এসএসডি বনাম এসডি কার্ড | কেন সব ফ্ল্যাশ স্টোরেজ এক নয়?

এসএসডি বনাম এসডি কার্ড

আজকের সবচাইতে ট্রেন্ড স্টোরেজ সলিউশন হচ্ছে ফ্ল্যাশ নির্ভর স্টোরেজ। একে তো এর ফিজিক্যাল আকার আর ক্যাপাসিটির মধ্যে রাতদিন তফাৎ রয়েছে, দ্বিতীয়ত ফ্ল্যাশ স্টোরেজ প্রযুক্তির দিকে দেখতে গেলে আজকের মডার্ন ম্যাকানিক্যাল হার্ড ড্রাইভ গুলো আপনার কাছে আদিম প্রযুক্তি মনে হবে। আপনার ফোনের র‍্যাম, রম, এসডি কার্ড, পেনড্রাইভ থেকে শুরু করে কম্পিউটারের এসএসডি—সবকিছুই কিন্তু ফ্ল্যাশ মেমোরি, তারপরেও সকল সলিড-স্টেট স্টোরেজ এক নয়। মডার্ন কম্পিউটার আর দামি ল্যাপটপ গুলোতে সুপার ফাস্ট এসএসডি লাগানো থাকে, কিন্তু কমদামের ফোন বা ল্যাপটপ গুলোতে ইএমএমসি স্টোরেজ লাগানো থাকে, আবার ১০০/২০০টাকা দিয়ে ফ্ল্যাশ মেমোরি কার্ড কিনতে পাওয়া যায়। যদি সবাই একই প্রযুক্তির সদস্য হয়, তবে কেন এতো পার্থক্য? এই আর্টিকেল থেকে সব উত্তর গুলো খোঁজার চেষ্টা করবো…

পেনড্রাইভ, এসডি কার্ড সবই ফ্ল্যাশ মেমোরি, তাহলে?

হ্যাঁ, পেনড্রাইভ বা ইউসবি স্টিক, মেমোরি কার্ড ইত্যাদি সবকিছুই এসএসডির মতো ফ্ল্যাশ মেমোরি, কিন্তু তারপরেও অনেক পার্থক্য রয়েছে। দেখুন ফ্ল্যাশ মেমোরিকে ঠিকঠাক মতো কাজ করানোর জন্য আরো যন্ত্রাংশ প্রয়োজনীয়। পেনড্রাইভ এবং মেমোরি কার্ড গুলোতে ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি ব্যবহার করা হয়। ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি বলতে বুঝায়, এটি ডাটা স্টোর করে রাখতে কোন পাওয়ারের প্রয়োজন পড়ে না। পেনড্রাইভ এবং মেমোরি কার্ডকে এমনভাবে বানানো হয়, যাতে এটি অনেক সস্তায় পাওয়া যায় এবং বেস্ট পোর্টেবল ডিভাইজ হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়। পেনড্রাইভে একটি প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ডের উপর ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপ লাগানো থাকে, সাথে ইউএসবি ইন্টারফেস দেওয়া থাকে, পাশাপাশি একটি এসডি কন্ট্রোলার তো থাকেই। এসডি কার্ড আর পেনড্রাইভের গঠন ব্যাস এই টুকুই, এতে এসএসডি এর মতো বাস্তববুদ্ধিসম্পন্ন ফার্মওয়্যার অথবা আরো আধুনিক ফিচার গুলো থাকে না।

তাছাড়া এসডি কার্ডের বিভিন্ন ক্লাস থাকে, যার অনুসারে এর স্পীড কম বা বেশি হয়ে থাকে। আপনি হয়তো মেমোরি কার্ডে কম্পিউটার অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করতে পারবেন, কিন্তু সেটা একেবারেই বোকামি হবে। এসডি কার্ড কখনোই এসএসডি এর মতো দক্ষভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে না। উল্টা আপনার সিস্টেম অসম্ভব দুর্বল হয়ে পড়বে।

সলিড-স্টেট ড্রাইভ

যদিও এসডি কার্ড বা পেনড্রাইভের মতোই এসএসডি’তেও ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি ব্যবহার করা হয়, কিন্তু এখানে আরো উন্নত মানের মেমোরি চিপ ব্যবহৃত হয়। সাথে এসএসডি’কে ফাস্ট বানানোর জন্য, এতে একসাথে অনেক ফ্ল্যাশ চিপ ব্যবহার করা হয়। এসএসডি’তে একটি কন্ট্রোলার সিস্টেম থাকে যেখানে ফার্মওয়্যার ইন্সটল করা থাকে এবং এটি অনেক উন্নত ফিচার প্রদান করে থাকে। একসাথে প্যারালেলে থাকা চিপ গুলো অনেক ফাস্ট স্পীড প্রদান করে, সাথে কন্ট্রোলার এসএসডি’তে রীড এবং রাইট অপারেশনকে সকল মেমোরি চিপ গুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়, যাতে একটি বিশেষ চিপের উপর চাপ পরে স্পীড কমে না যায়। তাছাড়া এসএসডি’কে কোন আলাদা সফটওয়্যার ব্যবহার করে অপটিমাইজ করার প্রয়োজন পড়ে না, এর কন্ট্রোলার ড্রাইভটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপটিমাইজ করে।

এসএসডি আপনার কম্পিউটারের স্যাটা ৩, এমস্যাটা, অথবা অথবা স্যাটা এক্সপ্রেস ইন্টারফেসের মাধ্যমে কানেক্ট হতে পারে। যেটা মেমোরি কার্ড ইন্টারফেস বা ইউএসবি ইন্টারফেস হতে অনেক বেশি ফাস্ট এবং দক্ষ। এই জন্যই এসএসডি অনেক বেশি ব্যান্ডউইথ হ্যান্ডেল করার ক্ষমতা রাখে। এসএসডি সম্পর্কে জানা আবশ্যক তথ্য গুলো জানতে, এই আর্টিকেলটি পড়ুন।

ইএমএমসি

সাধারণ এসডি কার্ড এবং এমএমসি অনেকটা একই রকমে কাজ করে। মাল্টি মিডিয়া কার্ড বা এমএমসি দিনের পর দিন ধরে উন্নতি করানোর পরে বর্তমানে ইএমএমসি নির্ভর স্টোরেজ ফোনের বা সস্তা ল্যাপটপের ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়। এটি সিস্টেম মাদারবোর্ডের সাথে চিপকানো থাকে। তবে এটি এসএসডি থেকে অনেক ধির গতি সম্পন্ন হয়ে থাকে। এতে এসএসডি’র মতো কন্ট্রোলার তো থাকে, কিন্তু ফার্মওয়্যার থাকে না। তাছাড়া এর ইন্টারফেসও এসএসডির তুলনায় স্লো। ইএমএমসি’র কন্ট্রোলার সিস্টেম একে বুটেবল করতে সাহায্য করে, যাতে সস্তা অ্যান্ড্রয়েড, উইন্ডোজ, ল্যাপটপের ইন্টারনাল মেমোরি হিসেবে একে ব্যবহৃত করা যায়।

আপনি যদি কোন সস্তা ফোন, ক্যামেরা বা এমন কোন ডিভাইজ কিনে থাকেন, যেখানে ইন্টারনাল স্টোরেজ সুবিধা রয়েছে, তো সেখানে হয়তো ইএমএমসি টাইপ মেমোরি দেখতে পাওয়া যাবে। বিশেষ করে ক্রোমবুক গুলোতে এই টাইপ মেমোরি দেখতে পাওয়া যায়। সাধারণত এক্সটারনাল মেমোরি কার্ড এসএসডি থেকে অনেক স্লো হয়ে থাকে এবং ইএমএমসি পুরাতন এসএসডি থেকেও স্লো হয়।

তবে বেশ কিছু জায়গায় কিন্তু ইএমএমসিই ফিট, যেমন আপনার ক্যামেরা বা ফোনের কথা যদি বলি, এখানে এসএসডি লাগানোর কোন প্রয়োজনীয়তা নেই, অঝথা ক্যামেরা আর ফোনের সাইজ বেড়ে যাবে সাথে দামও বেড়ে যাবে। কিছু সস্তা এসএসডি আর ইএমএমসি আপনাকে প্রায় একই পারফর্মেন্স দেবে, কিন্তু তারপরেও সলিড-স্টেট ড্রাইভের তো কথায় আলাদা। অনেক সস্তা ল্যাপটপ গুলোতে ইএমএমসি টাইপ স্টোরেজ দেওয়া থাকে, সেখানে হয়তো ৩২ জিবি বা ৬৪ জিবি ক্যাপাসিটি থাকে, আবার এসডি কার্ড লাগিয়েও স্পেস এক্সটেন্ড করা যায়, কিন্তু সত্যি বলতে এসডি কার্ড আপনার সিস্টেমকে স্লো করতে পারে, যদি সেটা ভালো ক্লাসের না হয়। আপনি যদি আপনার ল্যাপটপ নিয়ে অনেক সিরিয়াস হোন, তবে একটু বাজেট বাড়িয়ে কমপক্ষে হার্ড ড্রাইভ ওয়ালা মডেল কিনে ফেলা ভালো হবে।



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

ইএমএমসি যদিও বর্তমানে অনেক ভালো কোয়ালিটির স্টোরেজ বেড় করছে কিন্তু পারফর্মেন্স, হার্ডওয়্যার কোয়ালিটি, বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে এটি এসএসডি থেকে অনেক পিছিয়ে। এসডি কার্ডের মতো ইএমএমসি’র অনেক ক্লাস টাইপ রয়েছে, সাধারণত নতুন ইএমএমসি গুলো পুরাতন গুলোর তুলনায় অনেকবেশি ফাস্ট হয়। তো এই আর্টিকেল থেকে আপনি অবশ্যই বুঝে গেছেন, কেন সব ফ্ল্যাশ মেমোরি ফ্ল্যাশ হওয়া শর্তেও এসএসডির মতো পারফর্মেন্স দিতে সক্ষম নয়। আপনার যেকোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই তা নিচে কমেন্ট করে আমাদের জানান।

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।