ইউএফএস ৩.০ (UFS 3.0): নতুন এই স্টোরেজ স্ট্যান্ডার্ড সম্পর্কে কতোটুকু জানেন?

এক গল্প বলি শুনুন, ২০১০ সালের দিকে নোকিয়া এন৭০ ফোন ইউজ করতাম, এক সময় ফোনটি জাতীয় ফোন হিসেবে ইউজ করতো সবাই। তৎকালীন সময়ের যতো ফোন ছিল তার থেকে এন৭০ এর ক্যামেরা বেশ ভালোই পারফর্ম করতো। ভিডিও ও অনেক স্মুথ আর অডিও কোয়ালিটি ঠিকঠাকই ছিল। একদিন কি যেন রেকর্ড করলাম,আর প্লে করে দেখি, ভিডিও তো ঠিক রয়েছে কিন্তু অডিও আউট অফ সিঙ্ক হয়ে গেছে। মানে ভিডিওর মুখের সাথে অডিও মিলে না। তখন আসল ব্যাপারটা না বুজতে পারলেও পরে জানলাম সমস্যাটা আসলে ছিল মেমোরি কার্ডের সাথে। মেমোরি কার্ডের রাইট স্পিড ততোটা ফাস্ট না হওয়ার জন্য ভিডিও রেকর্ড করলে অডিও আউট অফ সিঙ্ক হয়ে যায়!

তো মূলত এরকম অনেক কারণেই স্মার্টফোনে ফাস্ট স্টোরেজ প্রয়োজনীয়, শুধু সিস্টেমকে ফাস্ট রাখার জন্যই নয়, সাথে আরো অনেক কারণ রয়েছে। পেছনের কয়েক বছর ধরে স্মার্টফোনে অনেক পার্থক্য এসেছে। আগের ফোন গুলোতে যেখানে কোন ক্যামেরায় ছিল না, আজকের ফোন গুলোকে সেখানে ৩টি করে ক্যামেরা মডিউল দেখতে পাওয়া যায়!

স্মার্টফোনে কিন্তু বর্তমানে ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে! কিন্তু ৪কে রেকর্ড করা ভিডিও ফোনের স্টোরেজে রিয়াল টাইম রাইট করতে অনেক হাই স্পিড ফ্ল্যাশ মেমোরি প্রয়োজনীয়। তবে খুশির কথা হচ্ছে, আজকের হাই এন্ড স্মার্টফোন গুলোতে অলরেডি ইউনিভার্সাল ফ্ল্যাশ স্টোরেজ (ইউএফএস) স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করা হয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কি এই ইউএফএস বা এই ইউএফএস ৩.০ ভার্সন বলতেই বা কি বোঝায়? — চলুন, এই আর্টিকেলে হাই স্পিড ফ্ল্যাশ মেমোরি নিয়ে আলোচনা করা যাক!


ইউএফএস কি?

সাধারণ ভাষায় বলতে গেলে ইউএফএস হচ্ছে একটি স্টোরেজ স্ট্যান্ডার্ড, যেটা স্মার্টফোন এবং ডিজিটাল ক্যামেরাতে আলট্রা হাই স্পিড রীড রাইট সাপোর্ট করার জন্য ব্যবহার করা হয়। ইউএফএস এর স্পিড অনুভব করতে পারেন তখন, যখন আপনি ফটো শুট করেন, ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং করেন বা একসাথে অনেক সিরিয়াল ফটো ক্যাপচার করেন। ইউএফএস সিস্টেম থাকার পরে ভিডিও রেকর্ডিং এ ল্যাগ করে না বা ফটো ক্যাপচার করার পরে সেভ হতে সময় লাগে না। তাছাড়া আপনি অসাধারণ ব্যাটারি লাইফ ও উপভোগ করতে পারেন।

পূর্বের স্মার্টফোন ও ক্যামেরা গুলোতে eMMC (এম্বেডেড মাল্টিমিডিয়া কার্ড) ফ্ল্যাশ স্টোরেজ সিস্টেম ব্যবহৃত করা হতো, এখনো করা হয় যদিও। কিন্তু UFS এই eMMC কে রিপ্লেস করে দিয়েছে। eMMC থেকে UFS অনেক গুনে বেশি ফাস্ট! — eMMC ফ্ল্যাশ স্টোরেজ সলিউশনে এক সময়ে মাত্র একটিই কম্যান্ড গ্রহণ করে কাজ করতে পারে। এতে ফ্ল্যাশ মেমোরির রীড ও রাইট স্পিডে পারফর্মেন্স লিমিট তৈরি হয়।

5d24dc52756e9

অপরদিকে UFS ফ্ল্যাশ স্টোরেজ একই সাথে অনেক রিকোয়েস্ট ও কম্যান্ড প্রসেস করতে পারে এতে র‍্যান্ডম রীড রাইটে ভালো পারফর্মেন্স পাওয়া যায়। আচ্ছা, ব্যাপারটি একটু সহজভাষায় বুঝানোর চেষ্টা করি। eMMC মেমোরিতে কি হয়, ধরুন আপনি একসাথে ১০ টা ফটো ব্রাস্ট মুডে ক্যাপচার করেছেন, এক্ষেত্রে আপনার ফটো গুলো একটির পরে একটি করে স্টোরেজে সেভ হবে, ফলে আপনি স্লো পারফর্মেন্স দেখতে পাবেন। অপরদিকে UFS মেমোরিতে একসাথেই একাধিক রিকোয়েস্ট নিতে পারে, মানে একই সময়ে একাধিক ফটো সেভ হবে ফলে হাই পারফর্মেন্স লক্ষ্য করা যাবে।

ইউএফএস যে শুধু ফোনের বা ক্যামেরার এম্বেডেড মানে ইন্টারনাল স্টোরেজ হয়ে থাকে তা কিন্তু নয় MicroSD কার্ড রুপেও ইউএফএস ফ্ল্যাশ মেমোরি দেখতে পাওয়া যায়। স্যামসাং সহ আরো অনেক প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইজ গুলোতে UFS মাইক্রো এসডি কার্ড সাপোর্ট করে।

ইউএফএস ৩.০

তো বুঝতেই পারছেন, যতো দিন যাবে ততো টেক উন্নতি হবে, তো এই ক্ষেত্রে ইউএফএস স্ট্যান্ডার্ড দিনের পর দিন আরো বেশি উন্নত হচ্ছে ফলে নতুন ও আপগ্রেডেড ভার্সনের দেখা মিলছে। তো ইউএফএস ৩.০ হচ্ছে ইউএফএস স্ট্যান্ডার্ড এর লেটেস্ট ভার্সন, যেটা জানুয়ারি ২০১৮ এর দিকে লঞ্চ করা হয়েছিলো। এই নতুন স্ট্যান্ডার্ডে ডাটা ব্যান্ডউইথ স্পিড আরো বাড়ানো হয়েছে সাথে পাওয়ার খরচ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তো নতুন এই স্ট্যান্ডার্ড রিলিজ হওয়ার পরে প্রায় ১ বছরের ও অধিক সময় পরে ওয়ানপ্লাস ৭ প্রো তে এই ইউএফএস ৩.০ ব্যবহার করা হয়েছে!

ইউএফএস ৩.০

ইউএফএস ৩.০ কে মোবাইল ও ক্যামেরার জন্য অনেকটা ডেক্সটপ এসএসডি সিস্টেম মেমোরি বলতে পারেন। এতে ডিভাইজের পারফর্মেন্স মারাত্মকভাবে উন্নতি পেতে দেখা যায়। UFS 3.0; পূর্বের UFS 2.1 বা eMMC স্টোরেজ থেকে অনেক বেশি গুনে ফাস্ট! কতোতা ফাস্ট? — ইউএফএস ৩.০ প্রায় 23.2Gbps পর্যন্ত হাইপার- স্পিড প্রদান করতে সক্ষম, সাথে অনেক পাওয়ার খরচ অনেক গুনেই কম।

এর মানে আপনার ফোনে বা ক্যামেরায় যদি ইউএফএস ৩.০ স্ট্যান্ডার্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি লাগানো থাকে, আপনি ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং এমনকি ৮কে রেকর্ডিং করতে পারবেন হাই ফ্রেমরেটে আর তেমন কোন সমস্যা দেখা দেবে না!


হ্যাঁ, ইউএফএস ৩.০ এক ক্রেজি ফাস্ট স্টোরেজ স্ট্যান্ডার্ড, আপনি যদি অনেক হাই কোয়ালিটি ফটো ক্যাপচার করেন, অনেক বড় সাইজের গেম প্লে করেন, যদি চান আপনার ফোনের অ্যাপ গুলো আরো দ্রুত রান করুক, সাথে ৪কে ও ৮কে ভিডিও রেকর্ড করেন — সেক্ষেত্রে ইউএফএস ৩.০ থেকে মারাত্মক সুবিধা পেতে পারেন। — কিন্তু আপনি যদি সাধারণ ফোন ইউজার হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে এখনই আপনার ইউএফএস ৩.০ প্রয়োজনীয় হবে না!

বর্তমানে এই মুহূর্তে কয়েকটি ফ্ল্যাগশিপ ফোনে এই স্ট্যান্ডার্ড স্টোরেজ ব্যবহৃত করা হয়েছে। স্যামসাং গ্যালাক্সি ফোল্ড, ওয়ানপ্লাস ৭, ওয়ানপ্লাস ৭ প্রো! মিড রেঞ্জের ফোন গুলোতে এই স্ট্যান্ডার্ড প্রবেশ করতে একটু সময় লাগতে পারে। তবে দিন দিন আমাদের ডাটার চাহিদা বাড়ছে, সেদিক বিবেচনা করলে খুব বেশি দেরি আর নেই!



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Images: Shutterstock.com | Adobe Stock

প্রযুক্তির জটিল টার্মগুলো কি আপনাকে বিভ্রান্ত করছে? কিছুতেই কি আপনার মস্তিষ্কে পাল্লা পড়ছে না? তাহলে বন্ধু, আপনি এবার সঠিক জায়গায় এসেছেন—কেনোনা এখানে আমি প্রযুক্তির সকল জটিল বিষয় গুলো ভাঙ্গিয়ে সহজ পানির মতো উপস্থাপন করার চেষ্টা করি, যাতে সকলে সহজেই সকল টেক টার্ম গুলো বুঝতে পারে।

5 Comments

  1. raju Reply

    awesome explanation bro. ami N73 use korechi age. and same problem amar satheo chilo. aj bujhm keno audio video sync korte somosa korto. btw.. thanks again

  2. Salam Ratul Reply

    দারুণ তথ্য জানতে পারলাম আপনার আর্টিকেলের সুবাদে। ধন্যবাদ তাহমিদ বোরহান ভাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *