বর্তমান তারিখ:17 September, 2019

একটানা ফোন ইউজ করে কব্জি আর ঘাড়ের ব্যাথায় ভুগছেন? কিভাবে রক্ষা পাবেন?

ধীরেধীরে ফোন ইউজের সময় কমিয়ে দেওয়াই বেস্ট!

একটানা ফোন ইউজ করে কব্জি আর ঘাড়ের ব্যাথায় ভুগছেন? কিভাবে রক্ষা পাবেন?

আপনি যদি এভারেজ স্মার্টফোন ইউজার ও হয়ে থাকেন, দিনে অন্তত কয়েক ঘণ্টা আপনার হাতে ফোন থাকে। অনেকে রয়েছে সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত মাত্র কয়েক মিনিটের জন্যই হাত থেকে ফোন সরান! তো এরকম হেভি ইউজের ফলে সহজেই হাতের কব্জিতে ব্যাথা, ঘাড়ে ব্যাথার মতো সমস্যা গুলো ঘটতে পারে। এই আর্টিকেলে কিছু টিপস শেয়ার করলাম, যেগুলো অনুসরণ করার মাধ্যমে একটানা ফোন ইউজ করার সময় নানান টাইপের জোরার ব্যাথা গুলো থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে!


হাতের ও ঘাড়ের ব্যাম

যেকোনো প্রকারের ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ব্যামের কোন বিকল্প নেই। কিছুক্ষণের জন্য হাত থেকে স্মার্টফোনটি সরিয়ে রাখুন, তারপরে কিছু বেসিক ব্যাম শুরু করুন। যেমন- আপনার হাতের তালুটি কোন ফ্ল্যাট সার্ফেসের উপরে রাখুন, তারপরে অন্য হাতের সাহায্যে আপনার আঙ্গুল গুলো পেছনের দিকে বাকীয়ে নিয়ে আসুন যতোটা সম্ভব হয়। এই প্রসেসটি প্রত্যেকটি আঙ্গুলের জন্য অ্যাপ্লাই করতে থাকুন! তারপরে আপনার এক হাতের তালুর সাথে আরেক হাতের তালু চেপে ধরুন মানে প্রার্থনা করার সময় যে পজিশন করা হয়। এবার এক হাতের তালু অপর হাতের তালুর উপরে প্রেসার তৈরি করুন, এভাবে কিছুক্ষণ চালিয়ে যান। আরেকটি আঙ্গুলের ব্যাম হচ্ছে, হাতের আঙ্গুল গুলোকে টানুন, অনেকে একে আঙ্গুল ফোটান বলে থাকে, কেনোনা এতে আঙ্গুলের জোরা থেকে পটপট করে শব্দ শোনা যায়!

এবার আসি কিছু ঘাড়ের বেসিক ব্যাম নিয়ে। আসতে আসতে আপনার মাথা ডানে, বামে, উপরে, নিচে করে ঘোরাতে থাকুন। তারপরে মাথা ক্লকওয়াইজ ও আন্টিক্লকওয়াইজ দিকে ঘোরাতে থাকুন। এই প্রসেসটি কমপক্ষে পাঁচবার রিপিট করুন। আর হ্যাঁ বলতে ভুলেই গেছিলাম, হাতের কব্জি ও আঙ্গুলের ব্যামের জন্য স্ট্রেস বল গুলো কিনতে পারেন এবং সেটা কয়েক ডজনবার দিনে চাপাচাপি করতে পারেন, ভালো কাজ দেয় এতে!

টাইপ করার সময় দুই হাতের আঙ্গুলই ব্যবহার করুন

বেশিরভাগ ইউজার বিশেষ করে প্রভাবশালী হাতেই ফোন ধরা এবং টাইপ করার অভ্যস্ত হয়ে থাকেন। কিন্তু আপনি যে হাতে ফোন ইউজ করেন সেই হাতের বুড়ো আঙ্গুলকে বেশ প্যারা পোহাতে হয়, কেনোনা সকল টাইপিং সেইই করে থাকে। এই সমস্যা দূর করার জন্য টাইপিং এর সময় দুই হাতই ইউজ করা বেস্ট!

যখন দুই হাতই ইউজ করবেন টাইপিং এর ক্ষেত্রে তখন কাজ দুজনের সাথে শেয়ার হয়ে যাবে, এতে স্ট্রেস কম পরবে। সাথে কখনো কখনো চাইলে স্টাইলাস বা পেন ইউজ করে টাইপিং করে আঙ্গুলকে রেস্ট দিতে পারেন। তাছাড়া আপনি চালে “swiping” ফিচার ইউজ করেও টাইপিং করতে পারেন। এই স্টাইলে টাইপিং করা ও অনেক ফাস্ট আর বেশিরভাগ জনপ্রিয় কীবোর্ডই এই ফিচারটি সাপোর্ট করে!

স্মার্ট পদ্ধতিতে টাইপ করুন

স্মার্টফোনের মজাই হচ্ছে এতে সকল স্মার্ট স্মার্ট ফিচার গুলো যুক্ত রয়েছে। আপনি ফোনের speech-to-text অপশনটি ইউজ করে সহজেই টাইপ করতে পারেন তাও আবার একটু ও আঙ্গুল বা সরিয়ে। এই ফিচারটি ফোনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কাজে লাগিয়ে কাজ করে। আপনার কথা থেকে কম্যান্ড গ্রহণ করে তারপরে ফোনের সফটওয়্যার সেটাকে টেক্সটে পরিণত করে। আপনি জাস্ট বলেই যাবেন, আর আপনার ফোন লেখেই যাবে, এতে আঙ্গুল ব্যাথা করে আর টাইপ করতে হবে না!

সাথে আজকের মডার্ন দিয়ে নানান ইমোজি তো আমরা অলরেডি ইউজ করি। টেক্সটের ফাকে ফাকে ইমোজি ইউজ করার মাধ্যমে বাক্য গুলোকে শর্ট বানানো সম্ভব। এতে একে তো সময় বেঁচে যাবে দ্বিতীয়ত হাতের উপরে চাপ কমে যাবে।

ইয়ারফোন বা স্পীকার ইউজ করুন

বিজনেস ম্যান থেকে শুরু করে প্রেমিক ম্যান — সকলকেই অনেক ফোনে কথা বলতে হয় আর লং টাইম ধরে চলে এই ফোন কনভারসেশন! তো দীর্ঘ সময় ধরে কানে ফোন ধরে রাখতে একে তো হাতের বারোটা বাজে, দ্বিতীয়ত ঘাড়ের ও সমস্যা তৈরি হয়। যদি লম্বা সময় ধরে ফোনে কথা বলেন এবং এটা রেগুলারই করতে হয়, সেক্ষেত্রে ইয়ারফোন বা স্পীকার ইউজ করে কল করতে পারেন।

প্রাইভেট কনভারসেশনে স্পীকার ইউজ করা মোটেও আইডীয়াল হবে না যদিও, তবে বেশিক্ষণ ইয়ারফোন কানে লাগিয়ে রাখলেও কান ব্যাথা করতে পারে। তবে বেশি কথা বললে অনেক সময় ফোন ওভারহিট হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ইয়ারফোন ইউজ করলে বেশ ভালো ফলাফল পাওয়া যেতে পারে!


এই ছিল কিছু টিপস যেগুলো লং মোবাইল ইউজ করার ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করতে পারে। বেস্ট সলিউশন হচ্ছে, মোবাইল ফোন ইউজ করার সময় ধীরেধীরে কমিয়ে আনা। পূর্বে শুধু প্রয়োজনে সবাই ফোন ইউজ করত, কিন্তু এখন কখন কখন ফোন ইউজ করে সবাই সেটা নিশ্চয় আর বলবার দরকার নেই! আপনি স্মার্টফোনের উপরে যতোবেশি নির্ভরশীল হবেন, আপনার হাতের আঙ্গুলের ব্যাথা, কব্জির ব্যাথা, ঘাড়ের ব্যাথা ততোই বাড়বে, আর এটাই সত্যতা!


WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Feature Image: Shutterstock.com

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

2 Comments

  1. Himel Reply

    অসংখ্য ধন্যবাদ তাহমিদ ভাই। সারাক্ষন গেমিং করার জন্য এই সমস্যায় খুবই ভুগতে হয় আমাকে। আশা করি আপনার ট্রিক্স গুলো কাজে দেবে। আর আপনি ঠিক ই বলেছেন ভাই। ফোন ইউজ কমিয়ে ফেলতে হবে।

    ধন্যবাদ ভাই 😍😍😍😍😍

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *