সফটওয়্যার পাইরেসি কি? আপনি ও চুরি করা সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন না তো?

সফটওয়্যার পাইরেসি কি? আপনি ও চুরি করা সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন না তো?

এই আর্টিকেল লিখতে বসে ছোট বেলার কথা মনে পরে গেলো! ২০০৯ সালের দিকে এক বন্ধু এসে বলল, “জানিস আসল উইন্ডোজ এক্সপি কিনতে ৮ হাজার টাকা লাগে?” আমি শুনে তো আকাশ থেকে পরলাম! বেটায় কয় কি? সস্তা নেশা করে এসেছে নাকি? আরে ডিভিডি এর দোকান থেকে ৩০ টাকায় উইন্ডোজ এক্সপি কিনতে পাওয়া যায়, আসল উইন্ডোজ এর দাম ৫০০ টাকা বললে তাও মেনে নেওয়া যেতো কিন্তু তাই বলে ৮ হাজার?

যাইহোক, আমরা অনেকেই জানি না, সফটওয়্যার পাইরেসি কি জিনিস? আপনি পিসিতে ডকুমেন্ট এডিটর, ফটো এডিটর, ভিডিও এডিটর বা উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমই হয়তো ফ্রিতে ব্যবহার করেন, আর আপনি হয়তো জানেন ও না এগুলো আসল সফটওয়্যার কিনা! সফটওয়্যার পাইরেসি বলতে বুঝায়, আসল এবং লিগ্যালি প্রটেক্টেড সফটওয়্যারকে চুরি করে বা কোন ভাবে বাইপাস করে ফ্রিতে ব্যবহার করা। তো আপনি যে সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করছেন সেগুলো বৈধ তো? কিভাবে বুঝবেন আপনার সফটওয়্যারটি পাইরেটেড কিনা? আপনার কেন এতে যায় আসতে পারে? চলুন সবকিছু নিয়ে হালকার উপরে লাইট করে আলোচনা করা যাক…


সফটওয়্যার পাইরেসি

ছোট বেলায় শুধু সফটওয়্যারের ডিভিডি না এভাবে ৩০-৫০ টাকায় কতো গেমের ও ডিভিডি কিনে গেম খেলেছি তার ঠিক নেই। আর আমি জানতাম ও না এগুলো চুরি করা সফটওয়্যার বা গেমস। সফটওয়্যার পাইরেসিকে এভাবে অনেকে জেনে বা না জেনে প্রোমোট করে থাকে। কোন কপিরাইটেড সফটওয়্যার চুরি করে ব্যবহার করা বা ছড়িয়ে দেওয়াকে সফটওয়্যার পাইরেসি বলা হয়ে থাকে। এমনকি আপনি সফটওয়্যার যদি টাকা দিয়েই কিনে থাকেন সেটা আরেকজনকে কপি করে দেওয়া পাইরেসির মধ্যেই পরে। কেননা পার্সোনাল লাইসেন্স শুধু ১টি বা লিমিটেড ইউজাদের জন্য, একে কপি বা ছড়ানো যাবে না, সকলকে ব্যবহার করতে হলে আলাদা লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।

তবে সকল সফটওয়্যার পাইরেসি কিন্তু সরাসরি টাকা ইনকাম করার জন্য হয় না, এতে ম্যালিসিয়াস ব্যাপার যুক্ত থাকতে পারে। কোন হ্যাকার অনেকের পিসি আক্রান্ত করানোর জন্য পেইড সফটওয়্যার মডিফাই করে ফ্রিতে ছড়িয়ে দেয়, এতে সহজেই মানুষ ফ্রি সফটওয়্যার বলে টোপ গেলে আর ম্যালওয়্যারের খপ্পরে পরতে হয়।

আবার ধরুন, আপনার দুইটি কম্পিউটার রয়েছে, আপনি একটার জন্য সত্যিই টাকা দিয়ে কোন সফটওয়্যার কিনেছেন আর বাকিটাতেও সেই সফটওয়্যার ইন্সটল করেছেন। এখন যদিও আপনি পার্সোনাল ব্যবহার করছেন এবং আপনার সফটওয়্যার লাইসেন্স যদি সিঙ্গেল পিসির জন্য হয়ে থাকেন তো ইয়েস, এখানে আপনি পাইরেসিই করছেন! আশা করি সফটওয়্যার পাইরেসির সংজ্ঞা বুঝতে পেরেছেন।

আপনি পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করছেন না তো?

অনেকেই এর উত্তর আগে থেকেই জানেন, অনেকেই জেনে বুঝে ফ্রি উইন্ডোজ ব্যবহার করেন, ফ্রি এডোবি সফটওয়্যার বা মাইক্রোসফট সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করেন। বিশেষ করে আমাদের মতো অনুন্নত দেশ গুলো, যেগুলোতে কম্পিউটার কিনতেই মানুষ হিমশিম খেয়ে যায় সেখানে হাজার ডলারের সফটওয়্যার কেনার কথা হয়তো কেউ কল্পনায় করেন না। তো তাদের কথা আলাদা, তারা জেনে বুঝেই হয়তো নিরুপাই হয়ে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। আর আমি এটাকে সমর্থন না করলেও তাদের বিচার করতে বসিনি।

কিন্তু আপনি টাকা দিয়ে সফটওয়্যার কেনার পরেও হতে পারে আপনার সফটওয়্যারটি পাইরেটেড ভার্সন। সেক্ষেত্রে কিভাবে বুঝবেন আপনার সফটওয়্যারটি আসল কিনা? ওয়েল, কিছু ব্যাপার মাথায় রাখলে এটা বুঝতে সুবিধা হতে পারে।

আসল সফটওয়্যার পাওয়ার জন্য সব সময় আসল ডেভেলপারের ওয়েবসাইট থেকে কেনার চেষ্টা করবেন, এতে আসল সফটওয়্যার পাওয়ার সুযোগ বেশি থাকবে। আপনি কোন অনলাইন শপ থেকে অনেক কম দামে কোন সফটওয়্যার কিনলে হতে পারে সেটা পাইরেটেড কপি! দামের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য থাকলে বেশিরভাগ সুযোগই হচ্ছে সেটা পাইরেটেড কপি। যেমন আপনি ইবেই তে ১ ডলার দিলেও উইন্ডোজের লাইসেন্স কী কিনতে পাবেন, কিন্তু সেটা কি আসল?

বেশিরভাগ সফটওয়্যার কেনার পরে সেটাকে অ্যাক্টিভ করার দরকার পরে। কিন্তু কোন সফটওয়্যার কেনার পরে সেটার অ্যাক্টিভেশন প্রসেস যদি অনেক লম্বা হয়ে থাকে তাহলে বুঝবেন সফটওয়্যারটি হয়তো পাইরেটেড, আর আপনি হয়তো অ্যাক্টিভ না করে তলে তলে অ্যাক্টিভেশন প্রসেস বাইপাস করছেন!

আসল সফটওয়্যার অবশ্যই নিয়মিত আপডেট প্রদান করে, এবং বেশিরভাগ কেনা সফটওয়্যার ফ্রিতে আপডেট প্রদান করে। আপনার কেনা সফটওয়্যারটি যদি আপডেট না চায় বা আপডেট করার পরে সফটওয়্যারটি আবার কিনতে বলে সেক্ষেত্রে সফটওয়্যারটি পাইরেটেড হওয়ার আসঙ্খা বেশি!

পাইরেটেড সফটওয়্যার কেন ক্ষতিকর?

অনেকেই বলবেন, “আমাকে পাগলে কামড়িয়েছে যে আমি টাকা দিয়ে সফটওয়্যার কিনে ব্যাবহার করবো, যেখানে অনলাইনে ফ্রি ডাউনলোড করা যায়!” দেখুন আপনার যদি সত্যিই সামর্থ্য না থাকে সেটা সম্পূর্ণ আলাদা গল্প, কিন্তু পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে আপনি যে বিশাল লাভের মধ্যে রয়েছেন এমনটা ভাবলে ভুল করছেন!

বেশিরভাগ পাইরেটেড সফটওয়্যারের মধ্যে ম্যালওয়্যার এবং হ্যাকিং টুল লুকানো থাকে। একবার কমন সেন্স ব্যবহার করে দেখুন, কেউ আপনার জন্য কষ্ট করে কেন সফটওয়্যার ক্র্যাক করবে? তারপরে আপনাকে কেন ফ্রিতে ডাউনলোড করতে দেবে? ওয়েল, ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করিয়ে তারা টাকা ইনকাম করতে পারে এটা একটা কারণ, কিন্তু বেশিরভাগ সময় তাদের টার্গেট আরো বড় হয়। কেননা সেই সফটওয়্যার গুলো মডিফাই করে সহজেই আপনার থেকে অনেক কিছু হাতিয়ে নেওয়া সম্ভব। একই জায়গায় যদি একটি ১০ টাকার নোট আরেকটা ১০০ টাকার নোট পরে থাকে আপনি কোনটা ছেড়ে কোনটা তুলবেন? অবশ্যই ১০০ টাকার নোট, রাইট? তো তারাও সেম কাজ করে, আপনার পিসিকে একবার আক্রান্ত করাতে পারলে শুধু লাভই লাভ! আর এভাবে পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করার ফলে লাখো কোঁটি কম্পিউটার আক্রান্ত হচ্ছে!

অপরদিকে পাইরেটেড সফটওয়্যার আপডেট হয় না, মানে বেশিরভাগ পাইরেটেড সফটওয়্যারই আপডেট হয় না বা হওয়ার পরে কাজ করে না। আর ব্যাকডেটেড সফটওয়্যার আপনার সিস্টেমের জন্য অনেক ঝুঁকি খুলে দেয়!

আপনি হয়তো ইন্ডিভিজুয়াল পারসন, আর সফটওয়্যার কোম্পানি হয়তো জানার পরেও আপনাকে কিছু বলছে না পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করার জন্য। কিন্তু আপনার যদি কোন কোম্পানি থাকে আর সেখানে যদি পাইরেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, আপনি আসল বিপদে পরতে পারেন। এতে আপনাকে মোটা অংকের জরিমানা এবং জেল ও যেতে হতে পারে।


সফটওয়্যার পাইরেসি অবৈধ জিনিস, বিশ্বাস করবেন কিনা জানি না, বাট সফটওয়্যার পাইরেসি করবো না দেখে লিনাক্স নির্ভর অপারেটিং সিস্টেম আর ওপেন সোর্স ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করি। হ্যাঁ, প্রত্যেক প্রকারের কাজের জন্য ফ্রি সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেম পাওয়া যাবে না, আর বিজনেসের জন্য পেইড টুলস টাকা দিয়ে কিনে ব্যবহার করায় উচিৎ! আপনি সফটওয়্যার পাইরেসি করবেন কিনা সেটা আপনার ব্যাপার, কিন্তু আমি এ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি, সত্যি বলতে এটা অবৈধ সেটাকে কেন্দ্র বানিয়ে নয়, বরং এটা অনিরাপদ ও বটে!


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image: Shutterstock

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।