ওয়েব হোস্টিং কিভাবে সাইটের স্পীডের উপরে প্রভাব ফেলতে পারে?

ওয়েব হোস্টিং কিভাবে সাইটের স্পীডের উপরে প্রভাব ফেলতে পারে?

প্রযুক্তি অনেক দ্রুত গতিতে সামনের দিকে এগোচ্ছে, আর এই দ্রুত বর্ধমান প্রযুক্তিতে সবার সবকিছু দ্রুত লোড হওয়া চাই! কেউই স্লো ওয়েবসাইট পছন্দ করে না, লিঙ্কে ক্লিক করে যদি মিনিটের পরে মিনিট ধরে বসে থাকতে হয় সেক্ষেত্রে বেশিরভাগ ইউজারই ওয়েবসাইটটি ক্লোজ করে আলাদা সাইটে চলে যাবে, ঠিক আমি নিজে এমনটাই করি! অপরদিকে যে ওয়েবপেজ গুলো দ্রুত লোড হয়, সেগুলো বেশি এঙ্গেইজমেন্ট প্রদান করে, বেশি কনভারসেশন পাওয়া যায়, এবং সেল অনেক বেড়ে যায়! সাথে ফাস্ট লোডিং ওয়েবসাইট গুলোকে সার্চ ইঞ্জিন বেটার র‍্যাঙ্কিং প্রদান করে, মানে সাইট লোডিং স্পীড এর উপরে SEO এর বিরাট প্রভাব রয়েছে!

আমি পূর্বেও ওয়েবসাইট অপটিমাইজেশন করে ওয়েব পেজের লোডিং স্পীড বাড়ানোর উপরে বিস্তারিত আর্টিকেল লিখেছি। কোন ওয়েব পেজ ফাস্ট লোডিং তৈরি করার পেছনে জাস্ট ১টি বা ২টি ফ্যাক্ট নির্ভর করে না। সব অপটিমাইজেশন ট্রিক্স ঠিক থাকার পরেও ওয়েব হোস্টিং এর জন্য আপনার সাইট স্লো হতে পারে। পূর্বের আর্টিকেলে বলেছিলাম, “যদিও পেজ লোডিং স্পিড বাড়াতে হোস্টিং খুব বেশি কিছু নয়, তারপরেও হোস্টিং আবার অনেক কিছুই!” তো সেখানে আলোচনা করেছিলাম কেন ওয়েব হোস্টিং এ একমাত্র জিনিস নয় যখন সাইট স্পীড নিয়ে চিন্তা করবেন। কিন্তু এখানে আলোচনা করবো, ওয়েব হোস্টিং কিভাবে সাইটের স্পীডের উপরে প্রভাব ফেলতে পারে?


দ্রুত ওয়েবপেজ লোড করাতে হোস্টিং কিভাবে ভূমিকা পালন করে?

আপনার ওয়েব সাইটকে ইউজারের ব্রাউজার পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়াতে ওয়েব হোস্টিংই মুক্ষম ভূমিকা পালন করে থাকে! যখন ইউজার তার ব্রাউজার থেকে আপনার ওয়েবসাইটটি লোড করার চেষ্টা করে, ব্রাউজার সেই রিকোয়েস্টটি আপনার ওয়েব হোস্টিং এর পাঠিয়ে দেয় আর সবকিছু ঠিক থাকলে ওয়েব সার্ভার ব্রাউজারের কাছে কাঙ্ক্ষিত পেজটি রিপ্লাই করে। এখন ওয়েব সার্ভার যতোদ্রুত পেজটি পাঠিয়ে দিতে সক্ষম হবে ওয়েব পেজটিকে ততো দ্রুত ব্রাউজার লোড করতেও সুবিধা পাবে। আরো বিস্তারিত জানতে এই আর্টিকেল পড়ুন; ওয়েব সার্ভার কিভাবে কাজ করে?

এখানে আলাদা আলাদা টেকনোলজিতে তৈরি করা ওয়েবসাইট গুলোর জন্য আলাদা আলাদা হোস্টিং সলিউশন প্রয়োজনীয়। সকল প্রকারের ওয়েবসাইট গুলো কিন্তু একই টাইপের হোস্টিং এ ভালো রান করে না। যেমন ধরুন। আপনার ওয়েবসাইট স্ট্যাটিক মানে জাস্ট HTML পেজ দ্বারা তৈরি করা, সেক্ষেত্রে যেকোনো সার্ভারলেস হোস্টিং এ আপনার সাইট রান করানো যেতে পারে। এক্ষেত্রে আপনার প্রয়োজনীয় হবে ভালো ডিস্ক স্পীডের এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যান্ডউইথ সাপোর্ট যাতে বেশি ভিজিটরকে একসাথে পেজ করানো যেতে পারে!

আবারো অনেক ওয়েবসাইট ডাইন্যামিক প্রকৃতির হয়ে থাকে, সে সাইট গুলো ওয়েব পেজ জেনারেট করানোর জন্য সফটওয়্যার ব্যবহার করে যেমন ওয়ার্ডপ্রেস সাইট! এই টাইপের সাইটের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা ওয়েব হোস্টিং প্রয়োজনীয় হয় কেননা এখানে কম্পিউটিং এর ব্যাপার চলে আসে!

কোন প্রকার সাইটের জন্য হোস্টিং এর কি কি দেখতে হবে?

এরমানে আপনার সাইটের প্রকারের উপরে নির্ভর করে আপনাকে হোস্টিং প্ল্যান পছন্দ করতে হবে। এক কথায় বলতে হোস্টিং এর প্রতি বেশি খরচ করে এবং সঠিক হোস্টিং নির্বাচন করে আপনার ওয়েবসাইটকে ইনস্ট্যান্ট ফাস্ট করা যেতে পারে!

  • দ্রুত ডিস্ক স্পীড : আপনার ওয়েবসাইট স্ট্যাটিক হোক অথবা ডাইন্যামিক, দ্রুত পেজ সার্ভ করার ক্ষেত্রে ট্র্যাডিশনাল হার্ড ড্রাইভ হতে সলিড স্টেট ড্রাইভ (এসএসডি) অনেক বেশি দ্রুতগতির হয়ে থাকে। আপনি যদি আপনার পিসিতে সলিড স্টেট ড্রাইভ ব্যবহার করে থাকেন সেক্ষেত্রে পার্থক্যটা হয়তো নিজেই জানবেন! তো ওয়েব হোস্টিং এর ক্ষেত্রে অবশ্যই যে হোস্টিং প্ল্যান এসএসডি অফার করে সেটাই পারচেজ করা উচিৎ হবে!
  • ডেডিকেটেড রিসোর্স : এখন এটা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর, আপনার হোস্টিং কোম্পানি হয়তো কম টাকায় অসম্ভব পরিমাণে রিসোর্স আপনাকে প্রদান করছে, আবার একই দিকে আলাদা হোস্টিং কোম্পানি একই পরিমাণ রিসোর্সের জন্য ৩-৪ গুন বেশি চার্জ করছে, তো আপনি তো সস্তায় বেশি রিসোর্স দেওয়া হোস্টিং এর দিকেই এগোবেন তাই না? ওয়েল, যারা কম টাকায় বেশি রিসোর্স দেয় তাদের বেশিরভাগ কোম্পানিই ওভার সেলিং করে, মানে হচ্ছে আপনার রিসোর্স গুলো আরেক ইউজারের সাথে শেয়ারড হয়ে রয়েছে। আপনার ডিস্ক স্পেস অন্যের সাথে ভাগাভাগি করা রয়েছে, আপনার ভার্চুয়াল সার্ভারের র‍্যাম, সিপিইউ আরো ইউজার একসাথে ব্যবহার করছে, ওয়েব হোস্টিং কোম্পানি তাদের বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করে আপনাকে সেটা বুঝতে দেয় না, কিন্তু আপনার রিসোর্স গুলো ডেডিকেটেড নয়। এতে লভনীয় পরিমাণে রিসোর্স থাকার পরেও আপনার সাইট স্লো কাজ করে। তাই বেশি রিসোর্স কম টাকায় দিচ্ছে এটা দেখেই সাথে সাথে কিনে ফেলা যাবে না, ডেডিকেটেড রিসোর্স প্রয়োজনীয়!
  • বেশি রিসোর্স : আপনার সাইটের যদি বেশি ট্র্যাফিক আসে সেক্ষেত্রে আপনাকে বেশি রিসোর্সের ওয়েব হোস্টিং প্ল্যান কিনতে হবে। আপনি যতোবেশি ট্র্যাফিক হ্যান্ডেল করার চেষ্টা করবেন, আপনার ততোবেশি সার্ভার রিসোর্স প্রয়োজনীয় হবে।

ফাস্ট ওয়েব হোস্টিং ফাস্ট পেজ লোডিং এ সাহায্য করে!

ফাস্ট ওয়েব হোস্টিং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস, আপনি হাজারো অপটিমাইজেশন করেও সাইট ফাস্ট লোডিং করাতে পারবেন না যদি আপনার ওয়েব হোস্টিং যথেষ্ট ফাস্ট না হয়। বিশেষ করে আপনার সাইটে যদি অনেক ইলিমেন্ট থাকে এবং ভিজিটর অনেক বেশি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে হোস্টিং প্ল্যান আপগ্রেড করার মাধ্যমে স্পীডে ইনস্ট্যান্ট পার্থক্য বুঝতে পারবেন। অনেক সময় সাইট এই জন্যও স্লো কাজ করতে পারে, কেননা একত্রে অনেক ভিজিটর সাইট ব্রাউজ করছে।

আপনাকে ওয়েবসাইট অপটিমাইজ করতেই হবে, নানান টেকনিক ব্যবহার করতে হবে ক্যাশিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু ওয়েব পেজ অপটিমাইজেশনই প্রথম ও এক মাত্র জিনিস নয়। আপনাকে অনেক কিছু ক্রস চেক করতে হবে। আর এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চেক হচ্ছে আপনার ওয়েব হোস্টিং প্ল্যান নিজেই যথেষ্ট ফাস্ট তো?

আবার শুধু ফাস্ট ওয়েব হোস্টিং বা অপ্টিমাইজড পেজই সবকিছু নয়, আপনার সাইটে যদি অনেক ইমেজ থাকে, বিশেষ করে ই-কমার্স সাইট সেক্ষেত্রে সিডিএন ব্যবহার করতে হবে, এতে সাইটের স্পীড টাইমে উন্নতি দেখতে পাওয়া যাবে। তাছাড়া আপনার সাইটের ভিজিটরের লোকেশনের উপরে ভিত্তি করে কাছের ডাটা সেন্টারে সাইট হোস্ট করতে হবে, এতে লোডিং টাইমে উন্নতি পাওয়া সম্ভব!



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image: Shutterstock

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।