বর্তমান তারিখ:22 September, 2019

চেরনোবিল (Chernobyl) : সত্য যখন হররের চেয়েও ভয়ংকর! [টিভি সিরিজ রিভিউ]

চেরনোবিল (Chernobyl) : সত্য যখন হররের চেয়েও ভয়ংকর! [টিভি সিরিজ রিভিউ]

জ্ঞান বিজ্ঞানের এই উৎকর্ষের যুগে আমরা অনেক কিছুই পেয়েছি! নিত্য নতুন আবিষ্কার হয়েছে। জীবন হয়েছে সহজ, মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় আবিষ্কারের মধ্যে যদি কোন কিছুর কথা বলতে হয় তাহলে শুরুতেই আসবে বিদ্যুৎ শক্তির নাম! সাধারনত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যে আমরা কয়লা/তেল/গ্যাস বা জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীল থাকতাম। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে আমরা যখন নিউক্লিয়ার যুগে প্রবেশ করলাম তখন মানব সভ্যতা একটা বড় উল্লম্পন দিয়েছিলো!

এই পারমানবিক শক্তি থেকে পাওয়া অসীম শক্তির মাধ্যমে পরিবেশের কোন ক্ষতি করা ছাড়াই বিপুল পরিমানে শক্তি উৎপাদন করা সম্ভব। ততক্ষন পর্যন্ত যতক্ষন না এই পারমানবিক শক্তি অপশক্তিতে রূপান্তরিত হয়! মানব ইতিহাসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক বিপর্যয় এসেছে। কিছু প্রাকৃতিক, আর কিছু নিতান্তই মানুষ্যসৃষ্ট!

চেরনোবিল : HBO টিভি সিরিজ

১৯৮৬ সালের ২৬ মে, চেরনোবিল, সোভিয়েত রাশিয়া!

মানবসভ্যতা স্বাক্ষী হয়েছিলো এমন এক বিপর্যয়ের যা কেউই দুঃস্বপ্নেও চাইবে না। সেদিন আনাতোলি দিয়াতলোভ এর ইগো আর গোয়ার্তুমির কারনে চেরনোবিল পাওয়ার প্লান্ট এ ঘটে যায় দুনিয়ার অন্যতম ভয়ংকর দুর্ঘটনা Nuclear explosion (পারমানবিক বিষ্পোরন)! তাৎক্ষণিক ভাবে ৩১ জন মানব সন্তান হারিয়ে যান কালের গর্ভে, আগে পরে মিলিয়ে খেসারত দিতে হয় ৯৪ হাজার মানুষকে (পশুপাখি বাদে)। রেডিয়েশনের কারনে ২০ হাজার বছরের জন্যে বসবাসের অনুপোযোগী ঘোষনা করা হয় চেরনোবিল ও তার আশেপাশের শহরগুলিকে। ক্ষতিগ্রস্থ হয় প্রায় ৭০-৮০ লাখ মানুষ! হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলো ক্যান্সারে। অসংখ্য শিশু জন্ম থেকেই বয়ে আনে রেডিয়েশন ক্যান্সার সহ মরণঘাতী রোগে!


চেরনোবিল এ ঘটে যাওয়া নিউক্লিয়ার বিষ্পোরনটি এতই ভয়াবহ ছিল যে হিরোশিমা ও নাগাশাকিতে ফেলা পারমানবিক বোমার মিলিত রেডিয়েশন থেকে দ্বিগুণ রেডিয়েশন নির্গত হয়েছিলো। আর এই পুরো বিস্ফোরণের জন্যে দায়ী দায়িত্বজ্ঞানহীন, একগুয়ে, জেদি কিছু লোক। যারা জড়িত ছিল প্লান্টের পরিচালনার সাথে!

এই চেরনোবিল নিউক্লিয়ার প্লান্ট এর বিস্ফোরণ এর উপর ভিত্তি করে সম্পুর্ণ সত্য ঘটনা অবলম্বনে HBO তৈরী করেছে ৫ পর্বের মিনিসিরিজ! জনরা হিসেবে “হরর” উল্লেখ করা থাকলে ও এটা প্রচলিত অর্থে কোন হরর সিরিজ না। পুরোপুরি বাস্তবঘটনার উপর ভিত্তি করে বানানো এই সিরিজে কোন টুইস্ট নাই সাসপেন্স নাই, কি হয়েছিলো, কি দেখাবে তার সবই জানা (অন্তত যারা চেরনোবিল নিয়ে স্টাডি করেছেন তাদের কাছে) তারপরেও এই সিরিজের যেভাবে সবকিছু তুলে ধরা হয়েছে, যেভাবে পুরো ব্যাপারটা দেখিয়েছে, যেভাবে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যাবহার করা হয়েছে, যাকে বলে পুরাই Bone chilling!!

বিশেষত রোমহর্ষক ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, টপনচ স্টোরিটেলিং এর মেকিং সবই এতটাই ফার্স্টক্লাস ছিলো, যেন চোখের সামনেই ঘটে যাচ্ছে সব! এতটাই রিয়েলিস্টিক ফিল দিয়েছিলো। চেরনোবিল এর সেই দুর্ঘটনার রাত, আহতদের আহাজারি, ধামাচাপা দেওয়ার জন্যে বুরোক্র্যাটদের প্রচেস্টা, ছাদের উপর থেকে গ্রাফাইট সরানোর জন্যে মানূষদের কাজে লাগানো, সুড়ংগ খোড়ার জন্যে নীরিহ শ্রমিকদের জাহান্নামসম মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া, যারা কিনা জানতোই না তারা মারা যাচ্ছে! দেখার সময় দুঃখ,কস্টে হতাশায় মাথার চুল ছেড়ার উপক্রম হবে। আর পুরো ব্যাপারটা এতটাই হররিফাইক ছিল যে আমি দেখার পর ভাত ও খেতে পারিনি। গলা দিয়ে ভাত নামছিলোই না।

একচুয়ালি জাহান্নাম দেখার জন্যে আমাদের কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করার কোন দরকার নেই, চেরনোবিল দেখলেই টের পাবেন জাহান্নামের স্বাদ কেমন হতে পারে। বস্তুত দুনিয়ার প্রতিটি নিউক্লিয়ার প্লান্ট একেকটা বোম্ব, ঠিকমতো কেয়ার না করলে যা দুনিয়ার বুকে একেকখন্ড জাহান্নামে রূপ নিতে সময় নিবে না!

গট (গেম অব থ্রোনস) শেষ হবার পরেই এইছবিও এর এই মিনি সিরিজ ইতোমধ্যেই মাস্টারপিসের তকমা পেয়ে গেছে। রেটিং এ পেছনে ফেলে দিয়েছে সর্বকালের সেরা দুই সিরিজ গেম অব থ্রোনস ও ব্রেকিং ব্যাড কেও! গেম অব থ্রোন্স এর লেখক জর্জ আর আর মার্টিন তো এই সিরিজ দেখার পর বলেছেন,

“We binge-watched HBO’s miniseries CHERNOBYL. Terrifying, exciting, heartbreaking. If this one does not win a truckload of Emmys, there is no justice in Hollywood. Jared Harris is one of those actors you may have seen a hundred times before, without quite remembering who he is… but you will never forget him here.”

যদি ও এইসব রেটিং-ফেটিং-কোট-ফোট দিয়ে আসলে এই মিনিসিরিজের ওজন মাপা দুঃসাধ্য, আমার মনে হয় প্রত্যেকেরই উচিত এই সিরিজ দেখা। জোর করে হলেও সবাইকে দেখানো উচিত। যে মানূষ জীবনে কখনোই সিরিজ দেখেনি তার ও উচিত অন্তত চেরনোবিল দেখা!

কেন এত বড় বিষ্পোরণ হলো? বিস্ফোরণ এর পিছনে কারন কি ছিলো? কে দায়ী ছিলো? আর এত মানুষ কেন আক্রান্ত হলো? অনেক অনেক প্রশ্ন আর প্রশ্নের উত্তর এবং ইতিহাস এর এই জঘন্য সত্য ঘটনার সাক্ষী হতে চাইলে চেরনোবিল দেখাটা মাস্ট ওয়াচ!

পুনশ্চঃ বাংলা সাবটাইটেল এভেলেইবল! সাবসিনে সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন। আর ডাউনলোড লিংক এর জন্যে টরেন্টে খোজ লাগালেই হবে। যাদের কার্ড আছে, তারা HBO অফিশিয়াল অ্যাপ থেকে দেখতে পারেন, তারা ফ্রি ট্রায়াল সুবিধা প্রদান করে থাকে।



WiREBD এখন ইউটিউবে, নিয়মিত টেক/বিজ্ঞান/লাইফ স্টাইল বিষয়ক ভিডিও গুলো পেতে WiREBD ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ! জাস্ট, youtube.com/wirebd — এই লিংকে চলে যান এবং সাবস্ক্রাইব বাটনটি হিট করুণ!

Images: HBO

মুভি,টিভি-সিরিজ লাভার! প্রচন্ড অলস প্রকৃতির এই লোক ঠিক করেছেন তিনি সারাজীবন মুভি আর সিরিজ দেখেই কাটিয়ে দিবেন!

One Comment

  1. Rayhan Reply

    Just an awesome Series. amar mathar moddhe dhuke gechilo 1st e. saradin egula niyei vatechilam. marattok series vai, and thanks for this awesome content.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *