কিভাবে বুঝবেন, আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি আপগ্রেড করার সময় এসেছে?

কিভাবে বুঝবেন, আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি আপগ্রেড করার সময় এসেছে?

স্মার্টফোন কোম্পানি গুলো প্রত্যেক মাসেই একটা না একটা ফোন সামনে নিয়ে হাজির হয়, তাদের লক্ষ্য আপনি প্রত্যেক ছয় মাসেই একটা করে নতুন ফোন পরিবর্তন করুন, বা তিন মাস পরপর চেঞ্জ করলে তো আরো বেশি ভালো! ওয়েল, টাকা থাকলে আপনি প্রত্যেক সপ্তাহেই নতুন ফোন চেঞ্জ করার সমস্যা নেই কিন্তু অ্যাভারেজ ক্রেতাদের কাছে ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়, এমনকি আপনার প্রত্যেক ছয় মাসে কিংবা ১-২ বছরে ফোন চেঞ্জ করার দরকারও নেই। আজকের দিনের ফোন গুলো অনেক বেশি স্মার্ট আর অনেক বেশি ক্ষমতাশালী যে সহজেই কয়েক বছর ঝামেলা না করেই চালানো যাবে।

কিন্তু একটি ফোন সারাজীবন তো আর ব্যবহার করার জন্য নয়, কোন না কোন সময়ে আপনার ফোনটি পরিবর্তন করতেই হবে, কিন্তু সঠিক সময় কোনটি? মানে কিভাবে বুঝবেন, আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি আপগ্রেড করার সময় এসেছে? — ওয়েল, আজকের আর্টিকেলটি এই সম্পূর্ণ বিষয়টি আলোচনা করেই রচিত!

আর হ্যাঁ, এই হুবহু টপিকটি নিজের স্টাইলে কভার করে আমার বন্ধু হিমেল তার ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও বানিয়েছে, আমি বলবো আপনার অবশ্যই চেক করা উচিৎ!

Video Credit: ARK TECH

স্মার্টফোন আপগ্রেড করার কারণ সমূহ

যখন আপনি নতুন কোন স্মার্টফোন বাজার থেকে কেনেন, আপনি আশা করেন সেটা যতোবেশি দিন সম্ভব যেন লাস্টিং করে। আর আমি উপরেই বলেছি, আজকের স্মার্টফোন গুলো (ভালো কোন ফোন) অনেক বেশি ক্ষমতাশালী তাই কয়েক বছর তো অনায়াসে চালানো সম্ভব। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে মানুষ যেমন বুড়ো হয়ে যায় তেমনি আপনার ফোনের যৌবনও আর আগের মতো থাকে না, আপনি যতোই চাদরে (ফোন কেস) আর প্রটেক্টরে মুড়িয়ে রাখুন না কেন।

স্মার্টফোন আপগ্রেড করার কারণ সমূহ

বিশেষ করে আপনার ফোনটি স্লো হয়ে গেলে, ব্যাটারি ব্যাকআপ তুলনা মূলকভাবে কমে গেলে বা আজকের অ্যাপ গুলো ঠিকঠাক মতো রান করতে না পারলে পূর্বের ফোনটির কথা ভুলে বা বিশেষ মায়া ত্যাগ করে নতুন কিছু খুঁজে নেওয়া ভালো! নিচে আমি এমনই কিছু কারণ দর্শীয়েছি, যেগুলো আপনার ফোনের সাথেও ঘটে থাকলে, আপনার এবার সময় চলে এসেছে ফোনটিকে আপগ্রেড করে নেওয়ার!

পুরাতন অপারেটিং সিস্টেম

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সাথে এক বিরাট সমস্যা হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ফ্রাগমেন্টেশন, মানে সকল অ্যান্ড্রয়েড ফোন গুলোতে ঠিক মতো আপডেট না পাওয়া। আপনি কোন কোম্পানির ফোন কিনেছেন, তার উপরেই অনেকটা নির্ভর করে আপনি ঠিক কতোদিন পর্যন্ত আপডেট পাবেন। ফ্রাগমেন্টেশন অ্যান্ড্রয়েডের দোষ না প্রস্তুতকারী কোম্পানির? – এই আর্টিকেলে অনেক কিছুই কভার করা হয়েছে!

লেটেস্ট সফটওয়্যার আপডেট আমার কাছে অনেক বেশি মূল্য রাখে, আর কিছুক্ষণের আলোচনায় আপনি নিজেও বুঝতে পারবেন সফটওয়্যার আপডেট কেন বেশি প্রয়োজনীয়। অ্যান্ড্রয়েড ওয়ান বা গুগল পিক্সেল ফোন ব্যবহার না করলে আপনি কতোদিন পর্যন্ত লেটেস্ট সফটওয়্যার আপডেট পাবেন এর কোন গ্যারান্টি নেই। যদি কোন কোম্পানির ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইজ ব্যবহার করে থাকেন সেক্ষেত্রে হয়তো ১ বা ২ বছর পর্যন্ত সাপোর্ট পাবেন, তারপরে আর পাবেন কিনা এই ব্যাপারে আমি বলতে পারছি না, সবই আপনার ফোনের কোম্পানি দয়া!

যেখানে লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড ১১ আসতে চলেছে সেখানে এখনো অ্যান্ড্রয়েড ১০ কতোজন ইউজার ইউজ করেন সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। এখনো বহু ফোন রয়েছে যেগুলো অ্যান্ড্রয়েড ৭ এমনকি অ্যান্ড্রয়েড ৬ বা ৫ এ পরিচালিত। দেখুন, আপনার ফোনটি যদি লেটেস্ট আপডেট পাওয়া বন্ধ হয়ে যায় এতে এমন হবে না যে ফোনটি বেকার হয়ে যাবে বা কাজ করাই বন্ধ করে দেবে!

পুরাতন অপারেটিং সিস্টেম

হ্যাঁ, আপনি লেটেস্ট সফটওয়্যার আপডেট না পেলে নতুন ফিচার গুলো মিস করবেন, কিন্তু এখানে সবচাইতে বড় ঝুঁকি হচ্ছে সিকিউরিটি! আপনার ফোনটি যদি লেটেস্ট সিকিউরিটি প্যাচ আপডেট পাওয়া বন্ধ করে দেয় এক্ষেত্রে আমার মতে ফোনটিকে আর প্রাইমারি ডিভাইজ হিসেবে না ব্যবহার করায় ভালো। তবে এখানে আরেকটি ব্যাপারও রয়েছে, যে আপনি আপনার ফোনকে কিভাবে ব্যবহার করেন। অনেকের ফোনের মধ্যে তেমন কোন পার্সোনাল জিনিসপত্র নাও থাকতে পারে (আমি জানি না, কার ফোনে পার্সোনাল কিছু থাকে না?) তাদের খুব একটা ঝামেলা হবে না। কিন্তু যারা ফোনে ম্যাসেজিং করেন, পার্সোনাল ফাইল থাকে, অফিশিয়াল ফাইল থাকে, ব্যাংকিং করে থাকেন, তাদের জন্য এটা বেশ ঝুঁকির ব্যাপার হতে পারে।

দেখুন, কোন অপারেটিং সিস্টেমই ১০০% নিরাপদ নয়, তবে ডেভেলপাররা নিয়মিত ত্রুটি খুঁজে বের করতে থাকেন এবং সেগুলোকে ফিক্স করে আপডেট প্রদান করেন। এখন আপনার ফোনের আপডেট বন্ধ হয়ে গেছে এর মানে তো এটা নয় যে নতুন ত্রুটি খুঁজে পাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে! হ্যাকার জাস্ট পুরাতন খুঁজে পাওয়া ত্রুটি গুলোর উপরে ট্র্যাক রাখে, যেহেতু বিশাল সংখ্যক ডিভাইজ গুলো নির্দিষ্ট সময় পরে আর আপডেট পায় না, তাই ত্রুটিপূর্ণ ডিভাইজের সংখ্যায় বেশি, আর এটা হ্যাকারদের কাছে স্বর্গ সমতুল্য ব্যাপার।

হ্যাঁ, কিছু বেসিক ট্রিক্স রয়েছে যেগুলো অনুসরণ করলে আপনি খানিকটা নিরাপদ থাকতে পারবেন। যেমন- প্লে স্টোর ব্যাতিত আলাদা কোন সোর্স থেকে অ্যাপ ডাউনলোড না করা। আপনার ফটো এডিটিং অ্যাপ যদি কন্টাক্ট পারমিশন চায়, সেটাকে পারমিশন না দেওয়া এবং এমন অ্যাপ ব্যবহার না করা। পাবলিক নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্টেড না থাকা, ইত্যাদি ইত্যাদি!

কিন্তু চিন্তা করে দেখুন, যদি আপনার ফোনে জাস্ট কিছু কোড এসএমএস করলে ফোনে ম্যালওয়্যার ইঞ্জেক্ট হয়ে যায়, তাহলে সেটা থেকে কিভাবে বাঁচবেন? হ্যাঁ, অ্যান্ড্রয়েডের কোরে এমন সমস্যা থাকে অনেক সময় আর এগুলোকে আপডেট প্রদান করে ফিক্স করা হয়।

তো আমার সাজেশন থাকবে, আপনার ফোনটি যদি কয়েকমাস বা বছরখানেক আগে আপডেট পাওয়া বন্ধ করে দেয় সেক্ষেত্রে সাবধানতার সাথে ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু আপনার ফোনটি যদি গুহা মানবের আমলেই আপডেট পাওয়া অফ হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে এক্ষুনি ফোনটি আপগ্রেড করে ফেলুন। আর হ্যাঁ, আপনার ফোনটি এখনো সিকিউরিটি আপডেট পাচ্ছে, এর মানেই যে যেমন ইচ্ছা তেমন ভাবে ব্যবহার করবেন সেটা কিন্তু নয়। আপনি নিরাপদ থাকতে চাইলে বেস্ট প্র্যাকটিস গুলো চালু রাখতে হবে!

গরীব ব্যাটারি লাইফ

উপরের ভিডিওতে হিমেল এই পয়েন্টি সবার শেষে তুলে ধরলেও আমি এখানে দ্বিতীয় ফ্যাক্টরে স্থান দিলাম। স্মার্টফোন গুলো দিনের পর দিন অনেকবেশি শক্তিশালী হয়ে উঠছে। আর বিরাট এই শক্তিকে পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী পাওয়ার সোর্স। ফোনের আলাদা যন্ত্রাংশ গুলো অনেক বেশিদিন লাস্টিং করলেও ব্যাটারি একটু দ্রুতই খারাপ হতে শুরু করে। আর এটা ব্যাটারির নেচারও বটে।

গরীব ব্যাটারি লাইফ

আপনি নতুন ফোন কেনার ঠিক পরের মুহূর্ত থেকেই আপনার ফোনের ব্যাটারি ধীরেধীরে খারাপ হতে শুরু করে। প্রত্যেকটা স্মার্টফোন ব্যাটারির এক নির্দিষ্ট চার্জিং সাইকেল রয়েছে। ফোন যতোই দামী হোক না কেন মোটামুটি ১ বছর পর থেকে ব্যাটারি পারফর্মেন্স চোখে পরার মতো খারাপ হতে শুরু করে। এর মধ্যে আপনি যদি কীভাবে স্মার্টফোন ব্যাটারি এর সঠিক যত্ন নেবেন? – এই আর্টিকেলটি এতোদিন অনুসরণ না করে থাকেন তো আপনার কপাল ভাগ্যের বাইরে!

এখনকার সব ফোনের ব্যাটারিই নন-রিমুভেবল স্টাইলে দেখতে পাওয়া যায়, সমস্যা সেখানে না, কেননা নন-রিমুভেবল ব্যাটারিও সহজেই রিপ্লেস করা যেতে পারে। কিন্তু অনেক ফোনের ব্যাটারি রিপ্লেস করা যায় না, সেক্ষেত্রে আপনাকে নতুন ফোন কিনতেই হবে।

পারফর্মেন্স

নতুন ফোন কেনার সময় ফোন বেশ ফাস্ট আর স্ন্যাপি থাকে, যেকোনো অ্যাপ বা গেম চট করে লোড হয়ে যায়। কিন্তু যেই কিনা বছরখানেক বয়স হয়ে যায় ফোনের, আর ভালো পারফর্মেন্স দেখতে পাওয়া যায়না। অ্যাপের ওপেনিং টাইম অনেক বেড়ে যায়, গেমের ফ্রেম ড্রপ করতে শুরু করে। আগের থেকে অনেক কম ট্যাব ওপেন করতেই ক্রোম স্লো হয়ে যায়। আসলে এমনটা কেন ঘটে?

ওয়েল, অ্যান্ড্রয়েড ফোনের পারফর্মেন্স খারাপ হয়ে যাওয়াটা অ্যান্ড্রয়েডের দুনিয়ায় অনেকটা বিতর্কিত ব্যাপার। অনেক টেক গীক এটা বিশ্বাস করেন যে, মূলত ইউজারদের দোষের কারণেই তাদের ফোন স্লো হয়ে যায়। আমি রিয়াল লাইফ এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করছি। আমার পরিচিত এক ছোট ভাই শরিফুল ইসলাম, ৮জিবি র‍্যাম আর ১২৮ জিবি স্টোরেজের এক ফোন কেনে। কয়েকদিন পরে শুনি তার ফোনে নাকি চার্জ থাকে না। আমারো ফোনের ব্যাটারি ৪,০০০ এমএএইচ এর আবার ওর ও একই। তারপরে জানতে পারি সে ১২৮ জিবি স্টোরেজ ফুল করার লক্ষে শতাধিক অ্যাপ ফোনে ইন্সটল করে রেখেছিল। যেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে র‍্যান হয়ে ফোনের ব্যাটারির বারোটা বাজাচ্ছিল সাথে নতুন ফোনেরই পারফর্মেন্স তেমন ছিল না যেমনটা থাকা উচিৎ!

পারফর্মেন্স

যখন আপনি ফোনে অনেক অ্যাপ ইন্সটল করে রাখেন, ফাইল সিস্টেমের ফ্রাগমেন্টেশন প্রকৃতির কারণে অ্যাপ ডাটা গুলো সম্পূর্ণ ফাইল সিস্টেমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে চলে যায়। এতে শুধু পারফর্মেন্স ড্রপই নয়, ব্যাটারি লাইফও খারাপ হয়ে যায়।

আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে, ফোনের অ্যাপ গুলোর আসল সাইজ দিনের পরে দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। ডেভেলপাররা তাদের অ্যাপে দিনের পর দিন নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করে যেগুলো বেশি রিসোর্স ডিম্যান্ড করে। আর এদিকে আপনার ফোনের রিসোর্স তো আর বাড়ছে না, তাই ফোন স্লো হতে শুরু করে।

তো আপনার ফোনটি যদি বেশ পুরাতন হয়ে থাকে; সময়ের সাথে অ্যাপ ডাটা সাইজ বৃদ্ধি, ফ্রাগ্মেন্টেড ফাইলস, ব্যাকডেটেড এপিআই ভার্সন, নতুন সফটওয়্যার হ্যান্ডেল করার জন্য পর্যাপ্ত রিসোর্স না থাকার ফলে ফোন স্লো হয়ে যায়। আর সেক্ষেত্রে নতুন ফোনে ইনভেস্ট করার সময় চলে এসেছে বন্ধু!

নতুন ফিচারের চাহিদা

ধরুন আপনার ফোনের ব্যাটারি লাইফও ভালো রয়েছে, পারফর্মেন্সও ঠিকঠাক আর অপারেটিং সিস্টেম আপডেটও পাচ্ছেন, তাহলে কেন স্মার্টফোন আপগ্রেড করবেন? ওয়েল, আপনি হয়তো লক্ষ্য করছেন নেক্সট ফোনে ওয়্যারলেস চার্জিং ফিচার যুক্ত হতে চলেছে বা নেক্সট ফোনে বডারলেস ডিসপ্লে লাগানো রয়েছে বা আন্ডার ডিসপ্লে ক্যামেরা লাগানো রয়েছে — আর আপনি যদি সত্যিই এই ফিচার গুলোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন, তবে অবশ্যই নিঃসন্দেহে নতুন ফোন কিনে ফেলুন। যদি দেখেন আর বর্তমান ফোনের সাথে নতুন ফোনের তেমন বিশেষ কোন ফিচার উন্নতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না, তবে নতুন ফোন কেনাটা বেকার হতে পারে।

ওয়্যারলেস চার্জিং

আবার এখানে আরেকটি ব্যাপার রয়েছে। ধরুন আপনার বর্তমান ফোনে ওয়্যারলেস চার্জিং নেই কিন্তু আপনি ওয়্যারলেস চার্জিং ফিচার পাওয়ার জন্যই শুধু নতুন ফোন কিনতে চাচ্ছেন কিন্তু আপনি সবসময়ই জানেন যে নতুন প্রযুক্তি উপভোগ করতে একটু বেশিই টাকা খরচ করতে হয় (আর হয়তো এই কারণেই ওয়্যারলেস চার্জিং নিয়ে আপনার বেশি উত্তেজিত হওয়া উচিৎ নয়)। আর আপনার কাছে যদি বর্তমানে পর্যাপ্ত টাকা না থাকে খরচ করার জন্য তবে আপনি কয়েক মাস অপেক্ষা করতে পারেন। কেনোনা কয়েক মাস বা ১ বছর পরে আবার নিশ্চয় নতুন প্রযুক্তি সামনে আসবে এবং পুরাতন প্রযুক্তির দাম কমে যাবে। আবার এমনটাও না, যে বর্তমান নতুন ওয়্যারলেস চার্জিং প্রযুক্তি কয়েকমাস আগের প্রযুক্তিকে সম্পূর্ণ রিপ্লেস করে দিয়েছে। হয়তো কিছু উন্নতি আনতে পারে, তবে প্রযুক্তি একই থাকবে।

সুতরাং মাত্র কয়েক মাস অপেক্ষা করে আপনার সামর্থের মধ্যে আরামে আপনার পছন্দের ফিচার মিশিয়ে একটি ফোন কিনতে পারবেন। আমি আমার পুরাতন ফোনটিকে শুধু এই কারণেই আপগ্রেড করেছিলাম যে তাতে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ছিল না, সাথে আমার গ্লাস বিল্ড ফোনের চাহিদা ছিল।

ফিজিক্যাল ড্যামেজ

আপনার বর্তমান ফোনটি ফিজিক্যালভাবে ড্যামেজ হয়ে গেলে, নতুন ফোন কেনার যুক্তি সবচাইতে বেড়ে যায়। হ্যাঁ, দুনিয়ার কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়; ভাঙ্গা ফোন স্ক্রীন, বেকে যাওয়া ফোনের ফ্রেম, বাটন উঠে যাওয়া বা কাজ করা বন্ধ করে দেওয়া, ফোনের কেসিং ভেঙ্গে যাওয়া — এগুলোর একটায় অর্থ, নতুন ফোন কেনার সময় হয়ে এসেছে।

ফোনের স্ক্রীন ভেঙ্গে গেছে

শুধু পানিতে ডুবালেই ফোন ডেড নয়, বরং হঠাৎ করেই কোন কারণ ছাড়ায় ফোনের ফ্ল্যাশ মেমরি কাজ করা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আপনার ফোনে অ্যামোলেড ডিসপ্লে থাকলে ডিসপ্লে বার্ন-ইন সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাছাড়া বাইরের আবহাওয়া, ধুলোবালি ফোনকে ফিজিক্যালভাবে ড্যামেজ করতে পারে। এখন ফিজিক্যাল ড্যামেজ থাকার পরেও অনেক ফোন ব্যবহার করার মতো কন্ডিশনে থাকে। যদি আপনার ফোন আপনার কাছে একটু বেশিই গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে হয়তো ড্যামেজ ফোন নিয়ে ঘুরে না বেরিয়ে ফোনটি আপগ্রেড করে ফেলতে পারেন, অথবা ভাঙ্গা ফোনটিও ব্যবহার করতে পারেন। এখানে আমি আপনার উপরেই ছেড়ে দিলাম!


কারণটা যেটাই হোক, প্রেমিকার সাথে রাগ করে ফোনে আছাড় মারা, কিংবা স্লো পারফর্মেন্স, ব্যাড ব্যাটারি লাইফ, কিংবা পছন্দের ফিচার না থাকা — কোন ফোনই সারাজীবন লাস্টিং করবে না, এটাই ব্যাস্তবতা। অবশ্য প্রয়োজন হলেও অনেকেরই স্মার্টফোন আপগ্রেড করার সামর্থ্য বা পরিস্থিতি থাকে না সব সময়। আর সামর্থ্য বা পরিস্থিতি সম্পূর্ণই আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার, আমি জাস্ট জানিয়ে দিলাম কিভাবে বুঝবেন, আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনটি আপগ্রেড করার সময় এসেছে কিনা!


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Images: Shutterstock.com

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।