ব্লগিং এর কি দিন শেষ? কেন আপনার এখনি ব্লগিং শুরু করা উচিৎ?

ব্লগিং এর কি দিন শেষ? কেন আপনার এখনি ব্লগিং শুরু করা উচিৎ?

এই প্রশ্ন আমাকে তো বেশি পরিমাণে করা হয় যে, ডেডিকেটেড আর্টিকেল লিখতে বাধ্য হয়ে পরলাম। অনেকেই নতুন ব্লগ তৈরি করতে চান এবং ব্লগিং এ প্রবেশ করতে চান, কিন্তু সকলের মনেই প্রায় একটি কমন প্রশ্ন জাগে, এই ২০২০ সালে এসে ব্লগিং করা কতোটা ভালো আইডিয়া? যেখানে হয়তো ইউটিউবিং করে অনেক কম সময়ের মধ্যে অনেক বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করা সম্ভব। সবাই এখন যেকোনো প্রয়োজনে ভিডিও দেখে নেয় ইউটিউব থেকে, কে আমার ব্লগ পড়বে? আমি কি এখন ব্লগ শুরু করে সত্যিই অর্থ উপার্জন করতে পারবো?

ওয়েল, এই আর্টিকেলে আমি সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো, তবে আর্টিকেলের গভীরে যাওয়ার পূর্বে কিছু প্রশ্ন করতে চাই আপনাকে? বইয়ের দোকান কি বন্ধ হয়ে গেছে? মানুষ কি আর বই কিনছে না? নাকি আপনার পারার চা স্টল গুলো বন্ধ হয়ে গেছে? নাকি ফুলের দোকান? এগুলো জন্ম থেকেই দেখে আসছি সবাই আর এখনো কাল ধরে বেঁচে থাকবে এতে কোন সন্দেহ নেই! তাহলে কেন ভাবলেন ব্লগিং বন্ধ হয়ে যাবে? ১০ বছর আগে যতো ব্লগ ছিল অনলাইনে তার চেয়ে অনেক গুন বেশি ব্লগ এখন রয়েছে। ভিডিও কন্টেন্ট বা গ্রাফিক্যাল কন্টেন্ট গুলো অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করছে এর মানে এটা নয় ব্লগিং বিলুপ্তি পাবে!


ব্লগিং এর কি দিন শেষ?

এক কথায় উত্তর দেওয়া যাবে এই প্রশ্নের, “না!” ইন্টারনেটে যেমন আলাদা জিনিস গুলোর প্রসারণ ঘটছে ঠিক তেমনই ব্লগের ও প্রসারণ ঘটছে, অনলাইনে এতো বেশি পরিমাণে ব্লগ রয়েছে যে হঠাৎ করে এক দিনে সেগুলো হারিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আমি মানছি যে নতুন ব্লগিং শুরু করে আপনার ব্লগ সকলের নজরে দ্রুত চলে আসা সম্ভব নয়, যেখানে ইউটিউবে হয়তো ১টি ভিডিও ভাইরাল হলেই আপনি ফেমাস হয়ে যেতে পারেন। যাইহোক, ইউটিউব এক আলাদা গল্প একটা এই আর্টিকেলে আলোচনা করবো না।

দেখুন, ব্লগিং কোন কালেই দ্রুত টাকা তৈরি করার কোন পদ্ধতি ছিল না আর আজও নেই। ব্লগিং এর সাথে নিজেকে জরিয়ে ফেলার পূর্বে অবশ্যই নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে আপনি কতোটুকু ডেডিকেশন প্রদান করতে সক্ষম? এটা লম্বা সময়ের খেলা, আপনাকে সময় দিতে হবে, নিয়মিত হতে হবে, টাকার কথা বারবার চিন্তা করলে ব্লগিং এ টিকে থাকতে পারবেন না। কিন্তু সময় আসবে যখন আপনি ব্লগ থেকে অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারবেন, কিন্তু সেটাকেই মুল উদ্দেশ্য করে ব্লগিং শুরু করলে আপনি দ্রুত হতাশ হয়ে পরবেন।

এখন কথা হচ্ছে, অনলাইনে অনেক ব্লগ রয়েছে এবং প্রতিনিয়তই অনেক ব্লগ নতুন করে জন্ম নিচ্ছে কিন্তু অনেক কম ব্লগ সফলতার মুখ দেখছে। আমার নিজের চোখে দেখা অনেক উৎসাহী ব্লগার তাদের ব্লগ লেখা বাদ দিয়েছেন এবং তাদের ব্লগের এখন আর কোন অস্তিত্বই নেই। এর কিছু কারণ ও অবশ্য আমি খুঁজে পেয়েছি; মূলত খুবই লো কোয়ালিটির লেখা, বিশেষ করে বিজ্ঞাপন ফোকাস করে কন্টেন্ট তৈরি, আর টাকার কথা প্রথমে চিন্তা করে ব্লগিং এ নামা, এই কারণ গুলোর জন্যই নতুন ব্লগ গুলো কখনোই সফলতার মুখ দেখতে পায় না।

না, ব্লগিং মরে যায় নি আর ভবিষ্যতেও এটা বিলুপ্ত হবে না, আপনি যদি এখনো লিখতে ভালবাসেন তো অনেকে রয়েছে তারা পড়তে ভালবাসে! যারা নতুন ব্লগ শুরু করতে চাচ্ছেন, তাদের একটি উপদেশ দেবো; ব্লগ শুরু করার পূর্বে কিছু রিসার্চ করুন, গুগল করে দেখুন ভালো পজিশনের ব্লগ গুলো কেমন অবস্থায় রয়েছে, তারা কেমন ইনকাম করছে, তারা কি রকম কন্টেন্ট জেনারেট করছে। এতে আপনি সহজেই ধারনা পেয়ে যাবেন ব্লগিং এর দিন এখনো শেষ হয় নি আর এ থেকে মারাত্মক পরিমাণে অর্থ উপার্জন করাও সম্ভব।

ব্লগিং এক স্বাধীন জব

ছোট বেলা থেকে বাবা মা মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করতে বলতেন। পড়াশুনা করতে হবে, ভালো রেজাল্ট করতে হবে, ভালো কলেজ/ইউনিভারসিটিতে ভর্তি হতে হবে, সেখানে ভালো ডিগ্রি নিয়ে বের হয়ে আসতে পারলে কোম্পানি ভালো জব দেবে, শ্বশুর তার মেয়েকে দেবেন, ব্যাংক ক্রেডিট কার্ড দেবে, আর সহজেই বাড়ি গাড়ি কিনে ফেলে শান্তিতে বসবাস শুরু করতে পারবেন!

তো লাইফে সেট হওয়া বলতে এগুলোই বুঝতাম ঠিক ছোট বেলা থেকে। আমি হলফ করে বলতে পারি আমার অনেক পাঠকই এমনটাই ধারনা রাখেন। তবে এই ধারনাতে ভুলও কিছু নেই কিন্তু। সবাই লাইফে সেট হতে চায়, পার্মানেন্ট জব করতে চায় এবং ভালো সালারি পেতে চায়। আমার এক পরিচিত বড় ভাই রয়েছেন, যিনি ৩০-৪০ হাজার টাকার মাসিক বেতনে চাকুরী করতেন, তার লাইফ মোটামুটি স্টাবল ছিল বলতে পারেন। আমি কখনোই ভেবে দেখেনি ভালো সালারি পাওয়া জবও আপনাকে বোর করে দিতে পারে। তিনি তার জব থেকে বোর হয়ে পরেন এবং তার জব ছেড়ে দিতে বাধ্য হোন!

অনেকে জব থেকে অনেক টাকা ইনকাম করছেন, কিন্তু লাইফ এনজয় করার সময় আপনার কাছে নেই, আপনার প্রিয়তমাকে এক সন্ধ্যা সময় দিতে হিমশিম খাচ্ছেন, তো এতো টাকা দিয়ে করবেন টা কি? যদি সেটা সামান্য কোয়ালিটি টাইম কিনতে না পারেন? আবার অনেকে গরুর মতো খেটে ভালো সালারি পাচ্ছেন না, বরং বসের এই অর্ডার আর সেই অর্ডার শুনতে জীবন শেষ! আর আমাদের মধ্যে অনেকেই রয়েছেন যারা আদেশ অনুসরণ করতে পছন্দ করেন না।

তো ব্লগিং এর কি দিন শেষ? না, মোটে না, ব্লগিং আপনার জন্য রেগুলার জবের মতোই হতে পারে। আপনি যদি আমার মতো হয়ে থাকেন, প্রত্যেকদিন নিয়ম পালন করতে ঘৃণা করেন, বসের অর্ডার শুনতে পছন্দ করেন না, প্রত্যেকদিন সকালে ঘুম থেকে জাগতে বোরিং ফিল করেন তো ব্লগিং আপনার জন্য বেস্ট চয়েজ হতে পারে। এটাতে যেকোনো ফুল টাইম জব রিপ্লেস করার মতো প্রটেনশিয়াল রয়েছে। তবে আপনাকে পরিশ্রমী হতে হবে, সময় দিতে হবে, তবেই সফল হওয়া সম্ভব।

কিন্তু ব্লগিং করে আপনি অগুনতি টাকা উপার্জন করতে পারবেন, আপনাকে অন্য কারো উপরে নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না। আপনাকে বসের অর্ডার নিতে হবে না, আপনকে সকালে ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে অফিস যেতে হবে না, দেরি করলে বকা খেতে হবে না। ব্লগিং এক স্বাধীন জব, যেখানে আপনার প্যাশন শেয়ার করে ভালো জীবিকা উপার্জন করতে পারবেন!

ব্লগিং মানেই নতুন কিছু শেখা

আমাকে অনেকেই জিজ্ঞাস করেন, “ভাই আপনি এতো কিছু কিভাবে জানেন? আপনি এতো গুলো আর্টিকেল লিখেছেন এবং যেকোনো প্রশ্নের সহজ উত্তর প্রদান করে থাকেন, কিন্তু এতো কিছু কিভাবে জানা সম্ভব?” মূলত বেশিরভাগ আর্টিকেল লেখার পূর্বে আমি অনলাইন রিসার্চ করি, হাজারো জ্ঞান খুঁড়ে বের করি তারপরে সহজ পদ্ধতিতে উপস্থাপনার মাধ্যমে সেগুলো শেয়ার করার চেষ্টা করি। আগে থেকেই যে আমি সবকিছু জানি এমনটা মোটেও নয়। আমার ব্লগ পোস্ট পড়ে আপনি যেমন অনেক কিছু নতুন জানতে পারেন, ব্লগটি লেখার সময় আমিও অনেক কিছু নতুন নতুন শিখতে পারি।

আমি যদি ব্লগিং না করতাম, আমি হলফ করে বলতে পারি, আমার টেকনিক্যাল জ্ঞান কখনোই এতো শক্তিশালী হতো না। আপনি হয়ত বিশাল ইউনিভার্সিটি থেকে ডিগ্রি লাভ করেছেন, কিন্তু সবকিছু হয়তো মুখস্ত করে, জানার উদ্দেশ্যে হয়তো কিছুই পড়ে আসেন নি, যেটা অনেকেই করেও না। কিন্তু ব্লগিং এর আলাদা জিনিস এখানে জানতেই হবে, তবেই সইবার প্রশ্ন গুলোর সহজ উত্তর প্রদান করা সম্ভব হবে। আর বিশ্বাস করুন, আমার জানা নেই এর থেকে ভালো প্ল্যাটফর্ম আর দুনিয়ায় অন্য কোথাও সম্ভবও কিনা!

আমি হয়তো স্বেচ্ছায় কখনো সায়েন্স বা টেকনোলজি নিয়ে এতো কিছু জানার প্রয়োজন বোধ করতাম না, কিন্তু ভালো ব্লগ পোস্ট তৈরি করার জন্য আমাকে জোর পূর্বক অনেক বই এবং আর্টিকেল পড়তে হয়। ইউটিউবে বা অনলাইন থেকে অনেক এডুকেশনাল ভিডিও দেখতে হয়, মানে আমাকে নিয়মিত জ্ঞান চর্চার মধ্যে থাকতে হয়। মাত্র ৫-৬ বছর আগেও আমি ইউটিউব শুধু বিনোদনের জন্য ব্যবহার করতাম।

আপনার ল্যাপটপই আপনার অফিস

আগেই বলেছি, ব্লগিং যেকোনো রেগুলার জবকে রিপ্লেস করতে পারে। ব্লগিং আপনাকে স্বাধীনতা প্রদান করে দুনিয়ার যেকোনো প্রান্ত থেকে কাজ করার। আপনি অসুস্থ বা বাসা থেকে বের হতে পারছেন না? ওয়েল, তার দরকার ও নেই, আপনার ল্যাপটপই আপনার অফিস, জাস্ট বুট করুন আর লিখতে শুরু হয়ে যান!

আপনার পরিবারকে বেশি সময় দিতে চান? নিজের লাইফ নিজের মতো করে বাঁচতে চান? ওয়েল, ব্লগিং থেকে সহজেই এগুলো সম্ভব। আপনি নিজেই ঠিক করতে পারবেন, কোথা থেকে আর কখন আপনার আপনার কাজ করবেন। একজন ব্লগার হিসেবে আপনাকে প্যাশনেট হতে হবে, ক্রিয়েটিভ হতে হবে, তাহলে আপনি কক্সবাজারে বসে থেকে লিখছেন নাকি ঘরে খাটের উপরে বসে, এতে কোনই যায় আসবে না!

খুব ভালো উপার্জন

অনেকেই চিন্তা করে ব্লগিং এখন মৃত, তাই তারা অনলাইন থেকে ভালো উপার্জন করার আলাদা আলাদা পদ্ধতি গুলো খুঁজে বেড়ায়। আপনাকে যতো বড় ব্যাক্তিই বলুক না কেন বাট ব্লগিং এখনো ডেড হয়নি আর এ থেকে বড় পরিমাণে অর্থ উপার্জন করা অসম্ভব কিছু নয়। শুধু একটায় কন্ডিশন, আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে আর হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

তবে ব্লগিং দ্রুত টাকা তৈরি করার কোন পদ্ধতি নয়, আপনি আজকে ব্লগিং শুরু করলেন আর কাল থেকেই অনেক টাকা উপার্জন ও শুরু হয়ে যাবে, এমন স্টাইলে ব্লগিং কাজ করে না। প্রথমে আপনাকে ব্লগ তৈরি করতে হবে, নিয়মিত কন্টেন্ট লিখতে হবে, বিশ্বাস অর্জন করতে হবে তারপরে উপার্জন শুরু হবে। এখন এটা কেউই বলতে পারবে না ঠিক কখন থেকে আপনি ভালো উপার্জন শুরু করতে পারবেন। কারো ১ বছর লাগে কারো ৫-৭ বছর ও লাগতে পারে। এটা নির্ভর করে আপনার নির্বাচন করার নিস এবং পাঠক চাহিদার উপরে।

কিন্তু যখন আপনার কন্টেন্ট থেকে পাঠক ভাল্যু খুঁজে পেতে শুরু করবে, আপনি টাকা উপার্জন করতেও শুরু করবেন। ব্লগিং আপনার প্যাসিভ ইনকাম মেশিনে তৈরি হবে। আপনি রাতে যখন ঘুমাবেন, আপনার ব্লগ আপনার জন্য টাকা ছাপিয়েই যাবে। এমনটা নয় আলাদা জবের মতো আপনাকে কাজ করতেই থাকতে হবে না হলে টাকা উপার্জন হবে না। আপনি ছুটিতে গেলে আপনার ব্লগ টাকা উপার্জন করবে। ব্লগ থেকে নানান ভাবে প্যাসিভ ইনকাম করা যেতে পারে। যেমন- ব্লগ কন্টেন্ট মনিটাইজেশন করিয়ে, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে, রিভিউ লিখে, স্পন্সরড পোস্ট তৈরি করে, এবং আরো নানান পদ্ধতি রয়েছে।

ব্লগিং শুরু করা মোটেও কঠিন কিছু নয়

ব্লগিং এ ৫-৬ বছর হয়ে আসলো, আর এই সময়ের মধ্যে অনেকর অনেক কোথা শুনেছি। অনেকের তাদের জবের সাথে ব্লগিং কে তুলনা করবে, বলবে তারা কাস্টমার বা আলাদা কোম্পানির জন্য প্রডাক্ট তৈরি করে আর সেগুলো থেকে সালারি পায়। অপরদিকে ব্লগিং করা মানে বেলুনে হাওয়া ভরিয়ে নিয়ে বসে থাকা আর অপেক্ষা করা কে এসে সেই হাওয়া কিনবে তারপরে টাকা খুঁজে পাওয়া। আমাদের দেশের বাবা মা, এমন কি আপনার প্রেমিকার বাবা মা ও এই পেশাকে খুব একটা ভালো নজরে দেখে না, যতক্ষণ আপনি ভালো অর্থ উপার্জন না শুরু করবেন। ভালো অর্থ উপার্জন করার পরেও তাদের মনে নতুন চিন্তা শুরু হবে, কতোদিন গুলো লাস্টিং করবে?

কিন্তু তারা এটা ভেবে দেখে না, এখানে আপনিই আপনার নিজস্ব বস, আপনি স্বাধীন, বিরাট অর্থ ইনভেস্ট না করেই আপনি ভালো উপার্জন করছেন, আপনি লাখো মানুষকে প্রতিনিয়ত সাহায্য করছেন। কোঁটি টাকার বিজনেস নিমিয়েই ডুবে যেতে পারে, বা ভালো সালারি পাওয়া চাকুরী চলে যেতে পারে, আর সরকারি চাকুরীর জন্য বাবা মা ৫০ লাখ টাকা ঘুস দিতেও রাজি কিন্তু আপনি ব্লগিং করছেন তাদের থেকে যে মেন্টাল সাপোর্ট আশা করবেন শুধু, সেটাও পাবেন না!

যাইহোক, এই ব্যাপার গুলো নিয়ে আমার বেশি কিছু বলার নেই, কিন্তু আপনি যদি কোন আইটি কোম্পানিতে জব বনাম ব্লগিং এর মধ্যে তুলনা করেন ব্লগিং অনেক বেশি সহজ। আপনার ওয়েবসাইট মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটআপ করতে পারবেন। আর ব্লগিং? ওয়েল, আপনার দাদিও ব্লগিং শুরু করতে পারবেন, হ্যাঁ, ব্লগিং এতোটাই সহজ। যারা ব্লগিংকে বিশাল এক আর্ট বলে মনে করেন আর মারাত্মক কবি হওয়া ছাড়া ব্লগিং করতে পারবেন না এমন মনে করা অধিকাংশ ব্যাক্তিই ফেল মারেন।

বিশ্বাস করুন, ব্লগিং এতোটাই সহজ জিনিস, আপনি যদি লিখতে ভালবাসেন তো ব্লগিং অনলাইনের সকল কাজের মধ্যে সবচাইতে সহজ জিনিস। যেটা করে লাখো মানুষকে সাহায্য আর নিজে ধনী হয়ে যেতে পারেন। আপনি যদি অলরেডি হার্ড ওয়ার্কিং পারসন হয়ে থাকেন, ব্লগিং থেকে সম্ভবনার কোন শেষ নেই আপানর জন্য!


তো আশা করি উত্তরটি এখন পরিষ্কার, না ব্লগিং মরে গেছে আর নাইবা ভবিষ্যতে এটা হঠাৎ হারিয়েও যাবে। আপনি যা করছেন তাতে যদি ভালবাসা খুঁজে পান, মানুষের সমস্যার সমাধান করে যদি আনন্দ উনুভুত হয়, আর কঠোর পরিশ্রম যদি একমাত্র মুল মন্ত্র হয়, সেক্ষেত্রে আপনাকে না ব্লগ নিয়ে চিন্তা করতে হবে আর নাইবা ব্লগ থেকে টাকা উপার্জন নিয়ে চিন্তা করতে হবে। আপনার পিউর প্যাশনকে কাজে লাগান, ব্লগ লিখতে থাকুন, আর একদিন আপনিও আপনার সফলতার গল্প শুনিয়ে অন্যকে মোটিভেটেড করতে পারবেন!


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image: Shutterstock

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

16 Comments

      1. তাহমিদ বোরহান Post author Reply

        এখন সময় খুব কম দেয়, আলাদা কিছু কাজে ব্যাস্ত থাকতে হয়, তবে আশা করা যায় এখন থেকে বেশ সময় দেবো। আসলে লিখতে খুব বেশি সময় লাগে না, সময় লাগে ভালো টপিক নির্বাচন করতে আর সম্পূর্ণ বিষয়কে সহজ করে লিখতে!

  1. SOYEB Reply

    এবছরের জন্য আপাতত এটাই সেরা অর্টিকেল। আমি ব্লগার দ্বারা রিভিউ সম্পর্কিত(App Review, Game Review, Phone Review) ওয়েবসাইট নিয়ে এগুচ্ছি, দয়া করে জানাবেন কি বর্তমানে এটার গুরুত্ব কেমন। একাধিক টপিক ধরা ঠিক হচ্ছে নাকি একটা ধরতে হবে।

  2. Rayhan Reply

    ভাই আপনার লাস্ট কিছু কন্টেন্ট এত বেশি পিউর হচ্ছে কমেন্ট না করে ফেলে রাখা যায় না। ব্লগিং হয় তো ইজি। কিন্তু আপনি যেভাবে লিখেন সেটাকে আমি আর্টই বলবো বৈকি। নির্দিষ্ট ভাবেই দেখা যাচ্ছে আপনার অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে লেখায়।

    আমি জানি না এটা ব্লগিং র গুন কিনা, কিন্তু আপনি অনেক জ্ঞানী একজিন ব্যক্তি। সহজ করে মস্তিষ্কে ঢুকাতে আপনি বেশ পটু।

  3. তাহমিদ বোরহান Post author Reply

    ব্লগিং প্রথম বুঝছি ২০১১ সালের দিকে, টেকটিউন্স এর হাত ধরে প্রথম ব্লগিং শুরু করি! তারপর থেকে হাজারো লম্বা লম্বা আর্টিকেল লিখেই আসছি নানান ভাষায়! পূর্বে ২০০৮-৯ এর দিকে মোবাইল দিয়ে ওয়াপকা আর ওয়েনরু আর এক্সটিজেম দিয়ে ওয়াপ সাইট বানানোর চেষ্টা করেছি। তারপরে প্রথম ২০০৯ এ ব্লগারে ব্লগ বানাই। কিন্তু দুঃখের বিষয় আরো দশ পাঁচ জনের মতো ডাউনলোড ছাড়া তেমন কিছু বুঝতাম না তাই ডাউনলোড সাইটই বানিয়েছিলাম 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *