সেক্স এডুকেশন : সিজন ১, নেটফ্লিক্স, স্পয়লার মুক্ত টিভি সিরিজ রিভিউ! [১৮+]

সেক্স এডুকেশন : সিজন ১, নেটফ্লিক্স, স্পয়লার মুক্ত টিভি সিরিজ রিভিউ! [১৮+]

আমি বরাবরি নেটফ্লিক্স এর অরিজিনাল গুলোর ফ্যান! ইদানিং এদের মান একটু নিচের দিকে নেমে গেলেও শুরুর দিকে যেগুলা বের করেছিলো সেগুলো কিন্তু আসলেই অনেক ভালো! তাই মোটামুটি নেটফ্লিক্সে হালকা পাতলা ভক্ত বলাই যায়।(একচুয়ালি আমি এই ছবিও এর ডাই হার্ড ফ্যান)

যাই হোক, নাইনটিন এইজের পোলাপান যারা আছে, তাদের কৈশোরে পর্দাপন করার পরেই সেক্স এডুকেশনে মোটামুটি হাতে খড়ি হয়ে যায় ফ্রেন্ডসার্কের জ্ঞানী-গুণী ও কিংবদন্তী বন্ধুদের দ্বারা। আর যারা শহুরে এবং বিদেশী আকাশ সংস্কৃতির সাথে যুক্ত তারা একটু এগিয়ে থাকে আমেরিকান পাই এর মত গরম গরম মুভির জন্যে 😉

নেটফ্লিক্স যখন সেক্স এডুকেশনের ট্রেলার রিলিজ করলো তখন আমি ভাবলাম হয়তো আরেকটা আমেরিকান পাই টাইপের কন্টেন্ট আসতেছে। এ ধরনের জিনিস আমি অবশ্য মিস টিস দেই না 😛 ! যাই হোক রিলিজের পর দেখে বুঝলাম একচুয়ালি আমেরিকান পাই এর সাথে এর তুলনা করা ঠিক হবে না বোধ হয়।

সেক্স এডুকেশন মুলত বৃটিশ স্কুল গোয়িং টিন-এইজ ড্রামা সিরিজ। “স্কুল বল নাইট” যে এই কথাকে পুর্ণতা দিতেই বানানো হয়েছে। হাইস্কুল ড্রামা হিসেবে সেক্স এডুকেশন যথেষ্ট সফল। বিশেষত প্রথম এপিসোডই যথেষ্ট আপনাকে বাকীগুলোর সাথে হুক আপ করে দিতে। মোটে ৮ পর্বের এই সিরিজ এক কথায় বলতে গেলে সুইট এন্ড থটফুল।

টিন ড্রামার মুল চরিত্র ওটিস মিলবার্ন,হাই স্কুল পড়ুয়া এক বালক যার মা কিনা একজন সেক্স থেরাপিস্ট। মানে যৌন সংক্রান্ত পরামর্শ দিয়ে বেড়ান আর কি। ওটিস তার মায়ের এই পেশার ব্যাপারে খুবই বিব্রত এবং সে কাউকে তার মায়ের এই পেশার ব্যাপারে বলতে চায় না।

-হেই তোমার মা কি করেন?
-ওহ, আমার মা একজন সেক্স থেরাপিস্ট,অর্থের বিনিময়ে মানুষকে যৌন সংক্রান্ত উপদেশ দিয়ে বেড়ায় ব্লা ব্লা ব্লা। কেমন বিব্রতকর না?

যাই হোক ওটিস তার ক্লাস সহপাঠি মেইভ উপর ক্রাশড। আর মেইভ একটা ওয়াইল্ড ধাঁচের মেয়ে। মা-বাবাহীন ভাবে বড় হওয়া ছেলে মেয়েগুলি যেমন হয়, খানকটা উগ্র। ব্যাপারটা হলো একটা ঘটনার মাধ্যমে মেইভ বুঝতে পারে ওটিসের সেক্স এন্ড রিলেশনশিপ নিয়ে উপদেশ দেবার ক্ষমতা দারুণ। অনেকটা তার মায়ের মত। তখন মেইভ একটা ব্যবসায়িক প্ল্যান করে। হাইস্কুলে যেসব পোলাপানের সেক্সচুয়াল ব্যাপার নিয়ে কনফিউশনে, বা অস্বস্তিতে ভুগে কিংবা বিভিন্ন ধরনে সেক্স/রিলেশনশিপ জনিত সমস্যা ফেস করে তাদেরকে এইসব ব্যাপারে হেল্প করবে। আয় যা হবে ৫০-৫০ ভাগ হবে! 😛 (হোয়াট আ আইডিয়া!)

ওটিস মিলবার্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আশা বাটারফিল্ড। মুভি লাভারেরা এই ছেলেকে অবশ্যই চিনবেন। না চিনেই বা উপয়ায় কি? বয়সেই আমরা ন্যাংটা হয়ে গোসল করতাম একদম সেই বয়স থেকেই সে পর্দা কাঁপাচ্ছে। মার্টিন স্করসেসিজ এর মত লিভিং লিজেন্ড এর পরিচালনায় “হুগো”তে যখন অভিনয় করেছিলো, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। আর “দ্য বয় ইন দ্য স্ট্রিপড পাজামা” র মুভিতে অভিনয়ের সময় তার বয়স ছিল, ৯ বছর! আমার মনে হয় অদুর ভবিষ্যতে হলিউডের নেক্সট বিগ থিং এর একজন হওয়ার মত প্রটেনশিয়াল আছে।

আর মেইভ ক্যারেক্টারটির রূপদান করেছে Emma Mackey! এই মেয়ে দেখতে একদম মার্গট রবির হুবুহু কার্বন কপি। ইভেন আমি শুরুতে দেখে ভাবলাম,মার্গট রবিই কিনা আবার। টাশকি খেয়ে যাবার মত ব্যাপার ছিল পুরাই! আর এছাড়া অটিস এর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন Gillian Anderson! বাদবাকী কাস্টগুলো বেশ ভালো অভিনয় করেছেন!

নেটফ্লিক্স এর সিরিজ যেহেতু ,তাই এদের ব্যাকগ্রান্ড মিউজিক এর সিনেমাটোগ্রাফি নিয়ে আপনাকে খুব একটা হতাশ হতে হবে না। পার্সোনালি আমি ওদের বিজিএম এর ফ্যান।মাত্র ৮ পর্বের এই সিরিজটি এন্ডিং দেখে যা মনে হলো ওদের সেকেন্ড সিজন ও সামনে চলে আসবে। অলরেডি এনাউন্সড হওয়া ও শেষ!




সো সিরিজ লাভার যারা আছেন তাদের জন্যে টিন ড্রামাটি বেশ ভাল উপাদেয় হবে বলে মনে হচ্ছে, আর যারা সিরিজ টিরিজ দেখে না, তারা ও মনে হয় নামের কারনে ইন্টারেস্টেড হতে পারে। 😉 (ইউ নো হোয়াট আই মিন!) সো দেখেই ফেলুন আর কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিন আপনাদের মতামত!

হ্যাপি ওয়াচিং!



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Images: Netflix

আরভিন আহমেদ
মুভি,টিভি-সিরিজ লাভার! প্রচন্ড অলস প্রকৃতির এই লোক ঠিক করেছেন তিনি সারাজীবন মুভি আর সিরিজ দেখেই কাটিয়ে দিবেন!