কিভাবে বুঝবেন, ব্লগিং আপনার জন্য উপযুক্ত হবে কিনা?

কিভাবে বুঝবেন, ব্লগিং আপনার জন্য উপযুক্ত হবে কিনা?

এখন অনেকেই ব্লগিং শুরু করতে চায়, ব্লগিং শুধু নিজের জ্ঞান শেয়ার করার জন্যই নয় ইনকামের ও অনেক বড় একটি উৎস হতে পারে। কিন্তু ব্লগ শুরু করার পূর্বে অবশ্যই আপনার জানা দরকার, ব্লগিং আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা? — এতে সহজেই নির্ণয় করতে পারবেন, ব্লগিং থেকে আপনার কোন ভবিষ্যৎ রয়েছে কিনা! ব্লগিং অনেকের জন্য অকল্পনীয় সুযোগ, অনেকের ভাগ্য ও পরিবর্তন করেছে এই প্ল্যাটফর্ম (সাথে আমারো) কিন্তু এটা সকলের জন্য নয়!

তো যদি ব্লগিং আপনার জন্য না হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে এতে সময় নষ্ট না করে অন্য কিছুতে সময় দেওয়া বেটার হবে আপনার জন্য। আর এই আর্টিকেলে এটাই পরিষ্কার করার চেষ্টা করবো, আপনার কি ব্লগিং শুরু করা উচিৎ?


আপনি লিখতে পছন্দ করেন তো?

ব্লগিং এর প্রধান সর্ত হচ্ছে, আপনি লিখতে কতোটা ভালোবাসেন? আপনি সাচ্ছন্দে কতোটা লিখতে পারেন? যদি লেখা আপনার ভেতর থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই না বেরিয়ে আসে, যদি আপনি লিখতে তেমন কমফর্ট বোধ না করেন, ব্লগিং অবশ্যই আপনার জন্য নয়। একটি সফল ব্লগ বিল্ড করার জন্য আপনার প্রয়োজন পরবে ঘনঘন ব্লগ আপডেট করা, রিডারেদের যায় আসে এমন কন্টেন্ট তৈরি করা, এবং ব্লগ কমেন্টে রেসপন্স করা — মানে আপনাকে ব্লগিং এর প্রায় বেশিরভাগ সময়ই টাইপিং এর সাথে কাটাতে হবে!

ব্লগার ব্লগিং করছে

কখনো নিজের ব্লগে লিখতে হবে, কখনো আলাদা ব্লগে লিখতে হবে লেখা গুলোকে ছড়ানোর জন্য, নিজের ব্লগের কমেন্ট রিপ্লাই করতে হবে অন্যের ব্লগেও গিয়ে কমেন্ট তৈরি করতে হবে, এভাবে ব্লগিং এ এগোতে হবে। আর আপনাকে সবসময়ই টাইপিং করতে হবে। যদি আপনি লিখতে না ভালোবাসেন, যদি টাকার কথা চিন্তা করেন ব্লগিং এ ডুব দিতে চান, সেক্ষেত্রে তলিয়েই যাবেন, ব্লগিং কোথায় নিয়ে যাবে না আপনাকে!

ওয়েব সারফিং উপভোগ করেন তো?

সফলভাবে ব্লগিং করার জন্য প্রয়োজন নিয়মিত অসাধারণ সকল কাজের কন্টেন্ট, আর এই কন্টেন্ট আইডিয়া গুলো কিন্তু ঘুমের মধ্যে আপনার মাথায় এসে প্রবেশ করবে না, আপনাকে নিয়মিত এবং হিউজ টাইম ব্যয় করতে হবে এর পেছনে। আপনাকে নানান ওয়েবসাইট/ব্লগ/ভিডিও সারফিং করতে হবে, তবেই ফ্রেশ আইডিয়া গুলো মাথায় এসে উঁকি দেবে!

একজন মহিলা ওয়েব সারফিং করছেন

শুধু ওয়েব থেকে আইডিয়া নিয়ে ভালো ব্লগ পোস্ট করলেও কিন্তু কাজ শেষ নয়। আপনাকে পোস্ট প্রমোশন করতে হবে, সোশ্যাল শেয়ার করতে হবে, আপনাকে আপনার ব্লগ টপিক সম্পর্কিত আলাদা ওয়েবসাইট গুলো ও ভিজিট করতে হবে যাতে আপনার টপিকটিকে আপডেটেড রাখতে পারেন। ব্লগিং মানেই বেশিরভাগ সময় অনলাইনে কাটিয়ে দেওয়া, এর মানে আপনাকে লিখতে ভালোবাসতে হবে, পড়তে ভালবাসতে হবে, টপিক গবেষণা করতে হবে, আর একটা বড় সময় ওয়েব সারফিং এ কাটাতে হবে!

ব্লগিং করে রাতারাতি কোটিপতি হতে পারবেন না!

আপনি ব্লগিং শুরু করার পরে যদি প্রথম ৬-১২ মাসের মধ্যেই রেভিনিউ জেনারেট করা শুরু করে দেন সেক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই ব্লগিং এ ভালো কিছু করছেন। যদি ২ বছরের মধ্যে নিজেকে সম্পূর্ণ সাপোর্ট ও লিভিং উপার্জন করতে শুরু করেন, তো হ্যাঁ, আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার সফলতার দিকেই এগোচ্ছে! কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই আপনি ভালো উপার্জন করতে শুরু করবেন, এমনটা ভেবে ব্লগিং এ পা রাখবেন না! নতুন ব্লগাররা ব্লগিং এ প্রবেশ করেই ভালো ইনকাম করতে শুরু করেনা, অন্তত আমি এরকমটা এখনো দেখিনি।

ব্লগিং শুরু করার পরে আপনার অনেকখানি পথ হাটার প্রয়োজন পরবে, আপনাকে অনেক কিছু জানতে ও শিখতে হবে। আপনাকে একের পর এক কন্টেন্ট উপহার দিতে হবে, আপনাকে ব্লগে নিয়মিত হবে — এরপরে আপনার ব্লগ ধিরেধিরে দৌড়াতে শুরু করবে, তবেই আপনি ভালো উপার্জনের পথে এগোতে পারবেন। হ্যাঁ, ব্লগিং থেকেও আপনি মাসে লাখো টাকা ইনকাম করতে পারবেন, কিন্তু সেটা রাতারাতি সম্ভব হবে না!

যদি আপনার দ্রুত টাকা ইনকাম করায় একমাত্র পথ হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ব্লগিং থেকেও আরো বেটার পথ রয়েছে, সেগুলোকে অনুসরণ করতে পারেন। সফল ব্লগারগন শুধু টাকা ইনকামের উদ্দেশ্য নিয়ে ব্লগিং করে না, হয়তো যদি টাকায় তাদের প্রথম প্রাধান্য হতো, সেক্ষেত্রে ব্লগিং এ তারা হয়তো সফলই হতে পারতো না কখনো!

আপনার চিন্তা, মতামত, ও আইডিয়া শেয়ার করার ক্ষমতা থাকতে হবে!

ব্লগিং এর একটি বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনার নির্বাচিত টপিকটি আপনার চিন্তাধারা অনুসারে প্রকাশ করানো, টপিকটির উপরে আপনার মতামত প্রকাশ করা এবং বেটার আইডিয়া পাবলিশ করা। আপনি একজন ব্লগার, এরমানে আপনার কাজ হচ্ছে কোন কিছুর উপরে অনলাইন কমিউনিটির কাছে আপনার মতামত পাবলিশ করা! হ্যাঁ, নিজেকে গোপন রেখেও ব্লগিং এ সফল হওয়া যায়, কিন্তু সেটা নর্মাল না!

ব্লগার কমিউনিটিতে বেশিরভাগ ব্লগার নিজের লেজিট পরিচয় উন্মোচন করেই ব্লগিং করে থাকেন। এতে নিজের এক হিউজ ফ্যান বেইস তৈরি করা সম্ভব হয়। আপনি যদি সফল ব্লগার হতে চান, সেক্ষেত্রে আপনাকে নিজের কমিউনিটি তৈরি করতে হবে, নিজের শক্তিশালী মতামত ও আইডিয়া গুলো আপনার কমিউনিটির সাথে শেয়ার করতে হবে, আপনাকে হিউজ অ্যামাউন্ট রিডারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে হবে। অনেক সময় আপনার প্রকাশিত মতামত অনেকেরই পছন্দ না হতে পারে, ব্যাপার অনেক দূর গরাতে পারে, আপনাকে অনেক ঘৃণা ও সহ্য করতে হতে পারে, একজন সফল ব্লগার হতে হলে এগুলো আপনাকে হ্যান্ডেল করার ক্ষমতা থাকতে হবে!

নতুন কিছু শেখায় আগ্রহী হতে হবে

আমার কাছে জ্ঞান অর্জন ও শেয়ার করার জন্য ব্লগিং দুনিয়ার সেরা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে মনে হয়। আপনি এখানে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখতে ও জানতে পারবেন, সাথে আপনার কমিউনিটিকে শেখাতে ও জানাতে পারবেন। কিন্তু যখন কথা বলবো ব্লগিং এর প্রস্তুতি নিয়ে, হ্যাঁ ব্লগিং এ নিজের পা রাখার পূর্বে আপনাকে ইন্টারনেট, কম্পিউটার, কিছু সফটওয়্যার, ওয়েব সার্ভার — ইত্যাদি বিষয়ে কিছু টেকনিক্যাল নলেজ রাখতে হবে। যদি আপনি কম্পিউটার দেখেই ভয় পান, তো ভাই ব্লগিং এ কেন আসতে চাচ্ছেন? এটা আপনার জন্য নয়!

অপরদিকে আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু না কিছু তো শিখতেই হবে, আর তারপরে শেখাতে হবে ব্লগ পোস্ট করার মাধ্যমে। ব্লগিং করার মাধ্যমে ইন্টারনেটকে জ্ঞান শেয়ার করার আরো বেটার প্লেস বানানো যেতে পারে, কিন্তু এর জন্য আপনার নিজেকেই অনেক জ্ঞান পিপাসু হতে হবে, তবেই বেটার কিছু পসিবল হবে!

ব্লগিং মানে শুধুই লেখালেখি নয়!

আপনি যদি একজন সফল ব্লগার হতে চান সেক্ষেত্রে ভালো লিখতে পারা ছাড়াও আপনাকে বেশ কিছু জিনিষের প্রতি এক্সপার্ট হতে হবে। কন্টেন্ট আরো সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলার জন্য ইলাস্ট্রেশন আঁকতে হবে, ব্লগে ট্র্যাফিক আনার জন্য এসইও জানতে হবে, আপনাকে একজন ভালো সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটার হতে হবে, আপনাকে ধীরেধীরে নিজের সোশ্যাল কমিউনিটি তৈরি করতে হবে, গেস্ট ব্লগিং করতে হবে, নিজের ওয়েবসাইট মেইনটেইন করার মতো টেকনিক্যাল নলেজ থাকতে হবে!

উপরের উল্লেখিত বিষয় গুলোতে লেখালেখির পাশাপাশি আপনি যদি এক্সপার্ট হতে পারেন, সেক্ষেত্রে ব্লগিং এ সফলতা পাওয়া আপনার জন্য অনেকটা সহজ ব্যাপারে পরিণত হতে পারে। আর হ্যাঁ, আর কিছু জানুন বা না জানুন, এসইও আপনাকে শিখতেই হবে। যদি আপনার ব্লগে ট্র্যাফিকই না আসে, তো কিসের জন্য এই কন্টেন্ট গুলো তৈরি করা?


যেকোনো নতুন বিজনেস বা পেশায় পা রাখার পূর্বে আমাদের কিছুটা রিস্ক নিতেই হয়। ফুল টাইম ব্লগিং করার শুরুর দিকটা অনেকটা রিস্ক নিয়েই শুরু করতে হয়। আপনি জানেন না আপনার ব্লগিং ক্যারিয়ার ঠিক কোন দিকে যাবে, কিন্তু সঠিক পথ অনুসরণ করলে সফলতায় মেলে বেশিরভাগ সময়। তো আগে ভালকরে জানুন ঠিক কোন পথে পা দিচ্ছেন, ব্লগিং আপনার জন্য সত্যিই কতোটা উপযোগী, তারপরে ব্লগ শুরু করতে পারেন! যদি মজার জন্য ব্লগ রান করেন, তো ঠিক আছে ইচ্ছা মতো চালাতে পারেন। বাট সফলতার সাথে ব্লগ রান করানো অনেক লম্বা দৌরের ব্যাপার। আর নিজেকেই প্রশ্ন করতে হবে, এই দৌড় দেওয়ার জন্য আপনি কতোটা প্রস্তুত!

হ্যাপি ব্লগিং!



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Feature Image: Shutterstock

তাহমিদ বোরহান
প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।