বর্তমান তারিখ:20 September, 2019

এনিমি অ্যাট দ্যা গেটস (২০০১) : Enemy At The Gates (2001) – [মুভি রিভিউ!]

আমরা অনেকেই ডুয়েল ফাইট সমন্ধে জানি। শেক্সপিয়রের বইতে পড়েছিলাম ডুয়েল ফাইট নিয়ে, যেখানে ভালোবাসার মানুষকে নিজের করে পাওয়ার জন্যে দুজন মুখোমুখি হয় তলোয়ার নিয়ে। ওয়েস্টার্ন ফিল্মেও দেখেছি কথায় কথায় ডুয়েল গান ফাইটের চ্যালেঞ্জ দিতে। প্রাচীনকালে ও যুদ্ধে অনেকসময় এমন ডুয়েল ফাইট হইতো, জয় পরাজয় নির্ধারন করার জন্যে! এ হিসেবে বলা যায় ডুয়েল ফাইটের ইতিহাস বেশ প্রাচীনই। খোদ ২য় বিশ্বযুদ্ধেই এর ব্যবহার হতে বাদ যায় নি!

সেকেন্ড ওয়ার্ল্ড ওয়ারের কাহিনী আশা করি সবাইই জানেন। এর ওয়ার মুভি মানেই ২য় বিশ্বযুদ্ধকে উপজীব্য করে বানানো। আসলে হলিউডে কম করে হলেও প্রায় শ পাঁচেক মুভি আছে যার মধ্যে কোন না কোন ভাবে ২য় বিশ্বযুদ্ধ সম্পর্কিত। এ নিয়ে কত গল্প, কত মুভি বানানো হয়েছে তার হিসেব নাই। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আমি আলোচনা করছি এনিমি অ্যাট দ্যা গেটস নিয়ে। মুভিটি বানানো হয়েছে Enemy at the Gates: The Battle for Stalingrad বই থেকে। বইটি সত্য কাহিনী অবলম্বনে লেখা হয়েছিলো যতটুকু জানা যায়। সে হিসেবে মুভিকেও আমরা সত্য কাহিনির পর্দার চিত্রায়ন হিসেবে মেনে নিতেই পারি!

মুভির কাহিনী দুই স্নাইপারকে নিয়ে। সোভিয়েত রাশিয়ার কিংবদন্তি স্নাইপার ভাসিলি যায়েতসেইভ এবং জার্মান স্নাইপার স্কুলের হেড মেজর আরউইন কনিগকে নিয়ে। ২য় বিশ্বযুদ্ধে যখন হিটলার রাশিয়া পদানত করেন, তখন সোভিয়েড রেড আর্মি পিছু হটতে হটতে স্টালিনগ্রাদে আশ্রয় নেয়। এই স্টালিনগ্রাদেই সোভিয়েত রাশিয়ার রেড আর্মির হাতে হিটলারের পতনের শুরু হয়। স্টালিনগ্রাদের যুদ্ধ ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধগুলোর মধ্যে একটি। এই যুদ্ধেই ডুয়েল ফাইটিং এ লড়েছিলেন, জার্মান আর রাশিয়ান স্নাইপার রা। প্রত্যেকেই একে অপরের মাথায় বুলেট ঢোকানোর জন্যে উন্মুখ ছিলেন। আর সেই যুদ্ধটাকে তুলে ধরা হয়েছে ২ ঘন্টা ১১ মিনিটের মুভি Enemy At The Gates এ!

কাহিনির খুবই মসৃণ ভাবে এগিয়ে গেছে। রাশিয়ান স্নাইপার ভাসিলি যায়েতসেইভের চরিত্রে ছিলেন জাড ল, এবং জার্মান স্নাইপার আরউইন কনিগের চরিত্র পর্দায় পোট্রেট করেছেন এড হ্যারিস। এই মুভির আরো একটি শক্তিশালি চরিত্র লিউটানেন্ট কমিশেয়ার দানিলভ,এবং একমাত্র মূল নারি চরিত্রে ছিলেন রাচেল ভাইতজ! (একে আমার মনিকা বেলুচ্ছির কার্বন কপি লাগে মাঝেমধ্যে)

যুদ্ধের মুভিতে সবার নজর থাকে যুদ্ধের মধ্যে। কাজেই দেখতে হবে যুদ্ধের দৃশ্যায়ন কতটা স্বার্থকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি কিছু বলবো না, জাস্ট বলবো যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আপনার গা শিউরে উঠবে। আনকোরা পিচ্ছি উঠতি কিশোরদের যেভাবে গুলি আর কামানের মুখে জোর ক্রে ঠেলে দেওয়া হচ্ছিলো,এবং যারা পালাতে চাচ্ছিলো তাদের গুলি করে মারছিলো তাদেরই উর্ধাতন অফিসারেরা, এই ব্যাপারগুলি হজম করা আসলেই অনেক কষ্টদায়ক ছিল। যুদ্ধের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলার এই জায়গাটিতে পরিচালক ভালোভাবেই উতরে গেছেন।

যারা ওয়ার মুভি লাভার, তাদের জন্যে মাস্টওয়াচ মুভি। এছাড়া যারা হন্যে হয়ে স্নাইপার মুভি খুজেন তাদের জন্যেই ও মাস্ট ওয়াচ। (গুগলে,স্নাইপার মুভি লিখে সার্চ দিলে এটা এক নাম্বারেই আসে! তো ভালো থাকবেন, মুভি দেখবেন,আর অবশ্যই কমেন্টে আপনার মতামত জানাতে পারেন!

হ্যাপি ওয়াচিং!



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Images: Paramount Pictures

মুভি,টিভি-সিরিজ লাভার! প্রচন্ড অলস প্রকৃতির এই লোক ঠিক করেছেন তিনি সারাজীবন মুভি আর সিরিজ দেখেই কাটিয়ে দিবেন!

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *