ই-সিম কি? স্ট্যান্ডার্ড সিম কার্ড থেকে এটা কতোটা ভালো?

ই-সিম কি? স্ট্যান্ডার্ড সিম কার্ড থেকে এটা কতোটা ভালো?

আপনি লেটেস্ট আইফোন বা পিক্সেল ডিভাইজ ব্যবহার করে থাকলে ফোনের মধ্যে একটি অপশন থাকে, যেটার সম্পর্কে হয়তো আপনি বেশি জানেন না — ই-সিম (eSIM) — এই ই-সিম হচ্ছে ট্র্যাডিশনাল সিম কার্ডের স্মার্ট ভার্সন যেটা ডিভাইজের মাদারবোর্ডে আগে থেকেই লাগানো থাকে, যেমন আপনার ফোনের মধ্যে এনএফসি চিপ লাগানো থাকে। খুব দ্রুতই এই টাইপের প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে আর মিড রেঞ্জ ফোন গুলোতেও হয়তো ই-সিম সাপোর্ট দেখতে পাওয়া যাবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ইসিম কিভাবে কাজ করে? এটা কতোটা ভালো? এর সুবিধ ও অসুবিধা গুলো কি কি? চলুন, সবকিছু নিয়ে আলোচনা করা যাক, আর হ্যাঁ যারা এখনো সিম কার্ড কিভাবে কাজ করে, জানেন না, আগে সেটাই পড়ে নিন!

ই-সিম কি

ই-সিম এর টেকনিক্যাল পূর্ণ ফর্মটি হচ্ছে এম্বেডেড সিম কার্ড (embedded SIM) — আপনার ফোনে থাকা ট্র্যাডিশনাল সিম কার্ডটি যেভাবে এবং যে প্রযুক্তিতে কাজ করে ফোনকে সেল নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্ট করে, ই-সিম ও একই স্টাইলে কাজ করে। বাট ট্র্যাডিশনাল সিম কার্ড থেকে ই-সিমের আকার অনেক ছোট আর এটা ফোনের ভেতরে ফিট করা থাকে। এরমানে ই-সিম আপনাকে খুলতে হবে না, ইন্সার্ট করতে হবে না, এটা আগে থেকেই ফোনের মধ্যে ফিট করা থাকে!

এখন এই সিম খোলা বা লাগানোর প্রয়োজন পরে না, এরমানে কিন্তু এই নয় আপনি নাম্বার পরিবর্তন করতে পারবেন না বা আলাদা অপারেটরে মুভ করতে পারবেন না! এটা ভার্চুয়ালভাবে রি-রাইটেবল, মানে এতে ইচ্ছা মত আলাদা আলাদা সিম রাইট করা যাবে এবং আগের সিম আন-ইন্সটল ও করা যাবে। এর মানে ই-সিমে নতুন সিম লাগানো আরো বেশি সহজ, আপনাকে অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যেতে হবেনা, নতুন কোন ফিজিক্যাল সিম কার্ড ও কিনে আনতে হবে না। আপনি জাস্ট কল করে বা অপারেটরের কোন অ্যাপ ডাউনলোড করেই নতুন সিম রেজিস্টার করতে পারবেন আর ফোনের সাথে সেটাকে সেট করেও নিতে পারবেন!

ই-সিমকে বিশেষ করে ফোনে ডুয়াল সিম ফিচার চালু করতে ব্যবহার করা হয়, মানে এটাকে ট্র্যাডিশনাল সিমের রিপ্লেস হিসেবে ব্যবহার করা হয় না। আইফোন, পিক্সেল ডিভাইজ, স্যামসাং এর ফ্ল্যাগশিপ ফোন গুলো সহ অনেক প্রিমিয়াম ফোনে কেবল একটি ফিজিক্যাল সিম সাপোর্ট থাকে। এই ফোন গুলোতে ই-সিম ইউজ করে ডুয়াল সিমের সুবিধা গ্রহণ করা যেতে পারে। আর ডুয়াল সিমের সুবিধা নিশ্চয় বলে বুঝানর প্রয়োজন নেই!

ই-সিম ব্যবহার করতে চাইলে আপনার স্মার্টফোন এবং আপনার মোবাইল অপারেটর দুইজনকেই এটা সমর্থন করতে হবে। সারা দুনিয়ায় অনেক দেশের মোবাইল ক্যারিয়ার গুলো এখন ই-সিম সাপোর্ট করে, পাশের দেশ ভারতেই অনেক ক্যারিয়ার ইসিম সাপোর্ট করে। আপনার কাছে যদি আইফোন ১১, পিক্সেল ৩/৪ — এই ডিভাইজ গুলো থাকে আর আপনার মোবাইল অপারেটর যদি সাপোর্ট করে তবে আপনি ও ই-সিম কার্ড ইউজ করতে পারবেন!

ই-সিমের সুবিধা সমূহ

ই-সিমের সবচেয়ে বড় সুবিধাটা হচ্ছে এটা সাইজে মারাত্মক ছোট, হ্যাঁ ন্যানো সিম ও সাইজে অনেক ছোট, কিন্তু ই-সিমের সাইজ আরো ছোট! ন্যানো সিমের সাইজ আসলে ই-সিম থেকে ৩ গুন বেশি, তো চিন্তা করে দেখুন এটা কতোটা ছোট আকারের। যেহেতু ই-সিম মাদারবোর্ডে থাকে আর এর সাইজ অনেক ছোট তাই অনায়াসে অনেক স্পেস বাঁচানো সম্ভব হয়, এতে ব্যাটারি আরো বড় লাগানো যেতে পারে আলাদা যন্ত্রপাতি ফিট করানো যেতে পারে।

ই-সিমের জন্য আলাদা কোন সিম ট্রে থাকার ও দরকার নেই, এর মানে ফোন আরো বেশি সলিড স্টেট বানানো সম্ভব। সাথে সিম ট্রে না থাকলে আরো বেটার ওয়াটার প্রুফ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। এতে ইউজারদের জন্য ও বেস্ট সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হয়। আপনাকে সিম খোলার জন্য পেপার ক্লিপ সাথে নিয়ে ঘুরতে হবে না। আর সিম ট্রেই নেই তো খোলার ঝামেলা আসবে আর কই থেকে? সিঙ্গেল সিমের ফোনে ই-সিম কার্ড সহজেই ডুয়াল সিমের সুবিধা প্রদান করতে পারে। মানে সহজেই আপনি ফ্ল্যাগশিপ ফোনে ওয়ার্ক এবং পার্সোনাল নাম্বার আলাদা করতে পরবেন।

দেশের বাইরে ঘুরতে গেলে সহজেই ই-সিমের মাধ্যমে সেখানের লোকাল সিম নিয়ে নিতে পারেন। এতে রোমিং এর জন্য কিডনি বিক্রি করে চার্জ দেওয়ার দরকার পরবে না। সাথে আপনাকে ফিজিক্যাল সিম ও কিনতে হচ্ছে না বা বইয়ে বেড়াতে হচ্ছে না!

ই-সিমের অসুবিধা

ই-সিমের বড় অসুবিধা হচ্ছে আপনি ফোন পরিবর্তন করলে ফিজিক্যাল সিমের মত জাস্ট এক ফোন থেকে আরেক ফোনে সিম পরিবর্তন করতে পারবেন না। বা ধরুন আপনার ডিভাইজে কোন সমস্যা হয়েছে সেটা পরীক্ষা করার জন্য আপনি এক ডিভাইজ থেকে সিমটা খুলে আরেক ফোনে লাগালেন টেস্ট করার জন্য, কিন্তু ই-সিমের ক্ষেত্রে সেটা করতে পারবেন না!

ফিজিক্যাল সিমের ক্ষেত্রে জাস্ট ফোন থেকে সিম খুলে মডেমে লাগিয়ে আরামে ইন্টারনেট ইউজ করতে পারবেন, কিন্তু এক্ষেত্রে সেটা হবে না। এখন ভবিষ্যতে যদি ই-সিম ইউনিভার্সাল হয়ে উঠে সেক্ষেত্রে নতুন টেকনোলজি আসতে পারে আর ই-সিমকেও হয়তো এক ফোন থেকে আরেক ফোনে সহজেই ট্রান্সফার করা যাবে তখন। হয়তো জাস্ট কিউআর কোড স্ক্যান করলেই সিম পার হয়ে যাবে আরেক ফোনে, কিন্তু সেখানেও আরেক সিকিউরিটি সমস্যা দেখা যেতে পারে!


ভবিষ্যতে কি হবে জানিনা, বাট ২০১৯ সালে এই পর্যন্ত ই-সিমের ব্যবহার অনেক লিমিটেড, খুব বেশি ডিভাইজ ও নেটওয়ার্ক এটাকে সাপোর্ট করে না। তবে আপনার নেক্সট ফোনে হয়তো ই-সিম সাপোর্ট থাকবে না হলেও তার নেক্সট ফোনে থাকবে, ট্র্যাডিশনাল সিম ও আর সারাজীবন রাজ করবে না। এই টেক যতোবেশি জনপ্রিয়তা পাবে, ততবেশি এর সুবিধা গুলো উন্মোচিত হবে। এই ই-সিম নিয়ে আপনার কি মতামত? আমাদের নিচে কমেন্ট করে শেয়ার করুন!


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

image: Adobe Stock

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।