ঠিক এই কারণেই আপনার স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হয়ে যাচ্ছে! [২০১৯]

এই জন্যই আপনার স্মার্টফোন অত্যাধিক গরম হয়ে যায়! [২০১৯]

অনেকেই বলবেন, এই টাইপের কন্টেন্ট আর কতো? এগুলো এখন জানা ব্যাপার তাহমিদ ভাই! — ওয়েল, ২০১৬ সালের দিকে একটি পোস্ট লিখেছিলাম আর সেখানে বর্ণনা করেছিলাম কেন আপনার স্মার্টফোনটি অত্যাধিক গরম হচ্ছে —সেই থেকে এই পর্যন্ত অনেক কিছু পরিবর্তিত হয়েছে স্মার্টফোন জগতে, নতুন অনেক কারণ গুলো বের হয়ে এসেছে যার ফলে আপনার ফোনটি অত্যাধিক গরম হতে পারে। একেবারে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আজকের এই পোস্টে আবারো বর্ণনা করতে চলেছি, আপনার স্মার্টফোন কেন অত্যাধিক গরম হতে পারে?

কেন স্মার্টফোন গরম হয়ে উঠে?

ওয়েল, ইলেকট্রিক জিনিষ গরম হবে অনেক স্বাভাবিক ব্যাপার, এতে ইলেক্ট্রিসিটি প্রবাহিত করানো হয়, ফোনের প্রসেসর, জিপিইউ, বা সিস্টেম অন এ চিপ কাজ করার জন্য আরো আরো বেশি ইলেক্ট্রিসিটি দরকারি হয় যদি আপনি ফোনে বেশি মাল্টি ট্যাস্কিং করেন বা হেভি গেমিং শুরু করেন। ফোন গরম হওয়াতে প্রথমত টেনশন নেওয়ার কিছু নেই, এটা প্রধানত পদার্থ বিজ্ঞানের নীতিতেই গরম হয়। কিন্তু আপনার ফোন এতোবেশি গরম হতে শুরু করে মানে হাতে ধরে রাখা সমস্যা হচ্ছে, তাহলে সত্যিই কোন গুরুতর সমস্যা থাকতে পারে!

গরমের দিনে বিশেষ করে ফোন একটু বেশি গরম হয়ে থাকে, কেনোনা বাইরের আবহাওয়াই অনেক গরম হয়ে যায় সে সময়ে। নর্মালভাবে আপনার স্মার্টফোন ৪৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম হতে পারে, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার, এর জন্য সাথে সাথে ফোনকে টেক স্টোর নিয়ে যাওয়ার কোনই দরকার নেই। কিন্তু সমস্যা হয় তখন যখন ফোন নিজে থেকেই ওভার হিটিং এর আলার্ট প্রদান করে। হ্যাঁ, আপনার ফোনের মধ্যে বিল্ডইন সেন্সর থাকে যেটা ফোনের সিস্টেম গরম হওয়ার তাপমাত্রা পরিমাপ করতে পারে।

এখন নানান কারণে আপনার ফোন গরম হতে পারে, আপনার কারণটি অন্যের কারণ থেকে সম্পূর্ণ ইউনিক হতে পারে। পোস্টের বাকি অংশে আলোচনা করা হলো ঠিক কোন কোন কারণে ফোন অত্যাধিক গরম হতে পারে!

প্রসেসিং পাওয়ার ও ইলেক্ট্রিসিটি

আপনার স্মার্টফোন সহ দুনিয়ার সকল ইলেকট্রনিক ডিভাইজ ইলেক্ট্রিসিটি দ্বারা পরিচালিত। যতোবেশি হেভি প্রসেসিং করানোর দরকার পরবে, প্রসেসর ততোবেশি ইলেক্ট্রিসিটির ডিম্যান্ড করবে। যতোবেশি ইলেক্ট্রিসিটি প্রবাহিত হবে, ততোবেশি তাপমাত্রা জেনারেট হবে ফোন থেকে। আজকের স্মার্টফোন গুলোতে অনেক মডার্ন প্রসেসর ও এসওসি ইউজ করা হয়। মানে আজকের কম্পিউটার আর মোবাইল ডিভাইজ গুলো অনেক বেশি প্রসেসিং হ্যান্ডেল করতে পারে তাও অনেক কম গরম হয়ে!

তাহলে অত্যাধিক গরম করছে কে? ওয়েল, ফোন অত্যাধিক গরম করার পেছনে আসল কুফাটি হচ্ছে আজকের মডার্ন গেম গুলো। এগুলোর সিপিইউ এবং জিপিইউ রিসোর্স নিড অনেক বেশি। হ্যাঁ, আপনার পকেটের এই ছোট্ট ডিভাইজটি অনেক কিছুই করতে পারে, কিন্তু এর ছোট সাইজের জন্য ফোনে সঠিকভাবে বায়ু সঞ্চালিত হতে পারে না ফলে সিস্টেমে উৎপন্ন হওয়া গরম পরিবেশের সাথে মিশে যেতে পারে না। আপনার ফোন ১-২ ঘণ্টা টানা গেমিং করার পরেই নজরকারা গরম হয়ে যেতে পারে। যদি আরো সময় ধরে গেমিং করেন সেক্ষেত্রে সহজেই ফোন অত্যাধিক মাত্রায় গরম হয়ে যেতে পারে।

এই জন্যই আজকের কিছু মডার্ন গেমিং ফোনে লিকুইড কুলিং সিস্টেম রাখা হয়েছে, এমনকি ফোনে আলাদা ফ্যান ও রয়েছে ফোন ঠাণ্ডা করার জন্য। তো, আপনার ফোনের সিস্টেম অনেক উন্নত হওয়ার পরেও বেশি সময় ধরে গেমিং করার ফলে ফোন বেশি গরম হয়ে যেতে পারে!

স্ট্রিমিং ও হেভি টাস্ক

গেমিং থেকে অবশ্যই ফোন অনেক গরম হয়ে যায়, কিন্তু এমন যেকোনো কাজ যেটা প্রসেসরকে অনেক বিজি রাখে তা থেকে ফোন অত্যাধিক গরম হতে পারে। আপনি ফোনে ভিডিও প্রসেস করতে লাগিয়ে দিলে ফোন অত্যাধিক গরম হবে স্বাভাবিক।

আজকের যুগের বিশেষ এক পরিবর্তন হচ্ছে ফোন ইউজ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং করা। মাত্র ২০ মিনিট ধরে লাইভ স্ট্রিমিং করেই আপনার ফোন অত্যাধিক গরম হয়ে যেতে পারে। আপনার রুমে যদি এসি না থাকে বা আপনি কোন ঠাণ্ডা পরিবেশে না থাকেন এটা সত্যিই সমস্যা তৈরি করতে পারে। ব্যাপারটা আরো মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে যদি আপনি গরম পরিবেশে গেমিং বা লাইভ স্ট্রিমিং করতে করতে, আবার ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখেন! এতে কোন দুর্ঘটনা ও ঘটে যেতে পারে, ব্যাটারি অত্যাধিক তাপে ফেটে ও যেতে পারে!

ব্যাটারি থেকে ফোন গরম হতে পারে

শুধু যে প্রসেসর থেকেই ফোন গরম হয় এমন নয়, ফোনের ব্যাটারি থেকেও ফোন গরম হতে পারে। আপনার ফোনে ব্যাটারিই একমাত্র পাওয়ার সোর্স, যেটা সকল যন্ত্রপাতিকে পাওয়ার সরবরাহ করে। প্রত্যেকটি ফোনেই এখন ওভার চার্জড প্রটেকশন থাকে, কিন্তু ফোনে চার্জার লাগিয়েই রাখা বা ১০০% চার্জ করা ফোন অত্যাধিক গরম করতে পারে।

এটা সর্বদা আদর্শ হয় যদি ফোনের চার্জ ৭৫-৮৫% এর মধ্যে রাখতে পারেন। মানে ৮৫% চার্জ হয়ে গেলেই চার্জার থেকে ফোন খুলে ফেলতে পারেন। এতে শুধু ফোন ওভার হিটিং থেকে নয় বরং ব্যাটারি লাইফ ও অনেক দিন ভালো থাকবে। যদি সর্বদা ১০০% চার্জ করতে থাকেন ফোনকে, সেক্ষেত্রে ওভার হিটিং সমস্যা এড়াতে পারবেন না।

অনেক সময় কোন অ্যাপ কিল করে দিলেও সেটা সম্পূর্ণ কিল হয় না, ব্যাকগ্রাউন্ডে এদের প্রসেস রান থাকে। অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক প্রসেসিং পাওয়ার নষ্ট করে, ফলে প্রসেসর গরম হয়ে যায় আর ব্যাটারি থেকে আরো ও আরো জুস টানতেই থাকে। এতে ব্যাটারি ও প্রসেসর একসাথে অনেক গরম হয়ে ওভার হিটিং প্রবলেম চালু করে দেয়!

স্মার্টফোন ব্যাটারির একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। আপনি যতোই ব্যাটারির যত্ন নিন, ধীরেধীরে এর পারফর্মেন্স কমতে থাকবেই। আর স্মার্টফোন ব্যাটারির গড় আয়ু হচ্ছে মাত্র ২ বছর, এরপরে ব্যাটারি আর ঠিক মতো কাজ নাও করতে পারে, ওভারহিটিং ইস্যু সামনে চলে আসতে পারে। বিশেষ করে লো কোয়ালিটি চার্জার থেকেও ফোনে ওভার হিটিং সমস্যা ঘটতে পারে!

খারাপ ইন্টারনেট কানেকশন

হ্যাঁ, খারাপ ইন্টারনেট কানেকশন থেকেও আপনার ফোন ওভারহিটিং হতে পারে। খারাপ ওয়াইফাই সিগন্যাল বা সেলুলার সিগন্যালের ফলে প্রসেসরকে অনেক পাওয়ার খরচ করতে হয় আপনার কানেকশন স্ট্যাবল রাখার জন্য। সাথে ফোনের মডেম ঠিক মতো ডাটা সেন্ড/রিসিভ না করতে পারায় বেশি পাওয়ার ইউজ করতে থাকে স্টাবল হওয়ার জন্য। এতে ফোন প্রচন্ড গরম হয়ে উঠতে পারে।

এরমানে হুট করেই কিন্তু আপনার বিশেষ ভয় পাওয়ার দরকার নেই, দেখুন আপনার ফোন সকল টাইপের কাজ করার জন্য খুব ভালোভাবে অপ্টিমাইজড! কিন্তু ধরুন আপনি হেভি গেমিং করছেন, একই সাথে ব্রাউজার অন রেখেছেন ব্যাকগ্রাউন্ডে সাথে বন্ধুর সাথে ভিডিও চ্যাটে ও যুক্ত রয়েছেন, আপনার ওয়াইফাই বা সেলুলার সিগন্যাল ও লো হয়তো আর এর মধ্যেই আবার ফোনে চার্জার লাগিয়ে রেখেছেন! ব্যাস, আর তাহলে কি করতে বাকি রেখেছেন? ফোন তো ওভার হিটিং হবেই, হতেই হবে! ফোন এতে বোমার মতো ফেটে গেলেও যেতে পারে, কোন গ্যারান্টি নাই!

বাহ্যিক তাপমাত্রা

উপরের কারণ গুলোর জন্যই মূলত ফোন অত্যাধিক গরম হতে পারে, কিন্তু আরেকটা বড় কারণ হচ্ছে বাহ্যিক তাপমাত্রা! ফোন সরাসরি রোদে না রাখায় বেটার, এতে সহজেই অনেক গরম হয়ে যেতে পারে। শুধু ফোন নয়, আপনার ল্যাপটপ/ট্যাবলেট বা যেকোনো ইলেকট্রনিক জিনিষই সরাসরি রোদের সংস্পর্শে রাখা ঠিক নয়।

অনেকেই দেখি ফোনে মোটামোটা জ্যাকেট পড়িয়ে রাখে, মানে মোটামোটা ফোন কভার ইউজ করে। হ্যাঁ, হাত থেকে পরে গেলে ফোন কভার অনেক সাহায্য করে সাথে ধুলা ময়লা থেকেও ফোনকে বাঁচিয়ে রাখে খানিকটা, কিন্তু ফোনকে অত্যাধিক গরম করতেও সাহায্য করে। চার্জে রাখার সময় বা বাইরের গরম পরিবেশের মধ্যে থাকলে কিংবা গেমিং করার সময় এগুলো কভার ফোন থেকে খুলে রাখা বেটার! ফোনের মধ্যে এমনই হিট জেনারেট হয় আর কভার সেই হিটকে ফোনেই আঁটকে রাখে, ফলে ফোন অত্যাধিক গরম হতে পারে।

অত্যাধিক গরম হওয়া থেকে কিভাবে বাঁচা যেতে পারে?

ফোন মারাত্মক গরম হওয়া থেকে বাঁচতে চাইলে ফোনের যত্ন নিতে হবে সাথে কিছু কমন জিনিষ মাথায় রাখতে হবে। প্রথমত ফোন অলরেডি অনেক গরম হয়ে গেলে ফোন থেকে কেস সরিয়ে ফেলুন, নর্মালভাবে ফোনে কেস ইউজ করলেও সেটা পাতলা কেস ইউজ করার চেষ্টা করুন, আপনি সিলিকনের তৈরি কেস ইউজ করতে পারেন।

ফোন চার্জ করার জন্য ভালমানের ক্যাবল এবং চার্জার ইউজ করুন, বেশি ভালো হয় ফোনের অরজিনাল চার্জার ও ক্যাবল ইউজ করা, কিন্তু যেকোনো ভালোমানের চার্জার ইউজ করলেও কোন সমস্যা নেই। তবে সারারাত ফোনে চার্জার না লাগিয়ে রাখায় ভালো, এতে ফোন গরম হয়ে যায় সাথে ব্যাটারির আয়ু কমে যায়। ফোনের চার্জ ৮৫% এর উপরে না করার ভালো, আবার ০% পর্যন্ত ডিসচার্জ ও করবেন না।

গেমিং করার সময় ঠাণ্ডা পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন যাতে ফোন বাহ্যিক তাপমাত্রা থেকে আরো বেশি গরম না হয়ে যায়। সাথে ফোনের স্ক্রীনের আলো কমিয়ে রাখুন, এতে দুইটি লাভ হবে; একে ফোনের গরম হওয়া কমে যাবে, দ্বিতীয়ত ব্যাটারি লাইফ অনেক সেভ করা যাবে। অ্যাপ ম্যানেজার থেকে অত্যাধিক ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ গুলোকে অফ করে দিন, হ্যাঁ অনেক অ্যাপ কাজ করার জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস দরকারি হয়, যেমন- ফেসবুক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে বলেই সাথে সাথে নতুন নোটিফিকেশন সেন্ড করতে পারে। কিন্তু অনেক অ্যাপ রয়েছে যেগুলোর হয়তো দরকার নেই আপনার কাছে সেগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস অফ করে রাখতে পারেন, সাথে একেবারেই দরকার না থাকে অ্যাপটি ফোন থেকে কমপ্লিট রিমুভ করতে পারেন।

যদি ওয়াইফাই বা ব্লুটুথ দরকারি না হয়, জাস্ট অফ করে রাখতে পারেন। ফোন অলরেডি অত্যাধিক গরম হয়ে গেলে ফোনের সকল অ্যাপ ক্লোজ করে দিন, গেম ক্লোজ করে দিন, ফোনটি এয়ারপ্লেন মোডে নিয়ে যান, সাথে ফ্যানের সামনে রেখে ফোনটি ঠাণ্ডা করতে পারেন। যদি এতেও কাজ না করে, জাস্ট ফোনটি অফ করে কিছুক্ষণ ফ্রিজের মধ্যে রাখতে পারেন!

সকল পদ্ধতি অ্যাপ্লাই করার পরেও যদি আপনার ফোন অত্যাধিক গরম হতেই থাকে, তো বুঝা শেষ আপনি ব্রিটিশ আমলের ফোন ইউজ করছেন। আর কতো কিপ্টেমু করবেন? এবার নতুন একটা ফোন কিনেই ফেলুন! নতুন ফোনে হিট ম্যানেজমেন্ড সিস্টেম আগের থেকে অনেক বেশি উন্নত। সাথে নতুন ফোন গুলোর প্রসেসিং পাওয়ার পুরাতন ফোনের তুলনায় ফাস্ট! তো কিনেই ফেলুন এবার!



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Image: Adobe Stock

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

One Comment

  1. Golam Rabbani Reply

    ধন্যবাদ ভাই
    আগের আর্টিকেলটি পড়লাম সাথে এটাও। অনেক তথ্য জানতে পেরেছি। ধন্যবাদ ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *