিং ফিল করছেন? নতুন কিছু টেস্ট করতে চাচ্ছেন? বিশেষ করে লিনাক্স ব্যবহার করতে চাচ্ছেন? লিনাক্স ওয়ার্ল্ডে আপনাকে স্বাগতম! কিন্তু আপনি যদি একেবারেই নতুন ইউজার হোন, অবশ্যই আপনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়া প্রয়োজনীয়, কেনোনা উইন্ডোজ আর লিনাক্স নির্ভর অপারেটিং সিস্টেম গুলো এক জিনিষ নয়। এখানে অনেক বিষয় রয়েছে যেগুলো জেনে তারপরেই লিনাক্সে পা দেওয়া বেস্ট হবে, নতুবা কিছুই বুঝতে পারবেন না। এই আর্টিকেলে আমি সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো নিয়ে আলোচনা করতে চলেছি, যেগুলো উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম থেকে লিনাক্সে সুইচ করার পূর্বে আপনার জানা প্রয়োজনীয়!

লিনাক্স কি?

লিনাক্স আসলে কোন অপারেটিং সিস্টেম নয়, এটি মূলত একটি কার্নেল—বলতে পারেন, যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমের এটি হার্ট, কেনোনা কার্নেল কম্পিউটার হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে সাহায্য করে। যদি সহজ ভাষায় বলতে চেষ্টা করি, অবশ্যই লিনাক্স উইন্ডোজের মতোই একটি কমপ্লিট সিস্টেম, যেটার সাহায্যে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব। তবে টেকনিক্যালি এটি উইন্ডোজ থেকেও বেশি কিছু। লিনাক্সকে একটি ইঞ্জিন বলতে পারেন, যেটি আলাদা অনেক অপারেটিং সিস্টেম চালানোর জন্য পাওয়ার প্রদান করে থাকে। লিনাক্সের উপর তৈরি অপারেটিং সিস্টেম গুলোকে ডিস্ট্রিবিউশন বা সংক্ষেপে ডিস্ট্রো বলা হয়, যেমন- উবুন্টু, লিনাক্স মিন্ট, রেড হ্যাট, ফেডোরা, ইত্যাদি।

লিনাক্স কি?

আপনার স্মার্টফোনের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম, সেটারও ইঞ্জিন হিসেবে লিনাক্স ভূমিকা পালন করে, কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড লিনাক্সের আলাদা ডিস্ট্রিবিউশন থেকে আলাদা, এই বিষয়ে আমি “অ্যান্ড্রয়েড লিনাক্সের উপর তৈরি, কিন্তু তারপরেও এটি কেন আলাদা?” —এই আর্টিকেলে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

লিনাক্স শুধু কম্পিউটার বা স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেমের পাওয়ার ইঞ্জিন হিসেবেই নয়, বরং আরো স্মার্ট টেকনোলজি যেমন- স্মার্ট টিভি, ফ্রিজ, হিটিং সিস্টেম, এমনকি লাইট বাল্বের সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। পৃথিবীর যতোগুলো সুপার কম্পিউটার রয়েছে, বেশিরভাগই লিনাক্স নির্ভর অপারেটিং সিস্টেমের উপর চালিত। সাথে ইন্টারনেটের অধিকাংশ ওয়েব সার্ভার লিনাক্স নির্ভর অপারেটিং সিস্টেমের উপর রান করানো হয়।

লিনাক্স কি? এ সম্পর্কে বিস্তারিত আর্টিকেলটি পড়তে এখানে ক্লিক করুণ!

জিএনইউ/লিনাক্স কি?

জিএনইউ (GNU) একটি প্রোজেক্ট মূলত, যেটি লিনাক্স কার্নেলের সাথে বেস্ট টুল গুলোকে যুক্ত করে দিয়ে বেটার ডেক্সটপ এক্সপেরিয়েন্স করার সুবিধা প্রদান করে থাকে। লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন গুলো আসলে অনেক গুলো ওপেন সোর্স প্রজেক্টের সমন্বয়ে গঠিত, বেস্ট প্রজেক্ট গুলো থেকে টুল গুলো একত্রিত করে এক একটি পুরনাঙ্গ অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা হয়।

আসলে একটি ডেক্সটপ অপারেটিং সিস্টেম রান করাতে আপনার যতো প্রকারের টুলের প্রয়োজন হয়, জিএনইউ প্রোজেক্ট’কে সেই টুল গুলোর একটি ব্যান্ডেল বলতে পারেন। অবশ্যই কোন অপারেটিং সিস্টেমকে সফলভাবে কম্পিউটারে রান করানোর জন্য প্রয়োজন, হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের মধ্যের সংযোগ। যেমন- প্রথমে আপনার টার্মিন্যাল প্রয়োজনীয় হয়, যেকোনো কম্যান্ড কার্নেলকে দেওয়ার জন্য এবং টাস্ক পারফর্ম করানোর জন্য। যে কমন সেল ব্যবহার করে লিনাক্সের সাথে টার্মিন্যাল সম্পর্ক স্থাপন করে, সেটা একটি জিএনইউ টুল যার নাম “ব্যাস (BASH)”। এমনকি লিনাক্সের সবচাইতে জনপ্রিয় একটি ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্ট জিনোম (GNOME) যেটি জিএনইউ নেটওয়ার্কের উপর অবস্থিত! আর বিশ্বাস করুণ, এটি আলট্রা ফাস্ট!

লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন কি?

যদি বলা হয়, শুধু লিনাক্সের কথা, তো সেটা খুব বেশি উপকারি জিনিষ নয়, বলতে পারেন শুধু লিনাক্স আপনার কোন কাজেরই না। আপনার অবশ্যই এর সাথে আরো প্রোগ্রাম এবং টুল অ্যাড করতে হবে যাতে একে কাজে লাগানো যায়। যেমন ধরুন একটি কার ইঞ্জিন কখনোই একা কারকে চালাতে সক্ষম নয়, যদিও সেটি কারের মূল পাওয়ার হাউজ হয়ে থাকে। অবশ্যই কারকে সফলভাবে রান করাতে অনেক টাইপের গিয়ার প্রয়োজনীয় হবে, চাকা প্রয়োজনীয় হবে, এবং স্টিয়ারিং লাগবে চাকা গুলোকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য।

লিনাক্স ডিস্ট্র গুলো হচ্ছে এক একটি পুরনাঙ্গ অপারেটিং সিস্টেম যেটার কোর হিসেবে লিনাক্স কাজ করে। বিভিন্ন ওপেন সোর্স প্যাকেজ, টুল, যেমন জিএনইউ টুল বা ডেভেলপার’রা যেগুলো অ্যাড করতে চান সেগুলো উপরে অ্যাড করার পরে লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন তৈরি করা সম্ভব হয়। লিনাক্স ডিস্ট্র গুলো মূলত লিনাক্স কার্নেল, জিএনইউ/টুল, ডিসপ্লে ম্যানেজার, উইন্ডো ম্যানেজার, ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্ট, ইন্সটলার, প্যাকেজ ম্যানেজার, এবং অনেক ডেক্সটপ সফটওয়্যার যেমন- অফিস, মিডিয়া প্লেয়ার, ইন্টারনেট ব্রাউজার — ইত্যাদির সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে।

কোন লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনটি ব্যবহার করবেন?

আমি জানি, এটা সবচাইতে জনপ্রিয় একটি প্রশ্ন, কেনোনা শতশত আলাদা আলাদা লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন রয়েছে, এর মধ্যে বেস্ট কোনটা বা কোনটি ব্যাবহারের জন্য বেশি উপযোগী—এই প্রশ্ন মনে আসা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কোন লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনটি বেস্ট এর উত্তর করা একেবারেই অসম্ভব। কেনোনা বিভিন্ন লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশনকে বিভিন্ন কাজের উপর বিশেষ ফোকাস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আপনি কোনটিকে আপনার কাজে লাগাবেন, সেটা সম্পূর্ণই আপনার কাজের টাইপ এবং পছন্দের উপর নির্ভর করবে। যদি বলেন, আপনি নতুন লিনাক্স ব্যবহারকারী হতে চাচ্ছেন তো আপনি কোনটি সিলেক্ট করবেন, তাহলে নিচে এ নিয়ে আলোচনা করছি।

আজকের দিনে, লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন গুলো ব্যবহার করা বা আটলিস্ট ট্র্যায় করা অনেকটা সহজ কাজ। আপনাকে উইন্ডোজের মতো—উইন্ডোজ ব্যবহার করার জন্য সেটাকে পার্মানেন্ট ইন্সটল করতে হয়, লিনাক্স আপনি সিস্টেমে ইন্সটল না করেও লাইভ ট্র্যায় করতে পারবেন। আপনাকে একটি বুটেবল ইউএসবি তৈরি করতে হবে যেকোনো লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন এর আইএসও ফাইল দিয়ে, তারপরে সেটাকে ইন্সটল না করেই লাইভ ব্যবহার করতে পারবেন। যদি ডিস্ট্রিবিউশনটি ভালো লাগে, সেক্ষেত্রে লাইভ এনভার্নমেন্ট থেকেই আপনি সেটআপ প্রসেস শুরু করতে পারবেন!

উবুন্টু

উবুন্টু লিনাক্স আমার সবচাইতে পছন্দের একটি ডেক্সটপ লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন, আমি নিজেই সেকেন্ডারি অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে আমার কম্পিউটারে এটিকে ব্যবহার করি। আপনি যদি লিনাক্সে একেবারেই নতুন হোন, উবুন্টু লিনাক্স আপনার জন্য একদম ঠিকঠাক পছন্দের হবে। অপারেটিং সিস্টেমটি ইন্সটল করার সময়ই অনেক কাজের সফটওয়্যার এতে প্রি-ইন্সটল হয়ে যায়। আপনি প্রথমবার অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করেই, হাতের কাছে আলাদা ইন্সটল করা ছাড়ায় অনেক কাজের টুল আর সফটওয়্যার গুলো বিল্ডইন পেয়ে যাবেন। আর সবচাইতে ভালো কথা হচ্ছে, আপনাকে কোন সফটওয়্যারের জন্য টাকার ডিম্যান্ড করা হবে না।

সাথে ওপেন সোর্স আর ফ্রী অপারেটিং সিস্টেম হয়েছে তো কি হয়েছে, উবুন্টুতে আপনি নিয়মিত অপারেটিং সিস্টেম আপডেট পাবেন, প্রত্যেকটি আপডেটে উবুন্টু নতুন ফিচার আর সিকিউরিটি প্যাচ অ্যাড করে থাকে। উবুন্টুর বিশাল ইউজার কমিউনিটি রয়েছে। আর উবুন্টুর সাপোর্ট ওয়েবসাইট’টি ব্যাপক জনপ্রিয়, মানে আপনার যেকোনো সমস্যায় হোক না কেন, একটি পোস্ট করা মাত্র দুনিয়া ভর্তি মানুষ আপনাকে সাপোর্ট দিতে হাজির হয়ে যাবে।

আর বড় কমিউনিটি মানেই কিন্তু অনেক সফটওয়্যার সাপোর্ট পাওয়া, তাই উবুন্টুতে বিশাল সফটওয়্যার সাপোর্ট পেতে পারবেন। অনেক বড় বড় সফটওয়্যার যেমন- গুগল ক্রোম বা মাইক্রোসফট স্ক্যাইপ —সরাসরি উবুন্টুকে সমর্থন করে। বেশিরভাগ ডিভাইজ উবুন্টুতে আলাদা ড্রাইভার ছাড়াই কাজ করতে পারে। যদিও উইন্ডোজ এখন ড্রাইভার ছাড়ায় অনেক হার্ডওয়্যার ডিটেক্ট করতে পারে। যাই হোক, এনভিডিয়া গ্রাফিক্স কার্ডের জন্যও উবুন্টুতে সাপোর্টেড ড্রাইভার রয়েছে।

উবুন্টু আইএসও ডাউনলোড করার সময় দেখতে পাবেন, “এলটিএস” টার্মটি লেখা থাকে, যার মানে হচ্ছে লং টার্ম সাপোর্ট। যেকোনো এলটিএস ভার্সন রিলিজের পর থেকে ৫বছর পর্যন্ত সেটাতে সিকিউরিটি আপডেট দেওয়া হয়, এবং প্রত্যেক দুই বছর পরপর একটি করে নতুন এলটিএস ভার্সন রিলিজ করা হয়। উবুন্টু কিন্তু শুধু ডেক্সটপের জন্যই নয়, এর আরো নিজস্ব অনেক ফ্লেভার রয়েছে। সার্ভারের জন্যও উবুন্টু ফ্লেভার রয়েছে, তাছাড়া এটি উইন্ডোজের তুলনায় অনেকটা লাইটওয়েট, তাই সহজেই পুরাতন কম্পিউটার গুলোতেও কোন সমস্যা ছাড়ায় উবুন্টু ব্যবহার করতে পারবেন।

লিনাক্স মিন্ট

যেখানে আমার প্রথম পছন্দ হচ্ছে উবুন্টু লিনাক্স, সেখানে অনেকের প্রথম পছন্দ লিনাক্স মিন্ট। মিন্ট নামটি শুনতেই আমার কেন জেনো একটি ফ্রেস অনুভূতি জেগে উঠে মনে! লিনাক্স মিন্ট উবুন্টুর মতোই অসম্ভব জনপ্রিয় একটি লিনাক্স নির্ভর অপারেটিং সিস্টেম। লিনাক্স মিন্ট অনেকটায় উবুন্টুর উপর নির্ভরশীল হয়ে তৈরি করা অপারেটিং সিস্টেম, কিন্তু এটা আপনাকে উইন্ডোজ ডেস্কটপের সবচাইতে কাছের ফিলিং দিতে সক্ষম।

এতে উইন্ডোজের মতো টাস্কবার রয়েছে, আর উইন্ডোজের মতো স্টার্ট মেন্যুও দেখতে পাবেন, যেখানে সকল ইন্সটল থাকা অ্যাপ লিস্ট পেয়ে যাবেন। আপনি যদি একদম নতুন আর হুবহু উইন্ডোজের মতো ডেক্সটপ এক্সপেরিয়েন্স পেতে চান, আমি প্রথম বাক্যে আপনাকে লিনাক্স মিন্ট রেকোমেন্ড করবো।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে শুধুই কি দেখতে, নাকি কাজেও লিনাক্স মিন্ট উইন্ডোজের মতো কাজ করে? দেখুন লিনাক্স মিন্টকে নতুনদের জন্যই বিশেষভাবে ফোকাস দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। আলাদা লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন গুলোতে ইন্সটলের পরে আলাদা করে প্লাগইন, জাভা, কোডেক ইত্যাদি ইন্সটল করতে হয়, কিন্তু লিনাক্স মিন্টে একেবারে সবকিছু বিল্ড-ইন, যাকে বলতে পারেন আউট-অফ-দ্যা-বক্স এক্সপেরিয়েন্স! তো আপনি উইন্ডোজ থেকে কেবল লিনাক্স ওয়ার্ল্ডে প্রবেশ করছেন, তো হ্যাঁ, লিনাক্স মিন্ট আপনার জন্য বেস্ট হবে।

ফেডোরা

আপনি যদি কাউকে জিজ্ঞাস করেন, “আমি নতুন লিনাক্স ব্যবহার করতে চাচ্ছি, তো কোন ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবহার করতে পারি?” —বেশিরভাগ মানুষ আপনাকে সাজেস্ট করবে, উবুন্টু অথবা মিন্ট, এমনকি ইংরেজি ওয়েব ব্লগ গুলোতেও প্রথমে মিন্ট আর উবুন্টুকেই খুঁজে পাবেন। কিন্তু আপনি চাইলে সম্পূর্ণ আলাদা কিছু এক্সপেরিয়েন্স করতে পারেন। আর এক্ষেত্রে অবশ্যই ফেডোরা’কে আপনার ট্র্যায় করে দেখা প্রয়োজনীয়!

আলাদা লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন গুলো থেকে ফেডোরা’তে আপনি উল্লেখ্যযোগ্য পার্থক্য দেখতে পাবেন। এই অপারেটিং সিস্টেম বিশেষভাবে ওপেন সোর্স টুল ব্যবহার করার জন্য ফোকাস করে তৈরি করা, আপনি যদি একেবারেই ডিফারেন্ট কিছু আশা করেন, ফেডোরা আপনার আশাকে সম্পূর্ণ করতে সক্ষম। ফেডোরা ডেভেলপার’রা সরাসরি ওপেন সোর্স প্রোজেক্টের সাথে কাজ করে, যেমন GNOME; এবং সেগুলতে কিছু পরিবর্তন করে আপনাকে প্রদান করে।

কিভাবে লিনাক্স ইন্সটল করবো

লিনাক্সের সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে এটি সরাসরি কম্পিউটারে ইন্সটল না করেও ইউএসবি স্টিক থেকে পোর্টেবলভাবে ব্যবহার করা যায়। যদি আপনার ভালো লাগে, তারপরেই ইন্সটল করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। লিনাক্স যেকোনো ডিস্ট্র ইন্সটল করার জন্য অবশ্যই প্রথমে সেই ডিস্ট্রর অফিশিয়াল সাইট ভিজিট করতে হবে এবং অফিশিয়াল আইএসও ফাইল ডাউনলোড করতে হবে। এবার আপনার প্রয়োজনীয় হবে একটি উইন্ডোজ কম্পিউটার, একটি ইউএসবি পেনড্রাইভ, রুফুস (পেনড্রাইভ বুটেবল করার সফটওয়্যার) —ব্যাস সহজেই এখন বুটেবল ইউএসবি তৈরি করে লিনাক্স লাইভ টেস্ট করতে পারবেন কিংবা চাইলে ইন্সটলও করতে পারবেন।

আপনি চাইলে ডুয়াল বুট সিস্টেম তৈরি করে উইন্ডোজের পাশাপাশি লিনাক্স ব্যবহার করতে পারবেন, অথবা শুধু একা লিনাক্স ইন্সটল করেও কাজ চালাতে পারবেন। উবুন্টু, মিন্ট, এগুলোকে ইন্সটল করা একেবারে পানির মতো সহজ, কিন্তু লিনাক্স ডিস্ট্র ইন্সটল করার সময় একটু ট্রিক খাটাতে হয়, কিন্তু তারপরেও সেগুলোও ইন্সটল করা ব্যাপক সহজ। যদি কোন সমস্যা হয়, ইউটিউবে অনেক ভিডিও টিউটোরিয়াল রয়েছে যেগুলো অনুসরণ করে যেকোনো লিনাক্স ডিস্ট্র সহজেই ইন্সটল করতে পারবেন।

ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্ট কি?

আপনি যে লিনাক্স ডিস্ট্রিবিউশন পছন্দ করেছেন, এর মানে এটাই নয় আপনাকে শুধু ঐ ডিস্ট্রিবিউশনের ডিফল্ট ইউজার ইন্টারফেস নিয়েই পরে থাকতে হবে। যেমনটা উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করলে অবশ্যই এর ডেক্সটপ উইন্ডোজ ৭ এর মতোই থাকবে, সেটার ইউআই উইন্ডোজ ১০ করা যাবে না। যদিও থিম ব্যবহার করে অনেকটা অন্য ডেক্সটপ লুক দেওয়া যায়, কিন্তু থিম আর সরাসরি ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্টই পরিবর্তন করে ফেলা আলাদা ব্যাপার।

লিনাক্সে আপনি যেকোনো ডিস্ট্র ব্যবহার করুণ না কেন, ইচ্ছা মতো ডেস্কটপ এনভায়রনমেন্ট পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। জাস্ট একটি পছন্দ না হলে আরেকটি পছন্দ করুণ। প্রত্যেকটি ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্টের সাথে উইন্ডো ম্যানেজার, প্যানেল, মেন্যু, উইজেট, ফাইল ম্যানেজার, ব্রাউজার, অফিস সুইট, টেক্সট এডিটর, টার্মিন্যাল, ডিসপ্লে ম্যানেজার অ্যাড করা থাকে। এখানে উইন্ডো ম্যানেজার নির্ধারণ করে প্রত্যেকটি অ্যাপ্লিকেশনের জন্য কোন উইন্ডো কিভাবে আচরণ করবে। ডিসপ্লে ম্যানেজার আপনাকে গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস প্রদান করে থাকে। এবং প্যানেলে মেন্যু, অ্যাপ আইকন ইত্যাদি যুক্ত থাকে!

কিন্তু বেস্ট ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্ট হচ্ছে;—

  1. Unity
  2. GNOME
  3. KDE
  4. Cinnamon
  5. MATE
  6. Enlightenment
  7. Pantheon
  8. XFCE
  9. LXDE

আপনি কোন লিনাক্স ডিস্ট্র ব্যবহার করছেন সেটা ব্যাপার নয়, এই ডেক্সটপ এনভায়রনমেন্ট গুলো ব্যবহার করার মাধ্যমে সেম ইউজার ইন্টারফেস উপভোগ করতে পারবেন।

হার্ডওয়্যার সাপোর্ট

অনেকে মনে করে, লিনাক্স ব্যবহার করলে তাদের হার্ডওয়্যার গুলো যেমন- প্রিন্টার, স্ক্যানার, অডিও ডিভাইজ ইত্যাদি সমর্থন করবে না। কিন্তু এটি ভুল ধারণা, লিনাক্স আগের থেকে বর্তমানে অনেক বেশি উন্নত। উইন্ডোজে যেখানে যেকোনো ডিভাইজ লাগানোর পরে হার্ডওয়্যার ড্রাইভার ছাড়া কাজই করতে পারে না, সেখানে লিনাক্স অনেক হার্ডওয়্যার ডিফল্টভাবে চিনতে পারে। আর ডিভাইজ প্রস্তুতকারী কোম্পানিরাও এখন অফিশিয়ালভাবে লিনাক্স সাপোর্ট যুক্ত করে দেয়। যেকোনো কমন হার্ডওয়্যারে লিনাক্স সাপোর্ট করতে সমস্যা হবে না।

তাছাড়া অনেক গ্রাফিক্স কার্ডও এখন লিনাক্স সরাসরি সমর্থন করে। পিসির অডিও, ভিডিও, ব্লুটুথ, ওয়াইফাই, এগুলোর জন্য কখনোই আলাদা ড্রাইভার ইন্সটল করার প্রয়োজন পড়বে না। যদি কোন সফটওয়্যার ড্রাইভার নিয়ে সমস্যা হয়, আপনি ওয়াইন ব্যবহার করতে পারেন, যেটার মাধ্যমে আপনি উইন্ডোজ যেকোনো অ্যাপ্লিকেশন লিনাক্সে রান করাতে পারবেন। যেকোনো ড্রাইভার সাপোর্টের জন্য এই লিঙ্কটি আপনাকে অনেক সাহায্য করবে। তবে আমি রেকমেন্ড করবো, প্রথমে লাইভ লিনাক্স রান করিয়ে দেখুন আপনার হার্ডওয়্যার গুলো সমর্থন করছে কিনা, তারপরে লিনাক্স ইন্সটল করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করুণ।

টার্মিন্যাল

অনেকে টার্মিন্যাল আর কম্যান্ড লাইনের কথা শুনলেই লিনাক্স সম্পর্কে ভয় পেয়ে যায়। দেখুন, আপনি যদি এমন টাইপের ডেক্সটপ ইউজার হোন, যিনি শুধু সোশ্যাল মিডিয়া, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, মেইল চেকিং, অফিস ওয়ার্ড ব্যবহার, মিডিয়া প্লে ইত্যাদি করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করেন, কখনোও ভুল করেও আপনাকে টার্মিন্যাল ছুঁয়েও দেখতে হবে না।

যেকোনো সফটওয়্যার ইন্সটল করার জন্য লিনাক্সের প্যাকেজ ম্যানেজার ব্যবহার করতে পারেন। বা অনলাইন থেকে প্যাকেজ ডাউনলোড করে সেটার উপর ডাবল ক্লিক করেও ইন্সটল করতে পারবেন। প্যাকেজ ম্যানেজারকে বলতে পারেন আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের প্লে স্টোরের মতো, আর লিনাক্স সফটওয়্যার প্যাকেজ ফাইল গুলোকে উইন্ডোজ সেটআপ ফাইল বা .EXE ফাইলের সাথে তুলনা করতে পারেন। তবে কিছু বেসিক টার্মিন্যাল কম্যান্ড মনে রাখা এবং ব্যবহার করা ভালো, যদি প্রয়োজন না পরে তো সেটারও দরকার হবে না!


একজন উইন্ডোজ ইউজারকে লিনাক্সে সুইচ করার পূর্বে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো জানতে হবে, আশা করছি সবকিছু এই আর্টিকেলে কভার করেছি। অবশ্যই এটি নতুন লিনাক্স ইউজারদের লিনাক্স সম্পর্কে বুঝতে অনেকটা সাহায্য করবে, কেনোনা আপনাকে তো জানতে হবে তাই না, আপনি কি করছেন! আপনার যেকোনো প্রশ্নে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করতে পারেন।


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

ইমেজ ক্রেডিট; By Imagentle Via Shutterstock | Pixabay

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

9 Comments

    1. তাহমিদ বোরহান Post author Reply

      খুব দ্রুত লিনাক্স গুরু সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছি, অবশ্যই সেখানে লিনাক্সের এক্সপার্ট হওয়ার উপর সিরিয়াল পোস্ট থাকবে!! আর কম্যান্ডে এক্সপার্ট হওয়ার জন্য লিনাক্স বেসিক জিনিষ গুলো ভালকরে জানতে হবে সাথে এর সিস্টেম সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। অনলাইন সার্চ করলেই অনেক কম্যান্ড লাইন পেয়ে যাবেন, সেগুলো প্রয়োগ আয়ত্ত করুণ!

  1. Salam Ratul Reply

    তাহমিদ বোরহান ভাইয়া আপনার পোষ্টগুলো এতই সহজ করে উপস্থাপনা করেন যে একেবারে মগজে সহজেই ডুকে যায়… খুবই ভালো লেগেছে আর্টিকেলটি… আমি এখনো লিনাক্স ব্যাবহার করে দেখিনি… ভাবতেছি একবার সাহস করে শুরু করে দেই… ভাইয়া কালি লিনাক্স সম্পর্কেতো কিছু বলেননি আর্টিকেলে উল্ল্যেখিত উবুন্ট, মিন্ট, ফেডোরা, থেকেওকি কালি লিনাক্স বেশি জটিল.. ?
    অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া অসাধারণ টিউনগুলো আমাদের উপহার দেয়ার জন্য…

    1. তাহমিদ বোরহান Post author Reply

      আসলে কালি লিনাক্স ডেস্কটপ হিসেবে ব্যবহার করার জন্য নয়! এটি নেটওয়ার্কিং, সিকিউরিটির উপর ফোকাস করা একটি ডিস্ট্র!

      ~ধন্যবাদ!

  2. Anirban Reply

    Just osadharon post. Ubuntu use korechi….khub bhalo….ebar Mint use korbo…aaro bhalo hobe na bhai????
    Valo thakben aar roj amader eirokom post gift korben bhai….❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤❤

  3. N4H1D Reply

    ভাই কিছু বলার নাই। অনেক অনেক ভালো লাগছে এই ফোরামে এসে।
    -Thanks

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *