বর্তমান তারিখ:13 October, 2019

এসকেপ প্ল্যান (Escape Plan) : পার্ট ১, পার্ট ২ [মুভি রিভিউ!]

গতরাতে যখন এসকেপ প্ল্যান দ্য এক্সট্রাক্টর দেখেছিলাম, তখন মনে পড়লো বছর ৩ আগে এর প্রথম পর্বটাও দেখেছিলাম। রিভিউ দেখার সময় তাই মনে হলো প্রথমটা নিয়েও কিছু লেখা দরকার! নাম শুনেই আঁচ করা যায়, মুভিটি মূলত পালানো নিয়ে। তবে পালানো যেনতেন কিছুর হাত থেকে নয়। একেবারে জেল থেকে পালানো নিয়ে! মুভির মূল প্রোটাগনিস্ট ক্যারেক্টার সিলভেস্টার স্ট্যালোন হচ্ছে এমন একজন লোক, যার পেশা হচ্ছে জেল পালানো। সোজা কথায় বড় বড় জেলখানা গুলো থেকে পালিয়ে গিয়ে সেই জেলখানার সিকিউরিটি বাগ গুলো কতৃপক্ষকে দেখিয়ে দেওয়া। এইজন্যে জেল কতৃপক্ষগুলো তাকে বিশাল অংকের টাকা পে করে। অনেকটা আজকের যুগের হ্যাকারদের মত। বাগ খোজার বিনিময়ে টাকা নেওয়া টাইপ!

একদিন সিআইএ এর একলোক এসে তাকে একটি হাইটেক জেল পালানোর অফার করেন যেটা করতে পারলে বিশাল অংকের টাকা পাওয়া যাবে। ব্যক্তিমালিকানাধীন এই জেলে রাখা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধী ও রাজনৈতিক বন্দীদের। সেই জেলে পরিচয় হয় আরনল্ড শোয়ার্জনেগারের সাথে। দুজনে মিলে পালানোর চেস্টা করেন সেই জেল থেকে। কিন্তু পালাবো বললেই তো আর পালানো হয় না। একটা সময় বুঝতে পারেন তারা ফাঁদে পড়ে গেছেন। এই ফাঁদ থেকে কীভাবে বেরুবেন??

এসব নিয়েই এসকেপ প্ল্যান মুভির গল্প আবর্তিত হয়েছে। প্রথম পার্ট ভালোই ছিল। একশন কম থাকলে ও রক্তারক্তি ছিল,সবচেয়ে বড় কথা টুইস্ট ছিল। এইসব লিনিয়ার একশন মুভি গুলোর গল্প যেরকম হয়, মোটামুটি ওইরকমই হয়েছে। তাই চিত্রনাট্য নিয়ে কিছু না বললেও চলে। তবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছিল মাঝারি মানের। অবশ্য ইদানিং টিভি সিরিজে এডিক্টেড হয়ে যাওয়ার কোন মুভির বিজিএমই জুতসই মনে হয় না আমার। এটাও একটা কারন হইতে পারে ভালো না লাগার!

এসকেপ প্লান এর প্রথম পার্ট মুক্তি পায় ২০১৩ সালে। হলিউডের দুই কিংবদন্তী একশন হিরো আরনল্ড শোয়ার্জনেগার আর সিলভেস্টার স্ট্যালোন মিলে মুভিটি জমিয়ে দিয়েছেন,যার কারনে বক্স অফিসে ভালো করেছিলো।

প্রথম মুভিটির সফলতার রেশ ধরেই এই বছর রিলিজ হয় এসকেপ প্ল্যান এর সিকুয়েল। একেবারে প্রথম পার্ট যেখানে শেষ হয়েছে ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয়েছে ২য় পর্ব। সেই সাথে যোগ হয়েছে চাইনিজ কোম্পানির মালিকের মেয়ের অপহরন এবং মেয়ের দুই বডিগার্ড এর মেয়ের প্রতি অতি ভালোবাসা দেখিয়ে তাকে মুক্ত করার চেস্টা।

এই মুভিতে শোয়ার্জনেগার না থাকলে তার বদলি আনা হয়েছে মাসলম্যান ডেভ বাতিস্তাকে। সাথে “মাস্টার জেডঃ ইপ চ্যান লিগ্যাসি” মুভির নায়ক (নাম ভুলে গেছি) ও আরেকজন চাইনিজ অভিনেতাকে কাস্ট করা হয়েছে। ইদানিংকালে হলিউডে চায়নায় মুভি রিলিজ দিয়ে কাঁচা টাকা ইনকামের জন্যে তাদের মুভিতে চাইনিজদের তারকাদের এডপ্ট করে এবং চায়না নির্ভর কাহিনী দিয়ে মুভি বানানোর যে ঝোঁক দেখিয়ে যাচ্ছে এই মুভিটি দেখে আমার ও তাই মনে হয়েছে!

যাই হোক এসকেইপ প্ল্যান এর প্রথম পার্ট এর তুলনায় সেকেন্ড পার্ট ছিল টোটাল রাবিশ এন্ড বুলশিট! ৮৭ মিনিটের মুভিতে না আছে কোন ভালো গল্প না আছে কোন ভাল ডায়লগ, না আছে কোন ভালো একশন সিন। যাচ্ছে তাই ব্যাকগ্রান্ড মিউজিক আর ফালতু গল্প! গার্ভেজ বললেও কম বলা হয়ে যায়! দেখে মনে হয়েছে কোনমতে ভংচং দিয়ে এন্ডিং টানার অপচেষ্টা! সিলভেস্টার স্ট্যালোনের জন্যে এই মুভি দেখতে বসেছিলাম। কোনমতে দেখে উঠেছি এটাই ভাগ্য! একশন লাভার হিসেবে প্রথম পার্ট কয়েকবার দেখার যোগ্য হলেও ২য় পার্টটা একবার ও দেখার যোগ্য না!

আপনার মন চাইলে প্রথম পার্ট দেখতে পারেন। এনজয় করবেন। তবে প্রথম পার্ট দেখে খুশির ঠেলায় যদি সেকেন্ড পার্ট ধরেন, এবং তা দেখে মেজাজ খারাপ হইলে কোন দায় দায়িত্ব আমি নিবোনা!

হ্যাপি ওয়াচিং!



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Images: Atmosphere Entertainment

মুভি,টিভি-সিরিজ লাভার! প্রচন্ড অলস প্রকৃতির এই লোক ঠিক করেছেন তিনি সারাজীবন মুভি আর সিরিজ দেখেই কাটিয়ে দিবেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *