উইন্ডোজ ৭ তো অফিসিয়ালভাবে মৃত : এখন আপনার কি করা উচিৎ?

৪০০ মিলিয়ন উইন্ডোজ ৭ ইউজারকে আপডেট থেকে বঞ্চিত করলো মাইক্রোসফট

উইন্ডোজ ৭ তো অফিসিয়ালভাবে মৃত : এখন আপনার কি করা উচিৎ?

গতকাল ছিল সেই দিন ১৪ জানুয়ারি, ২০২০; আর উইন্ডোজ ৭ এর অফিসিয়াল সাপোর্ট অবশেষে শেষ হয়েছে। এটা বর্তমানে উইন্ডোজ এক্সপির মতো এক পরিত্যাক্ত সফটওয়্যারে পরিণত হলো। তবে উইন্ডোজ ভিস্টার মতো লুক নিয়ে ২০০৯ সাথে শুরু হওয়া এই অপারেটিং সিস্টেমটি বেশ জনপ্রিয়তা কামিয়েছিল। ২০০৯ থেকে এই পর্যন্ত প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ইউজার রয়েছেন যারা উইন্ডোজ ৮/৮.১ বা উইন্ডোজ ১০ এ মুভ না করে উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করে এসেছেন।

মাইক্রোসফট ফাইনালি ৪০০ মিলিয়ন পিসি ইউজারদের সাপোর্ট থেকে বঞ্চিত করলো। কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বঞ্চিত হওয়া অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করায় ক্ষতি কি? উইন্ডোজ ৭ এর সাপোর্ট শেষ হয়ে গিয়েছে তো কি হয়েছে? অনেকেই বলবেন আমি তো জেনুইন উইন্ডোজ ৭ ইউজার ছিলামই না সাথে আপডেট তো বন্ধ করেই রেখেছি সারাজীবন, তো আমার কি সমস্যা হতে পারে?

ওয়েল, আপনার মাইল্ড সাটিস্ফেকশনের জন্য বলে রাখি, এখনো অনেক ইউজার রয়েছেন যারা উইন্ডোজ এক্সপি নিয়ে পরে রয়েছেন। এমনকি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ড ভ্লাডিমির পুতিন নিজেও এখনো উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার করেন। কিন্তু সেটা গল্পের আরেকটা অংশ! আপনি যদি আমার থেকে কোন রেকোমেন্ডেশন চান সেক্ষেত্রে আমি উইন্ডোজ ১০ এ মুভ করতে বলবো কিংবা আপনি সম্পূর্ণ আলাদা অপারেটিং সিস্টেমেও মুভ করতে পারেন।

পরিত্যাক্ত সফটওয়্যার ব্যবহার করা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। ধীরেধীরে এখন হ্যাকাররা অনেক টাইপের দুর্বলতা খুঁজে বের করতে শুরু করবে আর অ্যাটাক চালাতে শুরু করবে উইন্ডোজ ৭ এর উপরে। আপনি তখনও উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করে আসলে সহজেই সেই অ্যাটাকের কবলে পরে যেতে পারেন।

তাহলে আপনার কি করা উচিৎ? চলুন, এই ব্যাপার গুলো নিয়েই হালকার উপরে লাইট করে কিছু আলোচনা করা যাক। আপনি যদি উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করা জারিও রাখতে চান সেক্ষেত্রেও উত্তর মিলবে এই আর্টিকেল থেকে!


এখনো উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করলে

আপনি সাপোর্ট শেষ হবার পরেও উইন্ডোজ ৭ এ পরে থাকলে আপনার পিসি অফিসিয়াল সিকিউরিটি আপডেট পাবে না, মানে অনেক কিছুর উপরে দ্বায়ভার এখন আপনাকেই গ্রহণ করতে হবে। যেমন- আজাইরা যেকোনো লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে, পাইরেটেড মুভি/সফটওয়্যার ডাউনলোড করা ওয়েবসাইট গুলো থেকে দূরে থাকায় ভালো হবে। মেইল থেকে যেকোনো ফাইল হুট করে ডাউনলোড করবেন না।

যেহেতু আপনার অপারেটিং সিস্টেম কখন কোন অ্যাটাকের সম্মুখীন হতে পারে এটা নিজে জানেন না, তাই উইন্ডোজ ৭ ইন্সটল থাকা মেশিনে ব্যাংকিং অ্যাপ বা ব্যাংকিং ওয়েবসাইট লগইন করা থেকে বিরত থাকায় ভালো। আপনি যে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি ব্যবহার করছিলেন সেটা কতোদিন পর্যন্ত উইন্ডোজ ৭ সাপোর্ট প্রদান করবে সেটা দেখে নিতে হবে, আপনি কন্টিনিউভাবে উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করে গেলে অ্যান্টিভাইরাস আপনাকে আর বেশিদিন প্রটেক্ট করতে পারবে না, এখানে মেইন ওএস এর আপডেটই বন্ধ হয়ে গেছে।

উইন্ডোজ ৭ এর ডিফল্ট ফায়ারওয়াল ব্যবহার করার পাশাপাশি তৃতীয়পক্ষ অনেক ফায়ারওয়াল রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিকের উপরে একটা কন্ট্রোল থাকবে। আর হ্যাঁ, অনেকেই রয়েছেন যারা তাদের কম্পিউটারে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। তাদের খুব একটা সমস্যা হবে না, তবে কোন ইউএসবি ডিভাইজ কম্পিউটারে ইন্সার্ট করার পূর্বে সতর্ক থাকবেন, আজাইরা কোন ইউএসবি হুট করে পিসিতে ইন্সার্ট করবেন না।

সফটওয়্যার আপডেট

যেহেতু উইন্ডোজ ৭ এর নিজেরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাই অনেক সফটওয়্যার কোম্পানি তাদের সফটওয়্যার উইন্ডোজ ৭ এর জন্য ডেভেলপ করা বন্ধ করে দেবে, কেউ শীঘ্রই করবে আর কেউ কিছুটা দেরিতে। তবে অনেক WIN32 ডেক্সটপ অ্যাপ গুলো ঠিকই কাজ করবে উইন্ডোজ ৭ এর সাথে, শুধু ভিডিও এডিটর সফটওয়্যার প্রিমিয়ার প্র উইন্ডোজ ৭ এবং উইন্ডোজ ৮.১ এর উপর থেকে সাপোর্ট সরিয়ে নিয়েছে।

গুগল তাদের ক্রোম ব্রাউজারের উপরে আরো ১৮ মাসের এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট যুক্ত করেছে এবং মাইক্রোসফট ক্রোমিয়াম এজ অনির্দিষ্ট কালের জন্য উইন্ডোজ ৭ সাপোর্ট করবে। এখন আপনার কাজের কোন সফটওয়্যার যদি উইন্ডোজ ৭ সাপোর্ট করা বন্ধ করে দেয় সেক্ষেত্রে আপনাকে অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড করতে হবে কিংবা নতুন কোন অপারেটিং সিস্টেমে মুভ করতে হবে।

উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড

যেহেতু উইন্ডোজ ৭ এর দিন শেষ, তাই অনেকেই হয়তো উইন্ডোজ ১০ পিসি কেনার চিন্তা করবেন, এতে করে পুরাতন পিসি বিক্রি করে কিছু টাকাও হাতে চলে আসবে। আবার আপনার পিসিতে উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করলেও হতে পারে সেটা এখনো উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী, তাহলে কোনই কারণ নেই উইন্ডোজ ৭ নিয়ে পরে থাকার, জাস্ট উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করে ফেলতে পারেন।

এখনো কিছু ফ্রিতে উইন্ডোজ ৭ থেকে উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করা যায়, যদিও মাইক্রোসফট এই ব্যাপারে অফিসিয়ালভাবে কিছু বলে না। আপনার উইন্ডোজ ৭ যদি জেনুইন হয়ে থাকে আর সেটার কী যদি কখনোই উইন্ডোজ ১০ এর জন্য ব্যবহৃত না হয়ে থাকে আপনি ফ্রিতে উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করতে পারবেন। এখনো উইন্ডোজ ১০ ফ্রিতে বৈধভাবে পেতে আমাদের এই আর্টিকেলটি অনুসরণ করতে পারেন; এখনো যেসব উপায়ে উইন্ডোজ ১০ ফ্রি পেতে পারেন!

উইন্ডোজ ৭ এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেট

উইন্ডোজ ৭ এর সাপোর্ট শেষ হবার পরেও উইন্ডোজ ৭ প্র এবং এন্টারপ্রাইজ ইউজারদের জন্য ৩ বছরের এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট সুবিধা রয়েছে। মানে মোটামুটি ২০২৩ সাল পর্যন্ত এর সিকিউরিটি আপডেট গুলো রিলিজ করা হবে, কিন্তু আপনি এক্সট্রা টাকা পে না করলে সেটা ডাউনলোড করে অ্যাপ্লাই করে নিতে পারবেন না।

যদিও এই এক্সট্রা সময় দেওয়ার পেছনে অনেক কারণ ও রয়েছে। অনেক কোম্পানি এখনো পর্যন্ত উইন্ডোজ ৭ ব্যাবহার করে, তাদের সকল সফটওয়্যার বা কার্যক্রম সে অনুসারে সেট করা রয়েছে। আপনি হয়তো হোম কম্পিউটার কয়েক মিনিটের আলাদা অপারেটিং সিস্টেমে আপগ্রেড করে নিতে পারবেন, কিন্তু কোম্পানিদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা মোটেও সেরকম ইজি নয়।

তাদের কোম্পানিতে অনেক কম্পিউটার রয়েছে, সেগুলোকে আপগ্রেড করতে সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। বিজনেসে ডাউন টাইম মানেই অনেক টাকার লোকসান। তাছাড়া নতুন অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড করলে কর্মচারীদের নতুন করে ট্রেইনিং প্রদান করতে হবে। হ্যাঁ, আপনি আর আমি হয়তো ভাবছি এটা আবার ব্যাপার হলো? উইন্ডোজের সকল অপারেটিং সিস্টেম একই প্রায়, একটা ইউজ করলে আরেকটা আরামে ইউজ করা যেতে পারে। কিন্তু বিশ্বাস করুণ এমন অনেক লোক রয়েছে যারা মুখস্ত করে কম্পিউটার ইউজ করে, তাদের সামনে “My Computer” এর জায়গায় “This PC” হয়ে গেলেই সব কেল্লাফতেহ!

তাছাড়া অনেক সফটওয়্যার রয়েছে যেগুলো হয়তো নতুন অপারেটিং সিস্টেমে ঠিকঠাক কাজই করবে না। হতে পারে ঐ সফটওয়্যার অনেক গরিবভাবে প্রোগ্রামিং করা বা হতে পারে আদিম যুগের সফটওয়্যার যেটা নতুন অপারেটিং সিস্টেমের যোগ্য নয়। তো কাজের সফটওয়্যার ব্যবহার না করা গেলে তো কোম্পানিদের লস! তাই এসকল কথা বিবেচনা করে উইন্ডোজ ৭ এ আরো তিন বছর এক্সট্রা সাপোর্ট দেওয়া হবে।

কিন্তু এই ৩ বছরের এক্সটেন্ডেড সাপোর্ট মোটেও সস্তা নয়, আপনি কোন উইন্ডোজ এডিশন ইউজ করছেন সে অনুসারে আপনাকে প্রত্যেক বছরে ডাবল টাকা পে করতে হবে। যেমন- উইন্ডোজ ৭ প্রো এর ক্ষেত্রে প্রথম বছরে ৫০ ডলার, দ্বিতীয় বছরে ১০০ ডলার এবং তৃতীয় বছরে ২০০ ডলার পে করতে হবে এক্সটেন্ডেড সিকিউরিটি আপডেট পাওয়ার জন্য। তাছাড়া উইন্ডোজ ৭ এন্টারপ্রাইজের ক্ষেত্রে প্রথম বছর ২৫ ডলার, দ্বিতীয় বছর ৫০ ডলার এবং তৃতীয় বছরের জন্য ১০০ ডলার পে করতে হবে।

এখন একটি কোম্পানিতে তো আর একটা কম্পিউটার থাকে না, আর এই প্রাইস কিন্তু মাথাপিছু কম্পিউটার হিসেবে — তো বুঝতেই পারছেন কতোটা ব্যয়বহুল। তারপরেও মাইক্রোসফট একটি রাস্তা খোলা রেখেছে, যাতে কোম্পানি গুলো কিছুটা সময় নিয়ে হলেও নতুন অপারেটিং সিস্টেমে আপগ্রেড করতে পারে। আর এই সময়ের মধ্যে তারা পে করে পুরাতন অপারেটিং সিস্টেমেই আপডেট পেতে পারবে।

উইন্ডোজ ৭ অল্টারনেটিভ

আপনি উইন্ডোজ ৭ থেকে জাম্প করে সরাসরি যেকোনো অল্টারনেটিভ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার শুরু করতে পারেন। আপনি ম্যাকওএস ব্যবহার করা শুরু করতে পারেন। অনেকেই বলবেন, ম্যাক কম্পিউটার কেনার জন্য কিডনি বিক্রি করতে হবে, এতো টাকা কই পাবো? আসলে সব ওএস এরই কিছু সুবিধা বা অসুবিধা থাকে। ম্যাকের রিলাইবিলিটি এবং অ্যাপেলের সাপোর্ট এর দিকে খেয়াল করলে ম্যাকের দাম আমার কাছে রিজেনেবল বলেই মনে হয়। সাথে অনেক পেইড সফটওয়্যার আপনি ম্যাকের সাথে বিল্ডইন ভাবেই পেয়ে যাবেন। একটি পাঁচ বছরের পুরাতন উইন্ডোজ কম্পিউটার এবং ম্যাক কম্পিউটারের মধ্যে কম্পেয়ার করলেই বুঝে যাবেন ম্যাকের স্পেসিয়ালিটি!

তবে আপনার জন্য ফ্রি অপশনও রয়েছে। আপনি চাইলে লিনাক্সের কোন ডিস্ট্র ব্যবহার করতে শুরু করতে পারেন। এখন অনেক ল্যাপটপ নির্মাতা কোম্পানি উবুন্টুর সাথে তাদের পিসি শিপ করেন। তবে হ্যাঁ, লিনাক্স নির্ভর ওএস এ আপনাকে কম্যান্ড লাইনের সাথে পরিচিতি থাকতে হবে যেটা উইন্ডোজ ১০ এ দরকার ছিল না। কিন্তু লিনাক্স ডিস্ট্র গুলো লো কনফিগ পিসিতেও স্মুথভাবে রান করতে পারে। আপনার সুবিধার্থে এই আর্টিকেলটি পাবলিশ করেছিলাম; ট্রায় না করেই কিভাবে বেস্ট লিনাক্স ডিস্ট্রটি পছন্দ করবেন?


ওয়েল, এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ আপনার; আপনি উইন্ডোজ ৭ ব্যবহার করতেই থাকবেন, নাকি উইন্ডোজ ১০ এ আপগ্রেড করবেন, নাকি ম্যাক বা লিনাক্স ব্যবহার করতে শুরু করবেন! তবে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, আপনি যদি এখনো উইন্ডোজ ৭ নিয়েই পরে থাকেন তো সেখানে ঝুঁকি রয়েছে আর সেটার সাথে নিজেকেই ডিল করে নিতে হবে, মাইক্রোসফট কোন সাপোর্ট প্রদান করবে না!


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image: Shutterstock

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *